সুপারস্টার নন, একজন ‘সাধারণ’ অক্ষয় কুমারের জীবনের গল্প - প্রিয়লেখা
অক্ষয় কুমার

সুপারস্টার নন, একজন ‘সাধারণ’ অক্ষয় কুমারের জীবনের গল্প

Sanjoy Basak Partha
Published: January 24, 2018

শাহরুখ কিংবা আমিরদের মত গ্ল্যামারাস নন তিনি। কিন্তু জনপ্রিয়তায় কোন অংশে কম যাননা অক্ষয় কুমার। বাকিরা যখন গতানুগতিক ধামাকা সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত, অক্ষয় সেখানে করছেন ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ ও ‘প্যাডম্যান’ এর মত মুভি। জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই স্টার অভিনেতার অনুবাদকৃত দীর্ঘ সাক্ষাৎকার আজ থাকছে প্রিয়লেখার পাতায়।

শুরুটা একটু পেছন থেকে করা যাক। আমির এবং আপনি কখনো একসাথে অভিনয় করেননি। কিন্তু আমিরের ক্লাসিক মুভি ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ মুভির জন্য আপনি অডিশন দিয়েছিলেন। এটা কি সত্যি?

অক্ষয়: হুম, অডিশনে গিয়েছিলাম। দীপক তিজোড়ির চরিত্রের জন্য লুক টেস্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের আমাকে পছন্দ হল না, তাই বাদ দিয়ে দিল। এইতো!

ওই সময়টা কেমন ছিল আসলে? বারবার অডিশন দিচ্ছিলেন আর বারবার বাদ পড়ছিলেন, এমন কিছু?

অক্ষয়: অনেকটা এরকমই ছিল বলা যায়! বি.আর চোপড়া, রবি চোপড়া, রাজ সিপ্পি, প্রমোদ চক্রবর্তী- সকলের কাছেই অডিশন দিয়েছি। নিজের পোর্টফোলিও শট করানোর মত টাকা ছিল না আমার। এ কারণে ফটোগ্রাফার জয় সেথের সহকারী হিসেবে কাজ করে দিতাম আমি, এই শর্তে যে একদিন উনি আমার ফটোশুট করবেন এবং আমার পোর্টফোলিও বানিয়ে দিবেন। সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি আমি উনার হয়ে। তারপর প্রযোজক সেলিম আফতাবের জন্য অডিশন দিলাম।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ইচ্ছা নিয়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ মুম্বাই আসে। বছরের পর বছর ধরে চলছেই এমনটা…

অক্ষয়: প্রতি বছর? কেবল বোম্বে সেন্ট্রাল স্টেশনেই প্রতিদিন ৫ হাজার লোক উত্তর ও দক্ষিণ থেকে মুম্বাই আসছে। উত্তর থেকেই বেশি আসে। এদের মধ্যে আবার সাড়ে ৩ হাজারের মত ফেরত চলে যায়, কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের কপালে কিছুই জুটে না। সংখ্যাগুলো মনগড়া না, বাস্তব। আর এটা তো শুধু একটা স্টেশনের কথা বললাম, বাকি স্টেশনগুলোর কথা নাহয় বাদই দিলাম।

বোম্বে সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বেরিয়ে সোজা তো লোখান্ডওয়ালার রাস্তাই ধরে তারা, না?

অক্ষয়: হ্যাঁ, লোখান্ডওয়ালাতেই এসে জড়ো হয় সবাই।

তারপর বেশিরভাগ এসে সিসিডি (ক্যাফে কফি ডে), বারিস্তাতে এসে ভিড় জমায়… আপনি যখন উঠতি তারকা ছিলেন, তখনো কি পরিস্থিতি এমনই ছিল? সিসিডির মত এরকম জায়গা ছিল, যেখানে সবাই একত্রিত হত, ড্রেস আপ করত, স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করত? 

অক্ষয়: আমাদের সময় স্ক্রিপ্ট বলতে কিছু ছিলই না। বনবন নামের একটা জায়গা ছিল। নাম শুনেছেন আগে কখনো? আন্ধেরির একটা জুতার দোকান ছিল এটা। ওইখানেই সবাই জড়ো হত। যারা কোন কাজই জোগাড় করতে পারছে না ইন্ডাস্ট্রিতে, তারা এসে জটলা বাঁধাত ওখানে। তারপর ফাইট মাস্টার এসে ওখান থেকে আমাদের বিভিন্ন প্রযোজক, পরিচালকদের কাছে নিয়ে যেত। প্রত্যেক ছবিতেই তো মারামারির দৃশ্য থাকতোই, তাই লোকও দরকার পড়ত অনেক। আপনি যদি ওই সময়ের ছবিগুলো দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন কি পরিমাণ মারামারির দৃশ্য থাকতো তখন! আট-দশ সীন পরপরই দেখা যেত মারামারির দৃশ্য চলে এসেছে। এমনকি অনেক পরিচালককে বলতেও শুনেছি, ‘যেখানে দেখবে স্টোরি একটু দুর্বল হয়ে পরেছে, ওখানে ফাইট ঢুকিয়ে দাও’।

তার মানে ফাইট মাস্টাররাই একপ্রকার কাস্টিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করত তখন? দেখতে মোটামুটি সুন্দর, মারামারি জানে, এমন কাউকেই প্রযোজক/পরিচালকদের কাছে নিয়ে যেত?

অক্ষয়: হ্যাঁ। সারাদিন ভিড় লেগেই থাকত বনবনে। কখন ফাইট মাস্টার আসবেন আর কাউকে নিয়ে যাবেন এই অপেক্ষায়।

একটা জুতার দোকানের বাইরেই কেন!

অক্ষয়: কারণ এর পাশেই কাবাবের একটা দোকান ছিল। সব পাঞ্জাবি ফাইট মাস্টাররা ওখানে কাবাব খেতে আসত। কিন্তু ওই কাবাবের দোকানের নামটা এত বিদঘুটে ছিল, আমরা উচ্চারণই করতে পারতাম না! তাই জায়গাটা এর পাশের জুতার দোকান বনবন দিয়েই পরিচিত ছিল।

কিভাবে আপনি রাজীব ভাটিয়া থেকে অক্ষয় কুমার হলেন, সেটিও তো আরেক চমকপ্রদ ঘটনা! অনেক দর্শকই হয়তো জানেন না এটা সম্পর্কে। মহেশ ভাটের ‘আজ’ নামক একটা ছবিতে আপনার স্টান্ট পার্সন হিসেবে কাজ করার কথা ছিল…

অক্ষয়: উঁহু, স্টান্টম্যান না। মার্শাল আর্টসের টিচার হিসেবে।

তারপর মুক্তি পাওয়ার পর যখন আপনি ছবিটা দেখলেন, তখন নাকি দেখলেন আপনার চরিত্রটা কেটেকুটে ক্যামেরায় এসেছে মাত্র সাত সেকেন্ডের জন্য! এটা কি সত্যি?

অক্ষয়: আমার দৃশ্যায়নই হয়েছে সাত সেকেন্ডের জন্য, তো ক্যামেরাতেও তো সাত সেকেন্ডই দেখাবে, তাই না! কাটাকুটি হয়নি কোন, আমার শুটিংই ছিল সাত সেকেন্ডের।

অক্ষয় কুমার

ওই ছবিতে নায়কের নাম ছিল অক্ষয়। এরপর থেকে আপনিও নিজেকে অক্ষয় নামে পরিচয় দেয়া শুরু করলেন। এটাই কি আসল ঘটনা?

অক্ষয়: হ্যাঁ, এটাই আসল ঘটনা। ওই ছবির নায়ক ছিল কুমার গৌরব। চরিত্রের নাম ছিল অক্ষয়। জানিনা কেন, নামটা বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল আমার। রাজীব নামটাও অবশ্যই ভালো ছিল। কিন্তু আমি নামটা বদলে অক্ষয়ই রাখতে চাচ্ছিলাম। তারপর পূর্ব বান্দ্রার কোর্টে গিয়ে বদলে ফেললাম। নাম বদলের সার্টিফিকেটও আছে আমার কাছে।

প্রথম ভিজিটিং কার্ডও তো অক্ষয় কুমার নাম দিয়েই?

অক্ষয়: হ্যাঁ, হলুদ আর সাদা রংয়ের কার্ড।

কার্ডটা আছে এখনো?

অক্ষয়: আশেপাশেই কোথাও আছে। কার্ডটার কথা এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমার নতুন নাম আর ঠিকানা দেয়া ছিল কার্ডে, দেয়ার মত আর কিছু তো ছিল না তখন! নাম-ঠিকানার নিচে শুধু লিখে দিয়েছিলাম, ‘ব্ল্যাক বেল্ট’। আর কোন লেখা ছিল না।

আর ওইদিনই আপনার জীবনটা পাল্টে গেল!

অক্ষয়: এটার পেছনে একটা বড় গল্প আছে। শুনতে চান?

অবশ্যই!

অক্ষয়: একদিন সকালবেলা উঠলাম রুটিন ওয়ার্কআউটের জন্য। ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টায় ব্যাঙ্গালোরে একটা মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়ার কথা আমার। ৫.১০ যখন বাজে, তখন এয়ারপোর্ট থেকে ফোন পেলাম একটা। মডেলিং এজেন্সির একজন ফোন দিয়ে আমি কোথায় আছি জানতে চাইলো। আমি বললাম আমি তো এখনো বাসায়। তারপর ফোনেই আমাকে এক দফা বকাবকি করলেন, আমার অপেশাদার আচরণ নিয়ে মহাক্ষুব্ধ তিনি। তিনি বললেন, ‘তুমি জীবনে কখনোই উন্নতি করতে পারবে না, গ্যারান্টি দিয়ে দিলাম’। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি হয়েছে?’ আর তখনই আমার খেয়াল হল, আমার ফ্লাইট সন্ধ্যা ছয়টায় না, সকাল ছয়টায় ছিল! তখন প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, ‘আমি মোটরসাইকেল নিয়েই এখুনি আসছি’। কিন্তু তারা রাজি হল না। অবশ্যই তাদের জায়গা থেকে তারা সঠিক ছিল। ওইদিনই প্রিন্টিং প্রেস থেকে আমার কার্ড এল। আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়েছিলাম সেদিন। বাবা কাজে গিয়েছিল, মা আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, ‘যা হয় ভালোর জন্যই হয়। সব ঠিক হয়ে যাবে’। ওইদিনই নটরাজ স্টুডিওতে গেলাম, প্রমোদ চক্রবর্তীর কোম্পানির মেক-আপ ম্যানের সাথে আলাপ হল। আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘হিরো হতে চাও?’ আমিও বললাম, ‘হ্যাঁ হতে চাই’। তারপর ছবি চাইল আমার। তখনকার সময়ে বিশাল বড় বড় ছবি নিয়ে ঘুরতাম আমরা, বড় বড় অ্যালবামের মধ্যে। প্রযোজক পরিচালকেরা এসব বড় ছবি ছাড়া কোন ছোট ছবি দেখতে চাইতেন না। তারপর উনি আমার অ্যালবাম নিয়ে গেলেন অফিসের ভেতর, প্রমোদ চক্রবর্তীকে দেখালেন। আমাকে ভেতরে ডাকল। আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি আমাকে আমার জীবনের প্রথম চেকটা দিলেন, আর তৎক্ষণাৎ ৩ টা ফিল্মের জন্য সই করিয়ে ফেললেন! প্রথম ফিল্মের জন্য দিলেন ৫০০০ রুপির চেক, দ্বিতীয়টার জন্য ৫০ হাজার, আর তৃতীয়টার জন্য দেড় লাখ টাকার চেক! ঠিক সন্ধ্যা ছয়টা সময় উনি আমাকে চেকগুলো দিয়েছিলেন। ওইদিন ব্যাঙ্গালোরে গেলে হয়তো এই সুযোগটা আমার জীবনে আসত না। মা ঠিকই বলেছিল, যা হয় ভালোর জন্যই হয়।

পরের দিন তো তাহলে আর বনবন যাওয়ার দরকার পড়েনি আপনার?

অক্ষয়: গিয়েছিলাম আমি।

সবাইকে জানাতে যে আপনি কাজ পেয়েছেন?

অক্ষয়: কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুরই নিশ্চয়তা নেই। এরকম অনেকের সাথে হয়েছে যে চুক্তি হয়েছে কিন্তু ছবি আর হয়নি। আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না আমার।

ওই মেক-আপ ম্যানকে নাকি আপনি এখনো আপনার মেক-আপ ম্যান করে রেখে দিয়েছেন?

অক্ষয়: হ্যাঁ, সে এখনো আমার সাথেই আছে। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর থেকে আমার ড্রাইভার, স্পট বয়, কেউই বদল হয়নি।

অক্ষয় কুমার

আপনার অভিষেক ছবির নাম ছিল ‘দিদার’, সেটা আবার কারিশমা কাপুরেরও প্রথম ছবি ছিল, না?

অক্ষয়: আসলে নাগমা আগে স্ক্রীন টেস্ট দিয়েছিল। তারপর দিয়েছিল কারিশমা। শেষ পর্যন্ত কারিশমাকেই বাছাই করা হয়েছিল।

রোমান্টিক মুভি ছিল এটা, না?

অক্ষয়: হ্যাঁ।

মানে আপনি শুরুটা করেছিলেন রোমান্টিক হিরো হিসেবে, কিন্তু ধীরে ধীরে হয়ে গেলেন অ্যাকশন হিরো!

অক্ষয়: দিদারেও কিন্তু অনেক অ্যাকশন সীন ছিল!

অমিতাভ বচ্চনের সাথে যেমন ‘শাহেনশাহ’, শাহরুখ খানের সাথে যেমন ‘বাদশাহ কিংবা কিং খান’ যুক্ত হয়ে গেছে, আপনার নামের সাথেও তেমন ‘খিলাড়ি’ যুক্ত হয়ে গেছে। ‘খিলাড়ি’ করার পরেই কি বুঝতে পেরেছিলেন, অবশেষে আপনি একজন তারকা হয়ে গেছেন?

অক্ষয়: আমার একটা অভ্যাস আছে। প্রচুর মানুষের জীবনের গল্প শুনি আমি, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেই। যেমন, রাজেন্দ্র কুমার, কিংবা সুনীল দত্ত, কিংবা রাজেশ খান্নাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি। এখানে স্টার বলতে কোন শব্দ নেই। আপনি আজ আছেন, তো কাল নেই। এই বাস্তবতাটা আমি খুব তাড়াতাড়ি শিখে গিয়েছিলাম। তারকাখ্যাতির এই ব্যাপারটাকে আমি কখনোই গুরুত্বসহকারে নেইনি। গত ১৫ বছরে আমি ‘খিলাড়ি’র কোন ছবি করিনি, তাও এখনো বের হলে লোকে আমাকে খিলাড়ি বলে ডাকে। আরও ৫০ টা মুভি করলেও আমার এই নাম বদলাবে না। কিন্তু তারপরেও আমি ‘স্টার’ শব্দটাকে গুরুত্ব দেইনা, ভয় পাই এই শব্দটাকে। নাম বলব না, কিন্তু এমন অনেককে চিনি, এই ‘স্টার’ শব্দটাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সব হারিয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রি খুব চ্যালেঞ্জিং, যেকোনো মুহূর্তে আপনি ছিটকে পড়ে যেতে পারেন। যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই হতে পারে।

নাম না নিয়ে এমন আরও কোন গল্পের কথা বলতে চান?

অক্ষয়: নাম নিয়েই বলছি। ড্যানি ডেনজোংপার থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি সবসময় চাইতাম আমার জীবনটা ওর মত হোক। নিজের তারকাখ্যাতিকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি লোকটা। নিজের মত করে সহজ সরল ভাবে জীবনটাকে সাজিয়েছে। নিজের একটা ছোট বিয়ার কোম্পানি আছে, ওখান থেকেই টাকা উপার্জন করে। আমিও চাই আমার একটা ছোট কোম্পানি থাক, যেন টাকাটা আসতে থাকে। বছরের তিন মাস ও কোন কাজই করেনা। শীতকালে যখন কাজ থাকে, তখন সে যায়। দুই মাসের জন্য সম্পূর্ণ একা থাকে, বাঁশি বাজায়, গান গায়, সাঁতার কাটে, কি না করে! ওর ফ্যামিলি লাইফটাও দুর্দান্ত, কোন চিন্তা নেই! ওকে দেখি আর নিজের মনে মনে বলি, আমিও ওর মতই জীবন কাটাতে চাই। ওকে অনুসরণ করি আমি, নকলও করি কিছু ক্ষেত্রে।

আপনার মত পেশাদার খুব কমই দেখা যায়। আপনি বছরের একটা সময় ছুটিতে কাটান, কিন্তু এটা নিশ্চিত করেন যেন বছরে চারটা মুভিতে কাজ করা হয়!

অক্ষয়: দেখুন এটা তো বিজ্ঞান না যে আমি নিশ্চিত করব। আমি বুঝি না চারটা মুভিকে লোকে এত বড় করে দেখে কেন! এটা এমন কোন ব্যাপারই না। একেকটা মুভিতে ৩৮ দিন করে ধরুন, তাহলে চারটা মুভিতে ১৫২ দিন। প্রমোশনের জন্য প্রতিটা মুভিতে আরও ১০ দিন করে যোগ করুন। ব্যাস, বছরের বাকি দিনগুলো আপনার! ঘুরুন, ফিরুন, মজা করুন!

অক্ষয় কুমার

উত্থান পতনের খেলা আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ দেখেছে বলে মনে হয়না। ক্যারিয়ারে এত এত মুভি করেছেন, নিজেও বোধহয় গুণে রাখতে পারেননি…

অক্ষয়: না না, গুণে রেখেছি। ১৩১ টা।

১৩১ টার মধ্যে কি ‘আজ’ কেও রেখেছেন?

অক্ষয়: হ্যাঁ।

এই মুভি তো অনলাইনে দেখাই যায় না।

অক্ষয়: ‘আজ’ এর আগেও কিন্তু আরেকটি মুভিতে ছিলাম আমি। ‘হারজায়ি’ নাম ছিল।

চরিত্র কি ছিল ওই মুভিতে?

অক্ষয়: রণধীর কাপুর বিয়ে করছেন, আর আমি ফুল ছিটাচ্ছি!

এতগুলো মুভি তো করে ফেললেন, এখন তো বুঝতে পারেন আগে থেকেই যে কোন মুভিটা চলবে আর কোনটা চলবে না?

অক্ষয়: উঁহু, পারি না।

একদমই পারেননা?

অক্ষয়: শুধু আমি কেন, এটা কেউই পারবে না! আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, বলিউডে কেউ এটা আগে থেকে বলতে পারবে না যে এই মুভিটা চলবেই। আমি কেবল আগে থেকে এটুকু বলতে পারি মুভিটা আলোচিত হবে কি হবে না। কিন্তু কিরকম ব্যবসা করবে, এটা বলা সম্ভব না। যেমন ধরুন, ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’র ক্ষেত্রে আমি জানতাম লোকেরা বলবে আমরা একটা ভালো মুভি করেছি। কিন্তু এটা যে ১৩০ থেকে ১৩২ মিলিয়ন ব্যবসা করবে, এটা আমি ভাবতেই পারিনি।

২০১৭ তেও তো কাঁপিয়ে দিলেন। দু দুটা ব্যাক টু ব্যাক হিট মুভি!

অক্ষয়: ভালই কেটেছে গত বছরটা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এমনটা হচ্ছে আমার সাথে। যখন ফ্লপ চলছে, তখন একটানা ১৪ টা মুভিও ফ্লপ গেছে। আবার যখন হিট হয়েছে, একটানা ১২ টা মুভিও হিট হয়েছে! এবারে টানা ৬ টা হিট দিলাম। ২০১০ থেকে ২০১২র মধ্যে আবার টানা ৬ টা ফ্লপ দিয়েছিলাম।

আরেকটা ইন্টারেস্টিং সম্পর্ক হচ্ছে আপনার আর অজয় দেবগনের সম্পর্ক। অজয়ের প্রথম ছবিটা নাকি আপনারই করার কথা ছিল। ঘটনা সত্য?

অক্ষয়: হুম সত্য। আমি স্টুডিওতে মিউজিক সেশনে ছিলাম নাদিম-শ্রভনের সাথে। তখনকার সময়ে প্রত্যেক গানে ৩০-৪০ জন করে ভায়োলিন বাদক থাকত। রাত্রে বেলা আমি আমার আইস ব্যাগ গুছাচ্ছিলাম। তখন এসব নিজেকেই করতে হত- পানি ঢালা, বরফ ঢালা এগুলো। তো প্রথম দিনের শুটিংয়ের জন্য রেডি হচ্ছি, তখন হঠাৎ একটা ফোন এল। ওই পাশ থেকে কেউ বলল, ‘আপনার কালকে আসতে হবে না। অন্য কাউকে নেয়া হচ্ছে নায়ক চরিত্রে’।

স্বজনপ্রিয়তা নাকি?

অক্ষয়: না। এর কিছুদিন পরেই আব্বাস-মাস্তানের সাথে আমার পরিচয়, আর আমি খিলাড়ির অফার পাই (১৯৯২)।

অক্ষয় কুমার

ক্যারিয়ারজুড়ে বহুবারই বলে এসেছেন, আপনি শুধু অভিনেতাই থাকতে চান, কখনো প্রযোজক হবেন না। এরপর ২০০৫ এ আপনি ‘ওয়াক্ত’ প্রযোজনা করলেন, যদি ভুল না করে থাকি ওই মুভির পুরো আয়টাই আপনি কানাডার এক ক্যান্সার হাসপাতালে দান করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই আপনি বলিউডের অন্যতম এক্টিভ প্রযোজকদের একজন। এই পরিবর্তনটা কিভাবে এল?

অক্ষয়: একটা সময় এসে আমার জন্য জিনিসটা খুব কঠিন হয়ে যায়। এখন প্রযোজকেরা কি করে, এসে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, ‘আমি মুভিটা প্রযোজনা করতে চাই, আপনি কত টাকা নেবেন?’ আমি বুঝতে পারি না কত চাইব। এজন্যই আমার কাছে নিজে প্রযোজনা করাটাই সেরা মনে হয়েছে। নিজের ফিল্ম নিজে বানাব, যা আয় করব পুরোটা নিয়ে নিব।

পুরোটাই নিজে নিয়ে নেন?

অক্ষয়: হ্যাঁ, কারণ প্রযোজনা তো আমিই করছি। আমি আমার বেশিরভাগ মুভিগুলোর বাজেটই রাখি ২০-৩০ কোটির মধ্যে। দেখুন, রিটার্নটা কিন্তু গ্যারান্টেড এখানে। আয় যদি ৪০,৫০,৬০ কোটি হয়, তাহলে তো ভালই। একেবারেই যদি ব্যবসা না করে, তাও কিন্তু ১০ কোটি উঠবে। লস যা হবে আমার হবে, অন্য কারোর না। দেখুন, আমি তো জানিনা একটা মুভি কেমন ব্যবসা করবে। তাহলে আমি আগে থেকেই কিভাবে একজন প্রযোজকের কাছে টাকা দাবি করি? কোন কিছুরই তো কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই লাভ লসের দায়টা আমি নিজের কাঁধেই নেই।

মিড ডে ডট কম অবলম্বনে