যুক্তিকে হার মানানো কিছু অমিমাংসিত রহস্য - প্রিয়লেখা

যুক্তিকে হার মানানো কিছু অমিমাংসিত রহস্য

Naseeb Ur Rahman
Published: May 14, 2018

রহস্য, রোমাঞ্চ, অশরীরীর অহর্নিশ ডাক যেন চমকে দেয় মনুষ্য হৃদয়। কিন্তু এই চমককে উপভোগ করেন না, এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই স্বল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুসারে সমগ্র পৃথিবীতে বিচরন করছে প্রায় ৭ বিলিয়ন মানুষ। এ সকল মানুষের মাঝে অমূলক ভয়, ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার এর কিন্তু অভাব নেই । তাদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে নানা উপকথা ও আচারও। ভ্যাম্পায়ার বা রক্তচোষা, প্ল্যানচেটের মাধ্যমে আত্মার সাথে সম্পর্ক উপস্থাপন, ভাগ্য গণনা, ভবিষ্যৎ বলা, সঙ্কেত লিপির পাঠোদ্ধার নানা কিছুর প্রচলন রয়েছে যা ব্যাখ্য করা যৌক্তিকভাবে সত্যিই কঠিন। আজ আপনাদের শোনাবো এমন কিছু ঘটনা যাকে যুক্তির আখরে বাঁধা সম্ভব নয়।

চলুন তবে শুরু করা যাক।

কোতৈ এর ভুতুরে আবহঃ

ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে হোয়াইট হাউসে প্রায়ই ভূতের উপস্থিতি উপলদ্ধি করা যায় বলে কথিত রয়েছে। কিন্তু, শুধু হোয়াইট হাউসেই মৃত প্রেসিডেন্টের আত্মারা ঘুরে বেড়ায় এমনটি কিন্তু সঠিক নয়। জাপান থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে তাদের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি, কৌতেও-তে আত্মার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। কৌতেও ১৯২৯ সালে ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল, এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের স্ত্রী’রা- প্রায়ই ভুতুরে ঘটনার মুখোমুখি হতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন কি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, শিঞ্জো আবে, নিজ বাসভবনে বসবাসের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘কৌতে’-তে  অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। যদিও তিনি বলেছিলেন যে প্রাসাদটি তার চাহিদার জন্য খুবই বড়, জাপানী পত্রিকা অসাহী শিম্বন তার উদ্ধৃতি থেকে বলেন,

“আমি সেখানে বসবাসের প্রয়োজন অনুভব করি না কারণ সেখানে ভূত আছে।”

কৌতে প্রাসাদটির অবশ্য একটি রক্তাক্ত ইতিহাস রয়েছে; ১৯ মে, ১৯৩২ তারিখে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী ইকুয়াই সুয়োসিকে, গুলি করে হত্যা করে। বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য মূলত আরও ভয়ানক ছিল: ইকুয়াইয়ের খুনের সময়ে, তিনি চলচ্চিত্র তারকা চার্লি চ্যাপলিন এর আতিথ্যে নিয়োজিত ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, চ্যাপলিন যখন প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সাথে সুমো ম্যাচ উপভোগ করছিলেন তখন সৈন্যরা এসে পৌঁছায়। চার বছর পর কৌতে’য় আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যখন প্রায় ২80 সৈন্যের একটি দল গেট খুলে জোরপূর্বক প্রাসাদে প্রবেশ করে এবং চার পুলিশ অফিসার ও নতুন প্রধানমন্ত্রী কিসুকো ওকাদার সাথে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পুলিশরা নিহত হয়, কিন্তু তাদের সাহস ওকাডাকে পালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় দেয় পরিবর্তে, তার দুলাভাই, ডেনজো মাতসুয়ো (যার চেহারা বিস্ময়কর ভাবে ওকাডার অনুরূপ ছিল), গুলি করে  হত্যা করা হয়েছিল। এতো বছর পরেও, প্রাসাদের সামনের প্রবেশপথটি  বুলেট গর্তে আবদ্ধ , কিন্তু কৌতেয়ের সহিংস উত্তরাধিকার আজও অনুরূপ রয়েছে।  অনেক মানুষ আজও প্রাসাদের বাগানে বর্ণবাদী সৈন্যের দেখা পান এবং আবে নিজেও স্বীকার করেছেন যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মোরী তার বাসভবনে ভুত দেখেছেন।

লাম্পের পারিবারিক অভিশাপঃ

লাম্পস -সেন্ট লুইস, মিসৌরি থেকে আগত পানীয় উৎপাদনকারী একটি পরিবার, যারা জার্মান লিগার তৈরির জন্য পরিচিত। গৃহযুদ্ধের পরের বছরগুলোতে, তাদের ব্যবসাটির প্রধান হন উইলিয়াম জে. লাম্প। এ সময় তিনি পরিবারের সাথে একত্রে বসবাসের জন্য একটি প্রাসাদ কিনেন। অনেক সন্তানের জনক হলেও, লাম্পের  প্রিয় সন্তান ছিল ফ্রেডেরিক, তিনি আশা করেছিলেন যে একদিন লাম্প বিয়ার এর উত্তরাধিকারের ভার দিবেন ফ্রেডেরিকের হাতে। দুর্ভাগ্যবশত, ফ্রেডেরিকের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, এবং তার ৩০ তম জন্মদিনে পৌঁছানোর পূর্বেই হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা যান। ফ্রেডেরিকের মৃত্যুর পর তার স্মৃতি তার বাবাকে তাড়া করে ফিরে, যার দরুন উইলিয়াম জে. লাম্পের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গিয়েছিল। জানুয়ারির প্রথম দিকে উইলিয়ামের সেরা বন্ধু ফ্রেডেরিক প্যাবস্ট মারা যান। এই ঘটনার এক মাসের মাথায় উইলিয়াম জে. লাম্প নিজ মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়। উইলিয়াম জে. লাম্প-কে বাঁচাতে তার মাথায় অপারেশন করে তার ছেলে, উইলিয়াম “বিলি” লাম্প জুনিয়র।

এর পরেই যেন দুর্ভাগ্য চিরন্তন ছায়া ফেলে লাম্প পরিবারে। আত্মহত্যা যেন উত্তরাধিকার সূত্রে দানা বাঁধে লাম্প পরিবারের মাঝে। উইলিয়ামের কন্যা এলসা, যিনি বিষণ্ণতায় বেঁচে ছিল এবং বৈবাহিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তিনি ১৯ মার্চ ১৯২0 সালের নিজ হৃৎপিন্ডে গুলিবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করেছিলেন। ১৯২২ সালের ২8 জুন, লাম্প পানীয় কারখানার সকল কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিলামে তুলে মোট মূল্যের চেয়েও অনেক কম মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নিলামে সম্পত্তি বিক্রির ঠিক পাঁচ মাস পর, বিল্লি লাম্প তার প্রাসাদে নিজস্ব অফিসে হৃতপিন্ডে গুলিবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করে। তার ভাই চার্লস লাম্প,পরবর্তী বছরগুলিতে পারিবারিক প্রাসাদে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বেঁচে ছিলেন, অবশেষে ১৯৪৯ সালের নভেম্বর ১0 মে তারিখে ৭৭ বছর বয়সে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার চিরকুটে উল্লেখ করা ছিল

” যদি আমাকে কোন কারণবশত  মৃত পাওয়া যায়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের,অন্য কারো নয়।”

স্রষ্টাই জানেন ল্যাম্প পরিবারের উপর কিসের অভিশাপ নেমে এসেছিলো যা তাদের সবার পরিসমাপ্তি ঘটে নির্মম আত্মহত্যার মাধ্যমে। তবে যে কেউ চাইলে আজও লাম্প পরিবারের প্রাসাদ পরিদর্শন করতে পারে, যেটি এখন একটি রেস্টুরেন্ট। কিন্তু আজও যুক্তরাষ্ট্রের হানবাড়ি ও ভুতুড়ে ঘটনার তালিকায় লাম্প পরিবারের  প্রাসাদের নাম উঠে আসে।

খাঁচা যুক্ত কবরঃ

পেনিসেল্ভিনিয়ার কাতাউইসিয়ায় অবস্থিত পুরনো মাউন্ট যায়ন কবরস্থান টি, অদ্ভুত এক ঘটনার জন্য পরিচিত। সেখানে লোহার খাচায় আবদ্ধ জোড়া কবরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। দুটি কবরই ১৮৫২ সালে মারা যাওয়া দুই জন নারীর। তৃতীয় আরেকটি ধ্বংস প্রাপ্ত কবরের ও খোঁজ পাওয়া যায়। সেটিও আরেক নারীর সাথে সম্পৃক্ত। সেই কবরটিও খাঁচায় আবদ্ধ ছিল। কবরটি ছিল রেবেকা ক্লেটন নামে অপর এক নারীর। ১৯৩০-এর দশকে কবরটি ধ্বসে পরে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রেবেকা অপর দুই নারীর কিছু সপ্তাহ আগেই মারা যান। কাকতালীয়ভাবে, তিনজন নারী পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তরুণী, এবং সম্প্রতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

আশ্চর্যজনকভাবে, বছর পর বছর কবর গুলো খাঁচায় আবদ্ধ থাকার কারণে জনমনে ভয়াবহ সব গুজব জন্ম নিয়েছিলো। যেহেতু, অল্প সময়ের মধ্যেই নারীরা মারা গিয়েছিল, তারা বিশ্বাস করে যে তারা ভ্যাম্পায়ারও হতে পারে। তাই তাদের কবর খাঁচা দিয়ে আবদ্ধ রাখা হয় যেন তারা কবর হতে উঠে রক্ত পান করতে করতে না পারে। কিন্তু উনিশ শতকে কবর চোরদের মারাত্মক উপদ্রব ছিলো। সে সময়ে বনেদী পুরুষ- নারীদের মূল্যবান গয়নাদি পরা অবস্থায় কবর দেওয়া হতো। এছাড়াও শুধু লাশের ও কঙ্কালের মূল্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক বেশি পাওয়া যেত। তাই কবর চোরদের কাছে এটি মুনাফা অর্জনের একটি লোভনীয় উপায় ছিলো।

যদিও তিন ঘনিষ্ঠ নারীদের কাছাকাছি সময়ের মৃত্যু ছিলো রহস্য আবৃত। তবে বিজ্ঞানের মতে তারা পরস্পরের সংস্পর্শে এসে সম্ভবত কোন পানিবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। তাছাড়া সে সময় মৌলিক স্যানিটেশন এর যথেষ্ট অভাব ছিল, এছাড়াও সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে কলেরার প্রাদুর্ভাব চলছিলো।

এক্সামুরের পশুঃ

অনেক কাহিনীতেই বর্ণিত রয়েছে রহস্যময় কালো বিড়াল এবং কুকুরের কথা যারা ব্রিটিশ দ্বীপ পুঞ্জে ভেসে বেড়াচ্ছে। কখনো মাংস ও রক্তের দ্বারা গঠিত, কিন্তু কোন প্রজাতির তা অনুমান করা সম্ভব নয়। এমন গুজবের প্রমাণ সাপেক্ষে অনেক ফটোগ্রাফ কে সামনে রাখা হয়েছে। যেখানে নেকড়ে এবং ভয়ানক কুকুররা গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখা । আশ্চর্যজনকভাবে, এই ফটোগুলি প্রায়ই শস্য ক্ষেত অথবা দূরত্ব থেকে নেওয়া হয়। দূরত্বের মাপ কাঠি ছাড়া, আমরা কারো পোষা ল্যাবরেডরকেও ভয়াবহ দানব ভেবে আতংকগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারি।

এই ধরনের ভয়ংকর পশু দর্শনের গুজবের জন্য বিখ্যাত একটি এলাকা এক্সমুর, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের এক পাহাড়ী এলাকা। ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে, এই এলাকার মানুষ একটি অদ্ভুত প্রাণী সম্পর্কে রিপোর্ট করতে শুরু করেন। প্রানীটি “এক্সমুরের পশু” নামে পরিচিতি লাভ করে। অনেকেই ‘এক্সমুরের পশুকে’ একটি বড় বিড়াল, চিতাবাঘ বা পার্বত্য সিংহের মত দেখতে, বলে বলেছিলেন। এই পশু কে অনেক খামারের পশু হত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এক্সমুরের পশু’র” উৎপত্তি সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের বড় বিড়াল এর শেষ বংশধরটিও  ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমনকালে হাজার হাজার বছর আগে মারা গেছে; বলে কথিত রয়েছে।   ১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্যের ডেঞ্জারস ওয়াইল্ড জেনারেল অ্যাক্টের প্রেক্ষিতে মোটা জরিমানা দিতে হতে পারে সেই ভয়ে তাদের বিদেশী পোষা প্রাণীকে মুক্ত করে দেয়। এই প্রাণী গুলোই বা তাদের বংশধররা জীবন রক্ষার্থে ও খ্যাদ্যাভাবে খামারের পশুদের উপর আক্রমণ করা হয়, বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন।

২০০৯ সালে ডেভনের  সৈকতে এক অজ্ঞাত পশুর মৃতদেহ ভেসে উঠে  যাকে সংক্ষিপ্তভাবে এক্সমুরের বিস্ময় হিসেবে ধরা হয়েছিল। তবে, বড় বিড়াল এর অবস্থান যে রয়েছে তার সম্ভাব্য অনেক প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ; এমন অনেক হরিণ এবং শুকরের হাড় আবিষ্কৃত হয়েছে যেখানে বড় দাঁতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়।

‘লরেটো চ্যাপেল’ এর মিরাকলঃ

বর্তমান সময়ে, ধর্মীয় অলৌকিক ঘটনার উপর বিশ্বাস করেন এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। কিন্তু ১৮৭৮  সালে নির্মিত নিউ মেক্সিকোর লরেটো চ্যাপেল এর অলৌকিক ঘটনা জানলে নিজের অজান্তেই আপনি হয়তো বিশ্বাস করে বসবেন যে, আমাদের মাঝেই হয়তো দেবদূতেরা চলাচল করে থাকে।

চ্যাপেল বিল্ডিং নির্মাণের সময়, স্থপতিটি মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হয় এবং যখন প্রকল্পটি যখন সম্পন্ন করা হয় তখন বিল্ডিংটির একটি মূল বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত ছিল: মাটির উপরে ৬.৭ মিটার (২২ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত মঞ্চে পৌঁছাবার কোন ব্যবস্থা ছিল না, কারণ ওখানে সিঁড়ি বানাবার কোন স্পেস ছিল না। ফলশ্রুতিতে মঞ্চে যেতে দড়ির মইয়ের সহায়তা নিতে হতো এবং এই মই দিয়ে উঠার ব্যপারে গির্জার যাজিকারা ভীষণভাবে ভীত ছিল। পরবর্তীতে কিংবদন্তি রয়েছে এক দেবদূত নানদের কাছে এসে এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে।

শুধুমাত্র সবচেয়ে মৌলিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে (এমনকি তারকাঁটার ব্যবহার ছাড়া), তিনি কয়েক মাসেই  একটি  ঘূর্ণায়মান  সিঁড়ি নির্মাণ করেন। প্রথম নজরে, সিঁড়ির নির্মাণ কাঠামোটি পদার্থবিজ্ঞান প্রচলিত আইনের অমান্য মনে হয়, কারণ কোন রকম অবলম্বন বা সাপোর্ট ছাড়া কিসের উপর কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে তা বুঝা সম্ভব না। তবে, যাজিকারা, বিশ্বাস করতেন যে নির্মাণকারী মানুষ সেন্ট জোসেফ ছাড়া অন্য কেউ ছিল  না, যাকে কাঠমিস্ত্রিদের পৃষ্ঠপোষক সন্ত হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। অন্য প্রচলিত ধারণার মধ্যে রয়েছে ফ্রাঙ্কোজ-জিন রোচাস নামের এক ভ্রমণকারী ফরাসী কাঠমিস্ত্রি সিঁড়িটির নির্মাতা  ছিলেন।

সিঁড়িটি পরবর্তীতে আরও ভালভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, নির্মাণশৈলী সুন্দর হলেও, এটার নির্মাণ  বিস্ময়কর নয়। সিঁড়িটির নীচের অংশ এতটা সূক্ষ্ম ও সূচালো যে কেন্দ্র অংশটি  নিজস্ব অবলম্বন হিসাবে কাজ করে,  যা সিঁড়িকে উপরে উল্টে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এই সিঁড়িকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। বর্তমানে, লরেটো চ্যাপেলটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, এবং এখানে প্রায়ই বিবাহের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে নবদম্পতিকে  সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়।

আজ এই পর্যন্তই। যদিও সৃষ্টিতে অনেক অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যার অনেক কিছুই গুজব হিসেবে স্বীকৃত। তবে এমন অনেক ঘটনাও রয়েছে যার বিচার যুক্তি দিয়ে করা সম্ভব নয়। আজ এই পর্যন্তই ভবিষ্যতে আপনাদের সামনে হাজির হবো আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে ততদিন ‘প্রিয়লেখার’ সাথেই থাকুন।

 

Loading...