সুস্থ-স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন বজায় রাখতে কী করবেন? - প্রিয়লেখা

সুস্থ-স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন বজায় রাখতে কী করবেন?

Sanjoy Basak Partha
Published: March 8, 2018

প্রেমের বিয়ে হোক কিংবা ঘটা করে কনে দেখে বিয়ে, বিয়ের পর অনেকেই সঙ্গীর সাথে মানিয়ে চলতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হন। বিয়ের পর নতুন অবস্থায় হয়তো সমস্যাগুলো অতটা চোখে পড়ে না, কিন্তু সময় যত যায়, দুজনার সম্পর্কে যেন ফাটল ততই বাড়তে থাকে। এতে করে সংসারে সৃষ্টি হয় অশান্তি, যা শেষ পর্যন্ত বিবাহ-বিচ্ছেদ পর্যন্তও গড়াতে পারে। অথচ একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু ঝগড়াঝাঁটি এড়িয়ে একটি সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে পারেন। প্রিয়লেখার পাতায় আজ থাকছে সেরকমই কিছু টিপস।

সমস্যা নিয়ে চুপ করে থাকবেন না, কথা বলুন:

দুজনের ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা, পারিপার্শ্বিকতা এসব যে একই রকম হবে সেটা আশা করাটা অন্যায়। সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে বড় হয়ে ওঠা দুজন মানুষ হয়তো ভাগ্যের ফেরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সেক্ষেত্রে একজনের জীবন ধারণের স্টাইল আরেকজনের পছন্দ না-ই হতে পারে। ভেতরে ভেতরে সেটা নিয়ে ক্ষোভ কিংবা অসন্তোষ পুষে না রেখে মুখ ফুটে সঙ্গীকে বলুন, তার কোন জিনিসটি আপনার পছন্দ হচ্ছে না। ধরুন, বিয়ের আগে থেকেই আপনার স্বামীর রাত জেগে উচ্চ ভলিউমে গান শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস। অথচ আপনি এত ভলিউমের মাঝে একদমই ঘুমাতে পারেন না। সেক্ষেত্রে রাগারাগি না করে স্বামীকে বুঝিয়ে বলুন হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে, কিংবা অন্য রুম থেকে কাজ করে এসে তারপর শুতে। এক্ষেত্রে স্বামীকেও দায়িত্ববান হতে হবে, কারণ আপনার স্ত্রীর স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখাও আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

একে অপরকে সম্মান করুন:

একটা সম্পর্কে ভালোবাসা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধাবোধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া আসলে কোন সম্পর্কই টিকিয়ে রাখা মুশকিল। আপনার কাজে, কথাবার্তায় আপনার সঙ্গীর প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধ ফুটিয়ে তুলুন। দেখবেন কেবল এই একটি কাজের মাধ্যমেই কত ধরনের সমস্যা খুব সহজেই মিটে যাচ্ছে।

একে অপরের পেশাকে সম্মান করুন:

দাম্পত্য জীবনে সঙ্গীর পেশাকে সম্মান করাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনার স্ত্রী একজন সামরিক কর্মকর্তা, অথচ আপনার এই পেশাটি অতটা পছন্দ না। তা সত্ত্বেও আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে দূরে সরিয়ে রেখে আপনার স্ত্রীর পেশাকে সম্মান করতে হবে, এমন কোন কটূক্তি আপনি করবেন না যা আপনার স্ত্রীর পেশাকে অসম্মান করে। আবার ধরুন আপনার স্বামী একজন সাংবাদিক, অথচ আপনি ছোট থেকেই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে আপনারও দায়িত্ব হবে স্বামীর পেশাকে সম্মান করা, তাকে কর্মক্ষেত্রে আরও সাফল্য লাভের জন্য উৎসাহিত করা। এতে করে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া যেমন বাড়বে, তেমনি সম্পর্কও আরও মজবুত হবে।

সঙ্গীর ফ্রেন্ড সার্কেলের বিষয়ে সহনশীল হোন:

আজকালকার যুগের সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে ফ্রেন্ড সার্কেল একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনার সাথে বিয়ে হওয়ার আগে জীবনের অনেকগুলো বছর কিন্তু আপনার সঙ্গী তার বন্ধুদের সাথে কাটিয়ে এসেছেন। সুতরাং তারাও আপনার সঙ্গীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সঙ্গীর বন্ধুদের সাথে ভালোভাবে মেশার চেষ্টা করুন, নিজেকেও তাদের বন্ধু বানিয়ে নিন। কিন্তু অনেক সময় এমন হতে পারে যে চেষ্টা করার পরেও আপনি তাদের সাথে মানিয়ে নিতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে অন্তত হাই-হ্যালো সম্পর্কটা বজায় রাখুন, কারোর প্রতি প্রকাশ্যে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করবেন না। আপনার পছন্দ না-ই হতে পারে, কিন্তু সেই অপছন্দের রেশ যেন আপনার সঙ্গীর উপর না পরে। তাকে তার বন্ধুদের সাথে মিশতে দিন। আখেরে লাভ আপনারই হবে।

অযথা সন্দেহকে দানা বাঁধতে দেবেন না:

কাজের সুবাদে কর্মক্ষেত্রে কিংবা বন্ধুদের সাথে আপনার সঙ্গী ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেই পারে। পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না হয়ে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ কিংবা আপনার সঙ্গীর সাথে কোনভাবেই বাজে ব্যবহার করবেন না। সন্দেহের বশে তার মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না, কিংবা ফোনে আড়ি পাতবেন না। একটি সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়ার জন্য স্রেফ সন্দেহ আর অবিশ্বাসই যথেষ্ট।

সঙ্গীর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই বরাদ্দ রাখুন:

আপনার যতই কাজের চাপ থাকবেন, মনে রাখবেন, আপনার সঙ্গী কোনভাবেই কাজের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনার সঙ্গী হয়তো সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করে থাকে আপনার জন্য, নিজেকে বোঝায় যে সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনে আপনি অবশ্যই তাকে সময় দেবেন। কিন্তু সেই সপ্তাহান্তের ছুটির দিনেও যদি আপনি সারাদিন ফাইলপত্র নিয়েই বসে থাকেন, আপনার সঙ্গীর মন ভেঙ্গে যেতে সময় লাগবে না। তাই যতই কাজ থাকুক, সঙ্গীকে সময় দিন। সপ্তাহে একদিন তাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হোন, বাইরে শপিংয়ে বা রেস্টুরেন্টে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যেতে পারেন। নিজেদের মাঝে বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্যই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সঙ্গীর মন পড়তে শিখুন:

ধরুন আপনার শখ হল স্বামীকে নিয়ে মঞ্চনাটক দেখতে যাবেন। কিন্তু অফিসের কোন ঝামেলার কারণে আপনার স্বামীর মন ভালো নেই, কিংবা ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। কিন্তু আপনি ক্রমাগত তাকে জোর করতে লাগলেন, কিংবা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলও করতে শুরু করলেন। এক্ষেত্রে স্বামী দুটো কাজ করবেন, হয় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আপনার সাথে যাবেন, নয়তো আপনার সাথে রাগারাগি শুরু করবেন। দুটোর কোনটাই কিন্তু আপনার জন্য সুখকর নয়। তাই সবসময় সঙ্গীর মন পড়তে চেষ্টা করুন, তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। সম্পর্কটা যে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে, কোন সন্দেহ ছাড়াই বলে দেয়া যায়।

সঙ্গীকে চমকে দিন:

ধরুন অফিস থেকে ফিরছেন, হঠাৎ রাস্তায় তাজা গোলাপ চোখে পড়ল। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না করে ফুলগুলো কিনে বাসায় চলে আসুন। সঙ্গীর হাতে তুলে দিন সেগুলো। আপনার বৃহৎ কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই স্রেফ এই ছোট ছোট চমকগুলোই আপনাদের সম্পর্কের বাঁধন হিসেবে কাজ করবে।

প্লিজ লুকোছাপা করবেন না:

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে একে অপরের কাছে স্বচ্ছ থাকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অফিস শেষে পুরোনো বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে যাবেন? বেশ তো, সঙ্গীকে সেটা জানিয়ে দিন না! আপনি সেটা গোপন করে গেলেন, পরবর্তীতে আপনার কোন বন্ধু মারফতই হয়তো আপনার সঙ্গী সেটা জানতে পারল, ব্যাপারটা মোটেও ভালো হবে না আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য।

Loading...