বেন টেনঃ ইট'স হিরো টাইম - প্রিয়লেখা

বেন টেনঃ ইট’স হিরো টাইম

ahnafratul
Published: January 16, 2018

কার্টুনপ্রেমী যারা রয়েছেন কিংবা যারা কার্টুন দেখতে পছন্দ করেন, কার্টুন নেটওয়ার্ক চ্যানেলে বেন টেন (Ben 10) কার্টুনটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বেন টেন, বেন টেন: এলিয়েন ফোর্স, বেন টেন: আলটিমেট এলিয়েন, বেন টেন অমনিভার্স ইত্যাদি নানা নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দর্শকদের কাছে উপহার দিয়েছে চমৎকার সব এপিসোড। বেন টেনিসন নামের এক কিশোর তার কাজিন গোয়েন এবং দাদু ম্যাক্সের সাথে ভয়ঙ্কর সব ভিনগ্রহবাসীর সাথে মরণপণ লড়াই করে। কখনো কখনো বেনই চলে যায় ভিনগ্রহে। উল্কাপাতের সাথে পৃথিবীর বুকে নেমে আসা অমনিট্রিক্সের সাথে শুরু হয় বেনের সখ্যতা এবং চমৎকার সব ভিনগ্রহবাসীদের সমন্বয়ে খলদের সাথে যুদ্ধে নামে বেন। ফোর আর্মস, হিট ব্লাস্ট, গোস্টফ্রিক, এক্সএলআরএইট ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষমতাবিশিষ্ট এলিয়েন বেনকে দিয়েছে অনন্য সব ক্ষমতা। অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আস্তে আস্তে নতুন সিজনের দিকে যাবার সময় বেনের সঙ্গী হিসেবে দিয়েছে নতুন নতুন সব এলিয়েন। শুধুমাত্র কার্টুন বলে এটিকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। কারণ, এই কার্টুনেও রয়েছে সাইন্স ফিকশনের চমৎকার একটি গল্প, যেখানে আপনি পাবেন ভবিষ্যতের পৃথিবী, সময় পরিভ্রমণ, এই পৃথিবীর বুকে ভিনগ্রহবাসীদের আসবার নানা ধরনের আশঙ্কা। তবে সব শেষে গল্পটা হয়ে ওঠে মানবিক, হয়ে ওঠে বেনের জয়গাঁথা। কাজিন গোয়েনের সাথে দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি, নিজের রোখকে চেপে রাখতে না পেরে ভুলবশত করে ফেলা কিছু কাজের জন্য খেসারত অবশ্যই দিতে হয় তাদের, তবে বেনকেই বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা যায়। সাথে গোয়েন ও দাদু ম্যাক্সের সহযোগিতা তো রয়েছেই।

প্লট সংক্ষেপঃ

গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ম্যাক্স দাদুর ক্যারাভানে চড়ে বেন ও গোয়েন সফরে বের হয়। যাত্রাকালে হঠাত এক জায়গায় উল্কাপাতের সাথে ভিনগ্রহ থেকে চলে আসে অমনিট্রিক্স। দশটি অসামান্য ক্ষমতাবিশিষ্ট ভিনগ্রহবাসীতে রুপান্তরিত হতে পারে বেন। জুটে যায় অনেক শত্রু। এদের হারাতে হলে চাই অমনিট্রিক্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নিজের বুদ্ধি। বেনের সঙ্গী হয় দাদু এবং গোয়েন। তিনজনের মিলিত বুদ্ধি ও সুপারপাওয়ারের সাহায্যে ভিনগ্রহবাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই আপনাকে দেবে ২২মিনিটের সর্বোচ্চ আনন্দ।

বেন টেন তৈরি করেছে ম্যান অব অ্যাকশন (Man Of Action). সিরিজটি প্রথম চালু হয় ২০০৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর। প্রথম গল্পটি আবর্তিত হয় চারটি সিজনে ভাগ করে। শেষ হয় ২০০৮ সালের ১৫ এপ্রিল।

এরপর ধাপে ধাপে আসে বেন টেন: এলিয়েন ফোর্স, বেন টেন: আলটিমেট এলিয়েন, বেন টেন অমনিভার্স। ২০১৭ সালের এপ্রিলের দশ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে রিবুট করা হয় বেন টেন সিরিজটি। এই সিরিজে বেনের বয়স কিছুটা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সাথে রয়েছে নতুন নতুন কিছু এলিয়েন।

সমালোচকরা এই সিরিজটি অত্যন্ত পছন্দ করেন। তিনটি এমি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সারাবিশ্বে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন রিটেইল সেল হয়েছে এই সিরিজটি। নিচে আপনাদের জন্য এই কার্টুন সিরিজ সম্পর্কিত কিছু টুকরো তথ্য দেয়া হলোঃ

বেনের আসল নাম কি?

বেনের নাম আমরা সকলেই বেঞ্জামিন টেনিসন হিসেবেই জানি। সিরিজেও গোয়েন অনেকবার বেনকে বেঞ্জামিন নামেই ডাকে। কিন্তু বেনের পূর্ণ নাম কি, তা কি জানি? বিখ্যাত কমিক বুক লেখক ও চিত্রশিল্পী জ্যাক কার্বির নাম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বেনের মধ্যনামটি। এই জ্যাক কার্বি স্ট্যান লী এর সাথে অসংখ্য মার্ভেল কমিক সিরিজে কাজ করেছেন। যেগুলোর মধ্যে ক্যাপ্টেন আমেরিকা অন্যতম।

তাহলে বেনের পুরো নাম কি দাঁড়াচ্ছে? বেঞ্জামিন কার্বি টেনিসন।

প্রফেসর প্যারাডক্স বনাম ডক্টর হু

মৃত্যুঞ্জয়ী ব্রিটিশ সময় পরিব্রাজক এবং বেনের বন্ধু প্রফেসর প্যারাডক্সকে মনে আছে তো? এই ডক্টর প্যারাডক্স চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে মূলত বিবিসির বিখ্যাত টিভি সিরিজ ডক্টর হু-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। মূলত, দশম ডাক্তারের সাথে মিল রেখেই প্রফেসর প্যারাডক্সকে তৈরি করা হয়েছে।

প্রথম ক্রসওভার এপিসোড বেনের ঝুলিতে

সিডব্লু চ্যানেলের ফ্ল্যাশ, সুপারগার্ল কিংবা অ্যারোর অনেক আগেই ক্রসওভার ইভেন্ট নামক জনরায় বউনি হয়েছে বেঞ্জামিন টেনিসনের। ২০১২ সালে (বেন টেন: আল্টিমেট এলিয়েন) বেন সম্পূর্ণ নতুন একটি জগতে পরিভ্রমণ করে। সাথে থাকে অন্য আরেকটি চরিত্র জেনারেটর রেক্স। দুই এপিসোডের এই ক্রসওভার ইভেন্টে বেনের অনেক পুরনো সঙ্গী এলিয়েনদের দেখানো হয়েছিল।

দুটো লাইভ অ্যাকশন চলচ্চিত্র

প্রকৃত সিরিজটি শেষ হয়ে যাবার পর বেনকে নিয়ে দুটো লাইভ অ্যাকশন টিভি চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়। একটির নাম বেন টেনঃ রেস এগেনস্ট টাইম এবং অপরটি হচ্ছে বেন টেনঃ এলিয়েন সোয়ার্ম।

অন্যরকম বেন

বেনের নির্মাতাদের কিন্তু শুরুতে পরিকল্পনা অন্যরকম ছিল। তারা ভেবেছিলেন এখানে এমন এক কিশোরের গল্প দেখানো হবে যে দশ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জগতে গিয়ে নানা ধরনের রোমাঞ্চকর কান্ডকারখানা করবে। মনমতো প্লট খুঁজে না পাওয়ায় এবং দর্শকরা বিভ্রান্ত হবেন ভেবে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়।

১৯৯৭ সালে ম্যান অব অ্যাকশনের অন্যতম সদস্য জো কেলী একদম একক একটি সুপারহিরো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন। জানেন তার নাম কি? ডেডপুল! তবে তখনকার সময়ে বিপুল জনপ্রিয় এই চরিত্রটি এতোটা জনপ্রিয় ছিল না। ৩৩টি ইস্যুর পরই কাজ ছেড়ে দেন জো। ডেডপুলের এখনকার যে জনপ্রিয়তা, তার জন্য কেলী আফসোস করতেই পারেন, কিন্তু বেন টেনের বিপুল জনপ্রিয়তা তার মুখে হাসি এনেছে, এটা বলাই বাহুল্য।

কার্টুন বলে হেলা করবেন না কিংবা বাচ্চাদের বলেও উড়িয়ে দেবেন না। চমৎকার একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর গল্প বেন টেন। ছেলে বুড়ো চাইলেই ২০-২২ মিনিটে কাটাতে পারেন চমৎকার একটি সময়। কথা দিচ্ছি, একটি পর্ব দেখবার পর বেঞ্জামিন টেনিসনের কান্ডকীর্তি আপনাকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখবে।

তো, ইট’স হিরো টাইম?

Loading...