অরিজিতের গল্প শুনুন অরিজিতের মুখেই - প্রিয়লেখা

অরিজিতের গল্প শুনুন অরিজিতের মুখেই

Sanjoy Basak Partha
Published: January 5, 2018

তাঁর জনপ্রিয়তার সীমা আকাশছোঁয়া। তাঁর কণ্ঠ যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায় লাখো শ্রোতার, তাঁর আবেগ ভরা কণ্ঠে বুঁদ হয়ে থাকে এই জেনারেশন। বর্তমান সময়ের প্রতিটা সুপারহিট সিনেমায় যার গান ছাড়া সেই সিনেমাকে অসম্পূর্ণ মনে হয়, তিনি আর কেউ নন, এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় পুরুষ শিল্পী, অরিজিৎ সিং। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করা এই সময়ের অন্যতম সফল ও সব্যসাচী এই শিল্পীর গানের রাস্তায় পথচলা শুরু তাঁর মায়ের কাছে। গুলাম আলী খান, উস্তাদ রশিদ খাঁ, জাকির হুসাইন, আনন্দ চ্যাটার্জীদের আদর্শ মেনে বড় হওয়া অরিজিৎ আজ লাখো তরুণের আদর্শ। সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই শিল্পীর সাক্ষাৎকার আজ থাকছে প্রিয়লেখার পাতায়।

আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।

অরিজিৎ: আমি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে উঠে এসেছি। আমার দিদা সঙ্গীত চর্চা করত, আমার মা ও একজন শিল্পী। এমনকি আমার বোনও আমার চেয়ে অনেক ভালো গান গায়। বলতে পারেন গান আমার রক্তে মিশে আছে। গুরু রাজেন্দ্র প্রসাদ হারজারির কাছে আমার ক্লাসিকাল মিউজিকে তালিম নেয়া শুরু। গুরু ধীরেন্দ্র প্রসাদ হারজারির কাছে আমি তবলা শিখেছি। এরপর গুরু বীরেন্দ্র প্রসাদ হারজারির কাছে শিখেছি আধুনিক গান, বাংলা গান ও ফোক গান। এই তিন ভাইয়ের সাথে আমি ছোট থেকেই যুক্ত। গানের পাশাপাশি সাইক্লিং ও ফটোগ্রাফিও খুব পছন্দ করি আমি। বাংলা উপন্যাস ও ছোট গল্প পড়তে পছন্দ করি। ইংরেজি বই খুব একটা পড়া হয়না বলে আমি ইংরেজি বইয়ের তেমন ভক্তও নই।

রিয়েলিটি শোতে অংশ নেয়ার পর আপনার জীবন কতটা বদলেছে আসলে?

অরিজিৎ: শো এর জন্য আমি আমার হানিমুনও ছেড়ে দিয়েছি। ওই সময়টায় আমি জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই দেখেছি। কিন্তু তারপরেও আমি উপভোগ করেছি। ওই শো মুম্বাইয়ের মত জায়গায় টিকে থাকার মত শক্তি দিয়েছিল আমাকে। ওই শো দিয়ে যাত্রা শুরু, এরপর আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই আটটা বছর আমি অনেক কিছু শিখেছি, কারণ আপনি যখন একটা জায়গায় পৌঁছে যাবেন, তখন শেখার মত খুব বেশি সুযোগ পাবেন না।

মুম্বাইয়ে মানিয়ে নেয়া কতটা কঠিন ছিল?

অরিজিৎ: মুম্বাই একটা চমৎকার জায়গা। আমি এত দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিলাম, যখন মুম্বাই ছেড়ে বাইরে কোথাও যেতাম, খুব মিস করতাম মুম্বাইকে। আমার কাছে মুম্বাই আর মুর্শিদাবাদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য মনে হয়না। মানুষজন তো একই রকম, ভাষাটাই যা আলাদা। আগে বাড়িতে শুধু বাংলা বলতাম, আর এখন এখানে হিন্দি আর ইংরেজি বলতে হয়।

আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার বাবা-মার দৃষ্টিভঙ্গি?

অরিজিৎ: তারা সবসময় চাইত আমাকে একজন গায়ক হিসেবে দেখতে, একজন আইকন হিসেবে দেখতে। আমি জানি না সেই পর্যায়ে যেতে পেরেছি কিনা, কিন্তু তারা যখন দেখে আমি রণবীর কাপুর, অভিষেক বচ্চন, সাইফ আলী খানের মত নায়কদের জন্য গাইছি, তারা অনেক গর্বিত হয়।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তো প্রীতমের সহযোগী ছিলেন। নিজে কম্পোজার হওয়ার ব্যাপারে কখনো ভেবেছেন?

অরিজিৎ: বলিউডের গান কম্পোজ করার কথা ভাবিনি কখনো। আমি কম্পোজ করতে পছন্দ করি, কিন্তু শুধুই নিজের জন্য। নিজে নিজেই লিরিক্স বানাই, নিজেই সুর করি, নিজের জন্যই গাই।

এত ব্যস্ততার মাঝে নিয়মিত রেওয়াজ করা হয়?

অরিজিৎ: সবসময় করা হয়। আমি কোন নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলি না। আমি প্রায় সারাক্ষণই গাইতে থাকি। গলা ভেঙ্গে গেলে আপনা আপনিই সেরে যায় আবার। গলা ঠিক রাখার জন্য বিশেষ কিছুই করতে হয় না আমাকে। আমার ভয়েসটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, নিজে থেকে এর খেয়াল রাখার জন্য কিছু করতে হয় না আমাকে।

একজন গায়কের জন্য ইমেজ কতটা জরুরী? নিজস্ব একটা ইমেজ তৈরি করার গুরুত্ব কতটা আপনার কাছে?

অরিজিৎ: আমি ইমেজের ব্যাপারে থোড়াই কেয়ার করি। আজ অব্দি এটা নিয়ে কখনো ভাবিনি, সামনেও ভাবতে চাইনা। আমি চাই আমাকে যথাসম্ভব ফ্রেশ লাগুক দেখতে। আমি নিজেকে একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে দেখতে চাই, পপস্টার হিসেবে না।

কোন ধরণের গান গাইতে বেশি পছন্দ করেন?

অরিজিৎ: মেটাল বাদে আর বাকি সব ধরণই পছন্দ। মেটালটা ঠিক আমার জন্য না, একটু বেশিই ভারী আমার জন্য। ফোক গান খুব পছন্দ করি।

‘মেথড সিঙ্গিং’ এ বিশ্বাস করেন? নাকি লিরিক্স পড়ে যখন যেই মুড আসে সেই মুডেই গান করেন?

অরিজিৎ: গানের মিউজিক শুনলে কিংবা লিরিক্স পড়লে আপনাআপনিই ওই গানের মুড চলে আসে। মোটামুটি ৩ বারের মত গানের মিউজিকটা শুনি, লিরিক্সটা পড়ি, এরপর গেয়ে ফেলি।

আপনার সাফল্যের পেছনের গোপন মন্ত্র কি?

অরিজিৎ: খুবই সরল। আমার শিক্ষকদের ভালোবাসি আমি, সম্মান করি। আমাকে অনেক ধরণের টিপস দিয়েছেন। সফল হওয়ার টিপস না, বিজয়ী হওয়ার টিপস। কিভাবে সংগ্রাম করে যেতে হয়, খেটে যেতে হয় সেটা আমি উনাদের থেকে শিখেছি। নিজের কাজের উপর কিভাবে আস্থা রাখতে হয়, তা আমি আমার গুরুজীর থেকে শিখেছি।

এখনো পর্যন্ত কোন ফিল্ম পার্সোনালিটির থেকে পাওয়া সেরা কমপ্লিমেন্ট বলবেন কোনটিকে?

অরিজিৎ: কঠিন প্রশ্ন! কমপ্লিমেন্ট পাওয়াটা আসলে সবসময়ই লজ্জায় ফেলে দেয়। অবশ্যই সেটা ভালো লাগে, আবার একই সঙ্গে লজ্জাও লাগে। অনেকের কাছ থেকেই কমপ্লিমেন্ট পেয়েছি। ভক্তরা অনেক কমপ্লিমেন্ট দিয়েছে, কিন্তু আমি সেগুলোকে মনে রাখি না। কারণ আমি বিশ্বাস করি কমপ্লিমেন্টগুলো আপনি যত তাড়াতাড়ি ভুলবেন, জীবনে তত সামনে আগাবেন। তবে সঞ্জয় লীলা বানসালির মত কারোর থেকে যখন আপনি প্রশংসা পাবেন, সেটাকে উপেক্ষা করা একটু কঠিনই! বাজিরাও মাস্তানিতে ‘আয়াত’ গানের জন্য উনি আমার প্রশংসা করেছিলেন। রেকর্ডিংয়ের সময় উনি স্টুডিওতে ছিলেন না, শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পরে যখন গানটা শুনলেন, তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। আর এরপরই আমাকে লজ্জা দিতে আরম্ভ করলেন!

গজল কিংবা কাওয়ালির প্রতি আগ্রহ আছে?

অরিজিৎ: ভারতীয় সঙ্গীতের দুইটি অনবদ্য শাখা গজল আর কাওয়ালি। আমি দুটোই খুব পছন্দ করি, এগুলো শুনেই তো বড় হয়েছি। আগে বলিউডে অনেক কাওয়ালির চল ছিল। কিন্তু এখন তো এই দুটো শোনা যায়না বলতে গেলেই চলে। বজরঙ্গী ভাইজানে যে কাওয়ালিটা ছিল, ওইটা আমার খুব পছন্দের।

আপনার নিজের গাওয়া প্রিয় গান?

অরিজিৎ: অনেকই তো আছে। তবে বাজিরাও মাস্তানির আয়াত আর বারফির ফির লে আয়া দিল এই দুটি গান অনেক পছন্দের।

 

Loading...