প্রতিবন্ধীদের আলোর পথ দেখাতে আশার উদ্যোগ- পাখী - প্রিয়লেখা

প্রতিবন্ধীদের আলোর পথ দেখাতে আশার উদ্যোগ- পাখী

Naseeb Ur Rahman
Published: January 4, 2018

“প্রতিবন্ধী হওয়া কোন প্রতিবন্ধকতা নয়

তাদের চেষ্টার মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে জয়।”

আমরা মানুষ, আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা জীব। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবদিক দিয়ে পূর্ণতা দিয়েছেন বিধায় আমরা সমাজে নিজেদের অবস্থান সৃষ্টি করেছি। জীবিকা নির্বাহ করে চলেছি। কিন্তু আজো দেশে রয়েছে আমাদের দেশে প্রায় ১৫,০০,০০০ বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বসবাস।রয়েছে  অটিজম, সেরিব্রাল পলসি, ডোস্ সিনড্রোমস এবং বুদ্ধিজীবী অক্ষম এর বাস। তাদের কে সহায়তা দিচ্ছে তাদের সমর্থন ও সহায়তা দিচ্ছে হাতে গোনা কিছু এনজিও। তবে সুবিধা ভোগীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। একটু প্রচেষ্টা ও দায়িত্ববোধের সমন্নয়ে এই প্রতিবন্ধীদের মাঝে থেকে  আমরা পেতে পারি আপন যোগ্যতায় উদ্ভাসিত কিছু নিবেদিত কর্মী।

 

সেই প্রতিভাবান কর্মীর খোঁজে, তাদের দিতে এক নিরাপদ ভবিষ্যতের সন্ধান সমাজের কিছু সংবেদনশীল মানুষ গড়ে তুলেছে “পাখি”।

“পাখি”র উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহঃ

১) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিশুদের জন্যে থেরাপি ভিত্তিক বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম।

২) অকুপেশনাল থেরাপি কনসালটেনসি

৩) সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন থেরাপি

৪) শিশুর দৈনিক কাজ ও খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ

৫) প্যারেন্ট কাউন্সেলিং

 

৬) Speech Delay বা বিলম্বিত কথা বলা শিশুর জন্যে থেরাপি ও প্যারেন্ট কাউন্সেলিং

৬) আউটডোর ক্লিনিক্যাল ও এডুকেশনাল সাইকোলজিক্যাল কন্সালটেনসি

৭) আউটডোর সাইকোলজিক্যাল, অকুপেশনাল, ফিজিওলজি ও স্পীচ থেরাপী সেশন

৮) ECD (Early Child Development) ইউনিট

৯) প্যারেন্টস ক্লাব

১০) সাইকোলজিক্যাল, অকুপেশনাল, ও স্পীচ এসিসমেন্ট এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতার মাত্রা নির্ধারণ।

১১) এসিসমেন্ট এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদাভাবে Individual Education Plan তৈরি করে যার যার চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ শিক্ষা নিশ্চিত করা।

 

বিশেষ শিশুদের বিশেষজ্ঞ সহায়তায় ভবিষ্যতের জন্য পরিপূর্ণ রূপে গড়ে তুলতেই পুরোনো ঢাকায় চালু হয়েছে বিশেষায়িত স্কুল ‘পাখি’। এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ থেরাপিভিত্তিক বিশেষ স্কুল গড়ে তোলা ছিল পুরোনো ঢাকার অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশাই পূরণ হলো অবশেষে। ৩রা ডিসেম্বর উদ্বোধন হলো বিশেষ স্কুল ‘পাখি’। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাখি’র উদ্যোগে চালু হওয়া স্কুলটির উদ্বোধন করেন ৪৩নং ওয়ার্ডের সম্মানিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব আরিফ হোসেন ছোটন। “পাখির” পরিচালক ঝুমনা মল্লিক ঝুমি জানান, ‘প্রতিবন্ধী শিশুরা তাদের নিজেদের কাজ নিজেরা ঠিকঠাক করতে পারে না। তাই তাদের স্পেশাল থেরাপি সাপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিক শিশুদের মতো তৈরি করাই আমাদের কাজ। একটা প্রতিবন্ধী শিশুর নানারকম সমস্যা থাকে, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে তাকে স্কুলে ভর্তির যোগ্য করব আমরা। আমাদের এখানে প্রতি ৩ জন শিশুর জন্য ১ জন শিক্ষক নিযুক্ত থাকবেন। দিনে তিন শিফটে চলবে ক্লাস। প্রতি শিফটে সর্বোচ্চ ১০ জন শিশু থাকবে। এখানে নিযুক্ত সব শিক্ষকই স্পেশাল এডুকেশনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।’

‘পাখি’ স্কুলের টিউশন ফি ৩৫০০ টাকা। বাৎসরিক ভর্তি ফি ২০ হাজার টাকা। আপনাদের আশেপাশে যদি থাকে এমন শিশু যাদের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন তারা যোগাযোগ করতে পারেন  এই ঠিকানায় “পাখি”-৪২/এ হেমেন্দ্র দাস রোড, সূত্রাপুর, ধাকা-১১০০,  ফোন: ০১৭০১৩০৫৫৭৩।

 

Loading...