স্মৃতির ওপর সবসময় ভরসা কেন করবেন না? - প্রিয়লেখা

স্মৃতির ওপর সবসময় ভরসা কেন করবেন না?

ahnafratul
Published: December 3, 2017

মানুষের স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব কিংবা ক্ষমতা সম্পর্কে আজো সবকিছু জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। হয়ত এটি কখনো জানা সম্ভবও হবে না। মস্তিষ্কের ক্ষমতা অসীম আর  আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময়ই আমাদের সাথে ধাঁধাঁর খেলা খেলে থাকে। কোন বস্তুর রঙ,কোন কিছু নিয়ে খানিক চিন্তা, কোন কিছু ভেবে নেবার মত অবস্থায় প্রায়শই স্মৃতিশক্তি আমাদের সাহায্য করে থাকে কিংবা ধোঁকা দিয়ে থাকে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন আমাদের স্মৃতিশক্তির ওপর সবসময় ভরসা করা উচিত নয়। কেন উচিত নয়, তার কিছু কারণ নিয়েই আজকের প্রিয়লেখার আয়োজনঃ

একই জিনিস যখন হাজারো মানুষ ভুল দেখেঃ

১৯৯০ সালে সিনবাদের চলচ্চিত্রটি যারা দেখেছেন, তারা হয়ত এই দৃশ্যটি অনেকেই মনে রেখেছেন যে শাজাম সিনবাদের দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তবে এরকম কোন ঘটনা কিন্তু আদৌ ঘটে নি। একে বলা হয় ম্যান্ডেলা ইফেক্ট। এটি এমন একটি ঘটনা, যার সাহায্যে বলা হয়ে থাকে যে হাজারো মানুষ একইসাথে যখন একই ঘটনা ভুলভাবে দেখে থাকে। ডেভিড কপারফিল্ডের জাদু দেখার সময় ঠিক এই ধরণের ভ্রান্তির মধ্য দিয়ে মানুষ কাটিয়েছে। ২০১৩ সালে ফিওনা ব্লুম এই নামটি দিয়েছিলেন, কারণ, নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর অনেক মানুষের মনে এই ধারণা বিদ্যমান ছিল যে ১৯৮০ সালে তিনি মারা গিয়েছেন।

যা গুগল করতে পারবেন, তা মনে থাকবে নাঃ

আমাদের নিত্যদিনের কাজগুলোকে আরো সহজ করে দিয়েছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা এক ক্লিকেই যে কোন তথ্য সম্পর্কে এখন জানতে পারি। শ্রীমান গুগলের সাহায্যে এখন সবকিছুই আমাদের হাতের মুঠোয়। তবে সমস্যা হচ্ছে, যে তথ্য আপনি গুগলের সাহায্যে জানতে পারবেন, তা কখনোই আপনি মনে রাখার চেষ্টা করতে যাবেন না। যা মনে থাকবে, তা হয়ত ভাসাভাসা মনে থাকবে আপনার। তাই, প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন একদিকে আশীর্বাদ ঠিক তেমনি প্রযুক্তির সাহায্যে নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারানোর মাত্রাটিও প্রবল হিসেবে থাকে।

যা ভুলে গিয়েছেন, তা নতুন স্মৃতি তৈরি করেঃ

মাঝে মাঝে আমরা কারো কাছ থেকে গল্প শুনে থাকি, নতুন কোন ঘটনা জেনে থাকি। অবচেতন মনেই সেগুলো জমা করে রাখি আমরা। পরবর্তীতে কারো সাথে এই ঘটনাগুলো বলার সময় অধিকাংশেরই সম্পূর্ণ এবং সঠিক ঘটনা মনে থাকে না। যার ফলে দেখা যায় যে, মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজেদের স্মৃতির সাহায্যে আমরা নতুন একটি গল্প ফেঁদে বসি। একে বলা হয়ে থাকে ক্রিপটোমনেসিয়া। এর ফলে আমাদের স্মৃতি নতুন নতুন স্মৃতি তৈরি করতে সমর্থ হয়, তবে সেগুলো নিছকই ভ্রান্তি।

স্মৃতি সবসময়ই নতুন নতুন ঘটনা তৈরি করেঃ

নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুন তো। আপনার সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটে তার সবকিছুই হুবহু আপনার মনে থাকে কি না? অবশ্যই না। কাহিনীর সাথে ডালপালা মেলতে থাকে, তৈরি হতে থাকে নতুন নতুন সব শাখা প্রশাখা। যার ফলে এসে দেখা যায় পূর্বে বর্ণিত ঘটনার খুব কম অংশই আমাদের মনে আছে। সেখানে জায়গা করে নেয় নতুন আরেকটি ঘটনা। চোখ অনেক সময় আমাদের ধাঁধাঁ দেখায়, অনেক সময় স্মৃতিগুলো ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে যায়।

মানুষের চোখ কোন ক্যামেরা নয়ঃ

যখন আপনি কোন কিছু মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকেন, তখন নিবিষ্টমনে সে বস্তুটি বা দৃশ্যটি ছাড়া আপনি বাকি সবকিছুই অবচেতনমনে দৃষ্টির আড়াল করে দেন। যার ফলে দেখা যায় যে, কেউ আপনাকে পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনি তা মনে করতে পারেন না কিংবা আবছা স্মৃতি হাতড়ে এমন কিছু একটা জবাব দেন, যা সত্য নয়। একটি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে যেমন সবকিছুই দৃশ্যপটে চলে আসে, চোখ তা করতে পারে না। যদিও আমাদের চোখ ক্যামেরার লেন্সের চাইতে অনেক শক্তিশালী, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ধোঁকার মাঝে অহরহই আমাদের পড়তে হয়।

শেষ পর্যন্ত এটাই বলা যায়, মানুষ কখনো কখনো ভুল করেই থাকে, করতেই পারে। বিশ্বের ফটোগ্রাফিক মেমোরি বা স্মৃতিশক্তির অধিকারী যারা, তাদের স্মৃতিও যে কখনো ধোঁকা দেয় নি, তা কিন্তু নয়। তাই আমাদের উচিত কোন কিছু মনোযোগ দিয়ে দেখবার পর যতদূর সম্ভব, তা  নিয়ে লিখে ফেলা। কারণ, লেখার চাইতে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না।

(ফিচারটি তৈরি করতে সাহায্য করেছে এই সাইট)

 

Loading...