মাটির সানকীতে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প - প্রিয়লেখা

মাটির সানকীতে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

Milky Reza (Editor)
Published: August 19, 2019

বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত অসংখ্য মানুষের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত। বেশ কিছু কারণে গ্রাম বা মফস্বলমূখী মানুষ ঢাকায় ভীড় জমায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো রাজনৈতিক স্হানান্তর। আর এমনই এক পরিবারের সাথে কথা হয় ঢাকার বসুন্ধরা বারিধারা এলাকার অদূরে তিন’শ ফিট এলাকায়। পরিবারটি এসেছে চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে। এমদাদ এবং রুবি বেগম এবং তাদের তিন সন্তান সহ এই পরিবারটির ঢাকায় আগমনের মূল কারণ গ্রাম্য রাজনৈতিক বেষম্য। হঠাৎ এই পরিবারটির উপর নেমে আসে অসহনীয় অত্যাচার। মহাজনী এবং জায়গা জমি ফসল নিয়ে সম্ভ্রান্ত ছিলেন তারা। মূল জীবিকা ছিল ফসল এবং মাছের চাষবাষ। স্হানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের  ফসল পুড়িয়ে দেওয়া, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং মাছ ধরে নেওয়া হয় ২০০১ সালে। তাদের উপর চালানো হয়েছে অমানবিক অত্যাচার। এলাকার এলাকার কিছু  নেতাকর্মীদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও তারা কিছুই করতে পারেনি তখন, কারণ তখন তারা নিজেরাই ছিলেন তোপের মুখে এমনিটিই জানা যায়। তারপর সব ছেড়ে এমদাদ এবং রুবি দম্পত্তি তাদের তিন সন্তানসহ ঢাকায় রওনা করে। ঢাকায় এসে এমদাদ প্রথমে রিকশা চালিয়ে জীবন ধারণ শুরু করে।

তবে আজ তাদের সে দুঃখের হতাশার গল্প রুপ নিয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে।
আজ তাদের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার গল্প। এই দম্পত্তি হাল ছাড়েন নি, প্রথমে রুবি উদ্যোগ নেন পিঠার দোকান দিয়ে উপার্জণ করার বিষয়ে। তিন’শ ফিট এলাকায় এক খন্ড অবস্হাণ নিয়ে তিনটি চুলা বানিয়ে শুরু করেন পিঠার ব্যবসা। রাজশাহী চাপাই নবাবগঞ্জ এলাকার নামকরা ঐতিহ্যবাহী  পিঠা কলাই রুটির ব্যবস্হা করেন তারা। সাথে সাজের পিঠা এবং বিভিন্ন রকম ভর্তা। ব্যাতিক্রমধর্মী এ কলাই রুটি ও ভর্তার স্বাদে এসে ভিড় করতে শুরু করে নানা শ্রেনী পেশার মানুষজন। আর তাদের ব্যবসা জমজমাট হতে শুরু করে। আজ আর এমদাদ কে রিকশা চালাতে হয়না,  বিয়ে দিয়েছেন বড় মেয়েকে। নিজেরা দুজন মিলেই দেখাশুনা করছেণ তাদের ব্যবসা। কথা বলেছিলাম রুবি এবং এমদাদের সাথে-
– কত বছর হয়েছে এ ব্যবসা শুরু করেছেন?
রুবি: দেড় বছর।
– কিভাবে শুরু করেছিলেন?
রুবি: একটি চুলা আর কলাই রুটি দিয়েই
– দিনে কতো আয় হয় আনুমানিক?
এমদাদ: ১৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় হয় প্রায়।
– এ ব্যবসা করে আপনারা খুশী?
 রুবি: জ্বি, আমরা এখন মোটামুটি হাতে কিছু টাকা জমাইতে পারি।
– কয় ছেলে মেয়ে এবং তারা কি করছে?
এমদাদ: তিন ছেলেমেয়ে, সবাই বিবাহিত। দুই মেয়ে এক ছেলে।
– এ উপার্জন কে কে খায়?
এমদাদ: আমি আর আমার স্ত্রী।
– এলাকায় জমিজমা যা বন্ধক দেয়া হয়েছে তা কি ছাড়ানো হয়েছে?
রুবি: সেই কাজ চলতেছে।
– ভবিষ্যতে এ ব্যবসা নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখেন?
রুবি: এখনতো শুধু ভর্তা দিয়ে পিঠা খায়। ইচ্ছা আছে একটা ঘর বানিয়ে বিভিন্ন রকম মাংস দিয়ে এই পিঠা বিক্রি করবো যেন লোকে খেয়ে তৃপ্তি পায়।
– গ্রামে আর ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে?
এমদাদ: না, আর ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা নাই।
– ঢাকায়ই কিছু করবেন নিজের জন্য?
এমদাদ: হ, ইচ্ছা আছে ঢাকায়ই থাকার জন্য কিছু করবো।
– রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যে এলাকা ছাড়তে হয়েছিলো, আজতো আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। কিছু আশা করেন?
এমদাদ: জ্বি, আশা করি। সম্মান এবং সহমর্মিতা।
ছবিঃ সংগৃহীত