স্নিগ্ধতাই সৌন্দর্য্য, সৌন্দর্য্যই শিল্প - প্রিয়লেখা

স্নিগ্ধতাই সৌন্দর্য্য, সৌন্দর্য্যই শিল্প

Milky Reza (Editor)
Published: August 18, 2019

মিউজিক ভিডিও।

বর্তমানে গানের সাথে প্রাসঙ্গিক মিউজিক ভিডিও শ্রোতাদর্শক পছন্দ করেন। বিষয়টি সৃষ্টিশীল এবং পাশাপাশি বানিজ্যিক। শিল্প এবং বানিজ্য একই সরলরেখায় আনতে পারলে মন্দ কি? বরং প্রসারটাই ব্যপক হয় সাথে সাথে সঙ্গীত শিল্পী, নির্মাতা এবং শ্রোতাদর্শক একই সাথে সন্তুষ্ট। হ্যা, বাংলাদেশেও মিউজিক ভিডিও বিনোদন জগতের বেশ অনেকটা জুড়ে আছে।
তবে অবশ্যই এসব মিউজিক ভিডিও নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতিকে বহন করবে। অথচ বাংলাদেশে সম্প্রতি কিছু কিছু মিউজিক ভিডিও দেখা যাচ্ছে যা  পশ্চিমা সংস্কৃতিকে বহণ করে। পোষাক থেকে শুরু করে তাদের অভিনয় এবং আচরণ, সবটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে আলাদা। এমনকি এসব মিউজিক ভিডিওগুলো নারী এবং পুরুষের ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে হয়ে উঠছে সম্পূর্ণ মাত্রায় বানিজ্যিক। অনেক ক্ষেত্রে যা গানের সাথে প্রাসঙ্গিক ও নয়। অর্থাৎ কেবল এক শ্রেনীর দর্শক আকৃষ্ট করার উপায় মাত্র।
সেক্ষেত্রে না থাকছে গানের সাথে সম্পর্ক না থাকছে সংস্কৃতির দায়বদ্ধতা। থাকছে কেবলি বানিজ্য চিন্তা। এ বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিলো বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এবং সঙ্গীত নির্মাতা, যিনি অনেকেরই দাদাভাই হিসেবে বিশেষ আদরের এবং সম্মানের- পিন্টু ঘোষ দাদাভাই এর সাথে। সুস্হ ধারার সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চাই তাঁর আন্তরিক দায়বদ্ধতা। স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেন না যিনি, বরং নিজস্বতাকে ধারণ করেন যেকোন পরিস্হিতিতে। এমনি একজন তিনি। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম-
– দাদাভাই মিউজিক ভিডিও ধারণাটি কেমন লাগে আপনার?
পিন্টু ঘোষ: অবশ্যই ভালো। এটি অবশ্যই শিল্পের এবং বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম। সঙ্গীতের সাথে যখন দৃশ্য প্রসঙ্গত একত্রিত করা যায় তখন তা অবশ্যই সুন্দর।
– সুতরাং আপনি বলছেন গানের কথা এবং মিউজিক ভিডিওর সামঞ্জস্য জরুরী?
পিন্টু ঘোষ: অবশ্যই। এটিইতো মিউজিক ভিডিওর প্রথম শর্ত হওয়া উচিত। গান এবং দৃশ্যের সম্পর্ক ওতঃপ্রোত। অন্তত আমার দৃষ্টিকোণ তেমনটিই বলে।
– আর দেশীয় সংস্কৃতির সাথে তা কতোটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত?
পিন্টু ঘোষ: নিঃসন্দেহে তা দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেবে।
– আর আধুনিকীকরণের বিষয়টি?
পিন্টু ঘোষ: আধুনিকীকরণ কখনোই নেতিবাচক নয়। দিন পরিবর্তনের সাথে সাথে যুগের চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়াটা  ইতিবাচক। পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সুন্দর পরিপূর্ণ হয়। তবে তা অবশ্যই হতে হবে সুন্দরের দিকে। অসুন্দরের দিকে নয়।
– আধুনিকীকরণের সাথে কি বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির কোন বিরোধ রয়েছে?
পিন্টু ঘোষ: অবশ্যই নয়। সংস্কৃতির শ্লীল সৌন্দর্য্য এবং আধুনিকতা যখন একই সরলরেখায় আসে তখনই তা পরিপূর্ণ হয় এবং  তা বানিজ্য বিপরীত নয়।
– সম্প্রতি আমাদের দেশে কিছু মিউজিক ভিডিও খুবই পরিচিত, ইউটিউবে যার লাখো লাখো ভিউয়ার রয়েছে,  অনেকটাই খোলামেলা পোষাক সাথে নারীপুরুষের ঘনিষ্ঠতা  প্রদর্শন করে নির্মাণ করা। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
পিন্টু ঘোষ: বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আধুনিক। তাই তাদের চাহিদানুযায়ী নির্মাতারা এধরণের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন। তাই ভিউয়ার ও লাখো সংখ্যক। তাদের সাথে অন্য কোন সৌন্দর্য্যকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি তাও নয়, তবু এসব মিউজিক ভিডিওগুলো কৌতুহল সৃষ্টি করে এবং নেতিবাচকভাবে ভিউয়ার তৈরী করে। সব ভিউয়ারই যে বিষয়টি পছন্দ করছে তেমন নয়। শ্লীলতার মধ্যে থেকেই আধুনিক মিউজিক ভিডিওর পরিচয় করিয়ে দিলে অবশ্যই তরুণ সমাজ তা পছন্দ করবে। শিল্প এবং সুন্দরকে সবাই পছন্দ করে। আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যেই অসম্ভব মেধা রয়েছে। অনেকেই অনেক ভালো ভালো কাজ করছে। কাজেই তরুনদের  দোহাই দিয়ে অসুস্হ সংস্কৃতির চর্চা করার কোন প্রয়োজন নেই। সু্ন্দরকে প্রাধান্য দেওয়ার রুচি আমাদের সমাজে এখনো বিদ্যমান।
আসলে দিনশেষে আমরা সবাই স্নিগ্ধতায় ফিরতে চাই। তাই মিউজিক ভিডিও নির্মাতাদের কাছে আমরা স্নিগ্ধ, সুন্দর এবং শিল্পভিত্তিক নির্মান আশা করবো।
ছবিঃ পিন্টু ঘোষ দাদাভাই এর নিজস্ব ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে।