ভ্রাম্যমান অথবা উদ্বাস্তু শিশু ও বাংলাদেশ - প্রিয়লেখা

ভ্রাম্যমান অথবা উদ্বাস্তু শিশু ও বাংলাদেশ

Milky Reza (Editor)
Published: August 7, 2019

শহরতলীর বিভিন্ন রেইলস্টেশন, বাসস্টেশন, বা টার্মিনালে আমরা প্রচুর শিশু দেখতে পাই।অধিকাংশ সময়ই তারা ময়লা বা ছেড়া পোষাক পরে থাকে। এরা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে সারা দিন-রাত বাসে ট্রামে ঘুরে বেড়ায় এবং রাতে এসব স্টেশনের কোথাও কোন ছাদ বা আকাশের নিচেই আশ্রয় নেয়। মূলত এরাই ভ্রাম্যমান শিশু।

বিশেষ করে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন, এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সদরঘাট ও টঙ্গীতে এসব ভ্রাম্যমান শিশুদের বেশী দেখা যায়। এদের এই পরিস্হিতির পিছনে রয়েছে নানারকম গল্প।

অনেকেই গ্রাম থেকে পড়াশুনার প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে পালিয়ে শহরে চলে আসে,আবার কেউ কেউ ভঙ্গুর পরিবার বা মা-বাবার আলাদা থাকার কারণে অযত্ন বা অবহেলায় বিপথে চলে যায় এবং এমন জীবন বেছে নেয়। তবে বেশীরভাগ গবেষনায় দেখা গেছে শহরতলীর পতিতালয়গুলো ভেঙে ফেলায় এসব পতিতা নারীদের সন্তানেরা আশ্রয়হীন হয়ে এমন জীবন যাপনে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিপথগামী হয়ে ওঠে। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এদের মূল জীবিকা হলো প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ, খাবার চেয়ে খাওয়া এবং খাবার চুরি করে খাওয়া।

বিভিন্ন ফলফলাদী বা বেকারী খাবারের ভ্যান থেকে এরা সুকৌশলে খাবার চুরি করে। এটাকে তারা একটি শিল্প হিসেবেই আয়ত্ত করে থাকে। এদের এখানে পৌছনো এবং বেঁচে থাকার পিছনে নানারকম অমানবিক গল্প থাকায় তারা হতাশ এবং ব্যাথিত। তাই এসব মানসিক অস্হিরতা থেকেই তারা নানারকম দুঃসাহসিক কর্মকান্ড করে থাকে যেমন বাস-ট্রেইন এর ছাদে অবলিলায় ওঠানামা সাথে সাথে নেশা করা। যেহেতু নেশার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান তাদের নেই তাই তারা নানারকম সহজলভ্য উপাদান দিয়ে নেশা করে থাকে। যেমন, আঠা। এরা এয়ারপ্লেট আঠা দিয়ে নেশা করে। সলিউশণ আঠার সাথে ডেনড্রাইট বা ফেবিকল মিশিয়েও এই নেশা করা হয়। এছাড়াও আছে প্যাথেডিন, কফ সিরাপ এবং ঝাক্কি।

এসব ভ্রাম্যমান শিশুদের মধ্যে সমকামীতা দেখা যায়। তারা যখন বেড়ে উঠতে থাকে তখন যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য সবরকম মাধ্যম তাদের ক্ষেত্রে সচরাচর নয় বিধায় সমকামীতায় তারা বিনোদন খুঁজতে চেষ্টা করে। অনেকসময় বয়ঃজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে ছোটরা যৌন অত্যাচারিত হয়ে থাকে। এসব ভ্রাম্যমান শিশুরাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে ও সমাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। এরা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং অপরাধী। তবে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব।

মানসিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের মধ্যে নৈতিকতা এবং শিক্ষার সঞ্চার করা জরুরী আর এক্ষেত্রে বেশকিছু মাধ্যমেরই অনেক কিছু করার রয়েছে। যেমন, শিল্পসংগঠনসমূহ বা থিয়েটার শিল্পীরা এদের নিয়ে নানারকম প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিল্পচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে এবং এসব কর্মকান্ড থেকে অর্জিত অর্থই তাদের জীবিকা হতে পারে। সরকার এদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারে এবং শিশুবিকাশ কেন্দ্রগুলো তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বপালনের মাধ্যমে এ সমস্যার অনেকটা সমাধান করতে পারে।

এদের সংখ্যা যতোই বাড়বে, সমাজে অপরাধ কর্মকান্ড ততোই বাড়বে। সুতরাং অনতিবিলম্বে যথোপযুক্ত উদ্যোগ নেয়া একান্ত জরুরী।

 

 

ছবিঃ সংগৃহীত