জাহিদ সবুর – গুগলের প্রথম “বাংলাদেশী” প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার - প্রিয়লেখা

জাহিদ সবুর – গুগলের প্রথম “বাংলাদেশী” প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার

Milky Reza
Published: May 7, 2019

আজকের দিনে গুগল ছাড়া এক মুহূর্ত ভাবতে পারেন নিজেকে? কাছে একটি স্মার্ট ডিভাইস, ইন্টারনেট সংযোগ এবং গুগল – আর কি লাগে? গুগল এমনই একটি টেকনোলজি কোম্পানি যা এখন পুরো বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমন বিশাল একটা কোম্পানির সেবা আমরা গ্রহন করছি ঠিকই, কিন্তু এর একটি অংশ হতে পারাটা একদম স্বপ্নের মতো মনে হয় তাইনা?

আজ সেটাও সম্ভব হয়েছে  জনাব জাহিদ সবুর এর হাত ধরে।

তিনিই সেই প্রথম বাঙালি যিনি এই বিশাল কার্যক্রমের সম্মানিত অংশ হতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি গুগলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। পরিচালক বললে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায় ঠিকই, তবে তাঁর পদমর্যাদা হল প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। যে পরিচয়টা একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে বেশী গর্বের। গুগলে ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ। তারমধ্যে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন ২৫০ জন। আর তার উপরেই আর মাত্র ১০০ জন উর্ধ্বতন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন গুগলে। যে গুগল ছাড়া আমাদের চলে না এক মুহূর্ত, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্হান – ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের একজন হিসেবে এই বাঙালী আসীন রয়েছেন, ভাবতেই অন্যরকম ভালো লাগে তাইনা?

জাহিদ সর্বপ্রথম তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন ভারতের ব্যাঙ্গালোরে ২০০৭ সালে, গুগলের ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট সিস্টেম প্রজেক্ট এ, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। তার ছয় মাস পরেই চলে যান ক্যালিফোর্নিয়া অফিসে।

গত ২রা মে বৃহস্পতিবার তিনি ডিরেক্টর/পরিচালক হিসেবে মর্যাদা এবং দায়িত্ব লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি গুগলের জুরিখ অফিসে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অধিষ্ঠিত এবং কর্মরত।

আজ থেকে ষোল বছর আগে তিনি ঢাকার স্বনামধন্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, এমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB) তে ভর্তি হন একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে, CGPA-4 পেয়ে তিনি তাঁর গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন যা ঐ ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে।

তিনি নিজের ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “প্রেক্ষাপট জীবনের জন্য সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেটা ছিল একটা স্বল্পোন্নত দেশ, আমার হাতিয়ার ছিল শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম, কোনদিন কারও ক্ষতি করিনি, কাউকে ধোঁকা দেইনি, এআইইউবিতে সেকেন্ড সেমিস্টার থেকেই বাবামায়ের কাছ থেকে কোনদিন একটা টাকা নেইনি (পুরোটা সময় আমি ফুল স্কলারশিপ পেয়ে এসেছি), নিজের পারিবারিক যোগাযোগকে কোনদিন কাজে লাগাইনি, জীবনে কোন অসদুপায় অবলম্বন করিনি – এগুলোকে একসাথে একই প্রেক্ষাপটে ফেলার পর বুঝলাম যে মধ্য ত্রিশে আমি আজ যেখানে এসে পৌঁছেছি তা আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি। যে লক্ষ্যে আমি পৌঁছেছি তা বিশেষ তো বটেই, তবে আমার কাছে তারচেয়েও বিশেষ অর্থবহ হল আমার যাত্রা। আমার জীবনের সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, বিশেষ করে আল্লাহপাকের কাছে আমি চরমভাবে ঋণী। তাঁদের দোয়া ছাড়া আমি এতদূর পৌঁছাতে পারতাম না।”

জাহিদ সবুরের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে। তবে তাঁর জন্ম হয় সৌদি আরবে কারণ তাঁর বাবা তখন সৌদি আরবের কিং ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করতেন। আট বছর বয়সে পরিবারের সাথে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হন।

কৃতিত্বের সাথে লেখাপড়ার প্রতিটি স্তর শেষ করে তিনি গুগলের সাথে যুক্ত হন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি গুগলের ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের একজন।  উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত এবং গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাংলাদেশের মেধাবী ব্যক্তিত্বকে দেখা আসলেই গর্বের। তাঁর এ অর্জন বাঙালী তরুন তরুনীকে স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে। উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থী হিসেবে বাঙালীদের মধ্যে যে জড়তা, হীনমন্যতা বা ভয় কাজ করে তা দূর হয় এমন সাফল্য দেখলে। এ থেকেই বোঝা যায়, মেধা, একাগ্রতা এবং চর্চা থাকলে তার প্রতিফলন ঘটবেই।

ছবি সূত্রঃ গুগল।