প্রেসিডেন্ট বাড়ির ভূত ! - প্রিয়লেখা
হোয়াইট হাউজ এ ভূত

প্রেসিডেন্ট বাড়ির ভূত !

ahnafratul
Published: November 5, 2017

হোয়াইট হাউজ এ ভূত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাড়ি। এর ঐতিহাসিক মূল্য যতটুকু, ঠিক ততটুকুই এটি গুরুত্বপূর্ণ। জন অ্যাডামস থেকে শুরু, সময়টা ১৮০০ সাল। তখন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মস্থল এবং একইসাথে বাসভবন হিসেবেও এটি বিবেচিত।ওয়াশিংটন ডিসির পেনিসিলভ্যানিয়া এভিনিউতে হোয়াইট হাউজ অবস্থিত। তবে আজ আমরা এই হোয়াইট হাউজের বিশ্লেষণ করব না; বরং তার চাইতেও অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় একটি বিষয় নিয়ে কিছু জানব। আর তা হচ্ছে ভূত ! শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন যে, বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী দেশের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাড়িতে ভূতের আনাগোনা কেমন করে হল! পড়তে শুরু করুন। আপনার জন্য চমক আরো অপেক্ষা করছে।

১) আব্রাহাম লিংকনের প্রেতাত্মা

প্রেসিডেন্ট হিসেবে আব্রাহাম লিংকন যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, ঠিক তেমন তার আত্মাও হোয়াইট হাউজে ততটাই জনপ্রিয়। একাধিকবার আব্রাহাম লিংকনের অশরীরী ছায়ার আনাগোনার দাবি পাওয়া গিয়েছে হোয়াইট হাউজে। কতটুকু সত্য কিংবা কতটুকু মিথ্যা, তা জানা যায় নি। ২০১৭ সালের বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষতার যুগে ভৌতিক কথাবার্তা কেমন যেন হাস্যকরই শোনায়। তবে কিছু কথা সত্যিই মনে ভয় যোগায়।
১৯৪২ সালে নেদারল্যান্ডের রানী উইলহেলমিনা হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এলেন। মাঝরাতে হঠাৎ তার ঘরের দরজায় ঠক ঠক শব্দ। দরজা খুলতেই তিনি ভয়ে শক্ত হয়ে গেলেন। এ কাকে দেখছেন তিনি! আব্রাহাম লিংকনের ছায়া তার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। মাথায় টুপি, পরনে কোট-প্যান্ট। ঠিক যেন রক্তমাংসের প্রেসিডেন্টই রানীর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

আব্রাহাম লিংকনের প্রেতাত্মা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল একবার হোয়াইট হাউজে এলেন। গোসল সেরে তার রুমে ঢুকে দেখলেন আব্রাহাম লিংকন সোফায় বসে আছে। সরেস চার্চিল তাকে বললেন, “শুভ সন্ধ্যা প্রেসিডেন্ট! মনে হচ্ছে আপনি ভুল সময়ে আমার ঘরে এসে পড়েছেন!” আব্রাহাম লিংকনের ছায়ামূর্তিটি হাসতে হাসতে অদৃশ্য হয়ে যায়।এছাড়াও হ্যারি ট্রুম্যান একাধিকবার দাবি করেছেন যে, তার দরজায় মাঝরাতে খটখটানির আওয়াজ হত। তিনি দরজা খুলে দেখতে পেতেন আব্রাহাম লিংকনের ছায়া সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে!

২)  গোলাপ বাগানের রক্ষাকর্তা ডলি মেডিসনের আত্মা

প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের পত্নী, ডলি ম্যাডিসন ছিলেন হোয়াইট হাউজের ফার্স্ট লেডিদের মাঝে অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, ডলির আত্মা হোয়াইট হাউজের গোলাপ বাগানে মাঝে মাঝে বিচরণ করে। কেউ কেউ বলেন এই গোলাপ বাগানের প্রতি ডলি ভীষণ অনুরক্ত ছিলেন।ফার্স্ট লেডি অ্যালেন উইলসন যখন মালীদের দিয়ে এই গোলাপ বাগান সরিয়ে অন্য একটি বাগান করার চেষ্টা করেন, তখন ডলির আত্মা তাদের ভয় পাইয়ে তাড়িয়ে দেয়।আবার কেউ কেউ বলেন, রাতের বেলা ঝোপের আশেপাশে হাঁটতে গেলে খনখনে গলায় কেউ হেসে ওঠে।এটা সেই ডলি ম্যাডিসনের আত্মা !

গোলাপ বাগানের রক্ষাকর্তা ডলি মেডিসনের আত্মা

৩) অ্যাবিগেইল অ্যাডামস ও তার ভূত

হোয়াইট হাউজের প্রথম ফার্স্ট লেডি, অ্যাবিগেইল অ্যাডামস (জন অ্যাডামসের স্ত্রী) পুরনো অভ্যাসমত পূব দিকের একটি ঘরে তার কাপড় শুকাতে দিতেন। হোয়াইট হাউজে যারা থেকেছেন কিংবা একরাত কাটিয়েছেন, তারা কেউ কেউ বলেন যে মাঝরাতে অস্পষ্ট একটি ছায়া হাতে কাপড়ের বালতি নিয়ে পূব দিকের ঐ ঘরের সামনে আনাগোনা করে।

অ্যাবিগেইল অ্যাডামস ও তার ভূত

৪) ডেভিড বার্ণসের ভূতুড়ে কন্ঠ

হোয়াইট হাউজ যে জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সে জমিটি দান করেছিলেন ডেভিড বার্ণস। কেউ কেউ বলেন তার আত্মা আজো সেখানে রয়ে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট একবার একটি কম্পিত কণ্ঠ শুনতে পান। কন্ঠটি তাকে বলছে, “আমি মিস্টার বার্ণস”।
এর কয়েকদিন পরে, হ্যারি ট্রুম্যানের আমলে এক সিকিউরিটি গার্ড ঠিক একইধরণের একটি আওয়াজ শুনতে পায়। সে ভেবেছিল সেক্রেটারি অব স্টেট জেমস বায়ার্নস হয়ত তাকে ডাকছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, জেমস সেদিন অফিসেই আসেন নি!

৫) জেনা বুশের শোনা ভূতুরে সঙ্গীত

 

জেনা বুশের শোনা ভূতুরে সঙ্গীত
প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের কন্যা, জেনা একবার বলেন যে মাঝরাতে তার ঘরে ১৯২০ সালের সঙ্গীত বাজতে শুরু করে। তিনি ভয়ে দৌড়ে তার বোনের ঘরে যান এবং সব খুলে বলেন। বোন তাকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। রাগের চোটে তিনি তার বোনকে বলেন রাতে একসাথে তার ঘরে থাকতে। ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, তারা দুজনের একই সঙ্গীতের সুর শুনতে পেয়েছিলেন ! আরো ভয়ের কথা হচ্ছে, হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানানো হলে তারা বলেন যে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার এবং তারা প্রায় সকলেই এই ঘটনার সাক্ষী !

পৃথিবীতে ভূত আছে কি নেই, সে তর্কে না যাওয়াটাই উচিত। সবচেয়ে যুক্তিবাদী মানুষটাও হয়ত মাঝরাতে দরজায় টোকা শুনে একটু ভয়ে শিউরে উঠবে। ব্যাখ্যাতীত কিছু জিনিস আমাদের মাঝে বিচরণ হয়ত বা করছেও। তারা হয়ত আমাদের শোনাতে যায় তাদের না বলা কথাগুলো। হয়ত তাদের অস্তিত্বই নেই। কে জানে !

আরও জানুন

ভুতুড়ে চেয়ার

বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার কিছু ঘটনা