বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার কিছু ঘটনা – প্রিয়লেখা
বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার কিছু ঘটনা

বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার কিছু ঘটনা

farzana tasnim
Published: October 28, 2017

শুধু স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানদের কাজ মানুষকে হাসানো, আর বাকিরা বসে বসে কেবল মজা নেবে এমন তো কোনো কথা নেই! আমরা যারা মনে করি পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্যক্তি আজীবন গম্ভীর হয়ে নাক ডুবিয়ে খালি কাজই করে গেছেন, তাও কিন্তু সত্যি নয়। চলুন আজ তবে দেখে আসা যাক পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার কিছু ঘটনা ।

উইনস্টন চার্চিল

মেয়ে সারা যে ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন, তাকে দু চোখে দেখতে পারতেন না বাবা উইনস্টন চার্চিল। একদিন দুজনে হাঁটতে বেরিয়েছেন। এ সময় মেয়ে-জামাই প্রশ্ন করল, ‘যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন, এমন কেউ আছেন কি?’ চার্চিল প্রায় গর্জন করে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, একজন আছেন। মুসোলিনি। তিনিই একমাত্র লোক যে কিনা নিজের মেয়ে-জামাইকে গুলি করে মারার সাহস দেখিয়েছিলেন।’

উইনস্টন চার্চিল

চার্চিল একবার তাঁর পাশের কক্ষে অবস্থানরত এক মন্ত্রীকে উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে শুনে বিরক্ত হয়ে তাঁর সেক্রেটারিকে পাঠালেন আস্তে কথা বলার জন্য। সেক্রেটারি ফিরে এসে বলল, ‘স্যার, উনি স্কটল্যান্ডে কথা বলছেন।’ চার্চিল বললেন, ‘আমি জানি। তাঁকে বলো টেলিফোন ব্যবহার করতে।’

চার্চিলের আশিতম জন্মদিনে এক আলোকচিত্রী ছবি তুলছিলেন। ছবি তুলতে তুলতে একসময় ভদ্রতা করে বলেন, ‘আপনার শততম জন্মদিনেও আমি ছবি তুলতে চাই।’ মৃদু হেসে চার্চিল বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুলবে। তোমার স্বাস্থ্য তো বেশ ভালো আছে।’

টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অযথাই আক্রমন করে বসল, ‘কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে। আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না…।’

টমাস আলভা এডিসন

তরুণী বলেই যাচ্ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন। বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন। আসলে সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর। আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছেমতো থামানো যায়।’

নিউটন

নিউটন

নিউটন তার প্রেমিকার হাতে বিয়ের আংটি পরাতে গিয়েছিলেন। প্রেমিকার আঙুল নিজের হাতে নিয়ে পকেট থেকে আংটি পরাতে যাবেন। এমন সময় তার একটা থিওরির কথা মনে পড়ে গেল। তখনই তিনি হারিয়ে গেলেন চিন্তার গভীর সাগরে। এবং সে সময়ই মাথায় চেপে বসলো চুরুটের নেশা। হাতের মাঝে বন্দী প্রেমিকার আঙুলকে তিনি ভাবলেন চুরুট। পকেট থেকে আংটির পরিবর্তে ম্যাচলাইটার বের করে প্রেমিকার আঙুলে আগুন ধরিয়ে দিলেন। প্রেমিকা আর্তচিৎকার দিয়ে কোনোক্রমে নিজের আঙুল উদ্ধার করে পালিয়ে বাচলেন।

রুডইয়ার্ড কিপলিং

ইংরেজ কবি ও ছোটগল্পকার রুডইয়ার্ড কিপলিং যে দৈনিক পত্রিকাটি রাখতেন সে পত্রিকায় একদিন ভুলবশত তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছাপা হয়ে যায়। সংবাদটি দেখে তিনি ভীষণ রেগে যান। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদককে লিখলেন, ‘এইমাত্র আপনার পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম যে আমি মারা গেছি। আপনার গ্রাহক তালিকা থেকে আমার নামটি দয়া করে বাদ দেবেন’।

রবীন্দ্রনাথ ও চিনির রস

মরিস সাহেব শান্তিনিকেতনে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা পড়াতেন। একদিন তিনি তাঁর ছাত্র প্রমথনাথ বিশীকে(বিখ্যাত নাট্যকার) বললেন, “গুরুদেব সুগার বা চিনি বিষয় একটা গান লিখেছেন। গানটি

খুবই মিষ্টি হয়েছে”। প্রমথনাথ বিশী বললেন, “সুগার নিয়ে গান লিখলে তো মিষ্টি হবেই। গানটা কী রকম একটু গেয়ে শোনান তো!”

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মরিস গাইতে লাগলেন – “আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাক সিন্ধুপারে…।”
প্রমথনাথ বিশী হেসে বললেন, “গানটাতে বেশ ক চামচ চিনি দিয়েছেন গুরুদেব। তাই একটু বেশি মিষ্টি হয়েছে। তবে এই চিনি যে সুগার, সেটা আপনাকে কে বলল?” “কে আবার। স্বয়ং গুরুদেব আমাকে বলেছেন- মরিস শোন, আমি সুগার নিয়ে একটা গান লিখেছি।”

আলেকজান্ডার দ্যুমা

আলেকজান্ডার দ্যুমা

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার দ্যুমার সাক্ষাত্কার নিচ্ছিলেন এক জাঁদরেল সাংবাদিক। তাঁর প্রথম প্রশ্ন, ‘আপনার পূর্বপুরুষ শংকর ছিলেন, এটা কি সত্যি?’ দ্যুমা উত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ।’ সাংবাদিক আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর আপনার পিতামহ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ?’ দ্যুমা শান্তস্বরে বললেন, ‘হ্যাঁ।’ সাংবাদিক এবার বেশ জোর দিয়ে বললেন, ‘এবং আপনার প্রপিতামহ ছিলেন…।’ সাংবাদিক শেষ করার আগে দ্যুমাই উত্তর দিলেন, ‘বেবুন’ এবং সঙ্গে যোগ করলেন, ‘আর আপনার যেখানে শেষ সেখান থেকেই আমার পূর্বপুরুষের শুরু।’

রুডলফ ক্রিটলিন

পশ্চিম জার্মানির বিখ্যাত রেফারি রুডলফ ক্রিটলিন সব সময় মাঠে নামতেন একটা ফিতা হাতে নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সব খেলার আগে সেই ফিতা দিয়ে গোলপোস্টের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা এবং মাঠের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ মেপে নিতেন খুব সতর্কতার সঙ্গে। অনেকের কাছে ব্যাপারটি অতি পণ্ডিতি মনে হতো। কিন্তু আসল খবর কেউ জানত না। ক্রিটলিন পেশায় ছিলেন একজন দর্জি।

স্যামুয়েল জনসন

স্যামুয়েল জনসন

বিখ্যাত কবি ও সমালোচক স্যামুয়েল জনসন খবর পেলেন তাঁর সময়ের একজন নামকরা রাজনৈতিক নারী কলামিস্ট লেখালেখিতে মনোযোগ কিছু কম দিয়ে ইদানীং রূপচর্চায় মেতেছেন। শুনে জনসন মন্তব্য করলেন, ‘অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপনের চেয়ে নিজের গালে কালিমা লেপন উত্তম’।

সারা বার্নার্ড

ফ্রান্সের সারা বার্নার্ড এক নাটকে ভিখারিণীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। ক্ষুধার্ত, অবসন্ন, অসহায় ভাব চোখমুখে এবং সমস্ত ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘হা ঈশ্বর! আর তো এক পাও চলতে পারছি না, তিন দিন পেটে কিছু পড়েনি। আঃ মরে গেলাম…।’

সারা বার্নার্ড

হঠাৎ দু-একজন দর্শকের কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টি লক্ষ করে তাঁর খেয়াল হলো, আরে! হাতের সোনার বালা দুটো খুলে রাখতে ভুল হয়ে গেছে। স্পটলাইট পড়ে সেগুলো ঝিলিক মারছে। সঙ্গে সঙ্গে বালা দুটো খুলে মনগড়া সংলাপ বললেন, ‘এই গিল্টি করা দুই পয়সার গয়নায় আমার একটা রুটিও জুটবে না।’ বলেই উইংসের এক নিরাপদ কোণে ছুড়ে দিলেন বালা জোড়া।

মার্ক টোয়েন

মার্ক টোয়েন

মার্ক টোয়েনের লাইব্রেরিখানা নাকি দেখবার মত ছিল। মেঝে থেকে ছাত পর্যন্ত বই, বই, শুধু বই। এমনকি কার্পেটের উপরও গাদা গাদা বই স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে থাকত—পা ফেলা ভার। এক বন্ধু তাই মার্ক টোয়েনকে বললেন, ‘বইগুলো নষ্ট হচ্ছে। গোটাকয়েক শেল্ফ যোগাড় করছ না কেন?’ মার্ক টোয়েন খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে ঘাড় চুলকে বললেন, ‘ভাই, বলেছ ঠিকই—কিন্তু লাইব্রেরিটা যে কায়দায় গড়ে তুলেছি, শেলফ তো আর সে কায়দায় যোগাড় করতে পারি নে। শেলফ তো আর বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার চাওয়া যায় না।’