'আরবান লেজেন্ডসে' লুৎফুলের প্রথম বাজিমাত! - প্রিয়লেখা

‘আরবান লেজেন্ডসে’ লুৎফুলের প্রথম বাজিমাত!

ahnafratul
Published: October 10, 2017

ফেসবুকের পাতা স্ক্রল করতে করতে একসময় আপনার চোখ আটকে গেল। নিজের মনেই বিড়বিড় করে পড়তে শুরু করেছেন। বিষয়বস্তু একটু বিচিত্র, একটু অদ্ভুত। আবার কোন কোন স্ট্যাটাস গা ছমছমে আবহ তৈরি করছে আপনার শরীরে। কিছু লেখা পড়লে পরক্ষণেই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বেন। আচ্ছা, কে লিখেছেন এই স্ট্যাটাস? লেখকের নাম পড়া শুরু করতেই আপনার মুখে খেলে যাবে প্রচ্ছন্ন এক টুকরো হাসি। আচ্ছা! ইনি? তাহলে আর অবাক হবার কিছু নেই। এই ব্যক্তির লেখার বিষয় এগুলোই। মিস্ট্রি, থ্রিলার, হরর, গোর ফ্লিক আর গথিকে যাদের আগ্রহ আছে, লুৎফুল কায়সার তাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি নাম। ডাকনাম রিভী। পড়াশোনা করছেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে। সম্প্রতি ভূমিপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘আরবান লেজেন্ডস’ ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে তার পাঠকদের কাছে। অনেকেই করছেন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। বলা যায়, ডেব্যু বইতেই একেবারে বাজিমাত করে দিয়েছেন তিনি।

আজকের প্রিয়লেখার পাতায় জনপ্রিয় এই লেখকের সাথে থাকছে আমাদের কিছু সংক্ষিপ্ত (এবং একইসাথে মজাদার) আলাপচারিতা। জানতে পারব তার অজানা কিছু তথ্যঃ

প্রিয়লেখাঃ কেমন আছেন?

লুৎফুলঃ এইতো আছি।

 

প্রিয়লেখাঃ ‘বইসা থাকি আর মাঝে মাঝে হুদাই লিখি’- ফেসবুকে আপনার ইন্ট্রোতে তাই দেয়া। ‘হুদাই’ লিখতে লিখতে আমাদের সামনে এসে গেল “আরবান লেজেন্ডস”। কেমন লাগছে?

লুৎফুলঃ হাহা, ভালোই লাগছে। প্রথম একক বই বলে কথা।

 

প্রিয়লেখাঃ লেখালেখি শুরুর দিকের গল্পটা যদি একটু সংক্ষেপে বলতেনঃ

লুৎফুল: শুরুটা হয়েছিলো ২০১৬ সালের মে মাস থেকে, একটা বিষয় নিয়ে প্রচন্ড মানসিক চাপে ছিলাম। নিজের সমস্ত ডিপ্রেশন কিবোর্ডের উপর চাপিয়ে দিতাম, ওই সময়টাতেই শুরু। আরবান লেজেন্ড নিয়ে লিখতাম, ভূতুড়ে ঘটনা নিয়ে লিখতাম, ফেয়ারী টেলের ডার্ক অরিজিনস নিয়েও লেখা হতো। এইগুলো সব আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিতাম। আমার সেই স্ট্যাটাসগুলো অনেক মানুষ পছন্দও করতো।গল্প টল্পও লিখতাম মাঝে মাঝে, তবে কমই আরকি। লিখে লিখেই সময় কাটতো তখন, তবে লেখালেখি টাকে তখনো সিরিয়াসলি নেইনি। এখনো নেই না অবশ্য(হাসি)

লেখক লুৎফুল কায়সার

 

প্রিয়লেখাঃ আরবান লেজেন্ডস কি নেহাত শখের বশেই লেখা নাকি লেখালেখিটা ধরে রাখবার ইচ্ছা আছে?

লুৎফুলঃ বিভিন্ন গ্রুপে আমার আরবান লেজেন্ড নিয়ে পোস্টগুলো বেশ পাঠক প্রিয়তা পাচ্ছিলো। তখন ভূমি প্রকাশের সজল ভাই আমাকে এই নিয়ে একটা বই লেখার কথা বলেন। তারপর এই বছরের গোটা রমজান মাস জুড়েই আমি বইটা লিখে শেষ করি। উমমম, ব্যাপারটা অনেকটা শখের বশেই, তবে লেখালেখি ধরে রাখার ইচ্ছা আছে। আর পাঠকদের জন্যও একটা বোনাস আছে। বাংলা ভাষায় এর আগে আরবান লেজেন্ডস নিয়ে কোন ধরণের লেখা হয় নি।

 

প্রিয়লেখাঃ আপনি একটি বিশেষ জনরা ফলো করেন। হরর, গোর ফ্লিক, অদ্ভূত সব বিষয়কেই আপনি বেছে নিয়েছেন জনরা হিসেবে। কারণটা কি বলবেন?

লুৎফুলঃ ছোট থেকেই হরর গল্প আমার ভালো লাগে। এস.এস.সির পর নিজের ভোকাবুলারি ইমপ্রুভ করেছিলাম শুধুমাত্র লাভক্র্যাফটের বই পড়ার জন্য, তো এই নিয়ে আগ্রহটা ছোট থেকেই কাজ করতো।

ভূমি প্রকাশ থেকে একটি অনুবাদগ্রন্থে লেখকের ছোট গল্প “মাংকি ম্যান”

প্রিয়লেখাঃ ‘আরবান লেজেন্ডস’- দিয়েই শুরু করার কোন বিশেষ কারণ আছে?

লুৎফুলঃ দেখুন, শহুরে সমাজে আমরা যতটাই অভ্যস্ত হয়ে যাই না কেন, আমাদের একটা অংশ কিন্তু এখনো দাদী নানীদের কাছে শোনা স্কন্ধকাটা ভূত কিংবা শাকচুন্নীদের গল্প শুনতেই মজা পাই। এগুলো কিন্তু গল্প না, এক ধরণের লেজেন্ড বলতে পারেন। তো, আমি যেহেতু এই ধরণের গল্পই মানুষকে শোনাতে পছন্দ করি, হঠাৎ করেই মনে হল তাহলে একটু বিস্তারিতভাবে লিখেই দেখি না? সেখান থেকেই নিতে শুরু করলাম দেশ বিদেশের নানা আরবান লিজেন্ড। পাঠকদের শুধু দেশের আরবান লিজেন্ডই না, নিয়ে যেতে চাই বিদেশেও (হাসি)

 

প্রিয়লেখাঃ আপনার লেখা নিয়ে কখনো কোন ধরণের মজাদার কিংবা বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল কি?

লুৎফুলঃ অনেকেই মনে করে যে আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক পারি, এজন্য মাঝে মধ্যেই মানুষের নক পাই! ব্যাপারটা বিব্রতকরই বটে! একটা মজার কথা বলি। কয়েকদিন আগেই নামকরা এক ব্লগ সাইটের এডমিন আমাকে বললেন তার সাইটে আমি লেখা দিতে আগ্রহী কি না। লেখাগুলো যেন গোর ফ্লিক, হরর এইধরণের জনরার হয়। মানে আমি যেরকম লিখি আর কি। এবার আসল মজার কথা বলি। এই এডমিনই আমার লেখালেখির একদম শুরুর দিকে আমার লেখাকে অখাদ্য কুখাদ্য, রুচির বিকৃতি ইত্যাদি ইত্যাদি বলে গালাগাল দিয়েছিলেন। আসলে সময় যে মানুষের সাথে কেমন আচরণ করে, তা আমরা কেউ জানি না। (হাসি)

 

প্রিয়লেখাঃ রুয়েটে যন্ত্রকৌশল বিভাগে পড়ছেন। পড়ার পাশাপাশি লেখালেখিটা কিভাবে ব্যালেন্স করছেন?

লুৎফুলঃ ব্যালেন্স আসলে হয়ে যায় আর রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে কিন্তু অনেক ভালো লেখক বের হয়ে এসেছেন। আসিফ(আসিফ উর রহমান) আর ইমন(কিশোর পাশা ইমন) এরা দুজন তো খুবই জনপ্রিয়।

 

প্রিয়লেখাঃ অনেকে বলেন লুৎফুল কায়সারের লেখায় চমৎকার একটা হিউমার আর তথ্যের মিশ্রণ পাওয়া যায়। ব্যাপারটা কিভাবে আয়ত্ত্ব করলেন?

লুৎফুলঃ তথ্যের ব্যাপারটা হলো বিভিন্ন জিনিস নিয়ে মাঝে মাঝেই ঘাটাঘাটি করা হয় নেটে, কাজ না থাকলে যা হয়, হাহা। আর হিউমারের ব্যাপারটা একটু আজবই। দেখুন পৃথিবীর সব বিষয়ের মধ্যেই কিন্তু হিউমার লুকিয়ে আছে। যেমন মনে করুন আপনি কোনো একটা বিষয় নিয়ে খুব কষ্টে আছেন, এটা নিয়েও কিন্তু অনেক মানুষ হাসাহাসি করবে! ব্যাপারটা অমানবিক, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। তাই লেখাগুলো মধ্যে হিউমারের একটা ফ্লেভার দিতে চেষ্টা করি আরকি।

 

প্রিয়লেখাঃ বন্ধুবান্ধব, পরিবার থেকে কেমন উৎসাহ পেয়েছেন লেখালেখির ব্যাপারে?

লুৎফুলঃ আমার আম্মু একজন বই পড়ুয়া হলেও লেখালেখি একেবারেই পছন্দ করেন না। দেশের প্রেক্ষাপটে তো লেখালেখিকে কোনো নোবেল প্রফেশন ধরা হয়না। বই বের হওয়ার কথাও উনাকে জানানো হয়নাই। অনেক লেখককে দেখি নিজের প্রকাশিত বই নিয়ে মায়ের সাথের ছবি তোলে। সেই সৌভাগ্য এখনো আমার হয়নি, ভবিষ্যতে হবে হয়তো।

বন্ধুবান্ধবের মধ্যে আমার দুজনের কথা বলতে পারি, জয় এবং ঝলক নামে আমার দুইটা বন্ধু আছে, এরা সবসময়ই উৎসাহ দিয়ে এসেছে। রুয়েটের সিনিয়রদের মধ্যে অমিত ভাই, অনুপ ভাই, রনি ভাই ইনারাও সবসময়ই উৎসাহ দেন।

আর সবচেয়ে বেশী উৎসাহটা এসেছে এদেশের দুজন স্বনামধন্য থ্রিলার লেখক তানজীম রহমান এবং জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে। উনারা না থাকলে লেখালেখি শুরুই হতোনা।

 

প্রিয়লেখাঃ আমাদের দেশে আস্তে আস্তে থ্রিলার, হরর, সাইন্স ফিকশন, গোর ফ্লিক- এসব জনরাগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে। বেশ কিছু প্রকাশনী এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আপনার কি মত?

লুৎফুলঃ অবশ্যই ভালো একটা ব্যাপার। আমাদের দেশে এইসব বিষয়ে মৌলিক লেখাগুলোকে উৎসাহিত করা উচিত। যদিও এদেশের সুশীল লেখকগোষ্ঠী এগুলোকে ‘২য় শ্রেণীর লেখা’ বলে থাকেন, হাহাহাহা।

লেখক লুৎফুল কায়সার

প্রিয়লেখাঃ আপনার পড়া সবচেয়ে প্রিয় বইটির নাম বলুনঃ

লুৎফুলঃ জেমস হারবার্টের ‘দ্য সারভাইভার’।

 

প্রিয়লেখাঃ নতুন কোন বইয়ের কাজ করছেন কি?

লুৎফুলঃ করছি কিছু কাজ, সেগুলো আলোর মুখ দেখলে অবশ্যই জানানো হবে।

 

প্রিয়লেখাঃ এবার আপনার জন্য আমাদের র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড। এক কথায় উত্তরগুলো দেবেনঃ

লুৎফুলঃ প্রিয় মানুষ– শ্রদ্ধেয় তানজীম রহমান।

প্রিয় খাবার- ভাত আর ডাল।

প্রিয় রং- নীল, কালো।

প্রিয় কাজ- গান শোনা।

প্রিয় উক্তি- “Pain is your friend, your ally, it will tell you when you are seriously injured, it will keep you awake and angry, and remind you to finish the job and get the hell home. But you know the best thing about pain? It lets you know you’re not dead yet!” – Master Chief John Urgayle(G.I. Jane)

লুৎফুল কায়সার একজন_

-আজাইরা মানুষ।

 

প্রিয়লেখাঃ লেখালেখির ক্ষেত্রে কাউকে আইডল হিসেবে মানেন কি? যদি মেনে থাকেন, তাহলে সে কে এবং কেন?

লুৎফুলঃ শ্রদ্ধেয় তানজীম রহমানকে। উনার স্টোরিটেলিং অসাধারণ, উনার মতো হতে পারবোনা জানি কখনোই তবে চেষ্টা করি আরকি।

 

প্রিয়লেখাঃ পাঁচ বছর পর নিজেকে কেমন অবস্থানে দেখতে চান?

লুৎফুলঃ আমি কখনোই প্ল্যান করিনা। প্ল্যান জীবনকে বোরিং বানায়। একটাই ইচ্ছা, মারা যাওয়ার আগে যেনো আমি আমার চোখের সামনে নিজের লেখা কয়েকটা বই দেখতে পাই। মারা যাওয়ার সময় শেষ দৃষ্টিতে বইগুলো দেখবো, চোখের সামনে নামবে একটা অদ্ভুত পর্দা, সেই পর্দাতে ভেসে উঠবে ধুসর আর ঝাপসা হয়ে যাওয়া একটা মুখ, It would be a great view to watch and a fine day to die.

 

প্রিয়লেখাঃ সবাই ‘হলে গিয়ে’ আরবান লেজেন্ডস পড়ুক, এই শুভকামনা থাকল আপনার জন্য। প্রিয়লেখা টিমকে সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, আপনার সাফল্য কামনা করি।

লুৎফুলঃ আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ।

(লুৎফুল কায়সারের সাক্ষাৎকারটি প্রিয়লেখার পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছেন আহনাফ তাহমিদ রাতুল)