বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মজার কিছু ভুল! - প্রিয়লেখা

বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মজার কিছু ভুল!

ahnafratul
Published: September 29, 2017

রুক্ষ আর একরাশ কাঁচাপাকা চুল, চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা। দেখলে মনে হবে সারাক্ষণ কি নিয়ে যেন ভাবছেন তারা। মুখ বিড়বিড় করে কি যেন ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন। পাতার পর পাতা ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন, কখনো বা ইউরেকা বলে লাফিয়ে নেমে পড়ছেন চৌবাচ্চা থেকে। কারো বা আবার মৃত্যুর শত শত বছর পর নোটবুক দেখে শিহরিত হয় আধুনিক মানুষ। এতোটা এগিয়ে ছিলেন তারা চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণার দিক থেকে?
বলছিলাম বিজ্ঞানীদের কথা। তাদের কর্মের কথা, তাদের সাধনার কথা। দিন রাত এক করে তাদের শ্রমের ফসল উপভোগ করছি আমরা আজকের যুগের মানুষ। পৃথিবীকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে তাদের যে অবদান, তা কখনোই ভুলে যাবার নয়। একইসাথে মনে রাখতে হবে, তারাও আমাদের মতই রক্তমাংসের গড়া মানুষ। ভুল তাদেরও হতে পারে, আবার কখনো কখনো তাদের করা ভুল হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম রসদ। আজ তেমন কিছু ভুল নিয়েই আয়োজন আমাদের প্রিয়লেখায়ঃ

১) আইনস্টাইনের হারিয়ে যাওয়া অনুমানঃ


স্যার আলবার্ট আইনস্টাইনের অবদান অনস্বীকার্য। তবে আমাদের ভাবনার সাথে তার অবদানের তুলনা করলে এখনো আমরা অনেক পিছিয়েই থাকব। এটা মনে করবার কোন কারণ নেই যে, আইনস্টাইন শতভাগ সঠিক ছিলেন। কারণ, তিনি মনে করতেন পৃথিবী অবিনশ্বর, এর কোন ক্ষয় নেই।
আইনস্টাইন বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী আগে থেকেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও এটির অবস্থান নিশ্চিত থাকবে। বেলজিয়ান জ্যোতির্বিদ ও যাজক জর্জেস লেমাতর যখন বিগ ব্যাং থিওরী সম্পর্কে তাকে জানান, আইনস্টাইন দ্ব্যর্থ ভঙ্গিতে তাকে বলেন,
“তোমার গণনা ভুল তবে পদার্থবিদ্যায় তোমার জ্ঞান প্রচুর, এটা মানতেই হবে।”
আইনস্টাইন যে শুধু লেমাতরের প্রতিবাদ করেন, তাই নয়; বরং তিনি ১৯৩১ সালে একটি ম্যানুস্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন, যেখানে লেমাতরের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তার মতামত কি, সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া এই ম্যানুস্ক্রিপ্টটি সম্প্রতি আবিষ্কার করা হয়েছে তবে ইতিহাসের অন্যতম এই ভুল ধারণাটি আইনস্টাইন করেছিলেন।

২) নিউটনের ভুল সংখ্যাঃ
বিজ্ঞান ও গণিত সম্পর্কে যাদের জানাশোনা আছে, তাদের সকলেরই স্যার আইজাক নিউটনের দ্য ফিলোসোফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা বইটি সম্পর্কে জানা রয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ে এটি পৃথিবীর অন্যতম সেরা বই, তা সম্পর্কে বলে দেয়াই যায়। বইটি প্রথম প্রকাশিত হবার ৩০০ বছরের মাঝে এটিকে নানাভাবে পড়া হয়েছে, রেফারেন্সিং করা হয়েছে, এবং এটি নিয়ে নানা ধরণের উল্লেখযোগ্য উক্তি দেয়া হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এত বছর ধরে এই বইটিতে সাধারণ একটি গাণিতিক ভুল ছিল, যা অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গিয়েছে এই কত শত বছরে।


আট নম্বর অধ্যায়ে এই ভুলটি করা হয়েছে। আমাদের জানাশোনা যেসব গ্রহ রয়েছে, তাদের ভর নির্ণয় করতে গিয়ে নিউটন একটি ফর্মূলা নির্মাণ করেন। এই ফর্মূলায় একটি দিক নির্মাণ করা হয়েছিল যেখানে দুটি আলাদা লাইন করা হয়েছিল। যোগ করতে গিয়ে নিউটন ১০.৫ সেকেন্ডের স্থানে ১১ সেকেন্ড যোগ করেন!
মাত্র ০.৫ সেকেন্ডের একটি ভুল, ইতিহাসে এটির কোন তেমন গ্রহণযোগ্যতাও নেই। তবে শত শত বছর ধরে এমন একটি ভুল কি করে মানুষের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল, তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়। রবার্ট গারিস্তো নামক ২৩ বছরের একজন যুবক নিউটনের এই ভুলটি প্রথম জনসম্মুখে আনেন।

৩) নিকোলা টেসলার সংক্ষিপ্ত আকাশ ভ্রমণঃ
মানবজাতির ইতিহাসে নিকোলা টেসলার অবদান অনস্বীকার্য, এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় যতটা উন্নতি তিনি সাধন করেছেন, তা নিয়ে মানুষ আজো তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তবে নিকোলা টেসলার একটু খ্যাপাটে বিজ্ঞানী ছিলেন। বিশেষ করে, তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি নানা ধরণের আজব আজব আবিষ্কার করার কথা ভাবতেন। যেমন, এমন এক ধরণের যন্ত্র, যেটি ভূমিকম্প ঘটাতে সাহায্য করবে!


তবে টেসলার বাল্যকালের আবিষ্কারের কথা শুনলে তার ভক্তরা আরো মজা পাবেন। বাল্যকালে টেসলা নানা জিনিস পর্যবেক্ষণ করতেন। একদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হল, লাফ দিলে কিছু সময় তিনি ভেসে থাকতে পারছেন তবে পরক্ষণেই আবার মাটিতেই নেমে আসতে হচ্ছে তাকে। এবার তিনি ভাবলেন, যদি আরো উচ্চ থেকে লাফ দেয়া যায়, তাহলে হয়ত তিনি ভেসে থাকতে সক্ষম হবেন।
যেই ভাবা সেই কাজ। বাড়ি থেকে একটি পুরনো ছাতা তিনি সংগ্রহ করলেন। তারপর উঠে গেলেন বাড়ির ছাতে। শক্ত করে আঁকড়ে ধরলেন ছাতার হাতল। এবার লাফ দিলেন! পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। সৌভাগ্যক্রমে নিচেই ছিল একটি বালুর ঢিপি। টেসলা এর ওপরেই পড়লেন।
ফলাফল, মায়ের বকুনি আর দু সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রাম!

৪) বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনের তরঙ্গায়িত টার্কিঃ
তরঙ্গের প্রতি বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিনের আগ্রহ ছিল প্রবল। এ কথা সকলেরই জানা। তবে যে কথাটি অনেকেই জানেন না তা হচ্ছে, তরঙ্গের সাথে নানা ধরণের পশুপাখির মাঝে তিনি অদ্ভূত অদ্ভূত পরীক্ষা করতেন। তার ঘরের পেছনে তিনি পশুপাখিকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে দেখতেন তাদের অবস্থা কেমন হয়। এরপর তিনি এসব পশুপাখির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ছবি এঁকে ফেলতেন নিজে পরীক্ষার জন্য। যেমন, মৃত এক মাকড়সার ওপর তিনি বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করে দেখেছিলেন যে এটির অবস্থা কেমন হয়।
অনেক দিন পার হয়ে গেল। বেঞ্জামিন এবার নতুন পরীক্ষা শুরু করলেন। জীবিত প্রাণীর ওপর এ ধরণের পরীক্ষা চালালে কেমন হয়? নতুন একটি ছুতোও তিনি পেয়ে গেলেন। রান্না করার কাজে এবার বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পশু পাখিদের মেরে ফেলা হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। বেঞ্জামিন আয়োজন করলেন একটি পার্টির।


তিনি তার আমন্ত্রিত সকল অতিথিদের জন্য চেয়েছিলেন একটি লাইভ পারফর্মেন্স করে দেখাবার জন্য। তার উপকরণ ছিল একটি টার্কি। হঠাৎ বিপত্তি বাঁধে!
বেঞ্জামিন পাখিটিকে শক দেবার আগে প্রবল একটি আলো তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফলে তিনি তাল হারিয়ে হুড়মুড় করে পড়ে যান মেঝেতে। বেশ ব্যথাও পেয়েছিলেন এই কাজ করতে গিয়ে। তবে ভাগ্যিস, খারাপ কিছু তার ভাগ্যে ঘটে নি!

বিজ্ঞানীরা খ্যাপাটে ছিলেন, হয়ত ছিলেন খানিকটা পাগলাটেও। তবে একটি কথা বলতেই হয় তাদের সম্পর্কে। সাধারণের চাইতে সবকিছু আলাদা করে দেখতেন তারা। তাদের দেখার ভাব ছিল ভিন্ন, তাদের জানার পরিধি ছিল আমাদের কল্পনারও বাইরে। হয়ত এ কারণেই তারা হয়ে উঠেছিলেন আমাদের জন্য আইডল। তাদের জীবনের এরকমই আরো নানা ধরণের মজাদার কীর্তিকলাপ ও অকল্পনীয় প্রাপ্তি জানতে থাকুন প্রিয়লেখার সাথেই।

আর এই ফিচারটি তৈরি করতে সাহায্য নেয়া হয়েছে এই সাইটটির