১২ বছর বয়সী বালকের অসামান্য শিল্পগুণ! - প্রিয়লেখা

১২ বছর বয়সী বালকের অসামান্য শিল্পগুণ!

ahnafratul
Published: September 13, 2017

আচ্ছা, আমাদের চারপাশেই তো কত ফেলনা জিনিস থাকে, তাই না? ব্যবহার করার পর আমরা স্রেফ ফেলে দেই উচ্ছিষ্ট অংশগুলো। কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই ফেলনা বস্তুগুলো থেকেই আমরা গড়ে তুলতে পারি চমৎকার কিছু, অপার্থিব কিছু? মানুষ চিরদিনই নতুন কিছুর আশা করে, অসম্ভব কিছুর আশা করে। তবে এই অসম্ভব সুন্দর যে ফেলনা কিছু থেকেই উঠে আসতে পারে, তা করে দেখালেন ১২ বছরের বালক ক্যালাম ডনোভান-রুজিচিক।

কাজ করছে রুজিচিক

বোরড পান্ডার একটি রিপোর্ট অনুসারে, ১২ বছরের রুজিচিক অন্টারিওর একটি ছোট্ট গ্রাম হুইটবিতে বসবাস করেন। এই ছোট বয়স থেকেই তিনি রীতিমত একজন শিল্পী। তার তৈরি করা পুতুল ও ছবি জিতে নিয়েছে বেশ কিছু পুরস্কার। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারী ও জাতীয় দৈনিকে ফিচার।
ডনোভান রুজিচিক তার এই শিল্প শুরু করেছিলেন ১০ বছর বয়সে, আজ থেকে ২ বছর আগে। পুতুলগুলোর শরীর ও মুখাবয়ব তৈরি করা হয় মাটির সাহায্যে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো তিনি তৈরি করেন পুরনো ময়লা কাপড়ের সাহায্যে। পুতুল গড়ার পেছনে কোন জিনিসগুলো তিনি বেশি করে ব্যবহার করেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“বাতিল লোহা লক্কড়ের ব্যবহারই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নানা ধরণের গয়না থেকে যে অবশিষ্ট অংশ পাওয়া যায়, তা থেকে আমি আমার পুতুল তৈরি করি।”

জুলিয়া রুজিচিক, ডনোভানের মায়ের সাক্ষাৎকারকালে তিনি বলেন,
“ফেলনা বস্তু ও বাতিল মাল মূলত ডনোভানের বেশ প্রিয়। এসব থেকে সে তৈরি করতে পারে চমৎকার কিছু। তবে তার তৈরি পুতুলগুলো দেখলে আপনার গা কেমন যেন শিউরে উঠবে। যেন তারা এই পৃথিবীর কিছু না, অপার্থিব কিছু আপনাদের সামনে এনে হাজির করে ডনোভান। আমার ছেলে সারাদিন ঘুরে ঘুরে এই বাতিল মাল খুঁজে বের করতে খুব ভালবাসে।”

নিজের তৈরি শিল্প ও পুরস্কার হাতে রুজিচিক

বাড়ির কাছেই একটি স্থানীয় গ্যালারিতে আর্ট ক্লাস করার পাশাপাশি রুজিচিক সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ভবিষ্যতে  সে আশা করে একজন শিক্ষক হবার, যাতে সে সকলকে শেখাতে পারে কেমন করে এই শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়াও বড় ভাইয়ের সাথে স্টপ মোশন এনিমেশন ও লাইভ অ্যাকশন ফিল্ম বানানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে রুজিচিকের।

রুজিচিকের কাজগুলো দেখার পর অনেকেই মনে করেন, এসবই নিছক অর্থহীন। এমন কোন কিছু তৈরি করার কোন মানে নেই, যা কোন অর্থ তৈরি করে না। তবে তার মা বলেন,
“লোকে বলে আমার ছেলের ভেতরটা নাকি অন্ধকার। আমি তো মনে করি সে অসামান্য একজন শিল্প প্রতিভা। আমি তার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। পরিবারের পক্ষ থেকে সে সকল সুবিধা লাভ করবে। আমরা তাকে উৎসাহিতই করছি।”

তবে রুজিচিকের মত আমাদের হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমাদের আশেপাশেই এমন অসংখ্য ফেলনা দ্রব্য থাকে। কখনো কি ভেবেছি এগুলো থেকে তৈরি করা যায় নতুন কিছু, যা চমকে দিতে পারে সবাইকে?

এক ঝলকে দেখে নিন রুজিচিকের কিছু শিল্পকর্মঃ

(তথ্যসূত্রঃ মেন্টাল ফলস, বোরড পান্ডা ও ছবিসূত্রঃ জুলিয়া রুজিচিক)

আজ আর নয়। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।