হেমন্তে চাই সঠিক যত্ন - প্রিয়লেখা

হেমন্তে চাই সঠিক যত্ন

Tamanna Neeshe
Published: November 1, 2017

হেমন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের মাঝে চলে এসেছে।  দিন কিছুটা গরম নিয়ে এলেও রাত নিয়ে আসছে হালকা শীত। আর এই দিন রাতের পার্থক্য তৈরি করছে কিছু সমস্যা যেমন ঠোঁট ফাটা, পা ফাটা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুলের আগা ফাটা ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। আজ আমরা এসব সমস্যার কিছু সহজ সমাধান আপনাদের দেব।

ত্বকের যত্নেঃ

সুন্দর ত্বক সবার প্রথম পছন্দ। ফর্সা, শ্যামলা বা কালো নয় বরং দাগহীন নরম ত্বক সবার জন্য। ত্বকের প্রথম চাহিদা পরিষ্কার পরিছন্নতা। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার ত্বকের চাই বাড়তি কিছু যত্ন। সকাল ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়, কারণ আপনি যদি চাকুরীজীবী বা শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তবে আপনাকে বের হতে হয় পুরো একটি দিনের জন্য। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার ত্বকের সাথে মানানসই ফেসওয়াশ দিয়ে অথবা ঘরোয়া ভাবে তৈরি করা ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

আপনাদের জন্য একটি ঘরোয়া  ফ্যাসপ্যাক এর প্রস্তুত প্রণালি এবং ব্যবহার দেওয়া হলোঃ

১ চামচ চালের গুঁড়া, ১ চামচ মধু ও তরল দুধ পরিমাণমত।

সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে হাল্কাভাবে ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলুন আর সকালেই পান উজ্জ্বল ত্বক। আপনি চাইলে এই প্যাক হাতে, পায়ে ও ব্যবহার করতে পারেন।

এ তো গেল ফেসপ্যাকের কথা, ত্বকের জন্য টনিং ও দরকার। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টোনার পাওয়া যায়, আপনি আপনার ত্বকের ধরন বুঝে কিনতে পারেন বা বাসায় নিজে তৈরি করতে পারেন নিজের টোনার। কিভাবে? খুব সহজ শসা সবার বাসায় থাকে, শসার খোসা ছিলে ছোট ছোট কুচি করে রস বের করে তুলোতে করে লাগিয়ে নিন, হয়ে গেল টোনার। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শসার রসের সাথে মিশিয়ে নিন কয়েক ফোঁটা লেবুর রস।

যারা বাইরে বের হবেন তারা অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করবেন। এ সময় সূর্যের তাপ বেশি থাকায় সানস্ক্রিন আপনার ত্বককে দিবে বাড়তি সুরক্ষা।

বাইরে থেকে বাসায় এসেই অবশ্যই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিয়ে মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখুন এবং রাতে ভালো কোন ব্র্যান্ডের নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন, আর এই রুটিন মেনে চলুন পুরো হেমন্ত।

ঠোঁটের যত্নেঃ

মুখের যত্নের পরে আসে ঠোঁটের কথা। কমলার কোয়ার মত ঠোঁট শুধু কি রুপক অর্থে বলা হয়? না । ঠোঁট আমাদের সৌন্দর্যের প্রতীক। শীতের শুরুতে ঠোঁট ফেটে যায়, ঠোঁটের চামড়া শক্ত হয়ে ঠোঁটকে করে তোলে বিশ্রী । তাই তো এখনই একটু যত্ন নিলে আপনার ঠোঁট হবে নরম, কোমল ও আকর্ষণীয়।

প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে সুন্দর করে ঠোঁট থেকে লিপিস্টিক তুলে ফেলুন। ঠোঁটকে গোলাপি রাখতে ব্যবহার করুন ঘরোয়া স্ক্রাব। পরিমাণ মতো চিনি এবং লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে কিছুক্ষণ স্ক্রাব করুন, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে কয়েকবার করুন এই স্ক্রাবটি।

ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে ও ঠোঁটকে ময়েশ্চার দিতে ব্যবহার করুন তরল ঠাণ্ডা দুধ। একটি তুলার বল তৈরি করে দুধে ভিজিয়ে ঠোঁটে ঘষুন কিছুক্ষণ, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রাতে লিপবাম বা লিপজেল লাগিয়ে ঘুমান।

হাত ও পায়ের যত্নঃ

হেমন্তে হাত ও পায়ের ত্বক টানটান হয়ে যায় যা আপনার ত্বকের শুষ্কতার কথা বলে দেয়। তাই এ সময়ে হাত ও পায়ের চাই বিশেষ যত্ন। সপ্তাহে একদিন মেনিকিওর ও প্যাডিকিওর করা উচিত। সকালে বা অন্য যেকোনো সময়ে বাইরে বের হওয়ার সময়  সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় ভালো ব্র্যান্ডের ময়েশ্চার ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তাহলে হেমন্ত বা শীত আপনার হাত ও পা হবে মসৃণ ও কোমল।

চুলের যত্নঃ

বাঙালী নারীরা বিখ্যাত তাদের দীঘল চুলের জন্য। হেমন্তের এই শীত শীত ভাব নিয়ে আসে চুলের রুক্ষতা, খুশকি, আগা ফাটা জাতীয় সমস্যা। আর এসব সমস্যার সমাধান আমাদের হাতের কাছেই আছে। চুলের যত্নে সপ্তাহে ২ দিন গরম তেল ম্যাসেজ করা খুবই দরকার। এতে করে চুল পাবে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি। প্রতি মাসে চুলের আগা ছাঁটলে চুলের আগা ফাটা রোধ করা সম্ভব। চুলে শ্যাম্পু করার পর অবশই কন্ডিশনার ব্যাবহার করতে হবে।

এসময় যেহেতু খুশকির আবির্ভাব শুরু হয়, তাই খুশকি নিরোধক শাম্পু ব্যবহার করা ভালো। চুল যদি বেশি রুক্ষ হয়ে যায়, তাহলে এই হেয়ার মাস্কটা সপ্তাহে ১ দিন বাসায় ব্যবহার করতে পারেন –

পরিমান মতো টকদই, ১ টি ডিম, ১ চামচ অলিভ অয়েল।

সব উপকরন ভালো ভাবে মিশিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে চুল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফলাফল নিজেই বুঝতে পারবেন, চুল কত নরম ও ঝরঝরে হয়। এসময় আমলকী পাওয়া যায়, একটু সময় করে আমলকীর রস বানিয়ে যে কোন তেলের সাথে মিশিয়ে মাথার তালুতে দিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে যেমন আপনার খুসকির সমস্যার সমাধান হবে, তেমনি আপনার চুল ও হবে ঝলমলে সুন্দর।

মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সবকিছুর একটু চর্চা প্রয়োজন। তাহলেই আমরা পাব সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় ফলাফল। তাই সময় থাকতে একটু চর্চা আপনার ভবিষ্যৎ সময়কে করবে শান্তির। তবে কেন কালকের জন্য বসে থাকা, আজই হোক নতুনভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবনা।