স্মৃতিশক্তি- কিছু টিপস ও প্রাসঙ্গিক কথা - প্রিয়লেখা

স্মৃতিশক্তি- কিছু টিপস ও প্রাসঙ্গিক কথা

CIT-Inst
Published: July 28, 2017

একটি মিথ প্রচলিত আছে যে মানুষের স্মৃতিশক্তি ১০০-রও অধিক সুপার কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি থেকে তথ্য ধারণ করে রাখতে সক্ষম। কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে, কিছু কিছু তথ্য আমরা আজ মনে রাখতে পারলে কালকে ভুলে যাই। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাংক ম্যাকগিলেন বলেন,

“মানুষের স্মৃতি খুবই অদ্ভুত জিনিস। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় তথ্য এটি নিজ থেকেই ট্র্যাশ বাক্সে ফেলে দেবে। আবার দেখবেন যে, অনেক ছোটবেলার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাপারগুলোও আপনার অনেক বয়স পর্যন্ত বেশ ভালো মনে আছে। বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে নানা গবেষণা করছেন কিন্তু স্মৃতিশক্তির আসলে ধারণক্ষমতা কতটুকু তা সম্পর্কে তারা এখনো ওয়াকিবহাল হতে পারেন নি।”

প্রতিদিনই আমরা নতুন কিছু না কিছু শিখছি। জানতে পারছি নানা অজানা সব তথ্য। কিন্তু তার কতটুকুই বা আমরা মনে রাখতে পারি? অনেক প্রয়োজনীয় তথ্যও আমরা মনে রাখতে পারি না। অনেকে মজা করে বলে যে, স্মৃতিশক্তি সবচেয়ে বেশি ধোঁকাবাজি করে পরীক্ষার হলে। বার বার করে পড়া জিনিসটাও যেন মনে আসতে চায় না। এর পেছনে অবশ্য অনেক ধরণের প্রভাবক কাজ করে। যেমন, পরীক্ষার হলের পরিবেশ, চারপাশের টেনশন, নিজের মাঝে এক ধরণের অস্বস্তি ইত্যাদি আরো নানা ধরণের উপাদান।

কিছু কিছু বাচ্চা রয়েছে যারা পড়া একদম মনে রাখতে পারে না। রাস্তা যত সামনের দিকে এগুতে থাকে, তার পথটাও আরো কঠিন হয়ে যায়। ফলে পরিবার ও আশপাশ থেকে ভালো ভাবে সহযোগিতা না পেলে তার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় টিকে থাকতে। তাদের জন্যও এই টিপসগুলো কাজে লাগবে। বিজ্ঞানকে ধন্যবাদ যে তাদের মাধ্যমে আজ মানুষ কিছু শিখতে ও জানতে পারছে। আজ আপনাদের কিছু টিপস দেয়া হল যার মাধ্যমে আপনারা নিজের স্মৃতিশক্তিকে কিছুটা হলেও যাচাই করে নিতে পারবেনঃ

 

১) নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা গুণগুলো আলাদা করে ফেলুনঃ

যদি আপনি গিটার শিখতে চান, তবে প্রথমবারই স্টেজ পারফর্ম করছেন, এমন কিছু ধরে নেবেন না। প্রাথমিক জ্ঞান আহরণ করুন। গিটারের নানা কর্ড রয়েছে। কর্ডগুলো আয়ত্বে আনুন। তারপর পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের বাজিয়ে শোনান। তারাই আপনাকে আপনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে। ফলে নিজের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে ও আপনি আপনার ভেতরকার শক্তিটা যাচাই করতে পারবেন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন। কোন ধরণের কাজ আপনি ভালো পারেন বা পারবেন তা একটি লিস্ট করে ফেলুন।

২) মাল্টিটাস্কিং আপনার জন্যই ক্ষতিকরঃ

অনেকেই মনে করেন যে একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে পারার দক্ষতা এক ধরনের মিথ। মানুষ একসাথে অনেক কাজ করতে পারে না। কিন্তু কথাটা আসলে সত্য নয়। মানুষের মস্তিষ্ক একসাথে অনেকগুলো কাজের ধাঁচ ধরতে পারে ঠিকই, কিন্তু কেউ তা সবগুলো ভালোভাবে সমাধা করতে পারে, কেউ আবার পারে না। তাই আপনি নিজের ভেতর বিশ্বাস তৈরি করুন যে আপনি পারবেন।

আর যদি আপনি ধীর স্থির কিংবা কাজ বুঝে বুঝে সময় নিয়ে করতে ভালোবাসেন তবে অনেকগুলো কাজ একসাথে হাতে না নেয়াই ভালো। সবগুলো কাজ একসাথে শুরু করলে কিছু না কিছু খামতি থেকেই যায়। সেগুলো কাজের বোঝা কমায় না, বরং আরো বাড়ায়।

৩) যা পড়ছেন, তা লিখে ফেলুনঃ

অনেক সময় খেয়াল করে দেখবেন যে মানুষ তাদের পকেটে একটা ছোট নোটবুক রাখে। জরুরী কোন তথ্য যাতে সে মনে রাখতে পারে কিংবা প্রয়োজনের সময় যদি স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলে লিখে রাখা জিনিসটাই তাকে উদ্ধার করবে।

গবেষকরাও বলেন যে মানুষ কোন জিনিস পড়ার সাথে সাথে তা যদি লিখে রাখে তবে মস্তিষ্ক তা সহজে বুঝে নিতে পারে। তারা আরো বলেন যে মনে রাখার জন্য সাদা কাগজ ও তার জমিনে কালো কালির লেখার চাইতে ভালো কিছু আর হতেই পারেনা স্মৃতির জন্য।

৪) ভুল হলে রাগ নয়, করুন ফূর্তিঃ

একদম সঠিক আপনি কখনো হতে পারবেন না, তা কখনো সম্ভবও নয়। তাই কোন কাজে ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়বেন না, নিজেকে শক্ত করুন। ভুলগুলোকে উদযাপন করবার মত মানসিক শক্তি অর্জন করুন। কারণ, তখন আপনার মন প্রফুল্ল থাকবে। নিজের ভুলগুলোকে বুঝতে পারবেন আরো ভাল করে এবং সামনে এ ধরনের ভুল এড়িয়ে চলতে পারবেন। নিজেকে বোঝান যে সামনে এ ধরণের ভুল আপনার দ্বারা আর হবে না।

 

এই ছিল আজকের আয়োজন। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।