সাহিত্যের ভয়ঙ্কর আট অজানা দানব কে চিনুন এই হ্যালোউইনে - প্রিয়লেখা

সাহিত্যের ভয়ঙ্কর আট অজানা দানব কে চিনুন এই হ্যালোউইনে

Naseeb Ur Rahman
Published: October 31, 2017

ভয় পেতে ভালোবাসেন! তাহলে আগামীকাল ৩১শে অক্টোবর  ‘হ্যালোউইন ডে” ঠিক আপনার জন্য। পাশ্চাত্যে দিবসটি শিশুকিশোরদের মাঝে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তারা এটিকে ‘ট্রিক এন্ড ট্রীট ডে’ ও বলে থাকে। সন্ধ্যে যখন নামে বাড়ীর দোরগোড়ায় তখন শিশুরা সাজে কল্পলোকের দৈত্য-দানোর সাজে। প্রতিবেশীদের চমকে দিয়ে বলে ‘ট্রিক অ্যান্ড ট্রীট’। আর পেয়ে যায় হাতে নানা ধরনের ক্যান্ডি। কেউ কেউ সাজে সুপার হিরোর সাজেও। শুধু যদি বলি শিশুদের নাম তাহলে হয়তো কোথাও ভুল থেকে যাবে, কারণ হ্যালোউইন উন্মাদনায় মাতে তরুণ-তরুনীরাও। এ যেন কারো জন্য ভয়ের উৎসব। আবার কারো কাছে পার্টি।

যার কাছে দিনটি যেমন তার কাছে না হয় তেমন থাকুক। তবে হ্যালোউইনকে উপলক্ষ করে চলুন পাঠক আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই সাহিত্যের জানা অজানা আট দানবের সাথে যাদের জন্ম সেই মিথ হতে মিথোলজির যুগে।

সৃষ্টির অন্ধকারাচ্ছন্ন জগত থেকে নেমে আসা সরীসৃপ যার এক দৃষ্টিতে আপনি গ্রহণ করবেন মৃত্যুর আস্বাদ, অথবা মৃত্যুলোকের আত্মা যা নিজের ক্ষুধা নিবৃত্তিতে আপনার দেহ ও মস্তিষ্ক থেকে শুষে নিবে সকল সুখ স্মৃতি। তবে পাঠক চলুন নিয়ে যাই ভয়ের অন্দরমহলে।

১। ব্যাসিলিস্কঃ

‘ব্যাসিলিস্ক’-  হল কল্পলোকের জগতের এক বিশাল বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত আধা সরীসৃপ জীব। একে নিয়ে হাজারো গল্প ছড়িয়ে আছে। তবে আধুনিক মনে বিপুল ভাবে ব্যাসিলিস্ক সম্পর্কে কৌতূহল জন্ম নেয় হ্যারি পটার এর চেম্বার অফ সিক্রেটস মুভিটি দেখার পর। ব্যাসিলিস্ক একটি বিশাল, ভীতিকর সাপ। এটি বিষাক্ত দুটি শ্বদন্ত এর অধিকারী, যা আপনাকে বিষ ছুড়ে বা শুধু এক নজরে হত্যা করতে পারে। পৌরাণিক এই দৈত্যের ভয়াল কাহিনী হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত। মিথে তাদের চিত্রায়ন করা হয়েছে অর্ধেক সাপ, ও অর্ধেক মুরগি জাতীয় প্রাণী হিসাবে যার প্রধান দুর্বলতা ছিল স্কাঙ্কের গন্ধ।

২। ক্র্যাকেনঃ

‘ক্র্যাকেন’-  স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পুরাণ থেকে  উঠে আসা এক প্রাচীন সমুদ্র দানব যে নরওয়ের কাছাকাছি সমুদ্রে বসবাস করে। এটি সম্পর্কে প্রথম জুলস ভার্নের টোয়েন্টি থাউজেন্ড লীগস আন্ডার দ্য সী’তে  জানা যায়। কথিত আছে ক্র্যাকেন মূলত  দৈত্যাকার অক্টোপাসের মত দেখতে।  সমুদ্রের তলায় লুকোনো এই দানব অপেক্ষায় থাকে কখন কোন জাহাজ তার মাথার উপর দিয়ে সাগর পাড়ি দিবে এবং তখনই ক্র্যাকেন আক্রমণ করে ধ্বংস এবং হত্যালীলায় মেতে উঠবে।

৩। মিনোটরঃ

মিনোটৌর’- গ্রিক পৌরাণিক কাহিনির দানব। মিনোটৌর এই তালিকার অন্যান্য দানব থেকে আলাদা,কারণ এটি অর্ধ ষাঁড় ও অর্ধেক মানব। ক্রিটের রাজা মিনোসের স্ত্রী পাসফের ও  পাসফের এর প্রিয় ষাঁড় এর ভালোবাসার ঔরসে জন্ম নেয় অর্ধ মানব ও অর্ধ ষাঁড় মিনোটৌর। যেহেতু মিনোটৌর একজন পূর্ণ মানুষ ছিলো না বা কোনও ষাঁড়ও ছিলো না, তাই তার কোন “প্রাকৃতিক” খাদ্য ছিল না। ফলশ্রুতিতে দানবটি মানুষ খেয়েছিলো।  রাজা মিনোস তার প্রজাদের বাঁচাতে ও নিজে বাঁচতে বিখ্যাত গ্রিক আর্কিটেক্ট ডেলুডাস ও তার ছেলে ইকেরাস কে দিয়ে একটি গোলোকধাঁধার ফাঁদ নির্মাণ করে। সেখানে মিনোটৌর কে আটকে রাখা হয় এবং যতদিন না এথেনিয়ান মহাবীর থিসিয়াস এর হাতে এই দানব নিহত হয় ততদিন গোলকধাঁধাতেই মিনৌটর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

৪। সাইক্লোপসঃ

‘সাইক্লোপস’-গ্রিক পুরাণ থেকে উঠে আসা এক চোখো বিশিষ্ট দৈত্য জাতি। তাদের মাঝে সব থেকে বিখ্যাত সাইক্লোপস কে খুঁজে পাওয়া যায় হোমারের দ্য ওডেসি মহাকাব্যে। সেই মহাকাব্যে গ্রিক বীর ওডেসিয়াস অলিম্পিয়ান সমুদ্রদেব পোসেইডনের পুত্র পলিফেমাস নামক সাইক্লোপস এর সম্মুখীন হন,যে তার গুহায় মানুষকে খুন করে খেতো। কিন্তু গ্রিক বীর ওডেসিয়াস পলিফেমাস নামক সাইক্লোপস কে কৌশলে পরাজিত করে হত্যা করে।

৫। ফেনরিসঃ

‘ফেনরিস’- এক দানব নেকড়ে যার জন্ম ভাইকিং মিথোলজি হতে। সে একের পর এক মানুষ হত্যা করে এবং খায়। প্রতিটি হত্যা ও ক্ষুধা নিবৃত্তির সাথে সাথে ‘ফেনরিস’ নামক দানব নেকড়ে বড় হতে থাকে। গল্পটি যেহেতু এমন-তাহলে পাঠক কল্পনা করুন এমন এক নেকড়ে কে, যে বিশ্বের সকল মানুষকে খেয়ে ধারন করেছে মহাজাগতিক আকার। অতএব, সাবধান!

৬। মেডুসাঃ-

আমার করা তালিকায় মেডুসা’ই একমাত্র মহিলা দানব। তিনি গ্রীক পুরাণ থেকে উঠে আসা অন্ধকারের আতংক। তার সম্পর্কে নানা উপকথা, মিথ প্রচলিত রয়েছে।যার মধ্যে ওভিড এর মেটামর্ফোসিস এর উপকথাকে অনেকে আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তার সংস্করণ থেকে জানা যায়,মেডুসা ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী। তার প্রতি সমুদ্র দেবতা পোসাইডন আকৃষ্ট হয়ে প্রেম নিবেদন করেন। পরে মেডুসা কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে পোসাইডন তাকে ধর্ষণ করেন। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। কেন পোসাইডন মেডুসার প্রতি আকৃষ্ট হলেন? তাই নিয়ে গ্রিক দেবী এথেনা অত্যন্ত ঈর্ষান্বিত হন এবং মেডুসাকে অভিশাপ দেন। অভিশাপে মেডুসার মাথার চুলগুলো বিষাক্ত সাপ হয়ে যায়। মেডুসার নতুন চেহারা ছিল এতই কুশ্রী ও অভিশপ্ত যে মানুষ তার দিকে তাকানো মাত্রই পাথরে পরিণত হতো।

৭। চুথুলুঃ

এইচ.পি লাভক্র্যাফট বিশ্বব্যাপী ভক্তদের কাছে সাড়া জাগানো একটি নাম। তিনি সৃষ্টি করেছেন মিথলজির সম্পূর্ণ নতুন বিশ্ব। ‘চুথুলু’ তার সর্বাধিক বিখ্যাত সৃষ্টি। এটি দেখতে একই সাথে অক্টোপাস,ও ড্রাগন এর মত এক বিশাল সত্তা, কিন্তু দেহ মানুষের। তার পিঠের উপর সংযুক্ত রয়েছে দুইটি বিশাল ডানা। লাভক্র্যাফট অনুসারীদের মতে মহাবিশ্বে রাজত্ব করবে এই দানব ‘চুথুলু’ । শুধুমাত্র ঘুম থেকে তার জেগে উঠার অপেক্ষা। এই দানব বলে সমুদ্রের নীচে তার প্রাসাদে ঘুমিয়ে রয়েছে।

৮। ডেমেন্টরসঃ

গল্প যখন চলছে দানবের,তখন হ্যারি পটারের ডেমেন্টরের কথা কিভাবে ভুলতে পারি? ডেমেন্টরস মানেই অন্ধকারের আতংক,যারা জীবের জীবন হতে সুখস্মৃতি শুষে নেয়। মানুষ হয়ে পড়ে প্রাণহীন, আত্মাহীন এক জড় পদার্থ। ডেমেন্টরকে প্রতিহত করতে সুখ স্মৃতিতে ফোকাস করতে হবে। অন্যথায়, তারা আপনাকে চুম্বন করবে এবং আপনি রইবেন না জীবিত না মৃত।

সুপ্রিয় পাঠক আজ তা হলে এই পর্যন্ত।

আপনার যদি পরবর্তীতে ভয় পেতে মন চায়, তাহলে একবার এমন কোন দানবের কথা ভাববেন। দেখবেন সেই দিনটি হয়ে যাবে আপনার জন্য হ্যালোউইন। তাই সুপ্রিয় পাঠক ‘প্রিয়লেখার’ পক্ষ থেকে নিন হ্যালোউইনের শুভেচ্ছা। আমাদের সাথেই থাকুন।