সারাবিশ্বে যানজটের হালহকিকত, রেকর্ড আছে ১১ দিনেরও! - প্রিয়লেখা

সারাবিশ্বে যানজটের হালহকিকত, রেকর্ড আছে ১১ দিনেরও!

farzana tasnim
Published: August 25, 2017

ঢাকা শহরের জ্যাম নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে নগরবাসীর এখন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর কদিন বাদের ঈদ-উল-আযহা। কাজেই জ্যাম যে এবার কোন পর্যায়ে গিয়ে পড়বে তা ভাবতেও ভয় পেয়ে যাচ্ছেন নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখা প্রাণগুলো। জ্যাম নিয়ে আর্টিকেল লিখে জ্যাম কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু ঢাকা শহরের জ্যামের অতিষ্ঠ জনগণকে একটু স্বান্তনা দিতে এটুকু বলা যায় যে, আমাদের প্রাণের নগরী ঢাকাই শুধু নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও যানজটের চিত্র প্রায় একই রকম ‘চমৎকার’! চলুন তবে ঘুরে আসা যাক সারাবিশ্ব থেকে।

২০১০ সালে মার্কিন প্রতিষ্ঠান আইবিএম কম্পিউটার পেইন ষ্টাডির এক গবেষণায় জানানো হয় বিশ্বের সবচেয়ে যানজটের শহর হচ্ছে বেইজিং ও মেক্সিকো। এরপরে পর্যায়ক্রমে রয়েছে জোহানেসবার্গ, মস্কো এবং নয়াদিল্লি। তার পরবর্তীতে রয়েছে সাওপাওলো মিলান, বুয়েন্স আয়ার্স, মাদ্রিদ, লন্ডন, প্যারিস, টরেন্টো, আমষ্টারডাম, বার্লিন, মন্ট্রিল, নিউইয়র্ক, হিউষ্টন, মেলবোর্ন ও স্টকহোম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে যানজটের শহর হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলস। কিছুদিন পূর্বে লস অ্যাঞ্জেলসের শান্তামনিকা প্যাসিফিক কোয়াস্ট হাইওয়ের ছবিসহ একটি পোষ্টে দেখা যায় সড়ক সংকটই যানজটের অন্যতম কারণ নয়। সকলের ধারনা পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে সড়ক বেশি থাকলেই যে যানজট থাকবে না এই বিষয়টা বোঝানোর জন্য ভাইরাল করা হয় ছবিটি।

বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক উন্নত শহরেই যানজটের সমস্যা রয়েছে। আমরা সড়ক সংকট, রিক্সাওয়ালা আর হকার নিয়েই যুগ পার করে শুধু মূল্যবান সময় অপব্যয় করে দেশকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছি। এটা বোঝা দরকার যে যানজট শুধু হকার আর রিক্সা চালকের উপরই নির্ভর করে না। তাইতো যানজটের ভয়াবহতা ঐ সব উন্নত শহর গুলোকেও ছাড় দেয়নি যেসব দেশে রিক্সা কিংবা হকারের কোন অস্তিত্বই নেই, অভাব নেই গাড়ী পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত স্থান, নেই সড়কের সংকটও। যানজটের হাজারও কারণ থাকতে পারে। জনসচেতনতা, শৃঙ্খলার মাধ্যমে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তবে পূর্ণাঙ্গ নয়। কান টানলেই মাথা আসে একটি কথা আছে, এখন মাথা আনতে গিয়ে আমরা অনেক কিছুই টানাটানি করে সময় ব্যয় করতে পারবো কিন্তু সমাধান আসবে না। অনেকের ধারণা হকার উচ্ছেদ, রিক্সা উচ্ছেদ করলেই যানজট নিরসন হয়ে যাবে তা ভুল। এক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজন। সাময়িকভাবে সুফল পাওয়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকাই কি আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ না?

এবার আসা যাক বিশ্বের সর্ববৃহৎ জ্যামের কথায়। ছুটির পরদিন স্বাভাবিকভাবেই রাস্তার ওপর চাপ একটু বেশি থাকে। তবে চীনে সপ্তাহব্যাপী ‘গোল্ডেন উইক’ ছুটির পর কয়েকশ মিলিয়ন বাড়ি ফেরা মানুষ যে জ্যামে পড়েন তা যেন এক দুঃস্বপ্ন ছিল। পিপল’স ডেইলির খবরে জানানো হয়,  ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট  চীনের জি৪ বেইজিং-হংকং-ম্যাকাও ৫০ লেন বিশিষ্ট মহাসড়কটিতে, যেটি চীনের ন্যাশনাল হাইওয়ে নামে বেশি পরিচিত, ৮৫ লক্ষ গাড়ি জ্যামে আটকে থাকে!

নতুন একটি চেকপয়েন্ট চালু করায় সেদিন ৫০ লেনের মহাসড়কটি ২০ লেনে পরিণত হয়। তাছাড়া হাইওয়েটির ধারণ ক্ষমতার ৬০% বেশি গাড়ির চাপ ছিল সেখানে। উপরন্তু তখন রাস্তার মেরামত কাজ চলছিল। একটি ট্রাক নষ্ট হয়ে রাস্তার এক লেন ব্লক করে ছিল। জ্যামের শুরু সেখান থেকেই। একটানা পাঁচদিন কোন যানবাহনের চাকাই ঘোরেনি! বাকি দিনগুলোতেও দিনে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহন এগোতে পেরেছে। অনেকেই দিনের পর দিন জ্যামে পড়ে থাকার কারনে বিভিন্ন পন্থায় গাড়ি রেখেই বাড়ি চলে গিয়েছিল।  ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে চুল ছেড়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আটকে পড়া যাত্রীদের। দেশটিতে সবচেয়ে বড় ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে এই ভিড়টিও ছিল সবচেয়ে বড়। এই জ্যামের বিস্তৃতি ছিল ১০০ কিলোমিটার! জ্যামটি ছাড়তে কতদিন লেগেছিল জানেন? ১০ দিনেরও বেশি! ট্রাফিক পুলিশ জ্যাম নিয়ন্ত্রনে সচেষ্ট থাকার পরও প্রায় ১১ দিন লেগে যায় জ্যাম নিয়ন্ত্রণে আনতে।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই ১০/১১ দিনে জ্যামের মধ্যে ঘটে যায় ‘উল্লেখযোগ্য’ বেশ কিছু ঘটনা। যার মধ্যে ছিল ৩০টি শিশুর জন্ম, ৯টি খুন, ১৮ জনের মৃত্যু, ২৫০ এর বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনাও! কাজেই এখন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন এমন কোন জ্যামের পাল্লায় যেন আপনাকে পড়তে না হয়!