মেরিলিন মনরোঃ জনমদুখী এক অভিনেত্রীর কথা - প্রিয়লেখা

মেরিলিন মনরোঃ জনমদুখী এক অভিনেত্রীর কথা

farzana tasnim
Published: January 18, 2018

জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল ও সঙ্গীতশিল্পী মেরিলিন মনরো। আসল নাম নর্মা জিন মর্টেনসন। হলিউডের বিউটি কুইন মেরিলিন মনরো তার জীবনে অভিনয় করেছেন ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে। ৫০ এর দশকের স্বর্ণকেশী লাস্যময়ী এ অভিনেত্রীর ঝলমলে জীবনের পেছনে ছিলো এক অস্পষ্ট রহস্যময় জীবনচারণ। ক্যারিয়ার জীবনেও নানা ঘটনাবহুল সময় পার করেছেন তিনি। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই মারা যান মোহনীয় এ তারকা। ধারণা করা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

মেরিলিন মনরোর জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১ জুন ১৯২৬ সালে। তার প্রকৃত পিতার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। দু’বছর পর সেখান থেকে পালক পিতা-মাতার আশ্রয় পান মনরো। এখানে পূর্ণ স্বাধীন জীবন যাপনের সুযোগ পান তিনি। মনরোর অভিনয় জীবন শুরু হয় মডেলিং দিয়ে, ১৯৪৬ সালে। অভিনয়জীবনের শুরুতেই তিনি তার ব্রাউনিস কালার চুলকে পরিবর্তন করে তাতে প্লাটিনাম হোয়াইটের এক আভা আনেন, যা তার ট্রেডমার্ক বলা চলে। আর তার নতুন নাম হয় মেরিলিন মনরো। মনরোর মেডিকেল রেকর্ড বলে, তার চিবুক ও নাকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছিলো। এই মেডিকেল রেকর্ডটি ২৫ হাজার ছয়শো মার্কিন ডলারে নিলামে বিক্রি হয়। ছেলেবেলায় অনাথাশ্রমে থেকেছেন মেরিলিন। এরপর ভিন্ন ভিন্ন ধাপে ১১ জন পালক বাবা-মায়ের কাছে বড় হন তিনি।

১৯৪৭ সালে চুক্তিবদ্ধ হন ফক্স স্টুডিওর সাথে। ফলে তাকে দেখা যায় দুটি চরিত্রে যদিও তা খুবই অল্প সময়ের জন্য। এরপর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি আর। পরবর্তীতে কলম্বিয়া পিকচারসের সাথে কাজ করেন। কিন্তু তারাও খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। তাই ফিরে আসেন তিনি মডেলিং জগতে। হঠাৎ ভাগ্যে পরিবর্তন আসে মনরোর। ১৯৫০ সালে ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফক্স স্টুডিও থেকে পুনরায় ডাক পান। তারপরের গল্প এক উজ্জ্বল ইতিহাস। লক্ষ মানুষের স্বপ্নের নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি। ফক্স স্টুডিওর সাথে আরও সাত বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হন।

জীবনে প্রথম বিয়ে করেন তিনি ১৬ বছর বয়সে। পরবর্তীতে আরও দুইজনের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন মনরো কিন্তু কোনোটাই টেকেনি। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় তার ‘সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রটি। বেশ সুনাম কুড়ায় এটি। ১৯৫৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে যান তিনি অভিনয় করতে। কিন্তু এর মধ্যেই কিছুটা অধঃপতনের শুরু হয়। পরিচালকদের অভিযোগ আসতে থাকে মনরোকে নিয়ে। তিনি সেটে যেতে দেরি করতেন। মনরোর অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘দ্য মিসফিটস’।
৫ আগস্ট ১৯৬২ সালে হলিউডের সেরা এই অভিনেত্রীকে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন।

মেরিলিন মনরোর জীবন ও জীবনাবসান নিয়ে গুঞ্জন আর কৌতুহলের শেষ নেই। ছোটবেলা থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মেরিলিন কথা বলার সময় তোতলাতেন। পরবর্তীতে তোতলামি কেটে যায়। কিন্তু ‘সামথিংস গট টু গিভ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় তিনি স্ট্রেসের কারণে ফের তোতলাতে থাকেন। মৃত্যুর পর মেরিলিনের পরিধেয় পোশাক অনেক দামে বিক্রি হয়। জন এফ. কেনেডির জন্মদিনে মেরিলিন যে স্কিন টাইট পোশাক পরেছিলেন, তা ১৯৯৯ সালে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। আবার ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রে যে সাদা পোশাক পরেছেন, তা ২০১১ সালে বিস্ময়করভাবে ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

কৃষ্ণাঙ্গী হওয়ায় জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী এলা ফিটজেলাল্ড মোকাম্বো হলিউড নাইটক্লাবে বুকিং দিতে পারতেন না। মেরিলিন মনরো নাইটক্লাবের মালিককে বলেন, যদি তিনি এলাকে সেখানে গাইতে দেন, তাহলে মনরো প্রতি রাতে ক্লাবের প্রথম সারির টেবিলে বসে সঙ্গীত পরিবেশনা দেখবেন।

অভিনয়ে চোখ ধাঁধালেও মেরিলিন মনরো কখনও অ্যাকাডেমি মনোনয়ন পাননি। তবে ‘সাম লাইক ইট হট’ চলচ্চিত্রে সুগার ক্যানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি গোল্ডেন গ্লোব জেতেন। প্লেবয় ম্যাগাজিনে মনরোর আলোচিত ন্যুড ফটোসেশনের জন্য তাকে মাত্র ৫০ ডলার দেওয়া হয়। আসলে ১৯৪৯ সালে আলোকচিত্রী টম কেলি ছবিগুলো ক্যালেন্ডারের জন্য তোলেন। পরে প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রকাশক হিউ হেফনার ৫০০ ডলারে কিনে নেন মনরোর ছবিগুলো।

একবার মেরিলিন তার দ্বিতীয় স্বামী জয় ডিম্যাজিওকে প্রতিজ্ঞা করান, তিনি মারা যাওয়ার পর ডিম্যাজিও যেনো প্রতি সপ্তাহে মনরোর কবরে ফুল দেন। ডিম্যাজিও তার প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন। তিনি ২০ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে মেরিলিন মনরোর কবরে আধডজন গোলাপ রেখে আসতেন।