মেক্সিকোর রহস্যময় পুতুলের দ্বীপ ‘আইল্যান্ড অফ ডলস’ - প্রিয়লেখা

মেক্সিকোর রহস্যময় পুতুলের দ্বীপ ‘আইল্যান্ড অফ ডলস’

farzana tasnim
Published: November 28, 2017

বিচ্ছিন্ন সব দ্বীপ নিয়ে প্রচলিত আছে মজার সব ঘটনা। সাপের দ্বীপ, ফুলের দ্বীপ, মাছের দ্বীপ বিচিত্র সব দ্বীপ নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে মুখরোচক সব কাহিনী। সেই সব মজার কাহিনীর ভিড়ে পাঠকের পিলে চমকে দেয়ার মতো ভুতুড়ে একটি দ্বীপ ‘আইল্যান্ড অফ ডলস’ নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলায় অবস্থিত একটি ভয়ঙ্কর দ্বীপ। নাম ‘পুতুল দ্বীপ’। এ দ্বীপ নিয়ে রয়েছে এক রহস্যময় গল্প। ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ বছরের আগের হবে।

দ্বীপটি ছিল শীতল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। তিন মেক্সিকান শিশু এই দ্বীপে পুতুল নিয়ে খেলা করছিল। খেলাচ্ছলে তারা পুতুলের বিয়ে দেয়। খেলাকালীন সময়ে হঠাৎ একটি শিশু উধাও হয়ে যায়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অনেক খোঁজার পর পাশের একটি খালে সেই শিশুটির মৃহদেহ পাওয়া যায়। সেই থেকে সাধারণ মানুষের কাছে এই দ্বীপটি হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর এক দ্বীপ এবং লোকমুখে কালক্রমে প্রচলিত হয়ে আসছে নানা কাহিনী। মেক্সিকোর অনেক সাহসী বীরেরও বুক কেঁপে ওঠে এই দ্বীপটিতে গেলে।

অন্যদিকে এই অঞ্চলের স্থানীয় লোকদের একজন ডন জুলিয়ান স্যান্টানা ব্যারেরা এমন এক কাহিনী পর্যটকদের মধ্যে জন্ম দিয়েছেন যা এক কথায় লোমহর্ষকর। জুলিয়ান ছিলেন এই আইল্যান্ডের কেয়ার টেকার। তার বলা গল্পটি এখানে বহুল জনশ্রুত। একদিন জুলিয়ান রহস্যজনকভাবে ভেসে আসা এক বালিকাকে খুঁজে পান। অনেক চেষ্টা করেও তিনি মেয়েটির প্রাণ বাঁচাতে পারলেন না। মেয়েটির সাথে তিনি একটি খেলার পুতুলও ভেসে আসতে দেখেছিলেন। মেয়ে শিশুটির মৃত্যুতে জুলিয়ান এতই শোকাকূল হয়ে পড়েন যে শিশুটির মৃত আত্মার শান্তি কামনায় তার খেলার পুতুলটি নিকটবর্তী একটি গাছে ঝুলিয়ে দেন। এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা যে, জুলিয়ানের একাকীত্ব থেকেই তিনি অজান্তেই এই গল্প সৃষ্টি করেছিলেন।

আশ্চর্য এই দ্বীপে গাছের ডালে ঝুলছে পুতুল, ছোট পরিত্যক্ত ঘরের দেয়ালে ঝুলছে পুতুল। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু পুতুল আর পুতুল। এই নির্জন দ্বীপে এত পুতুল এলো কোত্থেকে, সেটা কেউই পরিষ্কার করে জানে না। স্থানীয়দের ভাষায় দ্বীপটির নাম ইলসা ডে লাস মিউনিকাস বা পুতুলের দ্বীপ। তবে নিজে থেকে এই পুতুলগুলো দ্বীপে আসেনি। ডন জুলিয়ান সানতানা নামের এক যাজক ১৯৫০ সালের দিকে এই দ্বীপটিকে তপস্যা করার জন্য বেছে নেন। তার কাছে নাকি মৃত শিশুটির আত্মা আবদার করেছিলো যে, অনেক পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে টাঙিয়ে দেয়ার জন্য।

তবে যেমন তেমন পুতুল নয়। বীভৎস সব পুতুল চেয়ে বসে শিশুটির আত্মা যেগুলো দেখলে মনে হবে তারা মানুষের নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে। ওই আত্মার অনুরোধেই জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। নষ্ট পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে টাঙিয়ে দিলে নাকি শিশুটির আত্মা খুশি হতো। এভাবেই এই দ্বীপটি গড়ে ওঠে পুতুলের দ্বীপ হিসেবে।

মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য মেক্সিকান সরকার ১৯৯০ সালে এই দ্বীপটিকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ ঘোষণা করে দ্বীপটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন অঞ্চল বানানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পর্যটকরা কদাকার পুতুল দেখে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন এই অজুহাতে এখানে আসতে ভয় পান। সারা মৌসুমে ২০-৩০ জনের বেশি পর্যটক এই দ্বীপে আসেন না।

আরও ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে এ দ্বীপে ঘটে এমনই এক রহস্যময় ঘটনা যা দ্বীপটিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। ওইদিন ডন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেটিকে নিয়ে সেই খালটিতে মাছ ধরছিলেন, যেই খালটিতে শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল।

মাছ ধরার এক পর্যায়ে ডন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেকে বলেন, পানির নিচ থেকে কেউ একজন তাকে ডাকছে। এর কিছুদিন পরই ডন জুলিয়ানের মৃতদেহ সেই খাল থেকে পাওয়া যায়। এরকম নানা ধরনের কাহিনী ও ঘটনার কথা লোকমুখে প্রচলিত হয়ে আসছে দ্বীপটিকে ঘিরে।