মারিনা আবরামোবিক এর রিদম জিরো এক লোমহর্ষক আর্ট ওয়ার্ক - প্রিয়লেখা

মারিনা আবরামোবিক এর রিদম জিরো এক লোমহর্ষক আর্ট ওয়ার্ক

Afreen Houqe
Published: May 2, 2020

মানুষের মস্তিষ্ক কি আসলে? কিভাবে কাজ করে? কি আছে এর মধ্যে? কিভাবে চালিত হয় আমাদের মানুষের মস্তিষ্ক । আমাদের চিন্তা ভাবনা আমাদের জীবন যাপন জীবন ধারণ সব কিছু চালিত হচ্ছে মস্তিস্ক থেকে হৃদয় বা হৃৎপিন্ড আমাদের বাঁচিয়ে রাখার একটি অঙ্গ মাত্র এর বেশি কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে গবেষণা চলছে, কোথাও নৈতিক ভাবে কোথাও বা চরম অন্যায় ভিন্ন পথে চলে এর গবেষণা।

আমি একটা আর্টিক্যাল বহুবার পড়েছি একবার না দুবার না বহুবার। মারিনা আবরামোবিক এর আর্টিক্যাল যতবার আমার চোখের সামনে পড়েছে কোনো একটা অদ্ভুত কারনে আমি প্রতিবার নতুন নতুন বিষয় জানার আশায় পড়ে গেছি আর মানুষের বীভৎস মস্তিস্কের ভেতরে চলতে থাকা অন্যায় ব্যভিচার অনাচার গুলো কোন পর্যায়ে বেরিয়ে আসে খোলস থেকে।
কে এই মারিনা? কি পরিচয় তার? পেশায় একজন সাইবেরিয়ান আর্টিস্ট, ফিলেনথ্রপিস্ট এবং একজন ফিল্ম মেকার।তার সাথে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় সে হয়তো অনেক মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিলো আমাদের মানুষ স্বত্তার ভেতরে বাস করা এক পশু বেরিয়ে আসার নমুনা।

মারিনা আবরামোবিক
আর্টওয়ার্ক রিদম 0 (১৯৭৪)

১৯৭৪ সালে ইতালির একটা পাব্লিক হলে দাড়িয়ে ৬ ঘন্টা পারফরমেন্স করেছিলো তিনি যার সময় ছিলো রাত আটটা থেকে দুইটা পর্যন্ত। মারিনা হলের ভিতর লিখিত একটা কাগজ হাতে দাড়িয়েছিল যে কাগজে লেখা ছিল…”মনে করো আমি একটা বস্তু,আমি তোমাদের ৬ ঘন্টা সময় দিচ্ছি এর মধ্যে তোমরা আমার সাথে যা খুশি করতে পারো,এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।”
মারিনা টেবিলের উপর মোট ৭২ রকম প্রম্প রেখেছিল, ব্লেড,গোলাপ,আঙ্গুর,মধু,পাউডার,পিস্তল(একটি বুলেট লোডেড অবস্থায়),কনডম,পালক, শেকল,বাঁশি;যেগুলো মারিনার উপর ব্যবহার করা যাবে।এবং শুধু তাই নয় যে যেভাবে খুশি যেমন খুশি ব্যবহার করতে পারবে কোনো বাধা নিষেধ থাকবে না।

হিউম্যান ব্রেইন হয়তো ধরেই নিয়েছিলো সে মুহূর্তে একজন নারী যখন ৬ ঘন্টার পারমিশন দিচ্ছে আমরা তার সাথে যা খুশি করতে পারি।ঠিক সেই সময় তার সাথে ঠিক কেমন ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা শুনলে শরীরের লোম শিহরিত হবে, আঁতকে উঠবেন কেউ কেউ। বিভৎসতার রূপগুলো একে একে যেনো সামনে উঠে এলো প্রতিটি সেকেন্ডে।
শুরুতে কেউ একজন এসে তাকে গোলাপ দিলো,কেউ এসে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলো, কেউ কেউ এসে তাকে ঠোঁটে চুমু দিচ্ছিলো। আস্তে আস্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছিলো সেখানে, প্রথম অবস্থায় হয়তো কেউ কেউ হেসে ব্যাপারটিকে খুব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু সময় অতিবাহিত হতে হতে সেই উত্তেজনা এক বিকৃত রূপ নেয়া শুরু হয়ে গিয়েছিলো। কিছু সময় যাবার পর কেউ কেউ এগিয়ে এসে তার শরীরের কাপড়গুলো কাটা শুরু করলো ব্লেড দিয়ে, যখন বিবস্ত্র হয়ে পরলো মারিনা তখন ব্লেড দিয়ে তার শরীরে আচর দেয়া শুরু করলো, কেউবা এসে তাকে ধাক্কা দিতে শুরু করলো আবার কেউ কেউ তার সাথে অশালীন আচরণ শুরু করলো এবং ভাবছিলো এর সাথে এখন কি কি করা যায়। একটা দল এসে তাকে তুলে আছাড় দিলো,শুধু তাই নয় কেউ কেউ তার শরীরের পোশাক খুলে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গমও করেছিলো সবার চোখের সামনে। এত কিছুর পরও তাদের মন ভরছিলো না,তারা কেউ কেউ মারিনার শরীরে কাঁটা ঢুকিয়ে দিলো, কেউবা এসে তার বুকে কামড় বসালো।সময়টা যত পার হচ্ছিলো প্রতিটা মানুষের মধ্যে অদ্ভুত এক পশুত্ব জেগে উঠছিলো ভয়াবহ মাত্রায়, প্ৰম্প হিসাবে রাখা পিস্তল তুলে নিয়েছিলো একজন। মারিনার মাথায় সেই পিস্তল ঠেকানো হলো যার ট্রিগারে তার আঙ্গুল ছুয়ে রাখা হয়েছিলো।সৌভাগ্যবশত রাত দুইটার নির্ধারিত সময়টা আসলো তখন মারিনার ধৈর্য্যের বাঁধটাও বোধহয় ভাঙ্গি ভাঙ্গি অবস্থা। চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে অঝোরে, ব্যথায় কাতর তার রক্তাক্ত শরীর, মানুসিক বিপর্যয়ের কথা নাহয় নাই বা বললাম।এই ৬ ঘন্টার মধ্যে যা যা করা সম্ভব সম্ভাব্য সকল কিছুই সবাই করেছিলো তার সাথে। তার পরেও তাদের হয়তো সাধ মিটছিলোনা কিছুতেই।

মারিনার দেয়া ৬ ঘন্টা সময় শেষ হলো যেই মুহূর্তে, মারিনা হাঁটতে শুরু করলো হলের ভেতর। আর হলে থাকা যত মানুষ ছিল যারা তার সাথে এমন পাশবিক আচরণ করেছে,শারীরিক নির্যাতন করেছে,গায়ে কাঁটা ঢুকিয়ে দিয়েছে,কাপড় খুলে দিয়েছে, মারিনা এক এক করে তাদের সামনে গিয়ে দাড়ালো এবং তাদের চোখে চোখ রেখে দেখা শুরু করে। এতক্ষন যারা তার সঙ্গে অসভ্য আচরন করলো,তার গায়ের কাপড় খুলে দিলো,সেই মানুষ গুলো তার চোখের দিকেও তাঁকাতে পারছিলো না।অবাক বিষয় হলো হল ভর্তি মানুষের সামনে শুধু অশালীন আচরণ নয় তাকে যদিও ধর্ষণও করেছিলো।

মারিনা তার এই পারফরমেন্সে মানুষদের মাঝে লুকিয়ে থাকা রাক্ষসটাকে বের করে এনেছিলো। খারাপ মনোভাবগুলো বের করে এনেছিলো। মানুষ মনের মাঝে নিজের অজান্তেই যে পশু, যে রাক্ষস লালন করে সেটা দেখানোই মারিনার উদ্দেশ্য ছিলো তার আর্টওয়ার্ক রিদম 0 তে।

বলছিলাম মানুষের মস্তিষ্কের কথা, কি আসলে এই মস্তিষ্কে? কি ভাবনা লালন করি আমরা আমাদের শক্ত খুলির ভেতরে থাকা নরম থলথলে মস্তিষ্কের অন্তরালে?
মানুষ যখন আপনাকে দুর্বল অসহায় পাবে তখন আপনাকে যন্ত্রণা দেয়ার কোনো কৌশল বাদ রাখবে না। অসহায় ও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না থাকলে সবাই আপনাকে বস্তু মনে করবে। ওরা তখন আপনাকে আঘাত করে মজা পাবে, ওরাও মানুষ। মানুষ এর বেশে রাক্ষস! যারা মারিনার সাথে এমন করেছিলো ,পেরেছিলো করতে কোনো দ্বিধা ছাড়া কোনো সভ্যতা কাজ করেনি তাদের মধ্যে।
এই লেখাটা অনেকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে রোজ ভাবি আজ লিখবো কিন্তু আমার আজ আর আসেনা।সত্যি বলতে কি আপনারা চিড়িয়াখানায় যান খাঁচা বন্দি পশু দেখতে বিশ্বাস করুন খাঁচায় থাকা পশুগুলো আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা পশুর চাইতে অনেক নিরীহ।আপনারা বনে জঙ্গলে কোথাও রাক্ষস পাবেন না, এই মানুষের মাঝেই রাক্ষস, মানুষের মধ্যেই জন্তু-জানোয়ার গুলো (অমানুষগুলো) লুকিয়ে থাকে।

মানুষের মস্তিষ্কের গবেষনা এখনো চলছে ,হয়তো হিউম্যান ব্রেইন নিয়ে আজীবন গবেষণা চলবে। তবে আমি আপনি নিজের মানবিকতা নিজের ভালো দিক গুলোর বাইরের রূপটা চেনার চেষ্টা করতে থাকি ততদিন। হয়তো আমার ভেতরেও লালিত আছে এক ভয়ংকর কোনো পশু…….
(আমার সংগ্রহে বেশ কিছু ছবি থাকলেও দেখানোর মত নয় বলে আমি দিতে পারলাম না।)