মহারাণা প্রতাপ সিংহঃ রাজপুতানার ধ্বজা হাতে এক বীর যোদ্ধা - প্রিয়লেখা

মহারাণা প্রতাপ সিংহঃ রাজপুতানার ধ্বজা হাতে এক বীর যোদ্ধা

ahnafratul
Published: October 1, 2017

চারদিকে প্রচন্ড যুদ্ধের দামামা! অস্ত্রের ঝনঝনানি, মানুষের চিৎকার, হাহাকার আর রক্তের নহর বইছে। এরইমাঝে সন্তর্পনে বুক চিতিয়ে সফেদ এক ঘোড়ার পিঠে চেপে এগিয়ে যাচ্ছেন ৭ফিট ৫ইঞ্চি উচ্চতার এক অকুতোভয় যোদ্ধা। হাতের বর্শা দৃঢ় হাতে চেপে ধরেছেন। লক্ষ্য- মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি অম্বরের রাজা মান সিংহ।
১৫৭৬ সালের হলদিঘাটির এই যুদ্ধ ভারতবর্ষের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রেখেছিল। রাজপুতানার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাজপুতেরা এই ভারতবর্ষের মাটিতে ভিনদেশী মুঘলদের আস্তানা যাতে না গড়ে ওঠে, সেজন্য প্রাণপণে লড়াই করে যাচ্ছেন। নেপথ্যে রয়েছেন আমাদের এই সফেদ ঘোড়ার পিঠে চড়া মহান যোদ্ধাটি।

নাম তার মহারাণা প্রতাপ সিংহ। আসুন, আজ প্রিয়লেখার পাতায় জেনে নেই মহান এই যোদ্ধা সম্পর্কে কিছু কথাঃ

সিসোদিয়া পরিবারের রাজপুত প্রতাপ সিংহের জন্ম ১৫৪০ সালের ৯ই মে। বর্তমান রাজস্থানের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য মেবারের রাজা ছিলেন তিনি। মেবারের রাজা দ্বিতীয় উদয় সিংহ ও রানী জয়ন্তা বাইয়ের বড় আদরের পুত্র প্রতাপ সিংহ। ছেলেবেলা থেকেই নিজগুণ আর শৌর্যের কারণে সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন। রাজ্যের প্রজারা তাকে যেমন ভালবাসত, ঠিক তেমনি উদয় সিংহের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই দিন দিন নিজেকে পরিণত করে তুলছিলেন প্রতাপ। কুম্বলগড়ের দূর্গে জন্ম নেয়া প্রতাপ সিংহের শুরুটা হয়েছিল দোর্দন্ড প্রতাপের সাথেই। সম্রাট আকবরের হাতে প্রতাপ কখনোই ধরা দেন নি কিংবা আকবরের শত চেষ্টা সত্ত্বেও প্রতাপ হার মানেন নি। মাতৃভূমি রক্ষায় প্রতাপ ছিলেন সর্বদা অটল ও দৃঢ়চিত্ত। কথনে আছে, প্রতাপের জন্মের সাথে সাথে রাণা উদয় সিংহের সৌভাগ্যও নাকি দিরে আসে। এ সময় তিনি আফগানদের পরাজিত করতে সমর্থ হন। জ্যোতিষীরা নক্ষত্র বিচার করে উদয়কে বলেছিলেন, কুমার প্রতাপ রাজপুতানাদের জন্য বয়ে নিয়ে আসবে সৌভাগ্য এবং যুগ যুগ ধরে তার নাম রচিত হবে ভারতবর্ষের ভবিষ্যত ইতিহাসে।

রাণা প্রতাপের মোট স্ত্রী ছিলেন ১১ জন, তবে তাদের মধ্যে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল বড় স্ত্রী মহারানী আজাবদে পুনওয়ার। ছেলেবেলার এই বান্ধবীর প্রেমে পড়েন মহারাণা এবং এক শুভলগ্নে তাদের বিবাহ হয়। এই রানী আজাবদের গর্ভেই জন্ম নেয় প্রতাপের উত্তরাধিকার রাণা প্রথম অমর সিংহ। রাজপুতানাদের শক্তি বৃদ্ধি ও বন্ধন দৃঢ় করবার জন্য পরবর্তীতে প্রতাপ আরো বিয়ে করেন। তাদের মাঝে রানী ফুল কানওয়ার, রানী জশোবাই চৌহান, রানী রত্নাবতী পারমার অন্যতম। মোট ১৭ জন পুত্র ও ৫ কন্যার জনক ছিলেন প্রতাপ।

মহারাণা প্রতাপের সম্পর্কে প্রথমে কিছু অবাক করার মত তথ্য দিই আপনাদের।
১) ৭ফিট ৫ইঞ্চি উচ্চতার দানবীয় এক দেহবল্লরীর অধিকারী ছিলেন প্রতাপ। ওজন ছিল প্রায় ১১০ কিলোগ্রাম।
২) প্রতাপের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রিয় অস্ত্র ছিল তার বর্শা, যেটির ওজন ৮১ কিলোগ্রাম।
৩) তার বুকের বর্মের ওজন প্রায় ৭২ কেজি এবং তার তলোয়ার, বর্শা, বর্ম, ঢাল- সবমিলিয়ে প্রায় ২০৮ কেজি বহন করতেন প্রতাপ যুদ্ধক্ষেত্রে।

রাজা দ্বিতীয় উদয় সিংহের শাসনামলে ১৫৬৮ সালে চিত্তোরগড়ের দূর্গ জয় করেন সম্রাট আকবর। আকবরের সৈনিকদের হাতে ধরা পড়বার আগেই উদয় সিংহ তার পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান উদয়পুরে। আরাবল্লীর দূর্গম পথ পরিক্রম করে তিনি এই স্থানে পৌছান। ১৫৫৯ সালে এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন রাজা উদয় সিংহ। ছোট রানী ধীর বাঈ চেয়েছিলেন তার পুত্র জাগমাল যেন উদয় সিংহের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে উদয় সিংহের দরবারের বেশিরভাগ মন্ত্রী-উজিররা চাইতেন বড় ছেলে প্রতাপ তার উত্তরাধিকার হোক। তাদের ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হয়। সিংহাসনে আরোহণ করেন প্রতাপ সিংহ। সময়টা তখন ১৫৭২ সাল।

১৫৬৮ সালে আকবর চিত্তোর কিন্তু পুরোপুরি দখল করতে পারেন নি। উদয় সিংহের চাতুর্য তাকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। সম্রাট আকবরের কাছে এই অঞ্চল তখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি দখল করতে পারলে গুজরাটের দিকে যোগাযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার সুবিধে হবে। এ কারণে মহারাণা প্রতাপের কাছে বারংবার তিনি নতি স্বীকার করার প্রস্তাব করেন। নাকচ করে দেন মহারাণা প্রতাপ। ১৫৭৬ সালে অম্বরের রাজা মান সিংহ (আকবরের সেনাপতি) ও প্রতাপ সিংহের মাঝে সংঘটিত হয় ভয়াবহ এক যুদ্ধ। ইতিহাসের পাতায় যাকে হলদিঘাটির যুদ্ধ হিসেবে নামাংকৃত করা হয়েছে। এই যুদ্ধে প্রতাপ হারান তার প্রিয় ঘোড়া, বিশ্বস্ত অনুচর চেতককে। নিজেও হন ভয়ানকভাবে আহত। ওপরের দিকে পড়ুন আবার। আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি ৭ফিট ৫ইঞ্চির মহান এই যোদ্ধার কাছে।

চেতকের মাথায় ছিল হাতির মাথার মত নকল শিরস্ত্রাণ। প্রতাপ তার বর্শাটি এগিয়ে দিলেন মান সিংহের বুক লক্ষ্য করে। বিফলে গেল তার প্রচেষ্টা তবে হাতির পিঠে থাকা মাহুত আহত হয়ে পড়ে গেল হাতির পিঠ থেকে। চেতক এবার তার খুর উঠিয়ে আক্রমণ করল মান সিংহের হাতিকে। কিছুটা অসহায় বোধ করছিলেন মান সিংহ। তবে তার হাতিকে এগিয়ে দিলেন সামনের দিকে। শুঁড়ে লাগিয়ে রাখা তলোয়ারের আঘাতে চেতক এবার পরাজিত হল। মাটিতে শুয়ে পড়ে কাৎরাতে লাগল চেতক। প্রতাপ তখনো লড়াই করে যাচ্ছেন তবে চেতকের চিন্তায় তার ভ্রূ কুঞ্চিত। প্রতাপকে ঘিরে ফেলে সৈন্যরা। বুকে অসম সাহস আর বেঁচে থাকা শেষ প্রাণশক্তিটি নিয়ে চেতক আবারো পিঠে তুলে নেয় তার প্রিয় বন্ধু প্রতাপকে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাবার পর যখন চেতক তার সামনে দেখল ২১ ফিট প্রশস্ত একটি নদী, লাফ দিয়ে সেটি পার হয়ে গেল সে। তবে ক্লান্তি তাকে আর ক্ষমা করল না। সেখানেই লুটিয়ে পড়ল আঘাতে আঘাতে জর্জরিত আর ক্লান্ত চেতক। শেষ নিঃশ্বাস এখানেই ত্যাগ করে সে। মহারাণা সেখানে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন প্রিয় বন্ধুর প্রতি সম্মান জানাতে।

জীবনের বেশিরভাগ সময়ই প্রতাপ কাটিয়েছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। সম্রাট আকবর বুঝতে পেরেছিলেন, রাজপুতদের হারাতে না পারলে এই ভারতবর্ষে তার অবস্থান শক্ত হবে না। ঠিক একইভাবে মহারাণা প্রতাপও বুঝতে পেরেছিলেন মুঘলরা যদি একবার এই স্থান দখল করে নেয়, তাহলে মাতৃভূমির নিজস্বতা বলে আর কিছুই থাকবে না। তবে হলদিঘাটির পরাজয় প্রতাপকে একদম কোণঠাসা করে ফেলে। জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরতে থাকেন প্রতাপ তার পরিবার নিয়ে। ক্ষুধা নিবারণ করতেন ঘাসের তৈরি রুটির সাহায্যে। একদিন তার মেয়ের হাত থেকে রুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় একটি বনবিড়াল। মেয়ের কান্না দেখে প্রতাপ একবার ঠিক করলেন আকবরের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন। চিঠি পাঠালেন আকবরের কাছে।
আকবর প্রতাপের চিঠি পেয়ে এতোটাই খুশি হলেন যে তিনি তার দরবারে থাকা পৃথ্বীরাজকে চিঠিটি পড়তে দেন। এই পৃথ্বীরাজ একজন রাজপুত কবি ও যোদ্ধা। চিঠিটি পড়বার পর তিনি প্রতাপকে ফিরতি একটি চিঠি পাঠান, যেটি পড়ে প্রতাপ তার সিদ্ধান্ত বদল করেন।

চিত্তোর, গোগুন্ডা, কুম্বলগড়, উদয়পুরসহ মেবারের বেশিরভাগ অঞ্চল জয় করে ফেলেছিলেন সম্রাট আকবর। প্রতাপ ছাড়া প্রায় সব রাজপুত রাজাই বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল আকবরের। হঠাৎ করেই ঘটে অঘটন। ১৫৭৯ সালে বাংলা, বিহার, ও পাঞ্জাবের কিছু অঞ্চলে মুঘল সৈন্যদের মাঝে সংগঠিত হওয়া এক বিদ্রোহে আকবর নিয়ন্ত্রণ হারান মেবারের ওপর। সুযোগটা গ্রহণ করতে দেরি করেন নি প্রতাপ। বিশ্বস্ত মন্ত্রী ভামা শাহ ও সৈনিকদের সহযোগিতায় প্রতাপ কুম্বলগড়ের দূর্গ নিজের অধীনে নিয়ে আসেন ও চিত্তোরের বেশিরভাগ অংশ আবার জয় করেন। এই মন্ত্রী ভামা শাহের কাছে প্রতাপ অনেকাংশেই ঋণী।
প্রতাপ যখন আকবরের সৈনিকদের কাছে ধাওয়া খেয়ে পরিবার নিয়ে বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, এই ভামা শাহই তার সমস্ত অর্থ নিঃসঙ্কোচে প্রদান করেন প্রতাপকে। এই অর্থের সাহায্যে প্রতাপ তার বাহিনীর ২৫,০০০ জওয়ানকে প্রায় ১২ বছরের মত বেতন দিতে পেরেছিলেন। তাছাড়া প্রাপ্ত অর্থ প্রতাপের মনোবল ও দৃঢ়চিত্ত হবার স্পৃহা বাড়িয়ে দেয় অনেকাংশে।

সারাজীবন প্রতাপ মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছিলেন তার মানবিক গুণাবলির কারণে। একবার রাজা মান সিংহ তার সঙ্গীদের নিয়ে শিকারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। প্রতাপকে তার অনুচরেরা খবর দেয় যে তিনি চাইলেই মান সিংহের ওপর আক্রমণ করতে পারেন। প্রিয় ঘোড়া চেতকের মৃত্যুর কারণ এই মান সিংহ, তা জেনেও প্রতাপ এভাবে পেছন থেকে আক্রমণ করতে রাজি হন নি। তিনি সামনাসামনি রাজার মতই চেয়েছিলেন মীমাংসা করবার জন্য।

একবার পুত্র অমর সিংহ কিছু মুঘল নারী ও সভাসদকে বন্দী করে নিয়ে আসেন প্রতাপের সামনে। পুত্রের এহেন কর্মের জন্য প্রতাপ তাকে চরম অপমান করেন ও শাস্তি দেন। সসম্মানে তিনি ফিরে যেতে বলেন ঐ নারীদের। মুঘল সেনাপতি রহিম খান ই খানানের কাছে পৌঁছে গিয়েছে খবর। বিরাট লোকলস্কর নিয়ে তিনি যুদ্ধ করতে যাবেন প্রতাপের বিরুদ্ধে। এমন সময় বন্দীদের ফেরত যেতে দেখে চরম অবাক হন তিনি। কি হয়েছে? প্রতাপের মহানুভবতায় প্রচন্ড অবাক হন তিনি। ফিরিয়ে নেন সৈন্যদের। এই রহিম ছিলেন শ্রী কৃষ্ণের একজন ভক্ত। তার কিছু অমর কবিতা বা চরণ রয়েছে যেগুলোকে ‘রহিম কি দোহে’ বলা হয়। কবি হলে কি হবে, একইসাথে তিনি ছিলেন নিপুণ যোদ্ধাও।

শুধুমাত্র প্রতাপ কিংবা তার অনুগতরা দেশের জন্য অন্তপ্রাণ ছিলেন, তা কিন্তু নয়। প্রতাপের “রামপ্রসাদ” নামের একটি হাতি ছিল। হলদিঘাটির যুদ্ধের পর আকবর এই হাতিটিকে নিজের আস্তাবলে পাঠিয়ে দেন। প্রতাপের শোকে এই হাতিটি খাবার পানি কিছুই খেত না। প্রভুর প্রতি অসাধারণ এই মমত্ববোধ দেখে আকবর এই হাতির নামকরণ করেন “পীরপ্রসাদ”।

বাবা উদয় সিংহ চেয়েছিলেন তার ছেলে সকল ক্ষেত্রে যোগ্য হয়ে উঠুক। মানুষের সাথে হাসি আনন্দ বেদনা ভাগাভাগি করতে শিখুক। একারণেই গ্রামে গিয়ে যেমন মানুষখেকো বাঘের সাথে মরণপন লড়াই করেছিলেন তিনি, ঠিক তেমনি আরাবল্লীর জঙ্গলে তার ব্যবহারে স্থানীয়রা তাকে আদর করে ডাকতেন “রাণা কীকা” নাম ধরে।

“আমার প্রাণপ্রিয় যোদ্ধা ভাইয়েরা, এই পবিত্রভূমি মেবার এখনো মুঘলদের থাবায় আটকে আছে। আজ, আমি শপথ নিচ্ছি, যতদিন না চিত্তোর মুক্ত করতে পারব, আমি স্বর্ণ কিংবা রুপার থালায় খাব না। নরম বিছানায় ঘুমুব না, প্রাসাদে থাকব না। তারচাইতে বরং ঘাসের তৈরি পাত্রে সাধারণ খাবার, মেঝেতে ঘুমোনো কিংবা কুঁড়েঘরে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করব। আমি নিশ্চিত, তোমরা আমাকে আমার এই শপথ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শরীর, মন ও সম্পদ- সবকিছু দিয়ে আমার পাশে থাকবে”- মুঘলদের কাছে চিত্তোর দূর্গ হাতছাড়া হলে এভাবেই সৈনিকদের কাছে নিজের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন প্রতাপ। এমনকি মৃত্যুর সময় ছেলে অমর সিংহের কাছে শপথ করিয়ে নেন, যেন সে মুঘলদের থাবা হতে রাজপুতানা মুক্ত করতে পারে।


মহারাণা প্রতাপ সিংহ একজন দৃঢ় দেশপ্রেমিকের নাম। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও কিভাবে অসম সাহস ও শৌর্য প্রদর্শন করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হয়, সে উদাহরণের মূর্ত প্রতীক ছিলেন প্রতাপ। চরম শত্রু হওয়া সত্ত্বেও সম্রাট আকবর বহুবার প্রশংসা করেছেন তার এই শত্রুর। কিভাবে ব্যবহার, কথা ও সংকল্প দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হয়, তা জানতেন প্রতাপ। যে শিক্ষকের কাছে অস্ত্রশিক্ষা, পড়াশোনা করেছিলেন প্রতাপ, সে শিক্ষকও সর্বতোভাবে পাশে ছিলেন তার। গুরুদক্ষিণাটাও প্রতাপের জন্য ছিল অনন্য।
সারাজীবন মাতৃভূমির জন্য অকাতরে লড়েছেন প্রতাপ। বিলাসব্যসন, আরাম আয়েশ অনেক কিছুই চাইলে পেতেন, তবে চান নি। দেশরক্ষার এমন চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা সৈনিক যুগে যুগে আমাদের সকলের জন্য হয়ে থাকুক চির আদর্শ।

আজ আর নয়। আপনার প্রিয় সময় কাটুক প্রিয়লেখায়।