বিষণ্ণতা একটি ভয়াবহ রোগ - প্রিয়লেখা

বিষণ্ণতা একটি ভয়াবহ রোগ

Afreen Houqe
Published: January 27, 2020

বিষণ্ণতা বর্তমান সময়ে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ যেটি প্রায় সকলের মুখে মুখে শোনা যায়। ব্যস্ত সময়ে প্রতিযোগিতার যুগে এটি যেন মহামারী আকার ধারন করছে দ্রুত গতিতে। ব্যস্ত সময়, কর্ম ব্যস্ত আমরা সবাই ছুটে চলেছি উন্নতি, আর্থিক, সম্পদ, ব্যবসায়িক, শিক্ষা বা যার যার অবস্থানে টিকে থাকার লড়াইয়ে। স্বাভাবিক গতির তুলনায় আমাদের ছুটে চলাটা একটু বেশী হওয়ায় আমরা পারিবারিক সামাজিক ব্যাক্তিগত সম্পর্ক থেকে ছিটকে পরছি। আমাদের অবসর সময়ে কারো সাথে ব্যক্তিগত সমস্যা, আবেগ ,অনুভুতি ,প্রাপ্তি , এসব নিয়ে আলোচনা করবার মত কাউকেই খুজে পাচ্ছিনা কারন, ব্যস্ততা। যার কারন হিসেবে আমাদের জমে থাকা সব কিছু আমাদের মস্তিস্ক জমা করছে, আমরা উদিগ্ন হচ্ছি ,অস্থির হচ্ছি কারন বুঝতে পারছিনা।

বর্তমান সময়ের মানসিক এই ব্যাধি ধীরে ধীরে মন থেকে বিস্তার লাভ করে, যার প্রভাব আমাদের কাজের উপর পড়ছে। যত দিন যাচ্ছে মানুষের মুখে বিষণ্ণ থাকার অভিজ্ঞতার কথা তত বেশি শুনতে পাচ্ছি। আজকাল উঠতে বসতে এই শব্দটা ব্যবহার করা হলেও আসলে কি আমরা জানি “ডিপ্রেশন” বা বিষণ্ণতা কী?

বিষণ্ণতা এমন একটি মানসিক ব্যাধি যা ক্রমাগত ছড়িয়ে পরে মনে শরীরে। এবং লক্ষণীয় বিষয় একজন বিষণ্ণতার রোগীর সাথে থাকা মানুষটিও কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরেন। বিষণ্ণতা মানুষকে খুব দ্র্যুত দুঃখিত করে হতাশ করে সব নেতিবাচক দিকেই তার নজর পরে সর্বপ্রথম, সে খুব অল্পতেই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরে অসহায়বোধ করে, সব কিছুতেই সিধান্তহীনতায় ভুগে, নিজের প্রয়োজন আবেগ অনুভুতি ভাবার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অনিদ্রা ক্ষুধা না লাগা বা অতিরিক্ত খাবার প্রবনতা লক্ষ করা যায়। মুল ব্যাপারটি হলো এক পর্যায়ে চরম হতাশা গ্রস্থ হয়ে গেলে এরা আত্মহননের পথও বেছে নিতে পারে। এর অস্থিরতা এবং বিরক্তির কারনে অন্যরাও কিছুটা বিষণ্ণ হয়ে পরেন। ধরে নেয়া যায় বিষণ্ণ মানুষের পাশে থাকা মানুষটিও এই ব্যাথির স্বীকার হবার সম্ভাবনা শতভাগ।

বিষণ্ণতা থেকে পরিত্রানের উপায় খুজুন নিজেই

ম্যাট লুকাসের একটি কথা উদাহরণ স্বরূপ না বললেই নয় ‘ নিজেকে ব্যাস্ত রাখো, যদি তুমি বিষণ্ণ হতে না চাও’ আপনি বিষণ্ণতার হাত থেকে বাচার জন্য নিজের জন্য ছোটখাট দায়িত্বপূর্ণ কাজ বেছে নিতে পারেন যার কারনে আপনি অহেতুক ভাবনা থেকে মুক্ত হতে পারেন। অনেক সময় কাজের মধ্যে থাকলেও আমরা সাময়িক ভাবে বিষণ্ণতা এড়িয়ে যেতে পারি। আমরা যদি নিজেদের বোঝার জন্য হলেও একটু সময় নেই সেটাও কিন্তু আমাদের সাহায্য করবে বিষণ্ণতা কাটাতে। কিংবা আমরা এমন কারো সাথে সময় কাটাতে পারি যাদের সাথে থাকতে আমরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করি, যেমন বাবা মা, বা ভাই বোন বা হতে পারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আপনজনদের সাথে থাকলে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ আমাদের চিন্তা চেতনাকে খুলে দেয় যার ফলে আমাদের মনে কোন নেতিবাচক ভাবনা আসেনা।

বিষণ্ণতার একটি খারাপ দিক হলও আমরা ইতিবাচক কিছুতেও নেতিবাচক ভাবনা ভাবতে থাকি এবং নেতিবাচক ভাবনাগুলোকেই প্রাধান্য দেই। অনেক সময় দেখা যায় একটি কাজ যা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব সেটিকেও আমরা একদম অসম্ভব ভেবে নেই। এই নেতিবাচক ভাবনা থেকে নিজেকে বের করে আনতে হবে আমি পারব আমাকে পারতেই হবে এই ভাবনাটি ভাবুন অন্তত ইতিবাচক ভাবনা দিয়ে আপনার বিষণ্ণতা দূর করতে সক্ষম হবেন। শরীর মন সংযুক্ত আমাদের সে ক্ষেত্রে আমাদের করনীয় আমরা আমাদের মনের সাথে সাথে শরীরকেও ঠিক রাখার চেষ্টা করবো। নিয়ম মাফিক খাওয়া ঘুম শরীরচর্চা হতে পারে প্রথম ধাপ।

আপনার পছন্দনীয় কাজগুলো জমিয়ে না রেখে আজ থেকেই শুরু করুন, নিজেকে হাসিখুশি রাখার জন্য মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের ইচ্ছাগুলোকে মুল্য দিন, অনেক সময় এমন হয় একটি কাজ আপনার করতে ভালো লাগতো যে কাজটি হয়তো কোনও কারণে আর করা হয়ে উঠেনি সে কাজটি আপনি চাইলে করতে পারেন এখন। ধরুন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, গান শোনা, রান্না করা বা বই পড়া অথবা ছবি আঁকা। আবার এটাও হটে পারে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে পারেন মনকে ফুরফুরে করার জন্য। প্রকৃতি এমন একটি মাধ্যম যার সাথে আমাদের সম্পর্ক সেই আদিম যুগের একমাত্র একটু আবহাওয়া পরিবর্তনে অনেক সময় আমাদের মনের বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠার জন্য মুখ্য ভূমিকা রাখে।

মানুষ যখন বিষণ্ণ থাকে তাদের মধ্যে সর্বক্ষণ কাজ করে অস্থিরতা। যেকোন সমস্যার তারা চায় তাৎক্ষণিক বা দ্রুত সমাধান। আর এ সমাধান না পেলে তারা আরো বেশি বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। আর এই অস্থিরতা কখনও কখনও তাকে আত্মহত্যার পথেও ঠেলে দেয়।

এই সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি যা করা দরকার তা হল ধৈর্য ধারণ। আমাদের মনে নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে সব কিছুর সমাধান আছে এবং সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিটি কাজের মাঝেই আমাদের বিশ্বাস আর ধৈর্য ধারণ করে আগাতে হবে। আমাদের এতটুকু মাথায় রাখতেই হবে যে, বিষণ্ণতা একবারে যাবে না। ধীরে ধীরে মানসিক শান্তি আসবে। বিষণ্ণতা কমে যাবে। বিষণ্ণতা একটি মানসিক ব্যাধি যা চাইলেই তাৎক্ষণিক ভাবে এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব কিন্তু সচেতনতা ধৈর্য নিজের উপর বিশ্বাস আস্থার মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আপনি বাহিরে যে কারো কাছ থেকেই সাহায্য নিতে পারবেন তবে নিজের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনে আপনি বিষণ্ণতা কাটিয়ে সুখী স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।