বিশ্বের যেসব গোপনীয় জায়গায় প্রবেশাধিকার নেই আপনার - প্রিয়লেখা
বিশ্বের যেসব গোপনীয় জায়গায় প্রবেশাধিকার নেই আপনার

বিশ্বের যেসব গোপনীয় জায়গায় প্রবেশাধিকার নেই আপনার

Sanjoy Basak Partha
Published: October 30, 2017

যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির এই যুগে চাইলেই সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে জোগাড় করা যাচ্ছে তথ্য। তারপরেও এই ধরাধামেই আছে এমন কিছু জায়গা, তথ্যপ্রযুক্তির এই উন্নয়নের যুগেও যা এখনো গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা। বিশ্বের যেসব গোপনীয় জায়গায় প্রবেশাধিকার নেই আপনার  সেগুলো   সম্পর্কে আপনাদের জানাতে আজকের প্রিয়লেখার আয়োজন।

ক্লাব ৩৩, যুক্তরাষ্ট্র

ক্লাব ৩৩, যুক্তরাষ্ট্র

ক্লাব ৩৩ আসলে ডিজনিল্যান্ডের একটা রেস্টুরেন্ট ছিল শুরুতে। এরপর হাই প্রোফাইল মানুষদের মনোরঞ্জনের জন্য এটিকে খুবই গোপনীয় একটি ক্লাবে পরিণত করেন ওয়াল্ট ডিজনি। সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই এতে, তবে সম্প্রতি প্রথম ১০০ জন আবেদনকারীকে এখানে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছে। তার জন্য অবশ্য মাথাপিছু খরচ পরেছে ২৫ হাজার ডলার!

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস, ইতালি

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস, ইতালি

এই আর্কাইভের যাবতীয় মালিকানা পোপের। পোপ বদলের সাথে সাথে এর মালিকানাও পরিবর্তিত হয়। যখন যে পোপ আসেন তখন তাঁরই সমস্ত অধিকার থাকে এই আর্কাইভের উপর। পোপের অনুমতি ছাড়া এই আর্কাইভে প্রবেশাধিকারের অনুমতি নেই আর কারোর। তারপরেও যদি সৌভাগ্যক্রমে আপনি পোপের অনুমতি নিয়ে আর্কাইভে ঢুকেই যান, তারপরেও আপনি সব ডকুমেন্ট ধরে দেখতে পারবেন না। যেসব ডকুমেন্ট ৭৫ বছর পুরানো, কেবল সেসব ডকুমেন্টই নেড়েচেড়ে দেখার সুযোগ পাবেন আপনি।

উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ইতিহাসবিদেরা এখানে প্রবেশাধিকারের জন্য আবেদন করে থাকেন। আবেদনপত্রের সাথে কোন স্বনামধন্য রিসার্চ প্রতিষ্ঠান কিংবা সমমর্যাদাসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একটি ভূমিকাসূচক চিঠি সংযুক্ত করে দিতে হয়। কোন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর এই আর্কাইভে প্রবেশের অনুমতি নেই।

মেঝগোরয়ে, রিপাবলিক অফ বাসকরতোস্তান, রাশিয়া

মেঝগোরয়ে, রিপাবলিক অফ বাসকরতোস্তান, রাশিয়া

দক্ষিণ উরাল পর্বতে অবস্থিত মাত্র ১৭ হাজার মানুষের ছোট্ট একটি শহর, কিন্তু আপনি সেখানে যেতে পারবেন না। শহরটিতে বাইরের কোন মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া সরকার।

গোপন নিউক্লিয়ার মিসাইল নিয়ে কাজ করে, এমন দুইটি রুশ ব্যাটালিয়নের আস্তানা এই শহরে। বাইরের কেউ যদি এখানে প্রবেশ করে নিউক্লিয়ার আক্রমণের সামান্যতম চেষ্টাও চালায়, আর সেটা যদি সেন্সরে ধরা পরে, তাহলে এখানকার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো আপনা আপনিই বিস্ফোরিত হবে!

সর্পদ্বীপ, ব্রাজিল

সর্পদ্বীপ, ব্রাজিল

১০৬ একরের এই দ্বীপটি ব্রাজিলের সাও পাওলো উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে পেয়ে দ্বীপটিকে চারদিক থেকে পরিবেষ্টিত করে ফেলায় সাপেরা এখানে আটকা পরে যায়, এবং এখানেই ব্যাপক হারে বংশবৃদ্ধি করে। এভাবে ধীরে ধীরে সাপেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি। বিষধর ও ভয়ংকর সব সাপের আবাসস্থল এই সর্পদ্বীপ। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর সাপ গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপারের উপস্থিতি কেবল এই দ্বীপেই আছে বলে কথিত রয়েছে। সাপেদের অভয়ারণ্য এই দ্বীপে ব্রাজিল সরকার যেকোনো ধরণের পর্যটন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এরিয়া ৫১, যুক্তরাষ্ট্র

এরিয়া ৫১, যুক্তরাষ্ট্র

প্রায় সকল মানুষের জন্যই নিষিদ্ধ একটি জায়গা হল এরিয়া ৫১। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডার দক্ষিণাংশে  অবস্থিত এই এরিয়া ৫১ বাকি দুনিয়া থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন। এমনকি এর ভেতরে কি চলছে না চলছে তাও জানার উপায় নেই সাধারণ মানুষের। বলা হয়ে থাকে আকাশযান ও পারমাণবিক প্রোজেক্টগুলো বাকি দুনিয়ার থেকে আড়াল করে রাখার জন্যই এরিয়া ৫১ এর এত গোপনীয়তা। তবে বাড়াবাড়ি রকমের গোপনীয়তা দেখে আরেক পক্ষের দাবি, এই এরিয়া ৫১ এ এলিয়েন ও ইউএফও ও থাকতে পারে! আসলে এরিয়া ৫১ এর ভেতরে কি আছে না আছে সেটা কারোর পক্ষে জানা সম্ভব না বলেই লোকমুখে বিভিন্ন ধরণের গুজব প্রচলিত হয়ে গেছে।

হাভেনকো, সীল্যান্ড

হাভেনকো, সীল্যান্ড

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গঠন করা হয় ইংল্যান্ডের সাফলক উপকূলের তীরে অবস্থিত এই সীল্যান্ড। এর ভেতরেই অবস্থিত হাভেনকো। এই হাভেনকোকে বলা হয় ‘ডাটা সেন্টার’, এখানে যাবতীয় সব তথ্য এনে জমা করা হত। কোন নির্দিষ্ট দেশের অধীনে না থাকায় সেই তথ্যের উপর অধিকার প্রয়োগ করতে পারত না কোন দেশই। সে কারণে তথ্য জমা রাখার খুব গোপন ও নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হত এই হাভেনকো। খুব বিশেষ অনুমতি না থাকলে বাইরের কেউ এই হাভেনকোতে প্রবেশ করতে পারে না।

উইকিলিকস, সুইডেন

উইকিলিকস, সুইডেন

উইকিলিকস এর নাম শোনেননি এমন কাউকে হয়তো পাওয়া মুশকিল হবে। বিভিন্ন দেশের সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করার ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত এই উইকিলিকস। সে কারণে অনেক দেশের সরকারের কাছেই হুমকিস্বরূপ এই উইকিলিকস। কিন্তু তাদের অর্জিত তথ্য নিরাপদে রাখার মত যথেষ্ট ব্যবস্থাই করেছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। তাদের ডাটা সেন্টার সুইডেনের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অফিসে অবস্থিত। কি ভাবছেন, ঠিকানা তো জেনেই ফেললাম, এবার চলে যাওয়া যাক সেখানে? ভুল ভাবছেন তাহলে। স্টকহোমের শ্বেত পর্বতের ভেতরে অবস্থিত পারমাণবিক অস্ত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত ষ্টীলের বাঙ্কার এর ভেতরে সুরক্ষিত থাকে উইকিলিকসের যাবতীয় তথ্যাবলী।