বিশ্বকাপ মাথায় রেখে দলবদল করলেন যেসব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার - প্রিয়লেখা

বিশ্বকাপ মাথায় রেখে দলবদল করলেন যেসব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

Sanjoy Basak Partha
Published: August 9, 2017

সামনের বছরই রাশিয়ায় বসছে বিশ্বকাপ ফুটবলের পরবর্তী আসর। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। সে কারণে বিশ্বকাপের আগের মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে দলবদল হয়ে উঠে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। জাতীয় দলের কোচের সুনজরে পড়ার জন্য অনেক ফুটবলার বেশি বেতনের ক্লাব ছেড়ে তুলনামূলক কম বেতনের ক্লাবেও যোগ দেন, শুধুমাত্র বেশি প্লেয়িং টাইম পাওয়ার আশায়। আবার অনেকে ক্লাব বদলান অন্য ক্লাবে জাতীয় দলের সতীর্থদের পাশে খেলার জন্য। এই মৌসুমেও তাই ২০১৮ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে দলবদল সেরেছেন বেশ কিছু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। তাদের দিকেই একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।

২৩ জনের দল চূড়ান্ত করার জন্য ব্রাজিল কোচ তিতে নিশ্চিতভাবেই তাঁর টেকনিকাল স্টাফদের বিভিন্ন ক্লাবে তাঁর খেলোয়াড়দের খেলা দেখতে পাঠাবেন। ক্লাবে ভালো খেলতে পারলে তাই কোচের ‘গুড বুক’ এ নাম উঠার বড় সুযোগ তো থাকেই। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্যই এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে দল বদল করেছেন বেশ কিছু খ্যাতনামা ব্রাজিলীয় ফুটবলার।

ডগলাস কস্তা- বায়ার্ন থেকে জুভেন্টাস

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনজুরি এমনিতেই ডগলাস কস্তার ক্যারিয়ারের বহু মূল্যবান সময় কেড়ে নিয়েছে। দুঙ্গার আমলে নিয়মিত হলেও বেশ কয়েকবার মাসল ইনজুরিতে পরে দুইটা কোপা আমেরিকা, গত বছর অলিম্পিক ও বেশ কিছু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ মিস করতে হয়েছে কস্তাকে।

২৬ বছর বয়সী কস্তা তাই দলে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেইমার, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফিলিপে কৌটিনহো এবং উইলিয়ানের তুলনায় বেশ পেছনে পরে গেছেন। আবার বায়ার্নে কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে খুব বেশি প্লেয়িং টাইমও পাচ্ছিলেন না। সব মিলিয়ে তাই দল বদলে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কস্তা। জার্মান চ্যাম্পিয়নদের ছেড়ে এবার ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসে এসেছেন তিনি।

দানি আলভেজ- জুভেন্টাস থেকে পিএসজি

রাইট ব্যাকে তাঁর জায়গাটা নিয়ে বোধহয় খুব বেশি সংশয় ছিলনা। তারপরেও বিশ্বকাপের বছর কে ই বা ঝুঁকি নিতে চায়! দানি আলভেজও চাননি। গত মৌসুমে জুভেন্টাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি লিগে মাত্র ১৫ ম্যাচে তাঁকে শুরুর একাদশে রেখেছিলেন। মূলত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দানির সার্ভিস পাওয়ার জন্যই এমনটা করেছিলেন অ্যালেগ্রি। কিন্তু দানি চাইছিলেন আরও প্লেয়িং টাইম, সে কারণে দুই মৌসুমের চুক্তি থাকলেও এক মৌসুম পরেই জুভেন্টাস ছেড়ে পিএসজিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি। নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে প্রস্তুতিতে কোন খামতি রাখতে চাননা বলেই ক্লাব বদলালেন দানি। এছাড়া পিএসজিতে থিয়াগো সিলভা ও মার্কুইনহোসের সাথে ডিফেন্স সামলে জাতীয় দলের জন্যও একটা ভালো বোঝাপড়া তৈরি করে নিতে পারবেন তিনি।

ডিয়েগো আলভেজ- ভ্যালেন্সিয়া থেকে ফ্ল্যামেঙ্গো

তাঁর মানের কিপার ৬ বছরের ব্রাজিল ক্যারিয়ারে কেন মাত্র ১০ ম্যাচ খেলেছেন, সেটা অনেকের কাছেই একটা রহস্য। গত এক দশক ধরেই তিনি ব্রাজিলের অন্যতম সেরা কিপার, কিন্তু ইনজুরি ও আরও অন্যান্য কারণে জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি খেলা হয়নি তাঁর।

তবে সম্প্রতি মেলবোর্নে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ায় নিজের আশার আলোটা আরেকবার ফুটে উঠতে দেখেছেন আলভেজ। সে কারণেই কিনা ভ্যালেন্সিয়া ছেড়ে ফিরে এসেছেন নিজ দেশের সবচেয়ে দর্শক সমর্থিত ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে। উদ্দেশ্য একটাই, রোমার অ্যালিসনকে হটিয়ে ব্রাজিল গোলবারের নিচে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করা।

এডারসন- বেনফিকা থেকে ম্যানচেস্টার সিটি

আলভেজ ও এডারসন এবারের মৌসুম শুরু করবেন একই উদ্দেশ্য সামনে রেখে। দুজনের লক্ষ্যই যে ব্রাজিলের ১ নম্বর গোলকিপার হওয়া! রেকর্ড দামে ম্যানচেস্টার সিটির কিপার হয়ে এসেছেন, প্লেয়িং টাইমের যে অভাব হবেনা, এডারসন সেটি ভালই জানেন। জাতীয় দলের গোলকিপিং কোচ তাফারেলকে অনুশীলনে বেশ সন্তুষ্ট করেছেন এই ২৩ বছর বয়সী কিপার। এখন ইংল্যান্ডে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে রাশিয়ায় গোলবারের নিচে জায়গা দাবি করতেই পারেন এডারসন।

দানিলো- রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার সিটি

পোর্তো ছেড়ে মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর দুইটি হতাশাপূর্ণ মৌসুম কেটেছে দানিলোর, যার খেসারত তাকে দিতে হয়েছে দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকা নিয়ে। বিশ্বকাপ সামনে, নিজের জায়গা পাকা করতে তাই মাদ্রিদের বেঞ্চ গরম করার চেয়ে সিটিতে এসে নিয়মিত খেলাটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন দানিলো। কোচ তিতের পরিকল্পনায় ফ্যাগনার, মারিয়ানো ও ব্রুনো পেরেসের চেয়ে কিছুটা পিছিয়েই আছেন এই ২৬ বছর বয়সী সাবেক সান্তোস খেলোয়াড়। পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলে নিজের দাবি আবারো জোরালো করতে চাইবেন তিনি।

নেইমার- বার্সেলোনা থেকে পিএসজি

বাকিদের ক্ষেত্রে দলে জায়গা করার ইস্যু থাকলেও নেইমারের ক্ষেত্রে সেরকম কিছু নয়। তিতের দলে তিনিই যে তুরুপের তাস। নেইমারের দলবদলে বড় ভূমিকা রেখেছে পিএসজি দলে তিন ব্রাজিলিয়ান সতীর্থের নিয়মিত উপস্থিতি। ১ বছর পরেই বিশ্বকাপ, এই সময়ে থিয়াগো সিলভা, মার্কুইনহোস ও দানি আলভেজের সাথে খেললে আখেরে লাভবান তো ব্রাজিলই হবে!

তথ্য ও ছবি- গোল ডট কম অবলম্বনে