বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় পাইলট মারা যাওয়ার যত নজির - প্রিয়লেখা

বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় পাইলট মারা যাওয়ার যত নজির

farzana tasnim
Published: October 18, 2017

বিমান ভর্তি যাত্রীকে ঠিকমতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে আকাশে উড়াল দিলেন পাইলট। কিন্তু মাঝ আকাশে যদি সেই পাইলটই মারা যান তবে কেমন হবে ব্যাপারটা? ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের দায়িত্বে থাকা পাইলট উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানেই মারা গেছেন। ইতিহাদের ওই ফ্লাইটটি আবু ধাবি থেকে আমস্টারডাম যাচ্ছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই জরুরি ভিত্তিতে বিমানটি কুয়েতে অবতরণ করা হয়।

ইতিহাদের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদে কুয়েতে অবতরণ করানো হয়েছে। ফ্লাইটটি আবু ধাবি থেকে ছেড়েছিল ভোর ৫টা ২০ মিনিটে। তবে উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানের পাইলট মারা গেছেন।
ইওয়াই ৯২৭ নামের বিমানটি আমস্টারডাম যাওয়ার পথে পাইলট মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে দায়িত্বরত প্রধান কর্মকর্তা জরুরি সতর্কবার্তা পাঠান। পরে কুয়েতে অবতরণ করে চিকিৎসকরা পাইলটকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করেন।

পাইলটের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে ইতিহাদ। তবে ওই পাইলট ঠিক কী কারণে মারা গেছেন, আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন কি না, তার কিছুই জানায়নি ইতিহাদ। এছাড়া পাইলটের নাম, ঠিকানা এবং জাতীয়তাও গোপন রাখা হয়েছে।

গালফ নিউজের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাইলটের তথ্য গোপন রাখলেও পরিবারের সঙ্গে সংস্থাটি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এর আগে সু-২৭ জঙ্গি বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিমান চালকের৷ ঘটনাটি ঘটে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে৷ দুর্ঘটনার জেরে ধূলিসাৎ হয়ে যায় গোটা বিমান৷

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৮ জুন বিমানটি মস্কোর পুসকিনো জেলার মুরানভো গ্রামে একটি আবাসিক এলাকার উপর ভেঙে পড়ে৷ মস্কোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সূত্রে জানানো হয়, এই দুর্ঘটনার জেরে বিমানটি আবাসিক এলাকায় ভেঙে পড়লেও স্থানীয়দের কোনো ক্ষতি হয়নি৷

এদিনের এই ঘটনায় যুদ্ধ বিমানটিতে কোনো রকম গোলা বারুদ মজুত না থাকার কারণে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মধ্য আকাশে পাইলট হার্টফেল করে মারা যাওয়ার রেকর্ড আরও আছে। বিমানের যাত্রী শিল্পপতি ডগ হোয়াইট, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। আর কোনো পাইলট নেই। সে অবস্থা থেকে উদ্ধার পেলেন কিভাবে তারা? বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে সেই ঘটনাই তুলে ধরা হলো আজকের আয়োজনে।

জো ক্যাবুকের ওপর যেকোনো যাত্রী নির্ভর করতে পারেন। ৬৭ বছর বয়সী এই মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্নেল ভিয়েতনামের ওপর দিয়ে এফ-১০০এস চালিয়েছেন, ইংল্যান্ডে একটি জঙ্গি বিমানের শাখা পরিচালনা করেছেন, ইতালিতে ন্যাটো অভিযানে সহকারী পরিচালক ছিলেন। ১৯৮৯ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি তার জন্মস্থান লুইসিয়ানায় ফিরে আসেন। তার পরের ২০ বছর তিনি মনরো আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে ভাড়া বিমান চালিয়েছেন। শুভ্রকেশ ও সুঠামদেহী ক্যাবুক ধর্মনিষ্ঠ এবং বিমান চালনার সময় কোনো ধরনের ঝুঁকি নেন না।

গত ইস্টার সানডের রাত দেড়টার দিকে তিনি ছয় আসনের বেচক্রাফট কিং এয়ার২০০ নিয়ে ফ্লোরিডার দিকে যাত্রা শুরু করলেন। কো-পাইলটের আসনে বসা ছিলেন বিমানটির মালিক স্বয়ং। হালকা-পাতলা এই ধনী ব্যবসায়ীর নাম ডগ হোয়াইট।

হোয়াইটের স্ত্রী টেরি, তাদের দুই মেয়েও ছিল বিমানের যাত্রী। তারা অবশ্য যাত্রীদের কেবিনে কম্বল মুড়িয়ে শুয়েছিল। বাড়ি ফেরার তিন ঘণ্টা যাত্রাপথে তারা বই পড়ে আর ঘুমিয়ে কাটানোর পরিকল্পনা করে। উড়ালপথে ক্যাবুকের সঙ্গ হোয়াইটের (৫৬) ভালোই লাগছিল। অবশ্য তার সময় ভালো যাচ্ছিল না। আগের শনিবার তার ৫৩ বছর বয়সী ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই ভাইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতেই তারা লুইসিয়ানা থেকে ফ্লোরিডা যাচ্ছিলেন।

ক্যাবুক সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘আমরা মেঘের পর্দা ভেদ করে একটু উপরে যাবো’। ক্যাবুক মিয়ামির এয়ার কন্ট্রোলে বিমানের পরিচয় নম্বর এন৫৫৯ডিডব্লিউ জানিয়ে রুটিন কল দিতে শুরু করলেন, ‘মিয়ামি সেন্টার, কিং এয়ার ফাইভ-ফাইভ-নাইন আর-ডেল্টা-উইস্কি…’। কিন্তু হঠাৎ করে তার কণ্ঠ থেমে গেল, চিবুকটা বুকের দিকে ঝুলে পড়ল।

হোয়াইট তাকে কাছে টেনে নিয়ে তার নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। মাথা উঠিয়ে ক্যাবুক একটি দীর্ঘ আর্তচিৎকার করলেন। তারপরই তার চোখ দু’টি কোটরে বসে গেল এবং তিনি নিশ্চল হয়ে গেলেন। হোয়াইট চার পাশে তাকালেন, তারপর স্ত্রীকে চিৎকার করে ডাকলেন : ‘টেরি, এ দিকে চলে এসো। বিপদে পড়ে গেছি।’ এসে দেখলেন ক্যাবুক তার আসনে পড়ে রয়েছে, তিনি তাকে জাগাতে চেষ্টা করলেন। হোয়াইট বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ থেকে তিনি ভয়ঙ্কর সত্য কথাটি বললেন, ‘ও মারা গেছে’।

কেবিনে লুইসিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ১৮ বছর বয়সী ম্যাগি আর তার বোন হাইস্কুলের পড়ুয়া বেইলি (১৬), আতঙ্কে কাঁপছিল। বিমানটি তখন মাটি থেকে এক মাইল ওপরে এবং মিনিটে দুই হাজার ফুট করে ওপরে উঠছে। সেটিকে নিরাপদে ভূমিতে নামিয়ে আনতে পারে এমন কেউ ছিলেন না বিমানে। অবশ্য ডগ হোয়াইটের পাইলটের লাইসেন্স ছিল। তবে তার বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা সামান্য। ১৯৯০ সালে তিনি এক ইঞ্জিনের ক্ষুদ্র সেসনা ১৭২ চালিয়েছিলেন লাইসেন্স পাওয়ার জন্য। লাইসেন্স পাওয়ার পর শখের বশে আর মাত্র একবার বিমানটি চালিয়েছিলেন। তারপর আর না।

বিমানটি এখন চলছে অটোপাইলটে। এ ব্যবস্থার সাথেও হোয়াইট পরিচিত নন। মৃত্যুর আগে ক্যাবুকের ইচ্ছা ছিল ১০ হাজার ফুট ওপরে ওঠার, কিন্তু ইতোমধ্যে তিনি মারা যাওয়ায় আর প্রয়োজনীয় সুইচে চাপ দিতে পারেননি। ফলে বিমানটি ওপরের দিকে উঠতেই থাকল। হোয়াইট জানতেন, বিমানটি যদি ৩৫ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠে যায়, তবে পাতলা বায়ুস্তরে এটি পাঁক খেতে থাকবে।

এর চেয়েও বড় বিপদ ছিল: ক্যাবুকের দেহটি হুমড়ি খেয়ে কন্ট্রোল বোর্ডে পড়ে যেতে পারে। হোয়াইট তার স্ত্রীকে বললেন দেহটিকে সরিয়ে ফেলতে। তিনি ম্যাগির সাহায্য চাইলেন। কিন্তু সেখানে জায়গা ছিল সামান্যই। টেরি ক্যাবুকের দেহটি সরাতে চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছুই হলো না। হোয়াইট তাই দেখে টেরিকে বললেন, তুমি তোমার জায়গায় ফিরে গিয়ে প্রার্থনা করতে থাকো।

তিনি ক্যাবিনে ফিরে মেয়ে দু’টিকে জড়িয়ে ধরে থাকলেন। তিনি প্রার্থনা করতে লাগলেন, মৃত্যু হলে যেন তারই হয়। শাশুড়ির এক পুত্র মাত্র এক সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। প্রভু, এখন আবার তাকে পুত্রশোকে ফেলো না। হোয়াইট রেডিওতে বার্তা পাঠালেন, ‘মিয়ামি, জরুরি সাহায্য দরকার। আমার পাইলট অজ্ঞান হয়ে গেছেন।’ তার এই বার্তাটি মিয়ামি এয়ার রুট ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারে পৌঁছাল ন্যাট হেনকেলসের (৩০) হাতে। সে দিন কর্মরত ৯৭ জন কন্ট্রোলারের একজন তিনি। পাল্টা হোয়াইটকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি পাস করা পাইলট?’

হোয়াইট জবাব দিলেন, ‘সামান্য, এক ইঞ্জিনের। আমার এখন কিং এয়ার পাইলটের সাথে কথা বলা দরকার। হেনকেলস শিউরে উঠলেন। পাইলট অক্ষম হওয়ার পর যাত্রীদের বিমানকে ল্যান্ড করানোর অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই বিমানের মতো বড় ও জটিল বিমানের ক্ষেত্রে তেমন ঘটনা বলতে গেলে ঘটেনি। তিনি হোয়াইটের অবস্থাটি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে অবহিত করে হোয়াইটকে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে ওড়ার পরামর্শ দিলেন। তবে হেনকেলসের নিজেরই বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। তাই ঠিক কী করতে হবে বুঝতে পারছিলেন না। তবে টানা ছয় মিনিট খোঁজাখুঁজির পর কিং এয়ারের একটি মডেল সামনে নিয়ে বসলেন।

এ দিকে বিমানটি তখনো ওপরে উঠছিল। হোয়াইট বললেন, এটাকে থামাতে হবে। হেনকেলস জবাব দিলেন, ‘আমি আছি এখানে। ভয় পেয়ো না। আমি একটা সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছি।’ ঠিক তখনই একজন সুপারভাইজার এলেন এ কাজে পারদর্শী লিসা গ্রিমকে (৩১) নিয়ে। গ্রিম প্রথমেই হোয়াইটকে বিমানটিকে অটোপাইলট অবস্থা থেকে সরিয়ে আনতে কী করতে হবে তা জানালেন। বিমানটি তখন সাড়ে ১৭ হাজার ফুট ওপরে। তিনি একেবারে শান্ত গলায় বললেন, আমরা বিমানের গতি খুব ধীরে ধীরে কমিয়ে আনব। তিনি হোয়াইটকে কয়েকটি সুইস চাপতে বললেন। সেটাও খুব সহজ ছিল না। তবে হোয়াইট তা শেষ পর্যন্ত করতে পারলেন। গ্রিমরা চেয়েছিলেন বিমানটিকে মিয়ামিতে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু বিমান চলাচলের নিয়ম হলো, এসব ক্ষেত্রে কাছাকাছি বিমানবন্দরেই বিমানটিকে অবতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাই ফোর্ট মায়ার্সের সাউথইস্ট ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টকে বেছে নিলেন। তাদের কাছেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলেন। হোয়াইট ততণে তাদের সঙ্গ পছন্দ করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তাদের সাথে থাকার উপায় ছিল না।

হোয়াইটকে সহায়তা করতে নরটন বসলেন রাডার প্যানেলে, আর ফ্যাবিও তার সেলফোন তুলে কল করলেন সরেনসনকে। সরেনসন জানালেন, তিনি ১৯৯৫ সালের পর আর কিং এয়ার চালাননি, তবে কিছু ধারণা দিতে পারেন। তিনি বাড়িতে কম্পিউটারের সামনে বসে হোয়াইটের বিমানটির একটি মডেল বাছাই করলেন।

নরটন রেডিওতে হোয়াইটের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আমরা এখন অন্য একজন পাইলটের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তোমাকে জানাচ্ছি। তুমি এখন অটোপাইলটে আছো, নাকি হাতে চালাচ্ছো?’ হোয়াইট জানালেন, ‘আমি আর সদাপ্রভু হাতেই বিমানটি চালাচ্ছি।’ তার পেছনে কেবিনে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে তখনো আতঙ্কে গুটিয়ে রয়েছে।

নরটন বললেন, ‘ঠিক আছে। আমরা এখন তোমাকে বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি হোয়াইটকে বাঁ দিকে ৯০ ডিগ্রি যেতে বললেন। ফ্যাবিও তখন সরেনসনের কাছ থেকে কখন কোন বাটনে কিভাবে চাপ দিতে হবে তা জেনে নরটনকে জানাচ্ছিলেন, নরটন সেটা বলে দিচ্ছিলেন হোয়াইটকে।

সরেনসন আরেকটি পরামর্শ দিলেন : তাকে বলো, কিং এয়ার আসলে এক ইঞ্জিনের বিমানের মতোই। বিমান মানেই বিমান। এই পরামর্শ হোয়াইটকে অনেক চিন্তা থেকে রা করল। তাদের পরামর্শমতো হোয়াইট বিমানটি চালাতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে লাগলেন। ধীরে ধীরে নেমে আসতে লাগল বিমানটি।

সম্ভাব্য যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় বিমানবন্দরে তখন অ্যাম্বুলেন্স আর দমকল বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোয়াইট চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিমানটিকে ল্যান্ড করাতে। টেরি আরো জোরে তার মেয়ে দু’টিকে আঁকড়ে ধরেছেন, প্রার্থনা করছেন মনেপ্রাণে। নরটন হোয়াইটকে জানালেন, পুরো রানওয়ে তোমার। তুমি যেখান দিয়ে খুশি নামো।

মিয়ামিতে একজন সুপারভাইজার লিসা গ্রিমকে জানালেন, ‘তিনি নেমেছেন’। গ্রিম চিৎকার করে জানতে চাইলেন, ‘এর মানে কী? বিমানটি নিরাপদে নেমেছে নাকি দুর্ঘটনা ঘটেছে?’ ফোর্ট মায়ার্সে বিমানটি কিভাবে নামছে, তা দেখতে ফ্যাবিও ভবন থেকে দৌড়ে বাইরে এলেন। কিং এয়ার নিখুঁতভাবে অবতরণ করেছে। সবার মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। চারজনই বিমান থেকে বের হয়ে এলেন। চিকিৎসকরা এসে জো ক্যাবুককে ককপিট থেকে নামিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু কাজ হলো না। পরে ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

লুইসিয়ানার বাড়িতে ফিরে হোয়াইট গিফট সার্টিফিকেট পাঠালেন গ্রিম, নরটন, ফ্যাবিও ও সরেনসনকে। জবাবে তারা জানালেন, সব কৃতিত্ব হোয়াইটের। তিনিই কিং এয়ারকে মধ্য আকাশ থেকে অখণ্ডভাবে নামিয়ে এনেছেন। এ ঘটনার এক মাস পরও প্রতি রাতের ৩টায় দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙত হোয়াইটের। প্রতিবারই তিনি স্বপ্ন দেখতেন, তিনি বিমানটির কন্ট্রোলে এবং কী করতে হবে জানেন না। তিনি আবার বিমান চালানো শিখতে গেলেন, আবার যদি জরুরি অবতরণ করতে হয়, তবে তিনি নিজেই যাতে পারেন। তিনি এখনো মনে করেন, ওপরওয়ালাই তাকে ও তার পরিবারকে বাঁচিয়েছেন।