বিখ্যাত কিছু হরর ছবিতে ব্যবহৃত ভয়ঙ্কর পুতুলেরা - প্রিয়লেখা

বিখ্যাত কিছু হরর ছবিতে ব্যবহৃত ভয়ঙ্কর পুতুলেরা

ahnafratul
Published: September 26, 2017

একটা সময় থাকে, যখন আমরা সবাই ভয় পেতে ভালোবাসি। কাঁথা মুড়ি দিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকি কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে। চমকে উঠি, আত্মারাম খাঁচা হবার যোগাড় হয়, তবুও ভয় যেন আমাদের সাথে চুম্বকের মত আটকে থাকে।
জ্বী, হরর ছবির কথাই বলছি। নতুন হরর ছবি মুক্তির আগে আগে সকল ট্রেইলার টিজার দেখা হয়ে যায় আমাদের। অমোঘ এক আকর্ষণে হরর ছবির দিকে ছুটে যাই আমরা। তবে আজ আপনাদের সাথে হরর ছবি নয়, বরং হরর ছবির অন্যতম উপাদান- ভূতুড়ে পুতুল নিয়ে আলোচনা করা হবে। অ্যানাবেল ডল কিংবা চাইল্ডস প্লে এর চাকি’র মত পুতুলের ভয়াবহ সব কার্যকলাপ আমাদের শরীরের রোম খাড়া করে দেয়। আসুন আজ জেনে নেয়া যাক এমনই আরো কিছু ভূতুড়ে পুতুলের কথা, যাদের ব্যবহার করা হয়েছিল বিখ্যাত কিছু হরর ছবিতে।

১) পাপেট মাস্টারঃ

একদল সাইকিক যখন এক বৃদ্ধ নাৎসি বিজ্ঞানীর পাগলাটে কাজকর্মের দিকে ঝুঁকে যায়, তখন কি ঘটে তা আপনারা দেখে নিতে পারেন পাপেট মাস্টার নামের এই হরর ছবিটির মাধ্যমে। জানতে ইচ্ছে করছে এই বিজ্ঞানীর খ্যাপাটে কাজ কি ছিল? অদ্ভুতুড়ে কিছু পুতুলের মাঝে তিনি প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন! ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে।

২) ডেড সাইলেন্সঃ

সদ্য বিপত্নীক এক ব্যক্তি যখন তার শহরে ফিরে যান, তখন ভয়ানক এক পুতুলের খপ্পরে পড়েন। এক ডামি পুতুলের সাথে তার কথোপকথনের মাধ্যমে কিভাবে এই ছবির গল্প এগিয়ে চলে, তা জানতে হলে আপনাকে দেখতে হবে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ডেড সাইলেন্স।

৩) ডলসঃ

স্টুয়ার্ট গর্ডনের ডলস নামক এই ছবিটির মাধ্যমে দর্শক খুঁজে পাবেন নিষ্প্রাণ কিছু পুতুলের বীভৎস রুপ। গল্পের প্লট খুবই সহজ সরল। এক ঝড়ের রাতে কয়েকজন দুর্ভাগা আশ্রয় নেয় একটি বাড়িতে। রসবোধ ও ভয়- এই দুয়ের মিশেল আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ছবির সাথে। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবিতে যেসব পুতুল ব্যবহার করা হয়েছিল, আপনার গা শিউরে ওঠাবার জন্য তারা যথেষ্ট!

৪) ট্রিলজি অব টেররঃ

ক্যারেন ব্ল্যাক তার গোটা অ্যাপার্টমেন্ট জুড়ে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কেন? কারণ, বিকটদর্শন এক ট্রাইবাল পুতুল তাকে খুন করবার জন্য তাড়া করে বেড়াচ্ছে!
১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি বেশ সাড়া ফেলেছিল, তা বলাই যায়। প্লট খুবই সাধারণ তবে পুতুলের ডিজাইন, ভয়ঙ্করভাবে বানানো এডিটিং বিন্যাস ও মিস ব্ল্যাকের অনবদ্য অভিনয় আপনাকে আটকে রাখবে চুম্বকের মত, একেবারে শেষ পর্যন্ত।

৫) অ্যানাবেল ডলঃ

কনজুরিং ছবিতে অ্যানাবেল ডলের বেশি কিছু করতে হয় নি, তারপরও দর্শকেরা মোহাবিষ্ট হয়েছিলেন এই পুতুলটির জন্য। অবশেষে অ্যানাবেল ডল তার নিজস্ব একটি স্পিনঅফ ছবি পেয়েছে। প্রসূতি একজন মা, ঘরের ভেতর আচমকা ঢুকে পড়া কিছু মানুষ এবং ও শয়তানের পূজারী একদল লোক- এসব মিলে অ্যানাবেল বেশ ভালোই সাড়া জাগিয়ে তুলতে পেয়েছিল। এইতো কিছুদিন আগেই অ্যানাবেল এসেছে তার সিকুয়েল অ্যানাবেল ক্রিয়েশন নিয়ে। এটিও দর্শকরা বেশ ভয়ে ভয়েই গ্রহণ করেছেন সাদরে!

আমরা ছবি দেখি কাহিনীর জন্য, সুদর্শন নায়কের জন্য কিংবা কলাকুশলীদের জন্য। তবে একটি হরর ছবির প্রধান উপাদানই হচ্ছে ভয় আর আতঙ্ক। আর সেখানে যদি উপাদান হিসেবে নিষ্প্রাণ পুতুলের ভয়ংকর কারসাজি যুক্ত করা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এসব পুতুলই হয়ে ওঠে ভয়ের প্রধান কারিগর হিসেবে। ভয়ের রাজ্যেয়া আপনাকে স্বাগতম!

আজ আর নয়। থাকুন প্রিয়লেখার সাথেই।
আর এই ফিচারটি তৈরি করতে সাহায্য নেয়া হয়েছে থ্রিলিস্ট-এর।