বাইসনঃ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী - প্রিয়লেখা

বাইসনঃ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী

ahnafratul
Published: August 30, 2017

বাইসন।

প্রথম দেখায় আপনার হয়ত এটিকে মোষের মত মনে হতে পারে। আর হবে নাই বা কেন বলুন? গায়ে গতরে এটি যে একদম মোষেরই জাতভাই। তবে বাইসন আর মোষের মাঝে কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার আগে বলে নিচ্ছি, আমেরিকান বাইসন (যেটিকে সকলে বাইসন হিসেবেই জানে) হচ্ছে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাইসন এবং মহিষ উভয়েই বোভিন গোত্রের প্রাণী কিন্তু মহিষের চাইতে বাইসনের গণ একটু আলাদা। এদের পরিবারের মাঝে আরো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অ্যান্টিলোপ, গরু, ভেড়া ও ছাগল। তার মানে বুঝতেই পারছেন, বাইসন আমাদের চেনা পরিচিত গৃহপালিত পশুদেরই সহোদর হিসেবে পরিচিত।
দুই ধরণের বাইসন পাওয়া যায়। প্রথমটি হচ্ছে আমেরিকান বাইসন এবং পরেরটি হচ্ছে ইউরোপিয়ান বাইসন। ২০১৬ সালের ৯ মে আমেরিকান বাইসনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

লম্বায় কতটুকু হয়ে থাকে?
আমেরিকান বাইসন লম্বায় প্রায় ৭ থেকে ১১.৫ ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর লেজ অতিরিক্ত ২০-২৩ ইঞ্চি হবার কারণে এর আকৃতিতে যেন একটি পূর্ণতা প্রদান করে থাকে। আর ওজন? ৪২২ থেকে ৯৯৮ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে আমেরিকান বাইসন।

আবাসঃ
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংরক্ষিত অঞ্চলে বাইসনদের আবাস। একসময় সমগ্র ইউরোপেই পাওয়া যেত ইউরোপিয়ান বাইসন। এখন এদের কেবল পোল্যান্ড, বেলারুশ, লিথুনিয়া, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কিছু কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়।

স্বভাবঃ
বাইসন সাধারণত দল বেঁধে থাকে। এদের একেকটি দলকে বলা হয়ে থাকে “হার্ডস” (Herds). একটি হার্ডে সাধারণত দলের মেয়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে থাকে। তাই বলে পুরুষরা যে তাদের ছেড়ে থাকে, এটি মোটেই ভাববেন না। পুরুষ বাইসন তাদের দলের নারীদের নিয়ে খুব চিন্তা করে তাই তাদের স্থানটা হয়ে থাকে একটু আলাদা। বলা যায়, সাধারণত অন্যান্য হিংস্র পশু থেকে মেয়েদের রক্ষা করবার জন্যই তারা একটু দূরত্বে অবস্থান করে।


বাইসনরা মাইগ্রেটরি জন্তু, অর্থাৎ এরা খাবার ও সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিভ্রমণ করে থাকে। এদের নিয়ে একটি মজার তথ্য রয়েছে। অনেক সময় কিছু কিছু বাইসন দলের মেয়েদের সাথে না থেকে একই লিঙ্গের দলভুক্তদের সাথে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যায়।

খাবারঃ
বাইসন তৃণভোজী প্রাণী। গাছের পাতা থেকে শুরু করে সকল ধরণের পাতা, ঘাস ও গুল্ম এরা ভক্ষণ করে থাকে।

নিম্নে বাইসনদের শ্রেণীবিন্যাস দেয়া হলঃ
Kingdom: Animalia
Subkingdom: Bilateria
Infrakingdom: Deuterostomia
Phylum: Chordata
Subphylum: Vertebrata
Infraphylum: Gnathostomata
Superclass: Tetrapoda
Class: Mammalia
Subclass: Theria
Infraclass: Eutheria
Order: Artiodactyla
Family: Bovidae
Subfamily: Bovinae
Genus: Bison
Species:
• Bison bison (American bison)
• Bison bonasus (European bison)

বাইসনদের নিয়ে আরো কিছু তথ্যঃ
১) নারী ও পুরুষ, উভয় বাইসনেরই শিং রয়েছে।

২) বাইসনরা সাধারণত বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে তবে সাদা বাইসনও পাওয়া যায়। এদের পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানরা এদের পূজো করে থাকে।

৩) যখন একটি বাইসনের লেজ সোজা হয়ে যায়, তখন এর থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই উত্তম। কারণ, এর মানে হচ্ছে বাইসন রেগে গিয়েছে।

৪) বাইসন দ্রুতগামী প্রাণী। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে বাইসন ঘন্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়তে পারে।

তবে দুঃখের কথা হচ্ছে, চমৎকার এই প্রাণীটি অস্তিত্বহীনতার সংকটে ভুগছে। এর কারণ হচ্ছে, অবাধে পশু হত্যা ও পাচার। স্থানীয় রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবকরা বাইসনদের বাঁচানোর জন্য তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আজ এ পর্যন্তই। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।

তথ্যসূত্রঃ https://www.livescience.com/60241-bison-facts.html