প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে চলছেন কতটা? - প্রিয়লেখা

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে চলছেন কতটা?

ahnafratul
Published: September 15, 2017

শুরুটা করি মজার একটা গল্প দিয়ে। গল্পটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দশটি ইন্সপায়ারিং গল্পের মাঝে অন্যতম।

আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে, ইতালীর এক ছোট শহরে বাস করত একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একবার সে এক মহাজনের নিকট হতে বিরাট অঙ্কের টাকা ধার করেছিল। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ব্যবসার অবস্থা দিন দিন এতই খারাপ হয়ে আসছিল যে, সে টাকা ফেরত দিতে অপারগ হয়ে উঠছিল।
মহাজন বয়সে বৃদ্ধ কিন্তু ব্যবসায়ীর সুন্দরী মেয়ের প্রতি তার লোভ ছিল ষোলআনা। বেচারী ব্যবসায়ীকে সে এবার একটা প্রস্তাব দিল। যদি এই প্রস্তাবে ব্যবসায়ী রাজী হয়, তাহলে তার সমস্ত দেনা মাফ করে দেয়া হবে। শর্তে সে যদি হেরে যায়, তবুও তার দেনা শোধ হয়ে যাবে তবে নিজের আদরের মেয়েকে তুলে দিতে হবে মহাজনের কাছে। এরকম জঘন্য প্রস্তাব ব্যবসায়ীর কাম্য ছিল না তবে তার আর কিছু করারও ছিল না সে মুহুর্তে।

জানতে ইচ্ছে করছে মহাজনের শর্ত কি ছিল?

মহাজন একটি ব্যাগের ভেতর দুটো পাথর রাখবে। একটির রঙ হবে কালো এবং অপরটির রঙ হবে সাদা। ব্যবসায়ীর কন্যাকে যে কোন একটি পাথর তুলে নিতে হবে। যদি সে কালো পাথরটি তুলে নেয়, তাহলে তার বাবার দেনা শোধ হয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু বিয়ে করতে হবে বৃদ্ধ মহাজনকে। তবে যদি সে সাদা পাথরটি তুলে নেয়, তাহলে বাবার দেনা শোধ তো হবেই, একইসাথে বিয়েও করতে হবে না।
ব্যবসায়ীর ঘরের সামনেই ছিল একটি বিশাল ফুলের বাগান। বাগানে ছিল নানা রঙের বাহারী পাথর। মহাজন সেখান থেকে দুটো পাথর তুলে নিয়ে তার ব্যাগে পুরে ফেলল। ব্যবসায়ীর মেয়ে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করল যে, মহাজন তার ব্যাগের ভেতর যে দুটো পাথর ভরেছে, তার দুটোই কালো। সে বুঝে ফেলল মহাজনের মতলব খারাপ।
তবে সে চুপ করে রইল। মাথায় তখন বইছে চিন্তার তুফান।
মহাজন এবার বাপ মেয়ের সামনে এল।
“যে কোন একটি পাথর তুলে নাও, মেয়ে।” মুখে ক্রুর হাসি নিয়ে বলল মহাজন।

মেয়েটির সামনে ঠিক তিনটি রাস্তা খোলা ছিলঃ
১) ব্যাগের থেকে পাথর তুলতে অসম্মতি জানানো।
২) দুটো পাথরই তুলে নিয়ে মহাজনের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া।
৩) একটি পাথর তুলে নিয়ে বাবার সম্মান রক্ষার্থে নিজেকে বিসর্জন দেয়া।

মেয়েটির মুখে হঠাত হাসি ফুটে উঠল। একটা উপায় সে খুঁজে পেয়েছে যেন এবার। সে ব্যাগ থেকে একটা পাথর তুলে নিল এবং হাত থেকে ফেলে দিল পাথরটি ‘দূর্ঘটনাবশত’। এবার সে মহাজনের দিকে কাঁচুমাচু করে তাকিয়ে বলল,
‘দেখুন দেখি কেমন ভুলোমনা আমি! আপনি যদি ব্যাগের ভেতর তাকান, তাহলে কোন পাথরটি আমি তুলেছিলাম তা বুঝতে পারবেন অবশ্যই।’

মহাজন এবার চুপ হয়ে গেল। বুদ্ধির খেলায় সে হেরে গিয়েছে ব্যবসায়ীর কন্যার কাছে। কারণ, ব্যাগে আছে কালো একটি পাথর। যদি সে সবার সামনে পাথরটি তুলে নেয়, তাহলে মেয়েটি সাদা পাথরই তুলেছিল তা প্রমাণ হয়ে যাবে। গম্ভীর গলায় সে বলল,
‘দেখতে হবে না। আমি জানি তুমি সাদা পাথরই তুলেছিলে।’ নীরবে প্রস্থান করল মহাজন।

এই গল্পের উদ্দেশ্যঃ
অবস্থা যত কঠিনই হোক না কেন, আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করে সবসময়ই আমাদের প্রতিকূল অবস্থা থেকে উদ্ধার লাভ করতে হবে। ভাবতে হবে, কোন ধরণের পরিস্থিতি আমাদের সামনে খোলা আছে এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন কাজটি করলে আসন্ন বিপদ এড়ানো সম্ভব। বুদ্ধির জোর এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বই আমাদের বাঁচাতে পারে কঠিন কঠিন সব অবস্থা থেকে। কোন কঠিন অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে চাইলে আমাদের কিছু জিনিস অবশ্যই বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

১) সামগ্রিক অবস্থার বিবেচনা করা।

২) নিজেকে কোন পর্যায়ে আছি, তা বুঝে অবস্থান গ্রহণ করা।

৩) এমন কোন কথা না বলা, যেটি অবস্থাকে আরো ঘোলা করতে পারে।

৪) চুপ না থাকা। অনেক সময় চুপ থাকা মানে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়া, যদি আপনি কোন ধরণের অপরাধ নাও করে থাকেন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন সকলের কাছে।

৫) কতগুলো অপশন নিজের কাছে খোলা রয়েছে এবং এর বাইরে কতটুকু কি চিন্তা করা যায়, তা ভাবা।

৬) ধরা যাক, আপনার কাছে দুটো পরিস্থিতি খোলা রয়েছে। দুটোই ফলপ্রসূ তবে একটির চাইতে অন্যটি করলে সুফল বেশি লাভ করা যাবে। কোন ধরণের ভাবনা না ভেবে যে পরিস্থিতিতে আপনি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন, তাই করে ফেলুন।

বুদ্ধি সকলে খাটিয়ে চলে না, আবার যারা খাটিয়ে চলে তারা কোন জায়গায় আটকায় না। চারপাশে তাকিয়ে দেখবেন, আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছে যারা অল্পতেই কিছু হলে আতঙ্কের মাঝে চলে যান। একটু চিন্তা করলেই কিন্তু তাদের সামনে উদ্ধার পাবার বিশাল একটি পথ খোলা থাকে, যা তারা করতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে সবসময় সাহায্য করতে পারে নিজের বুদ্ধি ও অবস্থার সমগ্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা।

আজ আর নয়। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন আর করতে থাকুন আপন বুদ্ধির উন্মেষ।