পৃথিবীর অনাবিষ্কৃত পাঁচ রহস্যময় গুপ্তধন! - প্রিয়লেখা

পৃথিবীর অনাবিষ্কৃত পাঁচ রহস্যময় গুপ্তধন!

ahnafratul
Published: September 21, 2017

এডভেঞ্চার আমাদের কার না ভালো লাগে বলুন? এডভেঞ্চারের খোঁজে কিংবা একঘেয়ে এই জীবনটা থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে আমরা নানা ধরণের উদ্ভট কাজ করে থাকি। এরই মাঝে কিছু থাকেন মহা পাগল কিংবা অতি উৎসাহী। তাদের উৎসাহের কারণেই পৃথিবীতে ঘটেছে বিশ্বাস করা যায় না, এমন কিছু ঘটনা। উদঘাটিত হয়েছে যা পাওয়া যায় না, যাকে আমরা বলে থাকি গুপ্তধন। পৃথিবীতে এমন অনেক অজানা কিছু গুপ্তধন রয়েছে, যার হদিশ আজও পাওয়া যায় নি। এসব গুপ্তধনকে খুঁজে ফেরেন অতি উৎসাহীরা, খুঁজে ফেরেন রহস্যসন্ধানীরা। আজ এমন কিছু অনাবিষ্কৃত গুপ্তধন নিয়ে আলোচনা করা হবে প্রিয়লেখার পাতায়ঃ

১) দ্য অ্যাম্বার রুমঃ

যেমন হতে পারত সত্যিকারের দ্য অ্যাম্বার রুম

সেন্ট পীটার্সবার্গের নিকট ছোট্ট একটি অঞ্চল, নাম সারস্কো সেলো। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চলের ক্যাথেরিন রাজপ্রাসাদে তৈরি হয়েছিল দ্য অ্যাম্বার রুম। এই কক্ষে প্রায় ১০০০ পাউন্ড অ্যাম্বারের তৈরি স্বর্ণপাতে মোড়ানো মোজাইক, আয়না ও ঝুলবাতি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে সারস্কো সেলো জার্মানদের হাতে চলে আসে। তারপর এই ঘরে যত প্যানেল ও চিত্রকর্ম রয়েছে, তা অবিন্যস্ত করে জার্মানী পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে দ্য অ্যাম্বার রুমের সম্পদ অনাবিষ্কৃত গুপ্তধন হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় রয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করেন, এদেরকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যাথেরিন প্যালেসে অ্যাম্বার রুমের একটি ছোট রেপ্লিকা সংস্করন দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

২) মেনকাওরের সারকোফ্যাগাসঃ


আজ হতে প্রায় ৪৫০০ বছর আগে, গিজাতে যে তিনটি পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিল ঈজিপশিয়ান ফারাও মেনকাওরের পিরামিড। ১৮৩০ সালে ইংরেজ সামরিক অফিসার হাওয়ার্ড ভাইজ গিজার এই পিরামিডগুলোকে আবিষ্কার করেন। তবে এই পিরামিডগুলোর ভেতর ঢুকতে তিনি ভয়ানক সব বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করেছিলেন। তার আবিষ্কৃত বস্তুগুলোর মাঝে একটি অরনেট সারকোফ্যাগাস ছিল, যেটি মেনকাওরের পিরামিডে পাওয়া গিয়েছিল। বাণিজ্যিক জাহাজ বিয়েট্রিসের সাহায্যে ১৮৩৮ সালে হাওয়ার্ড চেয়েছিলেন এই সারকোফ্যাগাসকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিতে। তবে দূর্ভাগ্যের বিষয় হল, যাত্রাপথে বিয়েট্রিস প্রবল ঝড়ের কবলে পরে এবং ডুবে যায়। চিরতরে হারিয়ে গেল এই সারকোফ্যাগাস।

৩) আর্ক অব দ্য কভেন্যান্টঃ

আর্ক অব দ্য কভেন্যান্ট চিত্রকরের কল্পনায়

হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী, আর্ক অব কভেন্যান্ট হচ্ছে একটি সিন্দুক, যেখানে বিখ্যাত “টেন কম্যান্ডমেন্টস” খচিত ট্যাবলেট রয়েছে। ধারণা করা হয়, রাজা সলোমন কর্তৃক নির্মিত এই সিন্দুক রয়েছে একটি মন্দিরের অভ্যন্তরে। ইহুদীদের কাছে এই মন্দির ‘দ্য ফার্স্ট টেম্পল’ নামেও পরিচিত এবং তারা বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এটিই হচ্ছে পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে পবিত্র স্থান। যীশুর জন্মের ৫৮৭ বছর পূর্বে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার তার সৈন্যদের সাহায্যে জেরুজালেম দখল করেন। রাজা নেবুচাদনেজার এই আর্ক অব দ্য কভেন্যান্ট কোথায় রেখেছেন কিংবা তা ধ্বংস করে ফেলেছেন কি না, তা এখনো জানা যায় নি।

৪) মস্কোর জারের হারানো পাঠাগারঃ


ধারণা করা হয়, মস্কোর জারের এই পাঠাগারে বিপুল সংখ্যক প্রাচীন গ্রীক পুঁথি রয়েছে এবং অন্যান্য ভাষায় লিখিত নানা ধরণের পুঁথিও রয়েছে। মস্কোর গ্র্যান্ড ডাচির শাসকরা এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ষোড়শ শতাব্দীতে এটি তখনকার আমলে অন্যতম একটি সুবিধার ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
দাবি করা হয়, চতুর্থ আইভান বা ‘আইভান দ্য টেরিবল’ এই পুঁথিগুলোকে লুকিয়ে ফেলেন। গত কয়েক শতাব্দীতে বেশ কয়েকবার এই পাঠাগার খুঁজে বের করার অভিযান চালানো হয়েছে কিন্তু গবেষকরা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। “গোপন” এই পাঠাগারের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, মস্কো ও সেন্ট পিটারসবার্গের আধুনিক পাঠাগারগুলোতে কিন্তু প্রাচীন গ্রীক ও অন্যান্য ভাষায় লেখা সংবলিত পুঁথির একটি সংগ্রহ সত্যিই রয়েছে।

৫) স্যাফোর হারানো কবিতাঃ

স্যাফোর কবিতার কিছু চরণ

যীশুর জন্মের সাতশ বছর আগে, প্রাচীন গ্রীসে স্যাফো নাম্নী একজন চারণ কবি ছিলেন। তিনি চরণ বা কবিতা রচনায় এতোটাই ভালো ছিলেন যে, কয়েক কাল পর তাকে শেকসপিয়ারের সাথে তুলনা দেয়া হয়েছিল। প্রাচীন গ্রীসে স্যাফোকে বলা হত অন্যতম সেরা কবি ও তার কিছু কবিতা আমাদের চমকে দেয় ভীষণভাবে। দূর্ভাগ্যের কথা হচ্ছে, স্যাফোর এই কবিতাগুলোর অধিকাংশই এখন আর পাওয়া যায় না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাপিরোলজিস্ট ডার্ক অবিংকের কাছে স্যাফোর দুটি কবিতা সংগ্রহে রয়েছে। এই একটি হচ্ছে স্যাফোর ভাইদের নিয়ে এবং অপরটি হচ্ছে তার না পাওয়া ভালোবাসা নিয়ে।
কেউ কেউ বলে থাকেন, স্যাফোর কবিতা প্রাচীন ঈজিপশিয়ানরা মমির কবরের গায়ে খোদাই করে লিখে দিত।

সবশেষে বলা যায় যে, আমাদের চিরচেনা এই পৃথিবীটা অনেক রহস্যময়। যতটা না তার আবিষ্কৃত রহস্য সমাধানের জন্য, তারচাইতেও বেশি অনাবিষ্কৃত এই রহস্যময় গুপ্তধনের জন্য। এগুলো আবিষ্কৃত হয়ে গেলে হয়ত এতোটা আকর্ষণ আর আমাদের মাঝে থাকবে না, যা আজ আমরা করছি। তবে দ্রুত এই রহস্যের জট খুলুক ও মানুষের সামনে উন্মোচিত হোক নতুন তথ্য ও সত্যের দুয়ার, এটিই আমরা চাই।

আজ আর নয়। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।

(ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে “লাইভ সাইন্স” অবলম্বনে)