টুইটার কিলার এর মৃত্যুদন্ড রায় - প্রিয়লেখা

টুইটার কিলার এর মৃত্যুদন্ড রায়

Afreen Houqe
Published: December 19, 2020

টুইটার কিলার! টুইটার কিলার এর মৃত্যুদন্ড রায় (প্রথম পর্ব)

 

শুনতে ভীষন অদ্ভুত লাগছে হয়তো, কিংবা ভাবতে পারেন কি হতে পারে এই অদ্ভুত নামের পেছনের গল্প। না গল্প নয় সত্যি ঘটনার প্রেক্ষিতেই এক খুনির নামকরণ করা হয়েছে টুইটার কিলার। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা নানা সময় নানা রকম সংবাদ দেখে থাকি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আমাদের অবাধ বিচরণ। এখানে বন্ধুত্বের সাথে সাথে ব্যবসায়িক আর্থিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেই যে কেউ খুব সহজ উপায়ে একে অন্যের সাথে মিশে যেতে পারে। প্ল্যাটফর্মই যেখানে ভার্চুয়াল সেখানে কাউকে খুব সহজে চেনার জানার উপায় নেই। তবুও মানুষ অনেকসময় সক্ষতা তৈরি করে ফেলে ভুল মানুষের সঙ্গে না বুঝেই । আর তার সেই সরল বিশ্বাসের মাশুল দিতে হয় কখনো জীবন দিয়েও। 

সিরিয়াল কিলার নিয়ে আজকের এই লেখাটি তেমন একটি প্রসঙ্গ নিয়েই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা খোলামনে কত কিছুই লিখি, আমাদের সফলতা ব্যর্থতা আবার কখনো মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা অবসাদ বোধ করলেও আমরা সেটি প্রকাশ করে থাকি। তেমনি টুইটারে এমন হতাশাব্যঞ্জক পোস্ট দেখা মাত্র কেউ যদি আপনার সমস্যা সমাধানের উপায় বলতে চায়, তখন তার ডাকে সাড়া না দিয়ে আপনি কি চুপ থাকতে পারবেন? তাকাহিরো শিরাইশি (৩০) মানুষের হতাশা এবং মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খুন করতেন। কে এই তাকাহিরো শিরাইশি কেনই বা করতো খুন? 

জাপান এর মধ্য কানাগা প্রদেশের জামা শহরে একটি এপার্টমেন্টে থাকতেন তাকাহিরো, টুইটারে আত্মহত্যার  প্রবণতা আছে এমন কারো পোস্ট দেখলেই সে তাদের সাথে যোগাযোগ করতো। বলা যায় সে টুইটারে দুর্বল মানসিকতা অথবা বিষাদ আত্মহত্যাপ্রবন মানুষদের পোস্ট গুলো অনুসরণ করতো তাকাহিরো। অবশ্য জামা শহরে আসার আগে তাকাহিরো কাজ করতেন “কাউড়ি স্কুটো” নামক একটি সংগঠনে স্কাউট হিসেবে ( পতিতালয়ে নারীদের কাজ করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করতো) ।  তাকাহিরোকে স্থানীয়রা সেসময় খুবই অদ্ভুত আচরণের মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত করেছিলো। আর তার পরেই তাকাহিরো জামা শহরে পারি জমান বলেই স্থানীয়দের ধারণা।

টুইটারে আত্মঘাতী কারো পোস্ট দেখলেই তাকাহিরো তাদের সাথে সক্ষতা তৈরি করতেন। তাদেরকে তার এপার্টমেন্টে আসার জন্য অনুরোধ করতেন এবং তাদের কে আত্মহত্যা করার কাজে সহায়তা করবেন এমনকি তিনি নিজেও আত্মহত্যা করবেন বলে কথা দিতেন। আর সরল বিশ্বাসে মানসিক ভাবে দুর্বল কেউ সেই ফাঁদে পা দিলেই ঘটতো দুর্ঘটনা। ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে তাকাহিরো শিরাইশির ক্ষেত্রে। আত্মঘাতী কারো পোস্ট এ সারা দিয়ে সে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, সমবেদনা জানিয়ে  বিস্বাস অর্জন করতো তারপর তার এপার্টমেন্টে ডেকে আনতো ভুক্তভোগীকে। শুধু খুনের উদ্দেশ্যই ছিলো কি তাকাহিরোর? খুনের আগে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে ধর্ষণ এর মত ঘৃণিত কাজ করতেও দ্বিধা বোধ করতো না এই খুনি। নিজের এপার্টমেন্টে ডেকে এনে শারীরিক নির্যাতন ধর্ষণ করেই থামতো না তাকাহিরো। খুন করে শরীরকে টুকরো টুকরো করে ফেলতো  আর সেই টুকরো করা শরীরের অঙ্গগুলো সংরক্ষণ করতো ফ্রিজারে। অথচ এই ঘটনায় কোথাও কোনো রকম ভাবে কারো সন্দেহের দৃষ্টি একবারো তার দিকে আসেনি। আর ধরা পরবে না এই একটি ভুল মনোভাব তাকে এতটাই উগ্র করে তুলেছিলো যে একের পর এক সে নয়টি খুন করে বসে। যাদের খুন করেছে তাদের মধ্যে ছয়জন যুবতী দুইজন কিশোরী একজন পুরুষ। 

 

হয়তো ধরা পরতো না চতুর তাকাহিরো যদি একজন নিখোঁজের ভাই নিজ উদ্যোগে তার হারানো বোনকে খুঁজতে শুরু না করতো। ধরা হয়তো পরতোও না কখনো আত্মবিশ্বাসী এই খুনি। কিন্তু বিবাদ বাধে যখন একজন মহিলা তাকাহিরো শিরাইশির সাথে যোগাযোগ করে তার সাথে দেখা করতে চান যিনি আসলে পুলিশের সাথে যুক্ত ছিলো। দেখা করার দিন পুলিশ যখন তাকাহিরোকে  তার এপার্টমেন্টে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে নিখোঁজ এর সন্ধান জানতে তখন তাকাহিরো খুবই নির্লিপ্ত ভাবে ফ্রিজার দেখিয়ে দেন। আর তখনই লোমহর্ষক বিষয়টি চোখে পরে সবার। ফ্রিজার থেকে বের করে আনা হয় একের পর এক লাশের ছিন্ন অংশগুলো । খুবই ভয়াবহ সেই মুহূর্ত কারন একটি লাশ ও সম্পূর্ণ নয় সবকয়টি লাশকেই খণ্ড বিখন্ড করে ফেলা হয়েছে।  তিনটি ফ্রিজার ও পাঁচটি স্টোরেজ বক্সে রাখা হয়েছিলো সেই কাটা অংশগুলো। এমন পরিস্থিতিতে এপার্টমেন্টে  থাকা বাকিরা নিশ্চিত করলেন অনেকদিন ধরেই তারা তাকাহিরোর ঘর থেকে পঁচা গন্ধ পাচ্ছিলেন। আর পুলিশি তদন্তে জানা যায় তেইশ অক্টোবরে তাকাহিরোর সাথে হাটতে দেখা যায় একজন নিখোঁজ নারীকে জাকে খোজার উদ্দেশ্যই এই অভিযান। তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকাহিরো নিজেই স্বীকারোক্তি দেন তিনিই নয়জনকে খুন করেছেন। আরো বলেন হত্যার আগে শারীরিক নির্যাতন করাই তার আসল উদ্দেশ্য ছিলো। যেহেতু সে শারীরিক নির্যাতন করতো সেকারনে পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী যাতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারে তাই খুন করে লাশকে গুম করতে থাকে তাকাহিরো।  

শেষ পর্ব আসছে…