চিরচেনা তাজমহলের অজানা রহস্য - প্রিয়লেখা

চিরচেনা তাজমহলের অজানা রহস্য

ahnafratul
Published: September 8, 2017

তাজমহল!

ভালোবাসার এক অন্যতম নিদর্শন। ভারতে ঘুরতে গিয়েছেন নবদম্পতি কিন্তু তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন নি, এমন বোধহয় পাওয়া খুব দুষ্কর। ভালোবাসার জলজ্যান্ত এমন এক ইমারতের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি না তোলাটাই যে অন্যায়! এ যেন নিজেদের ভালোবাসাটিকেও অমর করে রাখার এক অসাধারণ প্রয়াস। তবে আজ আপনাদের এই চিরচেনা শ্বেতপাথরের তাজমহলের কিছু রহস্যের কথা জানাব; যা শুনলে আপনি অবাক হতে পারেন। তো, শুরু করা যাক?

১) তাজমহল ও সম্রাজ্ঞী আরজুমান্দ বানু বেগমঃ
অনেকেই হয়ত একটু ভ্রূ কুঁচকে তাকাতে পারেন। আরজুমান্দ বানু আবার কে বাবা? তবে এই আরজুমান্দ বানুই হচ্ছেন মমতাজ মহল, যে নামে সারা পৃথিবীতে তিনি অমর হয়ে আছেন। পুর্বপুরুষদের মত সম্রাট শাহজাহানের হেরেমেও ছিল অনেক স্ত্রী। তবে তা সত্ত্বেও তার এত রানীদের মাঝে এমন কেউ ছিলেন না, যিনি মমতাজের মত তার হৃদয় হরণ করতে পেরেছেন। মমতাজ ছিলেন তার তৃতীয় স্ত্রী। ১৯ বছরের পরিণয় জীবনে তাদের মোট সন্তান হয়েছিল ১৪টি। একদম শেষ সন্তান জন্মদানের সময় মমতাজের প্রয়াণ ঘটে এবং সম্রাট শাহজাহান এতোটাই মনঃকষ্টে পতিত হন যে, তিনি তার মৃত স্ত্রীকে স্মরণ করে রাখবার জন্য একটি শ্বেতপাথরের কবর তৈরির কথা ভাবেন। ১৬৩২ সালের দিকে এই তাজমহল তৈরির কাজ শুরু হয়।

২) রঙ বদলায় তাজমহলঃ


দিনের আলোর পরিবর্তনের সাথে সাথে তাজমহল রঙ বদলাতে শুরু করে। এটা ধারণা করা হয়ে থাকে যে, তাজমহল হচ্ছে ঐ রমণীর প্রতিকৃতি যিনি তার মনের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটাতে সমর্থ হন। একদম ভোরের আলো ফুটবার সাথে সাথে এক হালকা গোলাপীর মূর্ছনায় মাতোয়ারা হয়ে ওঠে তাজমহল। আবার রাতের দিকে এটিকে দেখা যায় স্নিগ্ধ সফেদ রঙে। এই পরিবর্তনগুলো তাজমহলকে দিয়েছে অনন্য এক বৈচিত্র্য।

৩) রহস্যজনক ঘর!


ধারণা করা হয়ে থাকে যে, তাজমহলের ভেতর অসংখ্য গুপ্ত কক্ষ রয়েছে। শাহজাহানের সময় থেকেই এই কক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমান ব্যবস্থাতেও এই কক্ষগুলোতে খুব বেশি পরিবর্তন করা হয় নি। অনেকে ধারণা করেন, তাজমহলের ভেতরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট শাহজাহান। কারণ, শ্বেতপাথরের নিচেই একটি লাল পাথরের তৈরি সিঁড়ি চলে গিয়েছে এবং নদীমুখ করে থাকা ২২টি ঘরের মাঝে একটি ঘর রয়েছে যেটিকে মন্দিরের প্রবেশকক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সম্রাট শাহজাহান বেশ কঠিনভাবেই এই ঘরের মুখ পাথরের সাহায্যে সিলগালা করে দিয়েছিলেন। মুঘল অন্য কোন নিদর্শনের মাঝে এমন কোন স্থাপনা পাওয়া যায় না, যেখানে এমন চাতুরীর আশ্রয় নেয়া হয়েছিল। তবে এটি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সত্যিই কি শাহজাহান এই কক্ষের সিলগালা করেছিলেন, নাকি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র?

৪) ক্যালিগ্রাফি বনাম বৈদিক চিত্রকলাঃ


মহান আল্লাহ তাআলা’র ৯৯টি নামের অসাধারণ এক ক্যালিগ্রাফির সমন্বয় রয়েছে তাজমহলের অভ্যন্তরে। প্রতি বছর যারা তাজমহল দেখতে আসেন, তারা এই ক্যালিগ্রাফি দেখে চমৎকৃত হন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাজমহল কি আসলে একটি কবর, নাকি ভালোবাসার নিদর্শন নাকি অজানা এক রহস্যের ভান্ডার? তাজমহলের ভেতরে পাওয়া ২২টি কক্ষের ভেতর বৈদিক চিত্রকলার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। শাহজাহান এই চিত্রকলাগুলোকে প্লাস্টার করে আবৃত করারও কোন প্রয়োজন মনে করেন নি। তিনি স্রেফ সিলগালা করে কক্ষগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। তাহলে এই ২২টি কক্ষের প্রয়োজন আসলে কি ছিল? জনগণের নিকট হতে এদের লুকানোরই বা দরকার ছিল কি? এমন সব নানা প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে রহস্যসন্ধানীরা।

৫) শ্বেতপাথরের নিচের করিডরটি আসলে কি?


এবার ২২টি কক্ষের থেকে আমরা একটু বাইরে যাই। শ্বেতপাথরের নিচে থাকা লাল পাথরের নিচে যে গোপন সিঁড়িটি গিয়েছে, তার করিডরটি প্রায় ১২ফিট প্রশস্ত ও ৩০০ফিট লম্বা। এর চারপাশে আমরা যে মোটা থামগুলো দেখতে পাই, এই থামগুলো তৈরি করা হয়েছে বৈদিক নকশার সাহায্যে। এই করিডরটিকে গ্রাস করেছে নিকষ কালো আঁধার কারণ, সম্রাট শাহজাহান এর চারপাশে থাকা ভেন্টিলেটরগুলোকেও সিল করে দিয়েছেন যাতে কোন আলো বাতাস এর ভেতর আসতে না পারে।

অনেক অনেক প্রশ্ন, অনেক অনেক রহস্য। কবে এগুলোর সমাধান মিলবে, তা কেবল অপেক্ষা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। তবে এ কথা ঠিক, নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব থাকলেও মানুষ এখনো তাজমহলকে দেখে থাকে সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে। সে সাথে উন্মোচিত হোক এই রহস্যগুলোর সমাধান।

আজ আর নয়। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।