চতুর্থ শিল্প বিপ্লবঃ আমরা কি প্রস্তুত? - প্রিয়লেখা

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবঃ আমরা কি প্রস্তুত?

CIT-Inst
Published: March 2, 2021

স্মার্টফোনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, #কৃত্রিম_বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, Robotics, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ এমন নানা কিছু নিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এই বিপ্লব সামনে রেখে আশা, স্বপ্ন এবং উদ্বেগ সবই আছে মানুষের মনে। নতুন প্রযুক্তি যেমন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে ঠিক তেমনি সামনে আনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। যখন কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয় তখন অনেক মানুষ ভেবেছিল যে এটি মানুষের চাকরির বাজার সংকুচিত করবে। তবে বাস্তবে কি তাই সত্য হয়েছে?
#কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ার মধ্যদিয়ে মানব সভ্যতা গত তিন শতাব্দীতে তিনটি শিল্প বিপ্লব পেরিয়েছে।
প্রতিটি বিপ্লব সময়ের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত নতুন মানদণ্ডের নিরিখে পুরো বিশ্বে পরিবর্তন এনেছে। যেমন প্রথম শিল্প বিপ্লবে বাষ্প ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া বদলে যায়। ফলস্বরূপ, উৎপাদনের একটি বড় অংশ মানুষের শ্রমের পরিবর্তে কল-কারখানায় মেশিন দ্বারা সম্পাদিত হয়। এটি ছিল #শিল্পায়নের ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট।
উনিশ শতকে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের আবির্ভাবের সাথে সংঘটিত হয়েছিল দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব। এই সময়কালে, সারের আবিষ্কার কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনে, কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
তৃতীয় শিল্প বিপ্লব ১৯৬৯ সালে পারমাণবিক শক্তির মতো নতুন শক্তির উৎস আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছিল। কম্পিউটার, সেমি-কন্ডাক্টর এবং মাইক্রোচিপস এই সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে অগ্রগতি করেছে। ইন্টারনেট এবং ইমেলের ফলে একটি নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়। চিকিত্সা প্রযুক্তি এবং ওষুধ শিল্পও এ সময় এগিয়েছিল। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের প্রধান সুবিধাভোগী হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন এবং ভারতের মত পরাক্রমশালী দেশ।
“ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম” -এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস সোয়াব #চতুর্থ_শিল্প_বিপ্লবের বিষয়টি প্রথম সামনে এনেছেন, যা বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে দেশে প্রচুর সেমিনার আর গোলটেবিল বৈঠক হচ্ছে।
তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্য থাকায়, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (#AI), #5G, ন্যানো টেকনোলজি, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির সাথে মানব সভ্যতাকে পরিচয় করাবে, ফলে শিল্প অগ্রগতির ক্ষেত্রে আসবে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
অক্সফোর্ডের এক গবেষণা অনুযায়ী, রোবট দখল করবে প্রায় ২০ মিলিয়ন যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত কাজ। একইসাথে ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়বে বহুগুণে।
ব্যবসা-বাণিজ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হবে এবং ই-বাণিজ্য আরও জনপ্রিয় হবে। ফলস্বরূপ, পুরাতন বিপণন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবে এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের চাকরির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। করোনাকালে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর যে প্রসার হয়েছে, তা আর সংকুচিত হবে না, বরং তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সাথে বৃদ্ধি পাবে।
প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের কারণে আগামি ১০ বছরে অনেক পেশা হারিয়ে যেতে পারে, সঙ্গে অবশ্য যোগ হবে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র।
McKinsey -এর তথ্য অনুসারে, রোবোটিকস এবং এআই ব্যবহারের কারণে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মানুষ তাদের চাকরি হারাবে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৩৩ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে প্রযুক্তি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী যারা কেবল দক্ষতা অর্জন করবেন তারাই শুধু এসব চাকরির সুযোগ পাবেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে করোনার ধাক্কা সামলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ কি দেশের যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং আইটি খাতে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত?
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে আমরা যদি লাভবান হতে চাই, তাহলে আমাদের দেশকে প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। আর দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে পারলেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে আমরা সঠিকভাবে এগোতে পারবো। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়।