ঘুম আসছে না, তবে জানুন 'ঘুম' আনার কারিকুরি - প্রিয়লেখা

ঘুম আসছে না, তবে জানুন ‘ঘুম’ আনার কারিকুরি

Naseeb Ur Rahman
Published: October 1, 2017

“কপার বালিশ, পা ম্যাসেজ, “মানসিক প্রশান্তি” নিয়ম মাফিক ডায়েট রুটিন এবং আপনার বেডরুমের নেই বিন্দুমাত্র আলো (এমনকি একটি মুঠোফোনের পর্দাও যেখানে নির্জীব)। ভাবুন তো পাঠক কি প্রশান্তি? সুস্থ থাকতে  নিঃশ্বাসের সুস্থতার সাথে দু’চোখে বয়ে আনা নিশ্চিত ও প্রশান্তির ঘুম ভীষণ প্রয়োজন। এরকম নিরবছিন্ন ঘুমকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন Nocturnal Wellness: Clean Sleeping.”

যারা ভুগছেন ‘ইনসমনিয়ায়’ তারাই জানেন রাতে ঘুম না আসা কি দুঃসহ। আবার আমাদের মধ্যে তো অনেকে ইচ্ছে করেই রাতে ঘুমাই না। কাজ করছি!!! জানতে চান কি কাজ? আসলে আমি ফ্রীল্যান্সিং করি। কারো জন্য ডিজাইন করছি, কারো জন্য আর্টিকেল লিখছি। এটা আমার পেশা তাই আমি রাত জেগে রই। আমার আজ রয়েছে অফিসে নাইট ডিউটি আমি গ্লোবাল ফার্মে চাকরি করি, আমার রাত যে আমার বস এর সকাল! এসব না হয় মানা গেলো, কিন্তু যখন আপনার পাশে থাকা ছোট ভাইটি বলে, আমি রাতে পড়ি। অথবা রাতে আমার ঘুম হয় না। ব্যাপারটি খানিকটা দুশ্চিন্তার হয়ে দাঁড়ায় বই কি।

সত্যি কথা বলতে যারা উদ্যেক্তা, নতুন পেশাজীবী চাকুরী প্রত্যাশী অথবা পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষেত্রে ঘুম না আসা স্বাভাবিক। কিন্তু তা হতে পারে ১দিন- বা ২দিন। কিন্তু এই ঘুম না আসাটাই যদি হয়ে উঠে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। তখন আপনি ভুগবেনঃ

  • ওজন বেড়ে যাবার সমস্যায় যাকে বলা হয় Obesity
  • হজম জনিত সমস্যায়
  • ডায়াবেটিসে
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ায়
  • হৃদরোগ ও হাইপারটেনশনে
  • মুড ডিসঅর্ডারে 
  • শারীরিক কার্যক্ষমতা হ্রাসে
  • মনোযোগ সমস্যায়

উপরে তো মাত্র কিছু উদাহরণ দিলাম তাও শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যার। এবার আসুন মানসিক ও সামাজিক সমস্যার দিকেঃ

  • আপনার ব্যবহার ও কথা বার্তায় সৃষ্টি হচ্ছে সম্পর্কে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি।
  • মনোযোগের অভাবে আপনার কাজে এত ভুল বের হবে যে আপনি চাকরিজীবী হন কিংবা পরীক্ষার্থী আপনি উভয় ক্ষেত্রেই পাবেন এক বিশাল ০ (শূন্য)।

নিবিড় ঘুম আপনার কি কি উপকার করতে পারে চলুন একটু জেনে নিইঃ

  • আপনি যদি সৃজনশীল পেশায় যুক্ত থাকেন তবে একটি নির্বিঘ্ন ঘুম আপনার সমস্যার সমাধানে নতুন এক দিগন্ত খুলে দিবে।
  • জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি গবেষণার মাধ্যমে প্রকাশ করেন যখন কোন ব্যক্তি ঘুমায় তখন তার মস্তিস্কের ডানদিকের হেমিস্ফায়ার অনবরত উদ্দীপ্ত হতে থাকে যা নতুন নতুন আইডিয়ার উদ্ভব ঘটায়।

নিবিড়- প্রশান্তির ঘুম আনতে যা আপনার সহায়ক হতে পারেঃ

নিউইয়র্কের Wellness Evangelist ডঃ লিপম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশান্তির ঘুম আনতে যা প্রয়োজনঃ

  • রুটিন করে প্রতি রাতে তিন মিনিটের জন্য নিজের পা ও পায়ের আঙ্গুল গুলো মেসেজ করুন।
  • যোগ ব্যায়াম ও ধ্যানের মাধ্যমেও মনের প্রশান্তি আনতে পারেন।
  • মনকে শান্ত করতে যোগ নিদ্রা বা Psychic Sleep ভীষণ কার্যকর।
  • তামার অক্সাইড ফাইবার যুক্ত বালিশও ঘুম আনতেও সহায়তা করে।

এছাড়াও নিবিড় প্রশান্তির ঘুম আনতে পারে নিচের প্রস্তুতিগুলোঃ

  • সুস্থ সুন্দর একটি পরিবেশ আপনার ঘুমকে করে আরও প্রানবন্ত। ডঃ লিপম্যান এর ভাষ্যমতে আপনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন আর ঘুম  চলে আসলো, ব্যপারটি কিন্তু মোটেও তেমন নয়। আপনার ঘুমের পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। যেমনঃ ঘুমের ১ঘন্টা ঘরের লাইট নিভিয়ে দিলেন, ঘুমের আগে হালকা উষ্ণ পানিতে গোসল করে নিলেন, হাল্কা কোন স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলেন, শুনলেন সফট মিউজিক বা প্রিয় গানের সুর। দেখবেন কখন যেন ঘুমের কোলে ঢলে পরেছেন।
  • আধুনিক বেডরুমে “আলোক দূষণ” একটি খুব বাস্তব বিষয়। আপনার বেডরুমের চারিদিকে নজর রাখুন।

ডাঃ লিপম্যান বলেন,” যে এলার্ম ঘড়ি আপনি দেখছেন সেখানে উজ্জ্বল লাল আলো আপনার মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে ; আপনার ফোনে চার্জিং নির্দেশক আলো বা আপনার কম্পিউটারে মনিটর প্রতিটি নিজের অজান্তেই আপনাকে বিরক্ত করছে এবং আপনার গভীর ঘুমের ব্যঘাত ঘটছে। “

  • একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে iPhones এবং ল্যাপটপ থেকে হালকা মেল্যাটনিন- এর নিঃসরণ হয় যা আমাদের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন হ্রাস করে। ভালো ভাবে  ঘুমাতে ঘড়ি দৃষ্টির আড়ালে রাখুন, চোখে যেন কোন ধরনের আলোক রশ্মি না পড়ে, ব্যবহার করতে পারেন Eye Mask.
  • বর্তমানে যে শব্দটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে তা হলো, “ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি”। আপনার ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি চেক করুন। আপনার  নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন কিছু উপকারী টিপস দিয়েছে। যেমন : দিনে ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না, ঘুমনোর কাছাকাছি সময় ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতেপারে এমন খাবার যেমন, মসলাযুক্ত খাবার,পানীয় এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • আরাম ও স্বস্তিদায়ক পোশাক আপনার গভীর ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঘুমের আগে নরম সুতি কাপড় পরিধান করতে পারেন।
স্মার্ট গ্যাজেটঃ টাইনি স্লিপ চেকার

 

  • বর্তমান সময় ডিজিটাল অ্যাাপস ও গেজেট রয়েছে যা ঘুম আনতে খুবই কার্যকর। ব্যপারটি বিস্ময়কর বটে। যেমনঃ স্মার্ট পাজামা, স্মার্ট ব্রেথিং, স্মার্ট মিউজিক, স্মার্ট পিলো, টাইনি স্লিপ ট্র্যাকার, স্মার্ট ম্যাট্রেস, স্মার্ট ইলেক্ট্রো স্ট্র্যাপ ইত্যাদি।

নেই তো সেই আগের দিন যে ঘুম আনতে ভেড়া গুনে নিন। সুস্থ ঘুম আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ব্যস্ততার মাঝেও ঘুমকে প্রাধান্য দিন। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন ও প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।

লেখাটি যেখান হতে রূপান্তরিত।

ছবিঃ ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত।