ঘুমের অসুখঃ আক্রান্ত হতে পারেন আপনিও (পর্ব ৩) - প্রিয়লেখা

ঘুমের অসুখঃ আক্রান্ত হতে পারেন আপনিও (পর্ব ৩)

ahnafratul
Published: August 17, 2017

আগের দুটো পর্বে আপনাদের বলেছিলাম ঘুমের চারটি অসুখ সম্পর্কে। আসলে প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবন পার করবার পর রাতে যদি একটু শান্তিতে আমাদের ঘুম না হয়, তাহলে মেজাজটা বেশ খিঁচরে যায় বৈকি! অনেকে আবার বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হয়ে থাকেন ঘুমের এই অসুখকে তাড়ানোর জন্য। একটু হেলাফেলা করলেই ঘুম থেকে নানা ধরণের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে আপনাকে এবং একই সাথে ভুগতে হতে পারে ঘুমের অসুখে।
সারাদিন নানা কাজ করবার পর আমাদের প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। আর একটু ঘুমের চাইতে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম আর কিছুই হতে পারে না। কিন্তু এই ঘুম নিয়েও যদি মানুষের মাঝে রোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে কেমন হবে? গত দুই পর্বে আপনাদের এই ধরণের চারটি রোগের কথা বলা হয়েছিল। আজ দেয়া হল এর তৃতীয় পর্বঃ

৫) স্লিপি হ্যালুসিনেশনঃ

ঘুমের মাঝে আমরা নানা ধরণের স্বপ্ন দেখে থাকি। অনেকে বলেন, সারাদিন কর্মব্যস্ততায় থাকার কারণে সারাদিন অধরা ইচ্ছেগুলো আমাদের কাছে স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়। মজার ব্যাপার কি জানেন? আপনি যত বড় স্বপ্নই দেখে থাকুন না কেন, তার স্থায়িত্বকাল মাত্র ৬ সেকেন্ড! কিন্তু আপনার সারারাত যদি ঘুমই না হয়? আধোঘুমে রাত কাটিয়ে দেন? তাহলে কি হবে? স্লিপি হ্যালুসিনেশন হচ্ছে ঘুমের এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনি তন্দ্রালু একটি ভাব থেকে আস্তে আস্তে ঘুমের পর্যায়ে যাচ্ছেন। এমন সময় মানুষ নানা কিছু দেখে থাকে। মাথার কাছে কেউ ডাকছে, একটি তেলাপোকা এই যেন শরীরে এসে বসল, ছায়াশ্বাপদের মত কে যেন হেঁটে যাচ্ছে- এমন নানা কিছু মানুষ দেখতে পায় এমন অবস্থায় চলে গেলে।

৬)রাতের আতঙ্ক বা নাইট টেররঃ


চিৎকার, দেয়ালে মাথা ঠুকে দেয়া, নড়াচড়া করা পাগলের মত- এই সব কিছুই নাইট টেরর রোগের অপর নাম। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যদি কেউ যান তাহলে ওপরের তিনটি অভিজ্ঞতাই বা যে কোন একটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়।
সাধারণত বাচ্চাদের মাঝে এই ধরণের রোগটি বেশি দেখা যায়। আগেই আপনাদের বলা হয়েছে আমাদের ঘুম হয় দুই ধরণের। একটি হচ্ছে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ ও অন্যটি হচ্ছে নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। নাইট টেরর রোগটি সাধারণত নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্টের সময় ঘটে থাকে। এই সময় আক্রান্ত ব্যক্তি সারারাত ঘুমাতে পারে না। তার মাথায় ঝি ঝি পোকার ডাকের মত এক ধরণের ডাক চলতে থাকে। সে মাথা চেপে ধরে এবং মাঝে মাঝে দেয়ালে নিজের মাথা ঠোকা শুরু করে দেয়। নারকীয় এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ১০-১৫ মিনিট যাবার পর ব্যক্তি অচিরেই ঘুমিয়ে পড়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে পরদিন সকালে কি হয়েছিল আগের রাতে, সে কিছুই মনে করতে পারে না।

আজ আর নয়। শরীর সুস্থ রাখুন, নিয়ম করে ঘুমোন। প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন।