গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য উন্মুক্ত ৮ টি সোর্স টুল - প্রিয়লেখা

গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য উন্মুক্ত ৮ টি সোর্স টুল

Afreen Houqe
Published: February 14, 2020

গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য উন্মুক্ত আটটি সোর্স

বর্তমান সময়ে আমরা তরিৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি প্রযুক্তির সাথে, বলা যায় এ যুগে আমরা প্রযুক্তি নির্ভর। আর সেকারণেই আমাদের শুধু মাত্র কারিগরি শিক্ষা জানলেই হবেনা, প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কার এর ব্যবহার, প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা সহ সব বিষয়েই আমাদের অভিজ্ঞ হতে হবে, বিশেষ করে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে গ্রাফিক্স সেক্টরে নিজেদের জায়গা করে নেয়ার জন্য এর বিকল্প নেই।

একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার তার কাজের অবস্থান থেকে নিজেকে আরও সফল করতে তার প্রতিভা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন সময় গ্রাফিক্স টুল গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে আর সেটি কখনো কখনো ব্যায়বহুল হয়ে যায় তার জন্য। আর সেক্ষেত্রে আপনার উদ্দেশ্য সাধন করে আপনার প্রতিভা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারবেন কিছু ফ্রি ওপেন সোর্স টুলের মাধ্যমে। যদিও ফ্রি সোর্স সফটওয়্যার প্রিমিয়াম ব্যবহার সমতার হারে বা সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কখনোই সমান সুবিধা দেয়না। কিন্তু তারপরও আপনি চাইলেই আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। অবশ্য ফ্রি সোর্স টুলগুলো বেশিরভাগ সময় ব্যাসিক বিশিষ্টই হয়ে থাকে, তবুও তারা চেষ্টা করে যাতে খুব সামান্য গোছানো অংশটুকু থেকে একজন ডিজাইনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেটার প্রয়োগ করতে পারে। অন্যদিকে ফ্রি সোর্স টুলের গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ডিজাইনারদের সাহায্য করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে, সুতরাং আপনি কোথাও কাজ করতে করতে অপ্রত্যাশিত ভাবে বাধা গ্রস্থ হলে যে কোন সময় সাহায্য পাবেন।

২০২০ সালে গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য অন্যতম ফ্রি ওপেন টুল

বহু সংখ্যক ফ্রি অ্যাপ এবং সফটওয়্যার আছে গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য।

‘ওপেন সোর্স’ অর্থাৎ খুব সহজেই আপনি এই টুল গুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনাদের সাথে আমরা গ্রাফিক ডিজাইনের কিছু ফ্রি ওপেন সোর্স নিয়ে আলোচনা করবো যা কিনা যে কেউ চাইলেই ব্যবহার করতে পারবেন।

স্বাভাবিক আপনাকে ইন্সটল পক্রিয়া অনুসরণ করেই ফ্রি টুল গুলোর সব সুযোগ সুবিধা গুলো নিতে হবে।

এরমধ্যে কিছু টুল Linux distros আগেই ইন্সটল করা থাকে যেগুলো সাধারণত Ubuntu, Fedora, Mint ,CentOS এ ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঙ্কস্কেপ (inkscape)

 

গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য  ইঙ্কস্কেপ খুবই কার্যকরী ফ্রি টুল অ্যাপ যেটি মূলত ভেক্টর গ্রাফিক এডিটিং এর কাজ করে থাকে। এটি অনেকটা এডব ইলাস্ট্রেটর, যারা এক্স, ফ্রি হ্যান্ড, এবং করেল ড্র সদৃশ।

যেমন অনেক ফ্রি ওপেন সোর্স ভেক্টর ডিজাইন সফটওয়্যার, যেগুলো মাত্রা মাপ অনুযায়ী ব্যবহার হয়ে থাকে।  একটি ওপেন সোর্স XML  যেটির মান W3C পর্যন্ত, যেটি প্রাইমারি লেভেলের ফাইল।

ইঙ্কস্কেপ ভেক্টর এসজিভি উপাদান নিয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে সহায়ক এবং কার্যকরী।

এটির সাহায্যে আলফা ব্ল্যানডিং , কমপ্লেক্স পাথ অপারেশন, বিটম্যাপ ট্রেস,নোট এডিট, ক্লোন অবজেক্ট, অগোছালো এডব ইলাস্ট্রেটর ফাইল ইম্পপোর্ট , অন্যান্য অনেক কাজে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজকে সহজ করে।

ইঙ্কস্কেপ কিছু লক্ষণীয় ফিচার

ড্রয়িং টুলঃ ফ্রি হ্যান্ড ড্রয়িং এর জন্য এখানে পেন্সিল টুল আছে, সোজা এবং বাঁকা লাইন করবার জন্য আছে পেন টুল, এবং এর সাথে ক্যালিগ্রাফি করার জন্য বিভিন্ন স্ট্রোক থাকছে।

শেপ টুলঃ ড্রয়িং করার জন্য আপনি বিভিন্ন শেপ পাবেন( চারকোনা, গোল আকৃতি , স্টার ইত্যাদি)

স্টাইলিং অবজেক্টঃ

ইজ অফ ডকুমেন্টেশন (নথিপত্রের সহজতা)

টেক্সট টুলঃ সম্পূর্ণ ক্যনভাসে অনেক ভাবে টেক্সট এডিট করতে পারবেন

এম্বেড বিটম্যাপসঃ সিলেক্ট করা অবজেক্ট কে এম্বেড করতে পারবেন

ক্লোনিং টুলঃ ক্লোন অরগানাইজ এরেঞ্জ করার জন্য ক্লোনিং টুল ব্যবহার করতে পারবেন।

ট্রান্সফরমেশন টুলঃ এই টুলের মাধ্যমে একজন ডিজাইনার তার ডিজাইন মুভ রোটেট স্কেল করতে পারবেন যতবার খুশি।

জেড অর্ডার অপারেশনঃ এটি ডিজাইনকে  উন্নত মান বাড়াতে,উথাপন করতে সহায়তা করে থাকে।

গ্রুপিং অবজেক্টঃ

লেয়ারিং তুলঃ এটির মাধ্যমে ডিজাইনার তার লেয়ার গুলো গুছিয়ে, ইচ্ছানুযায়ী লোক বা হাইড করতে পারবে ।

ডিসট্রিবিউশন এবং এলাইমেনট কমান্ডঃ ইঙ্কস্পেস অনেক ধরনের ফাইল ফরম্যাট সাপোর্ট করে থাকে তার মধ্যে আছে বহু ধরনের কালার মোড, থ্রিডি ফিচার ইত্যাদি।

 

আর এটি গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য খুবই কার্যকরী একটি ওপেন সোর্স ফাইল যা খুব সহজেই ব্যবহার করা যায় কোন ঝামেলা ছাড়াই।

ক্রিটা (krita)

ক্রিটা একটি দারুণ ফ্রি ওপেন সোর্স গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য যেটি মূলত ব্যবহার করা হয় ডিজিটাল ইলাস্ট্রেটর এর কাজের জন্য।

প্রধানত এটি বিভিএক্স সেক্টর এর জন্য কমিক বই, ইলাস্ট্রেটর, কনসেপ্ট আর্টিস্ট, ম্যাট এবং টেক্সার করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Linux distros, macOS, and Windows অপারেশন সিস্টেম সাপোর্ট এ ব্যাবহার উপযোগী এটি।

১৯৯৯ প্রতিষ্ঠিত ক্রিটা এখন বিশাল বিস্তার ঘটিয়েছে তাদের ফিচার এর মাধ্যমে।

এই সফটওয়্যার এ একই সাথে একজন দক্ষ কিংবা অনভিজ্ঞ ডিজাইনার অধিক সংখ্যক টেমপ্লেটস এমনকি ইনোভ্যাটিভ ফিচার পেয়ে যাবেন।

এটির সাথে ফুল স্কোপ ইলাস্ট্রেটর ব্রাশ পাবেন এক সেট, সে সাথে থাকছে পেইন্টিং এসিসট্যান্স ও এডভ্যান্স ফিল্টার সুবিধা।

ক্রিটার উল্লেখযোগ্য ব্রাশ দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা যে কোন লাইনকে স্মুথ করতে পারে,টেক্সার, গ্রাফিক প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করতে পারে এর সফটওয়্যার র‍্যাপ মোডের ব্যবহার করে। আর পপ আপ প্যালেট দিয়ে যে কোন রং নির্বাচনও করতে পারে সহজে।

তাছাড়াও ক্রিটা অ্যাপ একজন গ্রাফিক ডিজাইনার কে যে কোন শেপ বানাতে বা পয়েন্ট রিমুভ করতেও সাহায্য করে।

লেয়ার মাস্ক

লেয়ার ম্যানেজমেন্ট

পিএসডি সাপোর্ট

ব্রাশ ইঞ্জিন্স

এইচ ডি আর সাপোর্ট

রিসোর্স ম্যানেজার

ব্লেন্ডার (Blender)

 

ওপেন সোর্স কম্পিউটার গ্রাফিক্স থ্রিডি সফটওয়্যার ডিজাইন এর জন্য ব্লেন্ডার অন্যতম ।

সব ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট করে ব্লেন্ডার, এটি দিয়ে ডিজাইন করা যায় এনিমেটেড ফিল্মস, ইন্টারএকটিভ থ্রিডি ভিজুয়ালস এফেক্টের কাজ কোন ঝামেলা ছাড়াই। ব্লেন্ডারের ইঞ্জিনিয়াররা প্রতিনিয়ত তাদের টুলস এবং ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করতে থাকে নতুনত্ব ধরে রাখার জন্য। ব্লেন্ডার কৃতিত্বের সাথে ব্যাপক আকারে ডিজাইনারদের ফটো রিয়ালাসটীক রেনডারিং, গেম ক্রিয়েশন, স্কাল্পিং ব্রাশের ব্যবহার, কম্পসিটিং ফাস্ট রিগিং এর কাজ করে থাকে। বিখ্যাত এনিমেশন আর্টিস্টরা এনিমেশন, টিভি শো ,এমনকি  শর্ট এবং ফিচার ফিল্ম তৈরি করে থাকে ব্লেন্ডার ব্যবহার করে।

আপনি যদি নতুন ব্যবহারকারী হন ব্লেন্ডার ইউজার ইন্টারফেস একটু জটিল, কিন্তু আপনি ডিজাইন করতে করতে এটি ব্যবহার শিখে যাবেন আর সহজ ও হয়ে যাবে।

ব্যাক্তিগত অনুভূতি দেয়ার জন্য ব্লেন্ডার একটি পরিবর্তনশীল এবং প্রসারিত ফিচার দিয়ে থাকে।

গিম্প (Gimp)

গিম্প (জিএনইউ ইমেজ ম্যানুপুল্যাশন প্রোগ্রাম) একটি ফ্রি ইমারসিভ ইমেজ এডিটিং সোর্স এটির কাজ মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনে ফটো এডিটিং করা।

GNU ,Windows, macOS, best Linux distros সিস্টেম সাপোর্ট করে এই সোর্স টি । এজন্য এটি দামি এবং বিখ্যাতও বটে। গিম্প একটি হাই কোয়ালিটি গ্রাফিক স্যুট এবং ফটো এডিটিং ফ্রেমওয়ার্ক যেটি স্ক্রিপটেড ইমেজ ডিরেকশনের জন্য কাজ করে থাকে । আর এটি Perl, Python, C, এবং C++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর সমন্বয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এর রয়েছে ব্যপক ব্যবহারিক কার্যকারিতা, যার ফলে নতুন ডিজাইনার বা এডভ্যান্স ডিজাইনার যারা ইমেজ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ করে থাকেন তারা এডব ফটোশপের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করতে পারেন। এর লে আউট এবং ইমেজ এডিটিং ফিচার খুবই বিস্তৃত এবং বাস্তবধর্মী অনেকটা ফটোশপ এর মতই।

গিম্পে আপনি খুব সহজেই পেইন্টিং, সিলেকশন, ক্লোনিং ,কালার কারেকশন, ফিচারগুলো পেয়ে যাবেন।

দিন দিন গিম্প তাদের ফিচার গুলোতে হাই কোয়ালিটি হার্ডওয়্যার সাপোর্ট, হাই কোয়ালিটি ফটো ম্যানুপুলেশন এবং ডিজিটাল রিটাচিং এর কাজকে প্রাধান্য দিয়ে এর ফিচারগুলোকে আরও উন্নত করছে।

যে ফিচারগুলো খুব বেশী পরিমাণে দেখা যায় গিম্পে সেগুলো হলও

অধিক পরিমাণে ফিলটার, লেয়ার মাস্ক, ব্রাশ

এডভ্যান্স ফটো এডিটিং ফিচার

কাসটমাইজ করা ট্রান্সফরমেশন ইমেজ, সহজ ইন্সপায়ার মূলক ডিজাইন

বহুসংখ্যক গ্রাফিক ডিজাইন এলিমেনট, ইন্টারফেস কম্পন্যানট এবং লোগো

টপ লাইনে কালার ম্যানেজমেন্ট

প্লাগ ইন ফাকশন এর মাধ্যমে থার্ড পার্টির প্রসার ঘটানো

গ্রাভিট ডিজাইনার (Gravit designer)

 

করেল ড্র এর ক্রিয়েটরদের ওপেন সোর্স ভেক্টর ডিজাইন টুল কিট এটি, গ্রাভিট ডিজাইন ফুল ফ্রি একটি ফিচার।

দুঃখজনক এই অ্যাপটি Windows, Linux, macOS সিস্টেম সাপোর্ট করেনা।

তবে এই অ্যাপটি মাল্টি পারপাস এডিটিং করে থাকে যেমন, গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রজেক্ট আইকন, স্ক্রিন ডিজাইন,ইলাস্ট্রেটর, এনিমেশন, প্রেজেনটেশন যেটি একজন ডিজানাইরের ব্যবহার এর ক্ষেত্রে সহজলভ্য হতে পারে। এই অ্যাপ প্যাকে আপনি পেয়ে যাবেন হাই এন্ড ভেক্টর ডিজাইন, পটেনট টেক্সট ইঞ্জিন, নন  ডিসটরাকটিভ বলিন লুপ্স , ব্লেনডিং ইন্টারগেশন, পাথ গ্রাফস, মাল্টিপ্যাল ফিল মোড, এবং নাইফ টুল। আর ডিজাইনরা যাতে খুব সহজে নিজেদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী তাদের ফটো এডিটিং ডিজাইন এর সব কাজ করতে পারে তার জন্য রাখা হয়েছে দারুণ একটি ইন্টারফেস।

যে বিষয়গুলো শনাক্ত করা যায় গ্র্যাভিট ডিজাইনে

স্পষ্ট এক্সপোর্ট ডিজাইন উপস্থাপন।

একটি দৃঢ় গঠনমূলক উপায়ে সিম্বল, লেয়ার নিয়ে নিজের কন্টেন্ট কে শক্ত ভাবে উপস্থাপন করা।

পিক্সেল পারফেক্ট লেআউট ডিজাইন এর মাধ্যমে গ্রিড, অটো লেআউট ও এঙ্কর ফিচার করা।

মাল্টিপ্যাল ডিজাইন স্টাইল এর সুবাদে থাকছে ব্লেনডিং মোড, মাল্টিপ্যাল বর্ডার ও ফিল, কমপাউনড এফেক্ট, স্টাইল শেয়ার করার সুযোগ।

টেক্সট ইঞ্জিন ফিচার করে হ্যান্ড ক্রাফটেড টেক্সট, ওয়েব ফন্টস, টেক্সট অন পাথ, এবং অন্যান্য টেক্সট স্টাইল।

এক্সপোর্ট ফিচার এর মাধ্যমে হাই গ্রেড SVGs, PDF এবং ইমেজ মাল্টিপ্যাল এসেট ও স্লাইস এক্সপোর্ট এর সুবিধা।

আরও থাকছে ইপিএস, স্কেচ ইমপোর্ট ডিজাইন ও ইমেজ ট্রান্সফর্ম, ডিজাইন টেম্পলেট প্রেজেনটেশন এর মত ফিচার ।

এসভিজি এডিট (SVG edit)

 

Scalable Vector Graphics (SVG) এটি ওপেন সোর্স ব্রাউজার যেটি গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা মূলত ব্যবহার করে থাকে এডিট বা তাদের ডিজাইন রিপ্রডিউস করতে এসজিভি ফাইল ( ভেক্টর ড্রইং) এর জন্য।

এটি ব্যবহারে কোন সার্ভার সাইড প্রসেসিং এর প্রয়োজন হয়না কারণ এটি সম্পূর্ণ ভাবে HTML5, CSS3, JavaScript এ তৈরি।

যদিও চাইলে যে কোন ডিজাইনার এতে পরিবর্তন আনতে পারবেন, এডিট ডকুমেন্ট বা ডাউনলোড করে এর প্যারেন্ট কোড মডিফাই করে নিজেদের মত সাজাতে পারবেন।

এসজিবি গ্রাফিক ব্রাউজার প্ল্যাটফর্মে  ভেক্টর গ্রাফিক্স এর এমন একটি মাধ্যম যেখানে যেটির সাথে অন্য কোন সফটওয়্যার ইন্সটলেশন এর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।

এসজিভির দুটি ইন্টারফেস রয়েছে একটি হলও এসজিভি ক্যানভাস (svgcanvas.js) আর অন্যটি এসভিজি এডিটর কমপোন্যানটস (svg-editor.js components) যার কাজ ম্যানুয়ালি ভেক্টর গ্রাফিক জেনারেট করা।

লক্ষণীয় বিষয় এর ফাকশানাল এক্সটেনশন খুবই সীমিত তবুও আশ্চর্যজনক ভাবে এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হিসেবে জনপ্রিয় ভেক্টর এডিটর হিসেবে।

তবে এসভিজি এডিট কিন্তু বেস্ট চয়েস হওয়া উচিত না ডিজাইনারদের কাছে, বিশেষ করে যারা এর সাথে আগে থেকে পরিচিত নন।

ফন্টফ্রগ (fontforge)

 

ফন্টফ্রগ খুবই লাইটওয়েট ফ্রি ওপেন সোর্স টুল যেটি গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ফন্ট এডিটিং এর জন্য ব্যবহার করে থাকে।

ফন্ট তৈরির জন্য ফন্টফ্রগ ফ্রি টাইপ রেনডারিং সুবিধা দিয়ে থাকে। সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে জর্জ উইলিয়ামস এটি ডেভেলপ করেছেন।

বৃহৎআকারে ফন্ট ফরম্যাট সাপোর্ট করে ফন্টফ্রগ আর ডিজাইনারদের কাছে এটি জনপ্রিয় হবার কারণ হলও এটি দিয়ে পারসনালাইজ ওপেন টাইপ, ট্রু টাইপ, পোস্ট স্ক্রিপ্ট ফন্ট ডিজাইন খুব স্মুথলি করা যায়।

পিক্সলার (pixlr)

 

Android এবং iOS বেসড সফটওয়্যার, এটি খুবই জনপ্রিয় ওপেন সোর্স টুল কেননা এটি অনলাইন মোবাইল গ্রাফিক্স ডিজাইনার ফটো এডিটর দের দিচ্ছে অনলাইন ইমেজ এডিটিং সুবিধা।

অসাধারণ বহু ফিচার নিয়ে ( প্রায় ৭০০) এই ফ্রি ওপেন সোর্স টুল, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলও ফ্রি এফেক্টস, ওভার লে,ফিল্টার তাছাড়া প্রয়োজনীয় সব উপকরণ পেয়ে যাবেন এখানে ইমেজ ক্রপিং, রেসটাসাইজ, হোয়াইটনিং টিথ, রেড আই রিডাকশন  সবই থাকছে পিক্সলার এ।

এই অ্যাপে ফিচার এড গুলো $2.99 পে করে চাইলে রিমুভ করা যায় ।

কোন কোন ক্ষেত্রে ডিজাইনারদের এডিশনাল stickers ও বর্ডার এর জন্য পে করা লাগতে পারে।

পিক্সলার ইউজার অনেকটা এডব ফটোশপ সদৃশ হওয়ায় এটি ব্যবহার করা অনেকটা সহজ ।

ফটো এডিটর দের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক, আর ফ্রি টুল হওয়ায় তারা চাইলেই যে কোন টাস্ক ইজিলি করতে পারবে এর মাধ্যমে।

বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউনড, লে আউট, স্পেসিং ব্যবহার করে বৈচিত্র আনা যায় ছবিতে।

অটো ফিচার ব্যবহার করে খুব সহজে ছবির কালার ব্যলেন্স করার সুবিধা।

ডাবল এক্সপজার ব্যবহার করে ডাবল লেয়ারিং এবং ইমেজ ব্লেনড করে ছবিকে আকর্ষণীয় আর ইউনিক করে তোলে।

ছবিকে স্টাইলাইজ করে কালি বা পেন্সিল ড্রয়িং লুক দেয়।

সেলফি ইমেজ এ হোয়াইটনিং টিথ, রেড আই রিডাকশন  এর সুবিধা ব্লেমিশেস রিমুভ টুল ব্যবহার করে।

আরও রয়েছে কালার স্প্যালশ ‘Color Splash’  ও ফোকাল ব্লার   ‘Focal Blur’ ফিচার।

ফটো মোড এডজাস্ট করার জন্য আছে ওভার লে।

ফটো মাস্ক করার জন্য আছে ওভার লে এবং ক্যাপশন সুবিধা।

কোয়ালিটি বজায় রেখে ইমেজ রিসাইজ করার সুবিধা।

সরাসরি পছন্দের ছবি শেয়ার করার সুবিধা ইমেল এর মাধ্যমে অথবা ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম টুইটারে।

কিছু কথা

উন্নত বিশ্বের সাথে মডার্ন প্রযুক্তি আমাদের তাদের উপর নির্ভরশীল করে তুলছে। আর একারণে আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন নতুন ইনভেনশন আপডেট রেখে চলতে হবে। অনেক ডিজাইনার আছেন যারা চাইলেই হয়তো গ্রাফিক্স টুল সফটওয়্যার কিনে সেটি ব্যবহার করার মত অবস্থায় এখনো যেতে পারেননি। আবার অনেকে প্রাথমিক অবস্থায় টাকা খরচ করে টুলস ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। স্বাভবিক ভাবেই তারা চেয়ে থাকেন ফ্রি ওপেন সোর্স পেয়ে গেলে সেটি দিয়ে নিজের কাজগুলো ঝালাই করে নিতে। আর এভারেজ ইউজারদের জন্যই  graphic design software বিভিন্ন ফ্রি ওপেন সোর্স টুল ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে যা খুবই প্রশংসনীয়।

আর আমাদের উদ্দেশ্য ছিলও যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনার তারা যাতে তাদের কাজগুলো সহজ সচ্ছ করে তুলতে পারেন উল্লেখ্য ফ্রি ওপেন টুলগুলো ব্যবহার করে।