খাবার টেবিলে চাই সভ্য আচরণ – প্রিয়লেখা

খাবার টেবিলে চাই সভ্য আচরণ

farzana tasnim
Published: June 22, 2017

রাফিদের বাবা খুবই নিয়মমাফিক চলতে পছন্দ করেন। পোষাক পরিচ্ছদ, কথাবার্তা, চলাফেরায় সবকিছুতেই তিনি চান একজন রুচিশীল মানুষের পরিচয় রাখতে। ঠিক তেমনি খাবার টেবিলেও কিছু আচার আচরণ রয়েছে, যা অন্যদের সামনে নিজেকে ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এ কথাটি তিনি প্রায়ই তার ছেলেদের বলেন কিন্তু হতাশ হতে হয়। এ যুগের ছেলেমেয়েদের মাঝে কিছু “টেবিল ম্যানার” নেই, যা নিতান্তই দরকার।

খাবার সময় হৈ হল্লা, বেশি জোরে কথা বলা কিংবা শব্দ করে খাওয়া এসব কিছুই অন্যদের বিরক্তির উদ্রেক করে।

কাঁটা চামচ, ছুরি ব্যবহার করবেন শব্দ ছাড়াই

আসুন আজ জেনে নিই খাবার টেবিলের কিছু শিষ্টতাঃ

১) হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে বসুন

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে ও থাকতে আমরা সকলেই চাই। বিশেষ করে খাবার গ্রহণ করবার সময় পরিচ্ছন্নতা বিশেষভাবে দরকার। তাই খাবার টেবিলে নিজেকে অন্যের সামনে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে তুলতে হাত মুখ ধুয়ে বসুন।

২) কাঁটা চামচ, ছুরি ব্যবহার করবেন শব্দ ছাড়াই

পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন যে তারা খাবারের সময় হাতের ব্যবহার নেই। আমাদের এই উপমহাদেশের মানুষ খাবার গ্রহণ করবার সময় হাতের ব্যবহার করে। কিন্তু যদি আপনি হাতের চাইতে কাঁটা চামচ কিংবা ছুরির ব্যবহার করেন, তাহলে সেটিও খারাপ কিছু নয়। রেস্টুরেন্ট কিংবা ক্যাফেতে গেলে সাধারণত আমরা কাঁটা চামচ কিংবা ছুরির ব্যবহার করি। এসব ব্যবহার করবার সময় যেন কাঁচের প্লেটের সাথে কোন ধরণের শব্দ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। শব্দ করা ছাড়া খাবার খান। কারণ, আপনার চারপাশে যারা রয়েছে তারা আপনার এই খাবারের শব্দে প্রচন্ড বিরক্ত হয়।

৩) শব্দ করে খাবার গিলবেন না

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন, যারা খাবারের সময় মুখ দিয়ে বিচিত্র ও বীভৎস শব্দ করে খান। এর ফলে খাবারের সাথে সাথে শব্দদূষণও হয় বৈকি! কখনোই এই কাজটি করবেন না। মুখ বন্ধ করে খাবার চিবিয়ে খান।

খাবার টেবিলে যত সম্ভব কম ও আস্তে কথা বলুন

 

৪) খাবার টেবিলে যত সম্ভব কম ও আস্তে কথা বলুন

খাবার টেবিলে কম কথা বলবেন ও আস্তে আস্তে কথা বলবেন। উচ্চঃস্বরে কখনো খাবার টেবিলে কথা বলবেন না, এটি মানুষের মনে বিরক্তির উদ্রেক করে।

৫) ন্যাপকিনের ব্যবহার করুন হাত মুখ মুছতে

এমন অনেক সময় হতেই পারে যে, খাবার খেতে খেতে কাপড়ে কিংবা মুখের কোথাও অসাবধানতাবশত খাবার কিংবা তেল লেগে যেতে পারে। ন্যাপকিনের সাহায্যে নিজেকে পরিষ্কার করে ফেলুন।

৬) মোবাইল বন্ধ রাখুন

খাবার টেবিলে খেতে খেতে কখনো মোবাইলে জরুরী কাজ করবেন না কিংবা মোবাইল ব্যবহার করতে করতে খাবেন না। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা খাবার খেতে খেতে অন্যের সামনে মোবাইল ব্যবহার করতে করতে খাচ্ছি এবং কথা বলছি। এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না কিন্তু অন্যের সামনে আপনার ব্যক্তিত্বকে ভীষণভাবে ছোট করে। তাই খাবার টেবিলে মোবাইল বন্ধ রাখুন কিংবা নিদেনপক্ষে সাইলেন্ট করে রাখুন।

এবার আসা যাক, আপনি যদি কোথাও দাওয়াতে যান কিংবা কারো আমন্ত্রণে যান, তাহলে তার জন্য কেমন ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন, আপনার ব্যবহারই অন্যের কাছে আপনাকে ব্যক্তিত্বময় করে গড়ে তুলতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক এ সম্পর্কে কিছু ছোট টিপসঃ

১) উপহার নিয়ে যান নিমন্ত্রণকারীর বাড়ি

ধরুন, আপনি কারো বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। এটা কোন লিখিত নিয়ম নয় যে, তার জন্য আপনার উপহার নিয়ে যেতেই হবে। তবুও একটি উপহার তৈরি করতে পারে আপনাদের মাঝে একটি অদৃশ্য ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন। তার প্রতি আপনি কতটুকু আন্তরিক, সেটাও প্রকাশ পায় ছোট একটি উপহারের মাধ্যমে।

২) রাঁধুনির প্রশংসা করুন

খুব তো খাওয়া হল! তবে যিনি কষ্ট করে রান্না করেছেন, তার কথা কিন্তু ভুলে যাবেন না। খাওয়া দাওয়ার পর অবশ্যই তাকে ধন্যবাদ দিন কিংবা তার প্রশংসা করুন যিনি আপনার জন্য কষ্ট করে রেঁধেছেন। এতে আপনার আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।

৩) চেষ্টা করুন এঁটো থালাটি ধুয়ে ফেলতে

খাবারের পর তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে উঠে যাবেন না। চেষ্টা করবেন নিজের এঁটো থালাটি ধুয়ে ফেলতে। যিনি বাড়ির কর্তা তিনি অবশ্যই আপনাকে নিরস্ত করবেন তবে আপনি অন্তত তাকে বলুন যে এঁটো থালাবাসন পরিষ্কারে আপনি তাকে সাহায্য করতে চান। এই ছোট ছোট সামান্য আন্তরিকতাগুলোই আপনাকে বড় করে তুলবে অন্যের কাছে।

আজ আর নয়। চেষ্টা করবেন উপরে বর্ণিত নিয়মগুলো মেনে চলতে।

প্রিয়লেখার সাথেই থাকুন, সকলের প্রিয় হয়ে থাকুন।

.