ক্যারিয়ার শেষের আগে সাতটা ব্যক্তিগত পুরষ্কার জয়ের আশা করি: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো - প্রিয়লেখা

ক্যারিয়ার শেষের আগে সাতটা ব্যক্তিগত পুরষ্কার জয়ের আশা করি: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

Sanjoy Basak Partha
Published: October 24, 2017

তাঁর পুরষ্কার পাওয়া নিয়ে আসলে তেমন কোন সন্দেহ ছিল না। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগালের হয়ে অমন সাফল্য পাওয়ার পর রোনালদোর এই পুরষ্কার প্রাপ্যই ছিল। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতাটুকু, সেটাও হয়ে গেল লন্ডনে। টানা দ্বিতীয়বার ‘ফিফা বেস্ট পুরুষ খেলোয়াড়’ পুরষ্কার জেতার পর ফিফা ডট কমকে জানিয়েছেন তাৎক্ষণিক অনুভূতি। প্রিয়লেখার পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হল সাক্ষাৎকারটি।

ফিফা: এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড দেয়া হল, দুইবারই আপনি জিতলেন। কেমন লাগছে আবারো জিতে?

রোনালদো: দারুণ সম্মাননা এটি। সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই আমি এই সুযোগে। আমার ক্যারিয়ারে এটি একটি ল্যান্ডমার্ক। মুহূর্তটির সাথে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে।

ফিফা: এই নিয়ে পঞ্চমবারের মত বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন (ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার, ফিফা ব্যালন ডি অর, ফিফা বেস্ট)। নিজেকে কি এখন ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখবেন?

রোনালদো: পুরষ্কার জিততে পেরে আমি আনন্দিত। তবে আমি শুরু থেকেই যা চেয়েছিলাম, নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারকে সাফল্যমণ্ডিত করতে, আমার মনে হয় এতদিনে সেটা অর্জন করে ফেলেছি। ট্রফি জেতা, সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত পুরষ্কার জেতা ফুটবলারদের একজন হওয়া, অবশ্যই এটি বিশেষ কিছু, গর্ব করার মতই ব্যাপার। এগুলো আমার জীবনের অমূল্য মুহূর্ত, সর্বোচ্চ লেভেলে পারফর্ম করে যেতে যা আমাকে নিয়মিত উৎসাহ জুগিয়ে যায়।

ফিফা: মাদ্রিদের হয়ে ট্রফি জিততেও নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণা যোগায়?

রোনালদো: অবশ্যই। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ সামনেই, এটা এমন একটা ট্রফি যা আমরা জিততে চাই। এরই মধ্যে উয়েফা সুপার কাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে ফেলেছি, ক্লাব বিশ্বকাপও জিততে চাই। রিয়ালের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিততে চাই।

ফিফা: এখন তো পর্তুগালের হয়েও সাফল্য পেতে শুরু করেছেন।

রোনালদো: হ্যাঁ। ২০১৬ ইউরো জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটা আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতাই বাকি ছিল আমার। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, সৌভাগ্যক্রমে সেটিও জেতা হয়ে গেল। এই বছরও ভালো কাটছে। বাছাইপর্বটা কঠিন হয়ে উঠেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও উতরাতে পেরেছি আমরা। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ব্যাকরুম স্টাফ- স্কোয়াডের প্রত্যেকেই জানত সর্বোচ্চ সিরিয়াসনেস নিয়ে আমাদের বাছাইপর্ব পেরোতে হবে। শেষ পর্যন্ত তো সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আমরা বিশ্বকাপে পৌঁছেই গেলাম।

ফিফা: এই বছরই তো কনফেডারেশন্স কাপ খেলতে রাশিয়া ঘুরে এলেন। কেমন লাগল?

রোনালদো: রাশিয়ায় বেশ কয়েকবার খেলেছি এরই মধ্যে। ওখানে চ্যাম্পিয়ন্স লীগও জিতেছি। রাশিয়া এমন একটি দেশ যেটি আমার জন্য সৌভাগ্যজনক। যদিও শেষবার পর্তুগালকে নিয়ে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তবে টুর্নামেন্টটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা ছিল। চিলির কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিলাম, আর পেনাল্টি তো লটারিরই মত। তবে আমরা পজিটিভ দিকগুলোর দিকেই ফোকাস করছি। এমনটা যে বিশ্বকাপে ঘটেনি, আগেই ঘটে গেছে, সেটাই ভালো।

ফিফা: ২০১৬ ইউরো জয়ের পর অনেকেই রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য পর্তুগালকে ফেভারিট মানছেন। আপনি একমত এর সাথে?

রোনালদো: আমরা বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন, এমন সাফল্য অবশ্যই প্রত্যাশার চাপ সৃষ্টি করবে। তবে ইউরোর আগে আমি যেটা বলেছিলাম, সেটাই আবারো বলছি, মেজর টুর্নামেন্টগুলোর জন্য পর্তুগাল কখনোই ফেভারিট নয়। কাগজে কলমে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী দল আছে, হাই প্রোফাইল অনেক খেলোয়াড়ও আছে। আমরা তাই নিজেদের ফেভারিট মানছি না, কিন্তু চমক ঘটানোর মত সামর্থ্য আমাদের অবশ্যই আছে।

ফিফা: পাঁচটা প্রধান ব্যক্তিগত পুরষ্কার জেতা হয়ে গেল। ক্যারিয়ার শেষে নিজের নামের পাশে এমন কয়টা ব্যক্তিগত পুরষ্কার দেখতে চান?

রোনালদো: আশা করছি সাতটা! সাত আমার জন্য লাকি নাম্বার (হাসি)। কিন্তু সেটা ভবিষ্যতের ব্যাপার, এই মুহূর্তে আমি শুধু এই দুর্দান্ত মুহূর্তটাকে যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চাই।

ফিফা ডট কম থেকে অনুবাদকৃত