ক্যামেরন জিবরাঈল থমাস থেকে উইজ খলিফা হয়ে ওঠার গল্প - প্রিয়লেখা

ক্যামেরন জিবরাঈল থমাস থেকে উইজ খলিফা হয়ে ওঠার গল্প

farzana tasnim
Published: September 27, 2017

ক্যামেরন জিবরাঈল থমাস নামটি বললে তেমন কেউই হয়তো তাকে চিনতে পারবেন না, পাঁড় ভক্তদের হিসেব আলাদা। তবে মঞ্চে যখন উইজ খলিফার আবির্ভাব ঘটে তখন সোল্লাসে তাকে বরণ করে নেবে না এমন তরুণ খুব কমই আছে। বলা হচ্ছিল উইজ খলিফার কথা, যিনি একাধারে একজন মার্কিন র‍্যাপার, গীতিকার, এবং অভিনেতা।

খলিফা ১৯৮৭ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর মিনোট, নর্থ ডাকোটায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা-মাতা উভয়ই মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পিতা-মাতার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যখন খলিফার বয়স মাত্র তিন বছর। পিটার্সবার্গে স্থায়ী হওয়ার পূর্বে খলিফা জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও জাপানে বসবাস করেছেন। তিনি টেইলর অলডারডাইস উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

তিনি মঞ্চ নামটি অর্থাৎ উইজ খলিফা নামটি পেয়েছেন একটি আরবি শব্দ যার অর্থ উত্তরাধিকারী এবং বিজ্ঞতা। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে ইংরেজি উচ্চারণ উইসডম থেকে হয় উইজ, খলিফা তখন ছিলেন খুবই অল্পবয়স্ক একজন বালক। খলিফা স্পিনার.কম কে বলেছেন এই নামটি ইয়াং উইজ থেকেও এসেছে “কারন আমি যা করতাম তার সবকিছুতেই ভালো ছিলাম, এবং আমার দাদা একজন মুসলিম, সুতরাং তিনি আমাকে এই নামটি দিয়েছেন। সঙ্গীত নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা বা কাজগুলো দাদা খুব পছন্দ করতেন”। খলিফা ১৭তম জন্মদিনে তার মঞ্চ নামে একটি ট্যাটু করিয়েছেন। তিনি জিমি হ্যানড্রিক্স, ক্যাম্প লো, দ্য নটোরিয়্যাস বি.আই.জি. এবং বোন থার্গজ-এন-হারমোনিকে তার সঙ্গীতের প্রতি অনুপ্রেরণা প্রাপ্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার ক্যারিয়ার যেন কল্পলোকের গল্পকেও হার মানায়। ২০০৬ সালে তিনি মুক্তি দেন তার অভিষেক অ্যালবাম শো এন্ড প্রোভ এবং ২০০৭ সালেই ওয়ার্নার ব্রস.রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ইউরোড্যান্স-প্রভাবিত তার একক গান “সে ইয়ে”, শহুরে রেডিও এয়ারপ্লে লাভ করে, রিদ্মিক টপ ৪০ এবং হট র‍্যাপ ট্রেক তালিকায় ২০০৮-এ স্থান পায়।

পরবর্তীতে খলিফা ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সাথে বিচ্ছেদ ঘটায় এবং ২০০৯ সালের নভেম্বরে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম “ডীল অর নো ডীল” মুক্তি পায়। এপ্রিল ২০১০ সালে তিনি একটি মুক্ত ডাউনলোড হিসাবে মিক্সটেপ “কুশ এন্ড অরেঞ্জ জুস” মুক্তি দেন, তারপর অ্যাটলান্টিক রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি আরো অধিক পরিচিত অ্যাটলান্টিক রেকর্ডে তার অভিষেক একক “ব্লাক এন্ড ইয়েলো” গানটির জন্য, যেটি বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার এক নম্বর অবস্থানে ছিল। অ্যাটলান্টিক রেকর্ডস লেবেলটির জন্য তার প্রথম অ্যালবাম রোলিং পেপার্স ২৯ শে মার্চ, ২০১২ তারিখে মুক্তি পায়। এই অ্যালবামের পরে তিনি ও.এন.আই.এফ.সি. অ্যালবামের মুক্তি দেন ডিসেম্বর ৪, ২০১২ তারিখে যেটি একক গান “ওর্য়াক হার্ড, প্লে হার্ড” এবং “রিমেম্বার ইউ” কতৃর্ক সমর্থিত ছিলো। তার চতুর্থ অ্যালবাম ব্লাক হলিউড ১৮ই আগস্ট,২০১৪ তারিখে মুক্তি পায়, যেটি প্রধান একক গান “উই ডেম বয়েজ” কতৃর্ক সমর্থিত ছিলো। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ফিউরিয়াস ৭ চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্রাকের জন্য তার “সি ইউ এগেইন” মুক্তি পায় এবং এটি বিলবোর্ড হট ১০০তালিকায় একনাগাড়ে ১২ সপ্তাহ ধরে প্রথম অবস্থানে ছিল।

খলিফা ২০১১ এর শুরুর দিকে মডেল আম্বার রোজের সঙ্গে ডেটিং করতে শুরু করেন। ১ মার্চ, ২০১২ সালে তারা বাগদত্ত হন এবং জুলাই ৮, ২০১৩ তারিখে বিবাহ করেন। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, তার নাম সেবাস্তিয়ান টেইলর। টেইলরের জন্ম হয় ২০১৩ সালে।

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সালে ঘোষণা করা হয় যে আম্বার রোজ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করবেন, কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন “সামঞ্জস্যহীন ভিন্নতাকে”। ২০১৫ সালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের সন্তানের উপর খলিফা এবং রোজ উভয়ের জয়েন্ট কাষ্টাডী রয়েছে।

লাইফস্টাইলের দিক থেকে উইজ খলিফাকে কিছুটা ছন্নছাড়া বলা যেতেই পারে। খলিফা তার গাঁজা সেবনে সবসময় উন্মুক্ততা প্রকাশ করেন এবং অনেক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন প্রতিমাসে তিনি ১০,০০০ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন গাঁজা সেবনে। তিনি নিয়মিত ধূমপান করেন। ২০১৪ এর শুরু থেকে গাঁজার জন্য তাকে ব্যক্তিগত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। একটি মেডিকেল মারিজুয়ানা মেশিন সরবরাহকারী কোম্পানি দ্য কুকি কোম্পানি তার খলিফা কুশ (কেকে) স্ট্রেইন বিক্রি করে, গাঁজা তৈরির জন্য রিভাররক ক্যানাবিস এর সঙ্গে তার অংশীদার রয়েছে।

পিটসবার্গ সিটি কাউন্সিল ১২-১২-১২ কে এই শহরে উইজ খলিফা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। খলিফা ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে ক্যানসবার্গ, পেন্সিলভেনিয়ায় একটি বাড়ি ক্রয় করেছে। হাজারো তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে ঝড় তোলা এই তারকার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানা যায়।