কেমন হয় যদি আপনার রান্নাঘর নিজে নিজেই ভাবে কি করবে ! - প্রিয়লেখা

কেমন হয় যদি আপনার রান্নাঘর নিজে নিজেই ভাবে কি করবে !

Naseeb Ur Rahman
Published: March 24, 2018

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উদ্ভাবিত হয়েছিলো মাইক্রোওয়েভ ওভেন যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খাবার গরম করে রান্নার জগতে বিপ্লব নিয়ে এসেছিলো।

কখনো কি ভেবেছেন আপনার রান্নার জগতে প্রতি সেকেন্ডে যে বিপ্লব অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার পিছনে অবদান রাখছে প্রযুক্তির কোন অবদান গুলো? আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন কিচেন ইক্যুইপমেন্টস  ব্যবহার করছি যা রান্নার কাজ কে করছে আরও সহজ ও দ্রুততর। যদি উদাহরণ হিসেবে এমন কোন ইক্যুইপমেন্ট এর কথা ধরতে হয় আপনার মাথায় কোনটির কথা আসবে, বলুন তো? আমার মাথায় আসবে ফ্রিজের কথা। আবার যদি আমার আব্বুর কথা জিজ্ঞাসা করেন তো তিনি ভালোবাসেন ফুড প্রসেসর, এমন একটি যন্ত্র যা  ২২টির মত কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আটা মাখানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টাইলে সালাদের কাটাকাটি। খালি প্রয়োজন ব্লেড পাল্টানো। আবার আমার মার প্রিয় যন্ত্রটির নাম স্যান্ডউইচ মেশিন।

আসলে ঘটনার প্রেক্ষাপট  এটা নয় যে কে কোন যন্ত্রটি পছন্দ করেন রান্নাঘরে ব্যবহার করতে। প্রশ্ন হচ্ছে এই সকল যন্ত্রগুলোর পক্ষে কি সম্ভব নিজে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা !  জি বর্তমানে সবই সম্ভব। কারণ প্রযুক্তি বিশ্বের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটছে সেকেন্ডের পরিবর্তনে। এখন যুগ হচ্ছে স্মার্ট ডিভাইসের। সেই স্মার্ট ডিভাইসের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সংযুক্ত হচ্ছে Artificial Intelligence বা AI এর ব্যবহার। 

এছাড়াও বিশ্ব আজ মুখোমুখি আরেকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিস্ময়ের যার নাম Internet of Things (IOT) ।  

 বর্তমান, বিশেষজ্ঞদের মতে রান্নাঘরের নিত্য কাজে আসছে আরও বড় ধরণের পরিবর্তন। নিকটবর্তী ভবিষ্যতে রান্নাঘর ও আবাসস্থলের জন্য আসতে  চলেছে Smart Device added kitchen appliances, Voice Commanded/ Recognised Device এবং Automated 3D Printer সহ আরও অনেক কিছু।

Whirlpool Corporation (WHR) ইতিমধ্যে স্মার্ট রান্নাঘর ও তার জন্য উপযোগী ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি কেমন হতে পারে সে সম্পর্কিত একটি ধারণা দিয়েছে। তাদের প্রদর্শিত ধারনায় রান্নাঘরের স্মার্ট ডিভাইস টাচস্ক্রীন সম্বলিত হবে যা অটো Pinterest থেকে সাজেশন নিয়ে চাহিদা অনুসারে রেসিপির খাবার তৈরি করে, দেখানো হয় এমন একটি রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ যার সেন্সর ও মেমরি যা আপনাকে মনে করিয়ে দিবে যে কোন সময়  আপনার প্রতিদিনের নাস্তার দুধ কিনতে হবে, অথবা কোন খাবার টি এই মুহূর্তেই গরম করা প্রয়োজন, বা কোন খাবার সংরক্ষণ করার জন্য কতটুকু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন তা জানিয়ে নিজেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করবে। প্রশ্ন হচ্ছে এইসব কাজ কিভাবে করবে বা আপনাকে জানাবে, তার জন্য অবশ্যই নির্ধারিত জায়গায় কাউন্টিং অ্যান্ড সেন্সরিং ডিভাইস থাকবে।

যদিও আমরা এখনও সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত রান্নাঘর পাবার সম্ভাবনা থেকে কতিপয় বছর পিছিয়ে রয়েছি, তবে প্রযুক্তি কিন্তু বিদ্যমাণ খালি এমন একটি কানেকটিং ডিভাইস প্রয়োজন যা যে কোন ব্র্যান্ডের বা কোম্পানির পন্যের উপর নিয়ন্ত্রন রাখতে পারবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এরই তাই এই মুহূর্তে মোকাবেলা করা হচ্ছে আর তা হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানীর দ্বারা প্রস্তুতকৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ইন্টারকানেকশন সৃষ্টি করা।

গবেষক সংস্থা CB Insights এর জুরি লেভিট, সিনিয়র রিটেইল এবং কনজিউমার প্যাকেজ পণ্য অ্যানালিস্ট, স্মার্ট রান্নাঘর প্রসঙ্গে বলেন রান্নাঘরের ভবিষ্যত নির্ভর করছে একটি মাত্র উপাদানের উপর আর সেটি হচ্ছে: তথ্য।

” পারস্পরিক সংযুক্ত স্মার্ট ডিভাইসগুলোর ভবিষ্যৎ হচ্ছে ছোট ছোট প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা ও সেই সকল তথ্য অনুসরনে প্রয়োজনের সমাধানে স্বয়ংক্রিয়  ব্যবস্থা গ্রহণ করা “।

উদাহরণস্বরূপ, আপনার রেফ্রিজারেটর আপনার স্বাস্থ্যের লক্ষ্যগুলির উপর ভিত্তি করে খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করতে পারে, প্রস্তুত করতে পারে আপনার জন্য ফিটনেস চার্ট ও রেগুলার ডায়েট চার্ট তৈরি করার জন্য একটি ফিটিটিকে সিঙ্ক করতে পারে।  রেফ্রিজারেটরের ক্যাবিনেটগুলি স্পর্শ করার সাথে সাথেই সেন্সরগুলি বুঝতে পারে যে আপনি কোন ধরণের খাদ্য গ্রহণ করছেন। সময়ের সাথে সাথে, রান্নাঘরে প্রতিদিন কত পরিমাণ ক্যালোরি আপনি খাবারের সাথে গ্রহণ করেছেন তার একটি রিপোর্ট আপনি পাবেন।

আপনি যেখান থেকে  আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করেন সেখানে  স্বয়ংক্রিয় উপায়ে তথ্য গুলো দোকানের শেয়ার করা যেতে পারে অথবা আপনার প্রয়োজনের সাথে যায় এমন কোন নতুন পণ্য সম্পর্কিত  তথ্যও আপনার পরিচিত দোকান থেকে আপনি পূর্বেই জেনে পণ্যটি ক্রয় করতে অ্যাডভানস অর্ডার প্রদান করতে পারেন।

স্মার্ট হাব হিসাবে ফ্রিজঃ

রান্নাঘরের স্মার্ট পণ্যগুলির জন্য কমিউনিকেশন হাব হিসাবে রেফ্রিজারেটর  ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্যামসাং এর ফ্যামিলি হাব ($ ৩৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যের,) স্মার্ট ফ্রিজ এমন একটি এইচডি টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইন্টারনেট অনুসন্ধান করতে, সঙ্গীত বা সঙ্গীত সংগ্রহের জন্য কেনাকাটা করতে পারে। ভিতরে, দুটি ক্যামেরা আপনাকে কোন আইটেমগুলি কেনার বা  পরিবর্তনের প্রয়োজন তা দেখায় – আপনি আপনার স্মার্টফোনের ফুটেজ দেখতে ইন্টারনেট স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

ফ্রিজের এলেভেট বাল্বটি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলবে যখন এটি নিজের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলির সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে যোগাযোগ করবে। এই থিওরী অনুযায়ী  ধরুন কোন ব্লেন্ডার সেন্সর এর মাধ্যমে জানলো ফ্রিজে কি কি রয়েছে ও সেই ভিত্তিতে কি রান্না করা যাবে সেরকম কিছু রেসিপি ডাউনলোড করলো।

ধরুন আপনি খুবই স্বাস্থ্য সচেতন একজন ব্যক্তি ও আপনি প্রতিদিন সকালে জুস পান করেন। এখন আপনার স্মার্ট ফ্রিজটি এমন ভাবে প্রি-প্রোগ্রামড  করা যে ফ্রিজটি প্রতিদিন সকালে তার ভিতরে যে সব দ্রব্যাদি মজুদ থাকে সেই অনুযায়ী আপনার প্রতিদিনের জুসের প্রাথমিক উপাদানগুলো সাজানো থাকে।

অন্য প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণ সংস্থাগুলিও ফ্রিজ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে। অ্যামাজন (এমজেডএন) একটি স্মার্ট রেফ্রিজারের জন্য একটি পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশন করেছে যেখানে ব্যবহৃত সেন্সর আইটেমগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়া দ্রব্যাদির অনুসন্ধান করবে। পরবর্তীতে স্মার্ট ফ্রিজ আপনার মুঠোফোনে মুঠো বার্তা প্রেরন করবে যেখানে বলা থাকবে কোন পণ্য গুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

স্মার্ট ডিভাইস অ্যাপ্লিকেশন এর ধারনাটি প্রথম দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত পদক্ষেপ হিসাবে মনে হতে পারে, কিন্তু এর পিছনে যে ব্যবসায়িক ধারণা রয়েছে তার প্রভাব কিন্তু সুদূর প্রসারী কারণ অ্যামাজন এমন কোন পণ্য নেই যা বিক্রয় করে না। যদি তারা নিজস্ব স্মার্ট ডিভাইসের  মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোক্তাদের সামনে নতুন পণ্য উপস্থাপন করা সম্ভব যা তাদের জীবনাত্রার মানকে আরও সহজ ও উন্নততর করা সম্ভব।

বিশেষ করে অ্যামাজন ব্যবহারকারীকে ইকো স্মার্ট স্পিকার এবং ড্যাশ বোতামগুলির মত সংযুক্ত পণ্যগুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে , যার ফলে ব্যবহারকারীরা ফিজিক্যাল বাটন টিপে লন্ড্রি ডিটারজেন্ট এবং টয়লেট পেপারের মতো আইটেমগুলিকে প্রয়োজন অনুসারে পুনরায় সাজাতে পারে।

ড্রোনগুলিও পণ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে,সরবরাহকৃত পন্যের মধ্যে খাদ্য সহ ও অন্যান্য ভোগ্য উপকরণও থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ড্রোন উদ্যোগের জন্য আমাজনকে পেটেন্ট দেওয়া হয়েছে, যেমন পণ্য সরবরাহ করার জন্য বিল্ট ইন প্যারাশুট সহ বিশেষ শিপিং লেবেল রয়েছে।

এই বিশেষ ড্রোন গুলো সরাসরি জানালা দিয়ে পণ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি ফ্রিজেও পণ্য সাজিয়ে রাখতে সক্ষম।

কেমন হতে পারে ড্রোন এর পন্য সরবরাহের ধরণ? কল্পনা করুন আপনার বাসার ছাদে এক স্বয়ংক্রিয়  ট্র্যাপ ডোর রয়েছে অথবা খোলা চিমনি। সেখান থেকে পণ্য ছেড়ে দিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্যারাসুটের মাধ্যমে পণ্য আসবে রেফ্রিজারেটরের উপরে। রেফ্রিজারেটরের উপর রইবে সেন্সর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অটোমেটেড দরজা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে আর পণ্য জায়গামত সাজিয়ে রাখা হবে।

রান্না করুন থ্রী-ডি প্রিন্টের চমকেঃ

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি স্মার্ট রান্নাঘরের গ্যাজেটগুলিকে যখন অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে তখন একই ভাবে থ্রী-ডি ফুড প্রিন্টার ফুডিনির প্রস্তুতকারক অল্প কিছু ডিভাইসের মাঝে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে।

ন্যাচারাল মেশিনের কো-ফাউন্ডার এবং সি এম ও তথা থ্রী-ডি ফুড প্রিন্টার ফুডিনির নির্মাতা লিন্টে কিউস্কমা বলেন,-

“আপনি স্মার্ট রান্নাঘরের কার্যকারিতা ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং ডিভাইসগুলির মধ্যে খানিকটা বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করবেন, যার মধ্যে স্বল্প কিছু ডিভাইস হয়তো ভালো কাজ দেখাবে “।

ডিভাইসে প্রয়োজনীয় তাজা উপকরণ প্রবেশ করান, থ্রী-ডি ডিভাইসটি বিভিন্ন আকার এবং মাপের তৈরি খাদ্য সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবহারকারীরা ফুডিনিতে যদি তাজা আটা রাখে এবং পাস্তা তৈরির কমান্ড দেয় তবে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে প্রস্তুতকৃত পাস্তা হাজির হবে।

$ ৪,000 মার্কিন ডলার মূল্যের  ফুডিনি, কোন প্রকার সংরক্ষণাগার ছাড়াই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি ব্যবহার করে ক্র্যাকার, চিপস বা পাস্তার মত স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করে।

যদিও এটি এখনও খাবার রান্না করার ক্ষমতা রাখে না – এবং বর্তমানে পেশাদার রান্নাঘরের ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ – কুসকা আশা করে তার পণ্য শেষ পর্যন্ত সাধারন মানুষের বাড়িতে রান্না করার ধরণই পাল্টে দিবে। ব্যবহারকারীরা এমন ডেজার্ট তৈরি করতে পারে যা ২00 ক্যালোরি পৌঁছানোর পর খাবার তৈরি বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির খাদ্য বিজ্ঞান অধ্যাপক জন ক্যাপপ্ল্যান্ড বলেন,

থ্রী ডি ফুড প্রিন্টারের মত রান্নাঘরের গ্যাজেটগুলি তখনই সফল হবে যখন তাতে প্রস্তুতকৃত খাবার অন্য ডিভাইসে সহজে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে না।

বর্তমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনকার বসত বাড়িতে নির্মাণ করা রান্নাঘরগুলো  গুলোর স্পেস সব ধরণের স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহারের উপযোগী নয়। এখনো পুরনো ভাবধারার সদস্যরা রান্নাঘর হতে কাউন্টার, সেলফ সরিয়ে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করবে, বা স্মার্ট কিচেন ডিভাইস সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।

স্মার্ট কিচেন ডিভাইস নির্মাণের পিছনের প্রযুক্তিঃ

ভবিষ্যতের রান্নাঘরটি মূলত আইওটি ডিভাইস/IOT (Internet of Things) এর  কল্যাণে কাজ করবে – তখন যে কোন স্মার্ট পণ্য, যেমন টোস্টার থেকে গাড়ি পর্যন্ত, এক অভিন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকবে এবং মোবাইল ডিভাইস বা যে কোন নেটওয়ার্ক ভিত্তিক ডিভাইসের সহায়তায় একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

যাইহোক, চ্যালেঞ্জ হল এই ডিভাইসগুলি শুধুমাত্র নিজের অ্যাপসগুলির সাথে নিজস্ব ইকো সিস্টেমের মধ্যে যোগাযোগ করে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাপল এর হোমকিট সফ্টওয়্যারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্যগুলি স্যামসাং এর স্মার্ট থিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে না।

এবিআই রিসার্চ এর গবেষণা পরিচালক জনাথন কলিন্স বলেন,

“এই পৃথক অ্যাপ্লিকেশন বা ডিভাইসগুলির সবগুলি একক সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে একক মানদণ্ড বা সিঙ্গেল স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করার মত জটিল বিষয় এক পলকে হবার মত নয়”।

তিনি আরও বলেন,

“আরো বেশি প্রতিযোগী এই প্রাপ্য তথ্য নিজেদের উপস্থাপিত ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়”। “তারা সব তাদের নিজস্ব niches এর প্রতি গ্রাহকদের আকর্ষণ করার উপায় খুঁজছে, কিন্তু তারা পরস্পরের সহযোগিতায় একটি সঠিক মানদণ্ড নির্ধারণে নারাজ ।”

স্মার্ট রান্নাঘর আমাদের জীবনের উপর অটোমেশনের প্রভাব ঠিক কেমন ভাবে ফেলবে সে সম্পর্কে জনমনে ব্যপক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আইবিএম (আইবিএম) এবং স্যামসাং (এসএসএনএলএফ) যে ধারণা উন্মোচন করেছে তা রেফ্রিজারেটর এর মত একটি যন্ত্র কিভাবে নিজেই নিজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে পারে, প্রয়োজনে খুচরো বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে নিজস্ব আবশ্যকীয় পন্যের অর্ডার করতে পারে সে সম্পর্কে সবাইকে  শিখিয়েছে।

কিন্তু যেহেতু যন্ত্রপাতিগুলি স্মার্ট হয়ে উঠেছে, তবু রান্নাঘরে সবকিছুই স্বয়ংক্রিয় হবে এমনটা  সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহনযোগ্য নয়। রান্নাঘরে সময় বাঁচাতে এই প্রযুক্তির অনেকগুলি তৈরি করা হয়েছে কিন্তু তা তো ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।কিন্তু এত সব সয়ংক্রিয়তার মাঝে কি ব্যক্তিজীবন হারাচ্ছে না তার স্মরণীয় মুহূর্ত বা প্রতিশ্রুতি? নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানোতে যে পরিতৃপ্তি তা কি মেশিনের রান্নায় আসবে!

যান্ত্রিক জীবনে না আঁটকে পড়ুক সাধারন জীবন এই সকলের চাওয়া।

আজ এই পর্যন্তই। অতি সত্বর দেখা হবে ‘প্রিয়লেখার’ পাতায়। ততদিন আমাদের সাথেই থাকুন।