কেন বিকেলের নাস্তা বাদ দিতে বলছেন গবেষকেরা? - প্রিয়লেখা

কেন বিকেলের নাস্তা বাদ দিতে বলছেন গবেষকেরা?

ahnafratul
Published: July 30, 2017

সারাদিন অফিস করে এসে বাসায় ক্লান্ত শফিক চটজলদিই কিছু খেয়ে নিতে পছন্দ করে। এই খাবার তার শরীরের জন্য যতটা না উপকারী হচ্ছে, তার চাইতে বেশি হচ্ছে অপকারী। কারণ, খুব দ্রুতই মুটিয়ে যাচ্ছে শফিক। এমন নয় যে সারাদিন অফিসে শফিক বসে কাটায় কিংবা সে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করে না। তাহলে শফিকের এমন হবার কারণ কি?

এখানে শফিক নামটি একটি রুপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত, শুধুমাত্র অফিসকর্মীই নয়, বরং ছাত্র যুবক মধ্যবয়ষ্কা নারী থেকে শুরু করে সকলেরই একটি ভয়ের বিষয় হচ্ছে মুটিয়ে যাওয়া কিংবা শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়া।
গাড়ি যেমন তেল ছাড়া চলে না, ঠিক তেমনি আমাদের শরীরকে চালানোর জন্য দরকার খাবারের। একটি প্রবাদ রয়েছে- আমাদের তিনবেলা খাবারের তালিকা কেমন হওয়া উচিত তা জানার জন্য। প্রবাদটি হচ্ছে,
সকালে খাবার খেতে হবে একজন রাজার মত, দুপুরে খাবার খাওয়া উচিত রাজপুত্রের মত এবং রাতে খাবার খাওয়া উচিত একজন ভিক্ষুকের মত। এই প্রবাদের মাধ্যমে আসলে বোঝানো হয়েছে দুপুরের খাবারের পর থেকেই আমাদের উচিত খাবারের তালিকায় খাদ্য উপাদানের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া। কারণ, আমাদের শরীরে ঠিক ততটুকুই খাদ্য পরিমাণ নেয়া উচিত যা আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। এর বেশি খাদ্য গ্রহণ করলেই থাকে মুটিয়ে যাবার ভয়। আবার অনেকে বিকেলের নাস্তায় নানা ধরণের ভাজাপোড়া কিংবা স্ট্রিট ফুড খেতে পছন্দ করেন, তা শরীরের জন্য মোটামুটি বিধ্বংসীই বলা চলে। এবার আসা যাক এর সমাধান কি হতে পারে, সেক্ষেত্রে গবেষকেরা কি বলতে চাইছেন।

                                                                                      মুটিয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন?

স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে আপনি অবশ্যই চান শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরাতে, তাই না? উপোস থেকে কিংবা না খেয়ে থাকাকে আপনি বিবেচনায় রাখতে পারেন। না না, চমকে যাবেন না। কেন উপোস থাকবেন, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব এবার্ডিনের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক গবেষকেরা। আর এই উপোস আপনাকে ২৪ ঘন্টা করতে বলা হয় নি। শুধুমাত্র বিকেলের নাস্তাটি আপনাকে বাদ দিতে হবে।

গবেষকেরা বলছেন, আপনি যদি বিকেলের নাস্তাটি না খেয়ে থাকতে পারেন, তাহলে শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ সহজেই ঝরাতে পারবেন। এই গবেষণায় দুই ধরণের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ করানো হয়। প্রথম দলে যারা রয়েছেন তাদের ছয় ঘন্টা উপোস রাখা হয়। সময় হচ্ছে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা।

দ্বিতীয় দলে যারা রয়েছেন, তাদের উপোস থাকার সময়টা একটু লম্বা। ১২ ঘন্টা তারা উপোস থাকেন, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা। কিন্তু বিস্ময়করভাবে দেখা গিয়েছে যে, একই ধরণের খাবার খেয়ে তাদের ক্যালরি খরচের পরিমাণ সমান এবং দ্বিতীয় দলের চাইতে প্রথম দলের মেদ ঝরানোর সম্ভাবনা বেশি। এখন আপনি মনে করতেই পারেন, যারা ৬ঘন্টা বেশি না খেয়ে থেকেছে, তারা সুবিধা তো পাবেই। কিন্তু ঘটনা আসলে সেখানে নয়।

গবেষকেরা বলছেন, এই দুই দলের মাঝে যেটি ব্যবধান গড়ে দিয়েছে তা হচ্ছে বিকেলের নাস্তা।
কারণ, সকালের খাবার কিংবা দুপুরের খাবার বাদ দেয়া হলেও বিকেলের নাস্তাটা মানুষের বাড়তি মেদ তৈরি করার জন্য প্রধান সহায়ক ভূমিকা হিসেবে পালন করে। তাই তারা বলছেন বাড়তি সময় উপোস থেকে বিকালের নাস্তাটি যদি তালিকা থেকে বাদ দিন, তাহলে তা শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে বেশি।

                                                                          বাদ দিতে পারেন বিকেলের ভাজাপোড়া

আমাদের শরীরে যে গ্লাইকোজেন রয়েছে, তা ক্যালরি পোড়াতে যে সময় নেয়, তা হচ্ছে ১২ ঘন্টা। এর ওপরে গেলে শরীর বাড়তি ক্যালরি জমা করতে থাকে। ফলে মেদ জমে যায়। যারা ১২ ঘন্টা উপোস থেকেছেন, তারা এত লম্বা সময় ধরে উপোস থাকার পরও একটি কারণে প্রথম দল থেকে পিছিয়ে তা হচ্ছে, ১২ ঘন্টা পর তাদের শরীর মেদ পুনরায় তৈরি করতে শুরু করে।
আবার বিপরীত কথাও বলছেন কেউ কেউ। যদি কোন ব্যক্তি বিকেলে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে, তবে তার পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে সে রাতের খাবারটা কেমন হবে। যদি বিকেল ৫টার পর কেউ খাবার খায়, তাহলে তাকে রাতের খাবার খেতে হবে সাধারণ খাদ্য পরিমানের এক-তৃতীয়াংশ। তবে এটি করতে না করেছেন বিজ্ঞানীরা; কেননা আমাদের শরীরের মেটাবলিজমের জন্য ও রাতের ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবারটা জরুরী। অনেকে আবার রাতের খাবার ঠিকমত না হবার জন্য নানা ধরণের ঘুমজনিত সমস্যা ও মানসিক সমস্যায়ও ভুগে থাকেন।

আজ এ পর্যন্তই। সুস্থ থাকুন, পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন। প্রিয়লেখার সাথে সকলের প্রিয় হয়ে থাকুন।

(তথ্যসূত্রঃ হাফিংটন পোস্ট ও লাইভ সাইন্স)