কিম জং উন কোমায় ! তার যোগ্য উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছে? - প্রিয়লেখা

কিম জং উন কোমায় ! তার যোগ্য উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছে?

Afreen Houqe
Published: August 25, 2020

উত্তর কোরিয়ার শাসক কোমাতে!

দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে বিতর্ক আর কৌতূহলের শেষ নেই। একের পর এক সংবাদে সৃষ্টি হচ্ছে নাটকীয়তা আর সেই রেশ সামাল দিতে না দিতেই উঠে আসছে নতুন এক খবর যা নাড়া দিয়েছে কূটনীতিকদের।

কিম জং-উন ‘কোমাতে রয়েছেন এবং তাঁর বোন উত্তর কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছেন’, দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনীতিকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনীতিক দাবি করেছেন স্বৈরশাসক কিম জং উন কোমোটোজ অবস্থায় আছেন

‘আমি তার কোমায় থাকার অবস্থাটি নিশ্চিত বলে মনে করি, তবে তার জীবন শেষ হয়নি,’ চ্যাং সং-মিন বলেছিলেন এমন করেই।

তিনি আরও যোগ করে করে বলেন যে স্বৈরশাসকের বোন, ৩৩ বছর বয়সী কিম তার বেশ কিছু ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান অবস্থানে রয়েছেন ।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার এক কূটনীতিক চাঞ্চল্যকর এক তথ্যে দাবি করেছেন যে কিম জং উন কোমাতে রয়েছেন এবং তাঁর বোন উত্তর কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি কিম ডায়ে-জংয়ের প্রাক্তন সহযোগী চ্যাং সং-মিন দাবি করেছেন যে ডিপিআরকে তার নেতার অবনতির স্বাস্থ্যের সত্যতা গোপন করছে এবং তিনি বুঝতে পেরেছেন যে স্বৈরশাসক কোমোটোজ অবস্থায় আছেন।

এই বছর জনসাধারণের সম্মুখে তার উপস্থিতির অভাবের কারণে কিমের সত্যিকারের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে  নানা রকম জল্পনা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময়, চ্যাং সং-মিন বলেছিলেন: ‘আমি তাকে কোমায় থাকতে দেখেছি, কিন্তু তার জীবন শেষ হয়নি’ ‘

তিনি আরও যোগ করেছেন যে স্বৈরশাসকের বোন, ৩৩ বছর বয়সী কিম ইয়ো-জং তার ভাইয়ের কিছু ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান অবস্থানে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার কাঠামো গঠন করা হয়নি, তাই দীর্ঘমেয়াদে শূন্যতা রক্ষা করতে না পারায় কিম ইয়ো-জংকে সামনে আনা হচ্ছে সামনে।

চাং সান-মিনের দাবি উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার একটি সরকারি সভায় অংশ নেওয়ার একটি ছবি সম্প্রতি কিমের বলে দাবি করে প্রকাশ করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে ছবিগুলি এটি ‘স্বতন্ত্রভাবে যাচাই’ করা সম্ভব নয়।

এই সপ্তাহের শুরুতে, দাবি করা হয়েছিল যে কিম জং উন তাঁর বোনকে উত্তর কোরিয়ার সেকেন্ড-ইন-কমান্ডে পদোন্নতি দিয়েছিলেন।

এদিকে গুপ্তচর প্রধানরা জানিয়েছেন, ৩২ বছর বয়সী কিম ইয়ো জং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়ার নীতিমালার দায়িত্বে রয়েছেন এবং কার্যকরভাবে তাকে তার ডি-ফ্যাক্টো ডেপুটি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ভাই উত্তর কোরিয়ার উপরে এখনও ‘নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব’ বজায় রেখেছেন, তবে বলা হচ্ছিলো যে মানসিক এবং কাজের চাপ মোকাবেলায় তাকে সহায়তা করার জন্যই কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তার বোন কিম ইয়ো জং কে।

 

প্রায় ৩৬ বছর বয়সী কিম জং উনকে নিয়ে এ বছর এপ্রিল মাস থেকেই ঘতে চলেছে অনেক জল্পনা-কল্পনা এমনকি বলা হয়েছিলো হার্টের অপারেশন তাকে গুরুতর  অসুস্থ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে এমনকি গুজব শুনা গিয়েছিলো কিম জং উন মারা গেছেন।

মে মাসের শুরুতে এই গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আর সেসময়ই নাটকীয়ভাবে সরকারী গণমাধ্যম উত্তর কোরিয়ার নেতার ফিতা কাটার চিত্র প্রকাশ করেছিল একটি সার কারখানা উদ্ভদোন করার সময় ।

এত নাটকীয়তার মাঝেও কিমের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল সে দেশের নেতৃত্বে হাল ছাড়তে রাজি নন । অন্য দিকে এবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে কূটনীতিক এর এই বক্তব্য যেন মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে চলেছে। কিম জং উনের জনসম্মুখে না আসার পর এটি দ্বিতীয়বারের মত বড় কোন ঘটনা যেখানে দাবী করা হচ্ছে কিম জং উন কোমাতে আছেন।

এমতাবস্থায় শুধু উত্তর কোরিয়ার নয় তোলপাড় হচ্ছে অন্যান্য দেশের সংবাদ মাধ্যম গুলোতেও। যদিও কিম জং উনের পক্ষ থেকে এখনো কেউ বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবুও ধরে নেয়া হচ্ছে তার জায়গা নিতে যাচ্ছেন তার বোন কিম  ইয়ো-জং ।