কিভাবে হলেন বিশ্বসেরা ফ্রীল্যান্সারঃ শুনুন ইশাদের মুখে - প্রিয়লেখা

কিভাবে হলেন বিশ্বসেরা ফ্রীল্যান্সারঃ শুনুন ইশাদের মুখে

Naseeb Ur Rahman
Published: August 16, 2017

স্বপ্ন তো আমরা সবাই দেখি। স্বপ্ন পূরণ করার ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় কি আমাদের সবার মাঝে থাকে? হয়তো থাকে হয়তো থাকে না। বাস্তবতার আড়ালে কখনো স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়, কখনো লক্ষ্য আরও সুদৃঢ় হয়ে মানুষকে নিয়ে যায় সাফল্যের শিখরে। সফল তো তারাই যারা হাল ছাড়তে জানে না। এমনই এক  সফল মানুষের সাফল্যের গল্প নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন । আজ আমরা শোনাবো সফল ফ্রীল্যান্সার সালাউদ্দিন ইশাদের কথা। যিনি সম্প্রতি বিশ্বের ফ্রীল্যান্সিং জগতে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। গ্রাফিক ডিজাইনে সেরা হবার স্বীকৃতি পেয়েছেন  Freelancer.com থেকে। সারা বিশ্ব থেকে বাছাই করা সেরা ফ্রীল্যান্সারদের এই লিস্টে ছিলেন  যথাক্রমে সালাউদ্দিন ইশাদ (বাংলাদেশ), গুস্তাভ সিলভা (আর্জেন্টিনা), ইয়ান ক্লেমেন্ট ফসগেট (ফিলিপাইন্স), জেসি উইদারলি (অস্ট্রেলিয়া)।  

তার এই সাফল্যকে স্বাগত জানাতে, তার সম্পর্কে জানতে প্রিয় লেখা টিম আয়োজন করেছিলো একটি ছোট আড্ডার। আড্ডার মাঝেই উঠে আসে সালাউদ্দিন ইশাদ এর শুরুর দিক থেকে বর্তমানে আসার সংগ্রাম ও সাফল্যের  গল্প গুলি। তার  কিছু অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকের কাছে।

ইশাদ ভাইয়া কেমন আছেন?

জি , ভালোই আছি।

ভাইয়া নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন?

এই তো বাবা মা ভাই ভাবী ও ছোট বোনকে নিয়েই আমার পরিবার। আমি আমার পরিবারের মেঝো ছেলে। আমার পরেই ছোট বোন।

বর্তমানে কি করছেন?

বর্তমানে পুরো সময় ফ্রিল্যান্সিং করছি।

আপনি তো ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করেছেন। অথচ এখন আপনি একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইনার, ক্যারিয়ার ট্র্যাকটা খানিক উলটো হয়ে গেল না?

বাংলাদেশের পক্ষে এটি কিন্তু খুব স্বাভাবিক। আমার বাবা-মা’র স্বপ্ন ছিলো আমি ডাক্তার হই। কিন্তু সবাই কি ডাক্তার হবার সুযোগ পায়? আসলে সাফল্য আসে কিছূটা পরিশ্রম ও ভালো করার প্রচন্ড ইচ্ছে থেকে। আমার ইচ্ছে ছিলো আমি যে পেশাতেই থাকি না কেন, সেটায় সেরা হবো। গ্রাফিক ডিজাইন টাই ভালো লেগে গেলো।   

আইটি ক্যারিয়ারে কিভাবে সংযুক্ত হলেন?

এস.এস.সি পরীক্ষা দেবার পর থেকে আমি একটা এ্যাড ফার্মে চাকরি করা শুরু করি। সেখান থেকেই আমার আইটি ক্যারিয়ারের শুরু। কর্মজীবনের শুরুতে গুগল, ইউটিউব এগুলো আমি বুঝতাম না। ডিজাইন করতাম আপন মনেই। পরে সেগুলো প্রিন্টিং প্রেসে নিয়ে যেতাম। তখন দেখতাম তারা কিভাবে কাজ করে ওদের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। দেখা যেতো ১ঘন্টার  কাজে ২ঘন্টা চলে যেতো। পরে অফিসে ফিরলে সবাই আমায় জিজ্ঞেস করতো কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম। দিনে যা দেখতাম তাই রাতে প্র্যাক্টিস করতাম।

আইটিতে কোন বিষয়ে আপনি নিজেকে দক্ষ বলবেন?

আইটিতে আমি নিজেকে গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়েই দক্ষ বলবো। তবে গ্রাফিক ডিজাইনের ও অনেক প্যাটার্ন আছে। আমি  ব্র্যান্ডিং রিলেটেড কাজ করতে ভালোবাসি। যেমনঃ- লোগো ডিজাইন, ইউ/আই ডিজাইন,ফ্লোচার্ট, সাইট ম্যাপ, ভিজ্যুয়াল অ্যাড ডিজাইন,ব্যানার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন, পোষ্ট কার্ড,মেইলার ডিজাইন, ,সিগ্নেচার ডিজাইন,পাওয়ারপয়েন্ট ও কী-নোট ডিজাইন, ম্যাগাজিন/নিউজপেপারলেটারহেড ডিজাইন, বুক লে আউট, ব্যাক কাভার ডিজাইন, রেস্টুরেন্ট মেনু ডিজাইন   ইত্যাদি। আসলে আইটির যে কোন কাজেই আমি গ্রাফিক ডিজাইন কেই ভিত্তি বলে ভাবি, যদি ও বলতে পারেন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের কথা, কিন্তু যখন প্রশ্ন প্রেজেন্টেশনের তখন কিন্তু টাইপোগ্রাফি ও একজন গ্রাফিক ডিজাইনারই সৃষ্টি করে।  

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং ক্যারিয়ারে কিভাবে যুক্ত হলেন?

শুরুতে যখন আমি এই কাজ  করি তখন ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে তেমন কেউ জানতো না। আমি প্রথম ওডেস্কে যখন নিজের ডিজাইন দেই তখন বিড করা, জব কন্ট্রাক্ট পাওয়া এগুলো একদমই বুঝতাম না। ক্লায়েন্ট আমার ডিজাইন বারে বারে রিভিউ দিয়ে আমাকে কোন পেইড না করেই চলে যায়। তখন আমার মনে হয় যে না আমার ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে আরো জানতে হবে। তখন আমি অনলাইনে ক্রিয়েটিভ আইটির খোঁজ পাই এবং ভর্তি হই। ক্রিয়েটিভ আইটিতেই প্রথম আমি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেস, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশান, রিভিউ এইসব জিনিস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাই। পরবর্তীতে যখন সেখানে ডিজাইনার হিসেবে জয়েন করি তখন আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি আরো সমৃদ্ধ হয়।যা আমাকে পরবর্তীতে প্রতি মুহূর্তে সফলতার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।   

আপনার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অবদান কার?

আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অবদান আমার মা বাবার। কারণ তারা আমাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সব সময়। কখনোই কোন কাজে তারা আমাকে বাঁধা দেন নি। অনেকের ধারণা ফ্রীল্যান্সিং কোন পেশাই হতে পারে না। তবে আমি ভাগ্যবান যে আমার বাবা-মা কখনোই এমন ছিলেন না।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর শুরুর দিকে কেমন আয় করেছিলেন (প্রথম আয়)?

শুরুর দিকে আমি Freelancer.Com  মার্কেটপ্লেসে একটা ১০০ ডলারের লোগো ডিজাইন কনটেস্টে জয়ী হয়েছিলাম।

আপনার ক্লায়েন্টদের সম্পর্কে কিছু বলুন (কোন দেশের কাজ করেন সবচেয়ে বেশী)?

বিদেশী ক্লায়েন্টরা সময়ের প্রতি খুবই সতর্ক। তারা সময়ের কাজ সময়ে করতে পছন্দ করে। তাই আমি সব সময় চেষ্টা করি তাদের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে। এতে তারা খুব খশী হয়। অনেক সময় দেখা যায় তারা খুশী হয়ে নির্ধারিত বাজেটের চাইতে বেশী পেমেন্ট দিতেও দ্বিধা বোধ করে না। আমি USA ও UK এর কাজ বেশী করি। একটি ঘটনা বলি, ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্টরা আসলে পছন্দ করেন পরিস্কার ডিজাইন। আর যাদের তারা একবার পছন্দ করে তাদের তারা সহজে পরিবর্তন করতে চায় না। আমার ক্লায়েন্টরাও সেরকম। সময়ে কাজ ডেলিভারি দেওয়াটাও চ্যালেঞ্জ। তাই আমি সময় পেতে,কাজের চাপ কমাতে অনেক সময় ডিজাইন বুঝেও বলতাম আরেকটূ ডিটেইলস বলেন । তারা পেতো তাদের মতামত প্রকাশের জায়গা আর আমি পেতাম কিছু বাড়তি সময়। খানিকটা ছোট ট্রিক কিন্তু ক্লায়েন্টরা আপনাকে একটু হলেও পছন্দ করবে।  

আপনি এশিয়ার কোন দেশের কোন কাজ করেন না?

আসলে, আমি দক্ষিন এশিয়ার কোন ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে কমফোর্টেবল ফিল করি না। কারন তারা আসলে কি ডিজাইন চাইছে সেটাই বুঝাতে পারে না। তবু আমার ভারতীয় একজন  ভালো ক্লায়েন্ট আছে যার Branding এর কাজ গুলো আমি করে থাকি।

 

প্রথম ক্লায়েন্ট সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা?

সর্ব প্রথম আমি Freelancer.com মার্কেটপ্লেসে একটা ১০০ ডলারের লোগো ডিজাইন কনটেস্টে জয়ী হয়েছিলাম। সেই কনটেস্টে প্রায় ৩০ জন ডিজাইনার অংশগ্রহণ করেছিল। ক্লায়েন্ট তাদের মধ্যে থেকে আমার ডিজাইন টি সবচেয়ে বেশী পছন্দ করে এবং আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। সে আমাকে খুব ভাল একটা ফিডব্যাক দেয়। এরপর আমাকে সে তার কোম্পানীর সমস্ত Branding এর কাজগুলোও দেয়।

পেমেন্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা (প্রথম দিকে ও বর্তমানে)?

প্রথম দিকে পেমেন্ট নিয়ে আমাকে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তখন কিছু বুঝতে পারতাম না যে কিভাবে আমি পেমেন্ট উত্তোলন করব। তারপর আমি Payoneer Master Card এর জন্য আবেদন করি। একমাসের মধ্যেই আমি কার্ড হাতে পেয়ে যাই। তারপর থেকে আর কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। বর্তমানে আমি এই কার্ডের মাধ্যমেই লেনদেন করি।

কোথায় বেশি কাজ করেন  (লোকাল মার্কেটে না মার্কেটপ্লেসে)? লোকাল মার্কেটপ্লেস ও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসের মাঝে পার্থক্য?

 

আমি Freelancer.com মার্কেটপ্লেসে বেশি কাজ করি।যদিও সব মার্কেট প্লেসেই আমার অ্যাকাউন্ট আছে। কিন্তু  Freelancer.com ২৪/৭ সাপোর্ট দেয়। এই প্রসঙ্গে আমি একটি ঘটনার কথা বলতে পারি। একদিন রাত দুইটার সময় আমার Freelancer.com এর অ্যাকাউন্ট টি হ্যাক হয়। সেখানে প্রায় ৯০০ ডলার ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে সাপোর্ট সেন্টার এ জানাই। তারা আমার অ্যাকাউন্ট দ্রুত সাসপেন্ড করে ভেরিফিকেশন এ পাঠায়। পরের দিন অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড হওয়ার সাথে সাথেই আমি ডলার ফেরত পেয়ে যাই। লোকাল মার্কেটে আমি তেমন একটা কাজ করি না।

বর্তমান মার্কেটপ্লেসে কাজের সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে কিছু বলুন?

বর্তমান মার্কেটপ্লেসে কাজের সম্ভাবনার সাথে সাথে অনেক নতুন নতুন নিয়মকানুনও দিন দিন বাড়ছে। যার দরূণ নতুনদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নতুনদের সবচেয়ে বেশী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পেমেন্ট উত্তোলন নিয়ে। কিন্তু তবু আমি বলবো সুযোগ আছে, কিন্তু সাবধানতার মাঝেই সাফল্য লুকিয়ে।বর্তমান মার্কেট প্লেসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শর্ট কোর্সের অপপ্রভাব। কেউ হয়তো একমাস শিখেছে, কেউ হয়তো ডিভিডি, টিউটোরিয়াল আর ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে মার্কেট প্লেসে বিড করছে,কারও হয়তো পোর্টফোলিও নেই, বা থাকলেও তা আপডেট নয়। তারা শুধু মার্কেটপ্লেসে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে তাই নয় অভিজ্ঞদের জন্যেও সৃষ্টি করছে ঝুঁকি। আর শিক্ষা তো একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজ ৮ বছর ধরে কাজ করেও আমি প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছি। আমি মনে করি আপডেট থাকার ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেবার কোন বিকল্প নেই।

নতুনদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?

নতুনদের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা বর্তমানে একটু কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয় যদি সে কঠোর পরিশ্রমী হয়। আর প্রতিনিয়ত শিখুন, অল্প শিখেই বিড না করে অভিজ্ঞদের সহায়তা নিন। যে কাজ করে আপনি ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন সেখানে ক্ষণিকের ঝুঁকি নেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রথম কয়েকটা কাজেই আপনার প্রফেশনালিজম চলে আসবে না। নিজের কাজের ভুল কিন্তু আপনি নিজে খুঁজে বের করতে পারবেন না। অভিজ্ঞদের সহায়তা নিন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উদ্যোগ ও আউটসোর্সিং এর ভূমিকা?

বর্তমানে সরকার ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং সেক্টরে অনেক অগ্রগতি অর্জন করছে। ফ্রিল্যান্সিং মানে কি আগে কেউ জানতোই না। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রচার প্রচারণা ও অনেক সফল পদক্ষেপের কারণে অনেক মানুষ তাদের বর্তমান কর্মস্থলের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংকেও পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।কিন্তু সরকারকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফ্রীল্যান্সিং ১মাসে শেখা অসম্ভব। তবে এটা পথ চলার শুরু হতে পারে। সরকারের আন্তরিকতার কোন অভাব নাই তাই তারা আইটিতে দক্ষতা সৃষ্টিতে অনেকে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু সরকারের প্রকল্পগুলোর উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখাও প্রয়োজন।

তবে প্রশিক্ষণার্থীদেরও ও এটা ভাবতে হবে, নিজের উন্নয়ন চাইলে  নিজের প্রতি সেকেন্ড ও শিখাকে, প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে নিজের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ ভাবুন।

আপনার সাফল্যে কাদের ধন্যবাদ দিতে চান?

আমি সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই আমার মা-বাবার প্রতি, যারা আমাকে এই দীর্ঘ পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তারপর আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই “ক্রিয়েটিভ আইটির” প্রধান নির্বাহী পরিচালক “মনির হোসেন” ভাইকে যিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন। আর বাকীটা অবশ্যই আমার শুভানুধ্যায়ীদের প্রাপ্য। ধন্যবাদ আপনাদের, আপনাদের প্রেরণাই আমার প্রচেষ্টা, আপনাদের উৎসাহে আমার সাফল্যের পথচলা।

 

ধন্যবাদ, ভাইয়া এতো সুন্দর সময় উপহার দেওয়ায়।

ধন্যবাদ, সবাইকে।