কাজের ফাঁকেই ঘুমিয়ে যাচ্ছেন? একটু পড়ুন তাহলে - প্রিয়লেখা

কাজের ফাঁকেই ঘুমিয়ে যাচ্ছেন? একটু পড়ুন তাহলে

ahnafratul
Published: October 28, 2017

কখনো কেউ আপনাকে বলেছে যে জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখতে নেই? আমাদের দেশে একটি বহুল প্রচলিত কথা হচ্ছে কাজ না করে দিবাস্বপ্ন দেখলে জীবনে কখনো উন্নতি হবে না। স্কুলে কলেজে স্যারের লেকচার শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েন নি কিংবা অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা চোখ মুদে আসে নি, এমন মানুষ পাওয়া বোধহয় খুবই দুষ্কর। তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণা কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা। এই লেখাটি পড়বার পর আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে ঘুমিয়ে পড়েন এবং আপনার উর্ধ্বতনের কাছে যদি ঝাড়ি খেতে হয়, তাহলে তাকে বলবেন বিজ্ঞানীরা বলেছেন দিবাস্বপ্ন দেখা বুদ্ধিমত্তা ও সৃষ্টিশীলতার লক্ষণ। কিভাবে?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা কাজের ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেন, তাদের মানসিক দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা অন্যদের চাইতে বেশি হয়ে থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই ঘুমিয়ে পড়া মানুষগুলো অন্যান্যদের চাইতে কোন কিছু বুঝতে পারার ক্ষমতায় সবচেয়ে বেশি। জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির মনস্তত্ত্ববিষয়ক অধ্যাপক এরিক শুমাখার বলেন, “যেখানে একটি স্কুলের বাচ্চা কোন কিছু বুঝতে পাঁচ মিনিট সময় নেয়, সেখানে থেকে থেকেই ঘুমিয়ে পড়া বাচ্চাটা তা বুঝতে এক মিনিট সময় নিয়ে থাকে।” এসব বাচ্চারা অন্যান্যদের চাইতে বেশি বুদ্ধিমান ও কোন কিছু সহজেই ধরতে পারে।

এই গবেষণা ১০০ জন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে করা হয়েছিল। তাদের একটি এমআরআই মেশিনে পাঁচ মিনিট শুয়ে থাকতে বলা হয়। এই সময় তাদেরকে একটি বিন্দুতে ফোকাস করে থাকতে বলা হয়েছিল। এই সময় তারা দেখতে পারে একজন দিবাস্বপ্নে নিমগ্ন থাকা ব্যক্তি তার মস্তিষ্কের কতটুকু কার্যকর রাখতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা একে নাম দিয়েছেন “ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক”। এরপর তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল দিনের কতটুকু সময় তারা ঘুমিয়ে কাটান কিংবা কাটাতে পছন্দ করেন।

এরপর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে যারা কাজের ফাঁকে ফাঁকেই একটু ঘুমিয়ে নিতে পছন্দ করেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেবার হার অন্যান্যদের চাইতে অনেক বেশি। একটি কর্মক্ষম মস্তিষ্ক মানে ব্যক্তির বোঝার ক্ষমতাও অনেক বেশি।

শুমাখার বলেছেন,”দিবাস্বপ্ন দেখা বা কাজের ফাঁকে ঘুমিয়ে পড়াকে মানুষ খারাপ কিছু মনে করে থাকে। মনোযোগ দিতে চাইলেও কেউ দিতে পারে না। আমাদের গবেষণায় যা পাওয়া গিয়েছে তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে তবে বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা মিলে যায়।”

তবে বিজ্ঞানীরা একটা কথা কিন্তু বলেছেন। তা হচ্ছে, এই কথা শোনার পর যদি কেউ কাজের ফাঁকে ঘুমিয়ে গিয়ে নিজেদের কর্মক্ষম প্রচার করার চেষ্টা করেন, তাহলে কিন্তু হবে না। দিবাস্বপ্ন দেখবার উপকারিতা বেশি না অপকারিতা বেশি, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণা করবার চেষ্টা করছেন।

(ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে এই সাইটের সাহায্যে)