ইসলামে নারীর অধিকার - প্রিয়লেখা

ইসলামে নারীর অধিকার

Afreen Houqe
Published: January 31, 2020

মহান আল্লাহ্ পাক মানুষকে মানুষ হিসেবেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই মানুষের পরিচয় ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ সৃষ্টি সেরা জীব। এখানে বলা হয়নি পুরুষ! তুমি শ্রেষ্ঠ কিংবা নারী! তুমিই শ্রেষ্ঠ। বরং বলা হয়েছে “এই কিতাব থেকে হেদায়েত পেতে হলে নারী ও পুরুষ! উভয়কেই ঈমান আনতে হবে এবং মুসলিম হতে হবে”। বস্তুত নারী-পুরুষ একই জীবনসত্তা থেকে সৃষ্ট। নারী যেমন মানুষ, পুরুষও তেমনি মানুষ। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্পাক বলেন: ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সে আল্লাহকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক জীবন সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জুড়ি আর এ উভয় থেকেই অসংখ্য পুরুষ ও নারী (সৃষ্টি করে) ছড়িয়ে দিয়েছেন।’ (সূরা নিসাঃ ১)

নারী-পুরুষ অভিন্ন সত্তা হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন ধর্মে, বিভিন্ন মতাদর্শে, বিভিন্ন সভ্যতা ও সমাজে নারীদের সাথে নিষ্ঠুর ব্যবহার করেছে এবং নির্দয়ভাবে তাদের অধিকার হরণ করেছে।

আল্লাহ তা‘আলা নারীকে পুরুষের জীবন সঙ্গিনী হিসাবে মানব জীবন পরিচালনার জন্য পারস্পরিক সহযোগী করেছেন। ইসলাম মর্যাদার দিক দিয়ে নারীকে পুরুষের থেকে ভিন্ন করে দেখেনি। বরং ইসলামের আগমনেই নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত নারী সমাজ পেয়েছে মুক্তির সন্ধান। সারা দুনিয়াতে যখন নারীরা নিদারুণ অবস্থায় কালাতিপাত করছিল, আরব, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে তাদেরকে জন্তু-জানোয়ার বলে মনে করা হ’ত এবং মানুষ হিসাবে তাদের কোন মর্যাদা ও অধিকার স্বীকার করা হ’ত না, তখন ইসলাম নারীর যথাযথ অধিকার ও মর্যাদা প্রদান করে নারী জাতিকে সম্মানের সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা পুরুষদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন,

‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক’ (বাক্বারাহ ১৮৭) । তিনি আরো বলেন,

‘হে মানব সকল! তোমরা তোমাদের স্বীয় প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একই আত্মা (আদম) হ’তে সৃষ্টি করেছেন এবং ঐ আত্মা হ’তে তাঁর জোড়া (হাওয়া)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং এতদুভয় হ’তে বহু নর ও নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পরের নিকট (স্বীয় হকের) দাবী করে থাক এবং আত্মীয়তা (এর হক বিনষ্ট করা) হ’তেও ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকলের খবর রাখেন’ (নিসাঃ ১) ।

ইসলাম পূর্ব যুগে নারীর অবস্থান

ইসলাম পূর্ব যুগে নারী ছিল সবচেয়ে অবহেলিত, লাঞ্চিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত এবং অধিকার হারা জাতি। সে সময় নারীকে ভোগ-বিলাসের উপকরণ এবং বাজারের পণ্য হিসাবে গণ্য করা হত। সেই সময়ে নারীদেরকে মানুষ হিসাবে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া হ’ত না এবং তাদের কোন সামাজিক অধিকার স্বীকৃত ছিল না। এমনকি মানব জাতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে সমাজে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও ছিল না। তাদের প্রতি খুবই কঠোর আচরণ করা হত। সে যুগে নারীদেরকে দাসী এবং ভারবাহী পশু হিসাবে দেখা হত। যাদেরকে ক্রয়-বিক্রয় করা হত। সে আমলে স্বামী যত খুশি স্ত্রী গ্রহণ করত এবং ইচ্ছা করলে তার স্ত্রীকে অপরের কাছে বিক্রি করে দিতে পারত কিংবা স্ত্রীকে দিয়েই কেউ ঋণ পরিশোধ করত। আবার কেউ উপহার হিসাবে কাউকে এমনিই দিয়ে দিত। তারা কন্যা সন্তান জন্মকে লজ্জাজনক মনে করে স্বীয় নিষ্পাপ কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও কুণ্ঠিত হ’ত না। তাদের এমন বিবেক বর্জিত কর্ম সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন ‘আর যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল’? (তাকভীর ৮-৯) ।

সেযুগে তারা পিতা-মাতা বা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হ’ত। পিতৃহীনা সুন্দরী-ধনবতী বালিকার অভিভাবক যথাযথ মোহর দানে তাকে বিবাহ করতে সম্মত হ’ত না। আবার অন্যত্র বিবাহ দিতেও অসম্মতি প্রকাশ করত। সুন্দরী বাঁদী দ্বারা দেহ ব্যবসা করিয়ে অর্থ উপার্জন করা হ’ত। এ গর্হিত কাজ হ’তে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন

‘আর তোমরা দুনিয়ার ধন-সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে তোমাদের যুবতী দাসীদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করবে না। যখন তারা পাপমুক্ত থাকতে চায়’ (নূর ৩৩)। উল্লিখিত যুগে একের অধিক নারী বিবাহ করে তাদের ন্যায্য পাওনা হতে বঞ্চিত করা হত। তাদেরকে তালাক দিয়ে অন্যত্র স্বামী গ্রহণের অবকাশও দেওয়া হত না। এ জাতীয় অমানবিক ও অমানুষিক যুলুম অত্যাচার নারী জাতির উপর করা হত। কেউ যদি ইসলামে নারীর অধিকারগুলোর সাথে জাহেলি যুগে নারীর অধিকারগুলো তুলনা করে দেখে কিংবা অন্য সভ্যতাগুলোর সাথে তুলনা করে দেখে তাহলে এর সত্যতা দেখতে পাবে। ইসলামে নারীকে যে মহান মর্যাদা দেয়া হয়েছে অন্য কোথাও সে মর্যাদা দেয়া হয়নি।

ইসলামে নারীর অধিকার

নারী অধিকার বলতে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথা সকল ক্ষেত্রে নারীর যথার্থ মূল্যায়নকেই বুঝানো হয়। অতএব যদি কারো ন্যায্য অধিকার স্বীকার না করা হয়, অথবা তার কর্তব্যে বাধা দান বা তার সামর্থ্যের অধিক কোন দায়িত্ব-কর্তব্য তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, কিংবা তার অবদান সমূহের সঠিক মূল্যায়ন না করা হয়, তাহ’লে তার অধিকার ও মর্যাদা খর্ব করা হবে এবং তার প্রতি অবিচার করা হবে। আর যখন তার অধিকার সমূহ স্বীকার করা হয়, তার সামর্থ্য অনুসারে তাকে দায়িত্ব-কর্তব্য আদায় করার পূর্ণ সুযোগ দান করা হয় এবং সামাজিক জীবনে তার অবদান সমূহের মূল্যায়ন করা হয়, তখন তার উপযুক্ত মর্যাদা দান করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

নারী কখনো মাতা, কখনো কন্যা, কখনো বোন আবার কখনো স্ত্রী। আর সর্বস্তরেই মহান আল্লাহ নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। ঠিক মহানবী (সাঃ)ও নারী জাতিকে মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে তুলে ধরে বলেন, ‘দুনিয়া একটি সম্পদ। আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হ’ল পুণ্যবতী স্ত্রী’। একজন আদর্শ নারী হল মূল্যবান মণিমুক্তার মতো। আর মণিমুক্তাকে জহুরীরা এমনভাবে সংরক্ষণ করে রাখে যাতে মেকি বা কৃত্রিম পাথরের মতো অতি সহজেই যার তার হাতে ঘোরাফেরা করতে না পারে। একথা সকলেরই জানা আছে যে, ঝিনুকের চেয়ে মুক্তাই বেশী মূল্যবান। আর পবিত্র কুরআনে এই আদর্শ মুসলিম নারীদের মুক্তার সাথেই তুলনা করে বলা হয়েছে  ‘সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ’ (ওয়াকি‘আহ ২৩)। তবে নারীদের এ মর্যাদা তাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।

নারীদের মর্যাদা দানে ইসলামের এসব সুমহান আদর্শ দেখে খোদ অমুসলিম মহিলাদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের যথেষ্ট সাড়া পড়েছে। পত্র-পত্রিকার খবর অনুসারে মার্কিন নন মুসলিমদের মধ্যেও পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা চারগুণ বেশী। পত্রিকার মতে It is even more ironic that most British converts should be women, given the widespread view in the west that Islam treats women poorly. অর্থাৎ ‘এটা আরও দুঃখজনক বিষয় যে, অধিকাংশ বৃটিশ ননমুসলিমই মহিলা।

মা হিসেবে নারীর অধিকার

ইসলাম-পূর্ব যুগে নারীদের কোন সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা ছিল না। সে যুগে পিতার ইন্তিকালের পর বিমাতাকে বিবাহ করার মতো ঘৃণ্য প্রথাও প্রচলিত ছিল। ইসলাম এসে নারীকে মাতৃত্বের  গৌরব ও মর্যাদা দিয়েছে এবং সন্তানের উপর মায়ের অধিকার ও সার্বিক কর্তৃত্ব সুনিশ্চিত করেছে। শুধু তাই নয়, সন্তানের উপর মায়ের আদেশ মান্য করা, মায়ের সাথে বিনম্র ও সম্মানজনক আচরণ করাকে ফরয করা হয়েছে। ইসলাম নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবীজি (সাঃ) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বুখারি)।

কন্যা হিসেবে অধিকার

জাহেলী যুগের প্রথাকে নির্মূল করে কন্যাসন্তান জন্মকে কল্যাণময় ও বড় সৌভাগ্যের বিষয় হিসাবে অভিহিত করত, শুভ সংবাদ প্রদান করেছেন মহানবী (সাঃ) ইসলামের আগে লোকদের বিশ্বাস ছিল যে, নারী সম্পদ ও আহার্যের মতোই ভোগ্যবস্তু। তার মধ্যেও যে মানবসত্তা রয়েছে এটি স্বীকৃতিই ছিল না সেই সমাজে। তাই বিবাদমান আরবীয় যাযাবর গোত্রগুলি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলত।  আল কোরআনে ঘোষণা: ‘আর প্রোথিত সন্তানকে জিজ্ঞাসা করা হবে কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।’  

কন্যা সন্তানকে মুক্তিদানের জন্য মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘মেয়েশিশু বরকত (প্রাচুর্য) ও কল্যাণের প্রতীক।’ হাদিস শরিফে আরও আছে, ‘যার তিনটি, দুটি বা একটি কন্যাসন্তান থাকবে; আর সে ব্যক্তি যদি তার কন্যাসন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুপাত্রস্থ করে, তার জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়।’  রাসূল (সাঃ) এর প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবস্থায় নারী তার পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। উত্তরাধিকার সূত্রেও প্রাপ্ত সম্পদে অংশ নির্ধারণ করে দিয়ে নারীদেরকে প্রবঞ্চনা হ’তে মুক্ত করেছে ইসলাম।

  স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকার

ইসলাম পারিবারিক জীবনে নারীকে দিয়েছে তার ন্যায্য অধিকার। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে নারীদের পছন্দমত স্বামী গ্রহণের কোন অধিকার ছিল না। যখন-তখন তাদেরকে পাত্রস্থ করা হ’ত। কিন্তু ইসলাম নারীকে স্বামী নির্বাচনের স্বাধীনতা দিয়েছে। সংসার জীবনে নারী-পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন ‘এটিও তার একটি নিদর্শন যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া মায়ার সম্পর্ক সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আর রুম, আয়াত-২১)
অর্থাৎ বলা যায় যে, বিবাহের মাধ্যমেই আল্লাহপাক দুনিয়ার জীবনে স্বামী-স্ত্রীর জোড়ার বৈধতা দিলেন। অপর দিকে আল্লাহপাক ঘোষণা করলেন- ‘তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পোশাক এবং তোমাদের স্ত্রীগণ) তাদের পোশাক।’ এই আয়াত দুটি থেকেই প্রমাণিত হয় যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সম মর্যাদার অধিকারী। মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে তারাই ভাল যারা তাদের স্ত্রীদের নিকট ভাল।”
অপর এক বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) বলেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রী পরিজনের কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রী পরিজনের কাছে উত্তম।’ (ইব্নে মাজাহ্)
স্ত্রীর দেনমোহর, উত্তরাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদি অধিকার ও মর্যাদার যে নিশ্চয়তা ইসলাম দিয়েছে তা অন্যকোন মতাদর্শের তুলনায় যুগোপযোগী বিধান ।

বোন হিসেবে নারীর অধিকার

মহানবী (সাঃ) বলেছেন ‘কারও যদি কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তান থাকে আর তিনি যদি সন্তানদের জন্য কোনো কিছু নিয়ে আসেন, তবে প্রথমে তা মেয়ের হাতে দেবেন এবং মেয়ে বেছে নিয়ে তারপর তার ভাইকে দেবে।’ হাদিস শরিফে আছে, বোনকে সেবাযত্ন করলে আল্লাহ প্রাচুর্য দান করেন।

বিধবার অধিকার

বিধবাদের অধিকার সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘যারা বিধবা নারীর ভরণ–পোষণের দায়িত্ব নেয়, তারা যেন আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিরলস নামাজি ও সদা রোজা পালনকারী। (বুখারি ও মুসলিম)। ইসলাম বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা রমণীর অধিকার নিশ্চিত করেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে স্ত্রীদের পুনরায় বিবাহের অনুমতি প্রদান করত আল্লাহ তা‘আলা বলেন  ‘আর নারীদের নিকট তোমরা ইঙ্গিতে বিবাহের প্রস্তাব করলে অথবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখলে তোমাদের কোন পাপ নেই’ (বাক্বারাহ ২৩৫)।  

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অধিকার

ইসলাম নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অধিকার দিয়েছে। জীবিকা অর্জনের অধিকারও দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন ‘তোমাদের পুরুষেরা যা উপার্জন করবে তা তোমাদের থাকবে, আর নারী যা উপার্জন করবে তা তাদের জন্য থাকবে’ (নিসা ৩২)। নারী যদি আশ্রয়হীন কিংবা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে তাহ’লে সে তার জীবন-জীবিকার তাকীদে এবং স্বীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে যে কোন হালাল উপায়ে পর্দা রক্ষা করে আয়-রোযগার করার পূর্ণ অধিকার রাখে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন  ‘অতঃপর ছালাত শেষ হ’লে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর’ (জুম‘আ ১০)

আক্ষরিক অর্থে যুগে যুগে ইসলামের মুল ধারা পরিবর্তিত হয়েছে তা সত্য তবে এটুকু মানতেই হবে ইসলামের আলোকে নারীর অধিকার গঠনে যতটুকু স্বচ্ছতা আনা হয়েছে সে স্বচ্ছতা অন্য কোথাও নেই। বর্তমান বিশ্ব উন্নত যুগের সাথে নারী পুরুষ তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে এটি একটি বিশাল প্রাপ্তি নারীদের জন্য । নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম সম্ভাবনাময় এক যুগের দুয়ার উন্মোচিত করেছে সমগ্র বিশ্বে।