আসছে কুরবানীর ঈদ! (শেষ পর্ব- কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা) - প্রিয়লেখা

আসছে কুরবানীর ঈদ! (শেষ পর্ব- কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা)

ahnafratul
Published: September 1, 2017

আর কিছু সময় পরেই কুরবানীর ঈদ। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ-উল-আযহা। গুরুত্বের ও ত্যাগ, উভয় দিক থেকেই ঈদ-উল-আযহার গুরুত্ব সীমাহীন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন তার সবচাইতে প্রিয় বস্তুটি কুরবানী করতে। ইব্রাহীম (আঃ) তার প্রাণের চাইতেও প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) ছুরির নিচে ফেলতে কার্পণ্য বোধ করেন না, কারণ আল্লাহর নির্দেশ। এই ত্যাগ, এই অপার মহিমায় আল্লাহ খুশি হন তাঁর বান্দা ইব্রাহীমের প্রতি। ছুরির নিচে চলে আসে একট দুম্বা ও শিশু ইসমাইলকে আর কুরবানী করতে হল না। আমরাও প্রতি বছর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কুরবানী করে থাকি। তা না হলে, প্রতি বছর আমাদের প্রিয় কাউকে কুরবানী করতে হত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ আমাদের কত বড় একটি হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা করেছেন।
ঐতিহ্যগতভাবে কুরবানী ঈদের উৎসব সাধারণত চারদিন তবে বিভিন্ন দেশে ছুটির দিনের সংখ্যার তারতম্য হয়ে থাকে।

ঈদ-উল-ফিতরের সাথে তুলনা করলে ঈদ-উল-আযহার মহিমা ও তাৎপর্য অনেক বেশি। তবে দুই ঈদের মাঝেই কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন, ঈদ উল ফিতরে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করবার ফলে যেমন অসহায় দুস্থদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়, ঠিক তেমনি কুরবানীর ঈদ বা ঈদ উল আযহাতে কুরবানীর মাংস বণ্টনের সাথে সাথে দৃঢ় হয় আত্মীয়তা ও পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে বন্ধন। শুধু তাই নয়, কুরাবনীর মাংস গরীব অসহায়দের মাঝে দেয়ার মাঝে সমাজে আসে শান্তি ও সমতা। তবে একটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে। আর তা হচ্ছে, কুরবানীর মাংস বণ্টন করা আমাদের কোন মহত্ব প্রদর্শন করা নয়। এটি আল্লাহর হুকুম এবং আত্মীয়, প্রতিবেশী, গরীবের হক।

বিভিন্ন মুসলিম দেশে কুরবানীর ঈদের ছুটির দিন সংখ্যা তারতম্য হয়ে থাকে। যেমন তুরস্ক ও কাতারে দশদিন, সৌদি আরবে একাধারে পনের দিন। ঘানা নাইজেরিয়া উগান্ডাসহ বেশ কিছু আফ্রিকান দেশে ঈদের ছুটি হয়ে থাকে তিনদিন।

রাত পোহালেই আগামীকাল কুরবানীর ঈদ। আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কুরবানীর ঈদে আমরা যা যা করব নাঃ
১) কুরবানীর পশু একে অন্যের সাথে পার্থক্য করতে যাব না। ঠকেছি কিংবা জিতেছি, এই ধরণের কথা বলা যাবে না। কারণ, পশু কুরবানী করা হচ্ছে মাংসের জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। তাই যে কারণে পশু কিনেছি, তা যেন সফল হয় সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।

২) জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শরীরের কোন চুল, পশম বা নখ না কাটা উত্তম। বরং কুরবানির দিন কুরবানি করার পরে এগুলো কাটা সুন্নাহ। সে হিসেবে এ বছর ২ আগস্ট কুরবানির ঈদের দিন এগুলো কাটা উত্তম বা সুন্নাহ এর অংশ হবে।

৩) কুরবানীর পশু নিয়ে কোন ধরণের চাকচিক্য বা জাঁকজমক দেখানো যাবে না।

৪) কুরবানীর পশুর চামড়া নিয়ে কোন ধরণের ব্যবসা করা যাবে না। আশেপাশে কোন এতিমখানা বা মাদ্রাসা থাকলে সেখানে দান করে দেয়া উত্তম। আর যদি দান করতে কেউ না চায়, তাহলে ন্যায্য মূল্যে তাদের কাছে পশুর চামড়া বিক্রি করা যেতে পারে।

এবার আসা যাক, কি কি করলে কুরবানী কবুল হবে নাঃ
১) মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে যদি কেউ কুরবানী করে, তবে তাঁর কুরবানী কবুল হবে না।

২) অসৎ উপার্জনের টাকায় গরু ক্রয় করলে তা কবুল হবে না।

৩) আমরা অনেকেই পশু কুরবানী করবার সময় অনেকজন মিলে ভাগ করি। এমন ভাগীদারদের মাঝে কারো মাঝে যদি নিয়তে খুঁত থাকে, তবে তার কুরবানী হবে না। ভাগিদারদের মধ্যে কোন একজনেরও যদি পশু কেনার টাকা হারাম উপার্জনের হয়ে থাকে তাহলেও কারো কুরবানি শুদ্ধ হবে না

৪) জিলহজ্জের ১০ তারিখ ফজরের আগে ও ১২ তারিখ মাগরিবের পরে কুরবানি করলে কুরবানি আদায় হবে না।

৫) লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যদি কুরবানী করা হয়, তাহলে সে কুরবানী কবুল হবে না।

আশা করি আমাদের সকলের নিয়ত ও মনের উদ্দেশ্য পূরণ হোক, আমরা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি।
সবাইকে ঈদ মুবারাক।