আলোর দিশারী এক রাজকন্যার গল্প - প্রিয়লেখা

আলোর দিশারী এক রাজকন্যার গল্প

farzana tasnim
Published: August 3, 2017

রাজকুমারী আমিরাহ বিনতে আইদান বিল নায়েফ আল-তাবিল আল ওতাইবি। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে তিনি আরবের কোন একটি দেশের রাজকন্যা। তবে রাজকন্যা বলতে আমরা সাধারণত যেমন কোমল স্বভাবের সুন্দরী এবং আকর্ষণীয় একটি চেহারার মানুষকে কল্পনা করি সেই জায়গা থেকে বেশ খানিকটা আলাদা তিনি। আমিরাহ সুন্দরী বটে, তবে সেই পরিচয়কে ছাপিয়ে নিজেকে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। যেখানে সৌদি আরবের নারীরা রক্ষণশীলতার আবর্তে বসবাস করছেন সেখানে আলোর দিশারী হয়ে দেখা দিয়েছেন দেশটির রাজকন্যা আমিরাহ আল তাবিল। দেশটির নানা কড়া নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাচ্ছেন রাজকন্যা। নিজের যোগ্যতা বলেই তিনি অন্য সৌদি নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য পথ প্রদর্শন করছেন। এক প্রতিবেদনে এমনটিই জানিয়েছে ব্রাইট সাইড।

খবরে বলা হয়, প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে সৌদি নারীদের বড় কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন আমিরাহ। আর এর পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘ পরিশ্রম ও জনকল্যাণের চেষ্টা। ৩৩ বছর বয়সী এ রাজকন্যা ইতোমধ্যেই প্রায় ৭০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

শুধু সৌদি আরবে নয়, বিশ্বের নানা স্থানে মানবিক সংকট কাটাতে চেষ্টা করেন আমিরাহ। এজন্য বিশ্বের নানা স্থানে ভ্রমণ করতে হয় তাকে। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের চেষ্টা করছেন। এজন্য তার রয়েছে নিজস্ব দাতব্য সংস্থা। তিনি পশ্চিম আফ্রিকা, পাকিস্তান, সোমালিয়াসহ নানা দেশের গরিব ও দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন।

পোশাক-আশাকের দিক দিয়েও রাজকন্যা পিছিয়ে নেই। তিনি সৌদি নারীদের প্রচলিত পোশাকে আবদ্ধ নন। যথেষ্ট ফ্যাশনেবল পোশাকে দেখা যায় তাকে। সৌদি নারীদের দীর্ঘদিন ধরে যে পোশাক পরার চল রয়েছে তার নাম অ্যাবায়াস। এ পোশাক বাদ দিয়ে পশ্চিমা ধরনের পোশাক পরতেই তিনি পছন্দ করেন। তবে তার পোশাক ঠিক পশ্চিমাও নয়। উভয় পোশাকের সঙ্গেই মিল রয়েছে তার পোশাকের।

আমিরাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন। তিনি গাড়ি চালান এবং আধুনিক জীবনযাপন করেন। তিনি এখন তার জীবনযাপনের ধরনকেই আদর্শ বলে মনে করেন। সৌদি নারীদের পুরনো বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন সৌদি আরবের এই রাজকুমারী।