আনুনাকিসঃ প্রাচীন এক রহস্যের হাতছানি - প্রিয়লেখা

আনুনাকিসঃ প্রাচীন এক রহস্যের হাতছানি

ahnafratul
Published: August 11, 2017

আমাদের এই পৃথিবী যতটা না সুন্দর, তার চাইতেও বেশি রহস্যময়। কত কিছু জানার আছে, দেখার আছে, বোঝার আছে! তার কত কিই বা জানি আমরা? হাজার বছরের পুরনো পিরামিডের পাথরগুলো এত উচ্চতায় কিভাবে উঠে গেল? আটলান্টিস বলতে আসলেই কি কোন শহর ছিল? এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ভেতর এত নিশ্ছিদ্র রহস্য কেন লুকিয়ে রেখেছে আমেরিকানরা?
কবির ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়- মাথায় এত প্রশ্ন ঘোরে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার!
প্রশ্নের সাথে সাথে জবাব না পাওয়া গেলেও কোন কোন ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলোও আমাদের কাছে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। আজ এমনই একটি রহস্য নিয়ে কথা বলব আমরা। আনুনাকিস!

আনুনাকিস বলতে আসলে কি এবং কাদের বোঝায়ঃ
আনুনাকিস শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘রাজকীয় রক্ত’, কিংবা ‘দেবতাদের রাজা’। অনেকে বলেন, আনুনাকিসরা এসেছিল তারার দেশ থেকে। এই পৃথিবীর বুকে আসার মূল লক্ষ্য ছিল, স্বর্ণ উত্তোলন করা। ১৯ শতকের দিকে নিনেভের প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় ২০,০০০ মাটির ট্যাবলেট খুঁজে পান, যা আনুনাকিদের সাথে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হয়। ‘দ্য আনুনাকি ক্রনিকল’-এ এই ট্যাবলেটের বর্ণনা খুব বিস্তারিতভাবে ব্যাখা করা রয়েছে।

জ্যাকারিয়া সিচিন ও আনুনাকিস ট্যাবলেট

সুমেরিয়ানদের একটি ধাঁধাঁর নাম হল কিউনিফর্ম। এই কিউনিফর্ম অনুবাদ করলে যা জানা যায়, তাতে হতবাক হয়ে যেতে হয়। এই কিউনিফর্মে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড এমন একটি সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে, যারা প্রতি ৩৬০০ বছরে আমাদের এই পৃথিবীতে আসে। এই কিউনিফর্মেও বলা হয়েছে যে এই সম্প্রদায়ের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বুক থেকে স্বর্ণ উত্তোলন করা।
তবে এটি ছাড়াও অনেক বড় কিছু রহস্য আনুনাকিসরা পৃথিবীর বুকে রেখে গিয়েছে। অনেকে এটিও বিশ্বাস করে থাকেন যে, আজকে আমরা যে পৃথিবী দেখছি, তার অনেক কিছুই আনুনাকিস প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে তৈরি হয়েছে। সত্য মিথ্যা যাচাই করার উপায় বা সামর্থ্য আমাদের নেই, তবে আসুন আজ এই আনুনাকিসদের নিয়ে কিছু রহস্যময় আলাপ করা যাকঃ

১) মানুষ ও আনুনাকিসদের অস্তিত্বঃ


আনুনাকিসদের নিয়ে আগেই বলেছিলাম, তারা পৃথিবীতে এসেছিল স্বর্ণ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ বছর আগে বর্তমান জিম্বাবুয়ের এক গহীন অরণ্যে তারা শুরু করেছিল উত্তোলনের কাজ। এমনকি অ্যাংলো-আমেরিকান করপোরেশনও এই কথায় সহমত পোষণ করে বলেছে যে, এই অঞ্চলে অন্তত এক লক্ষ বছর আগে খননের সূত্র পাওয়া গিয়েছে। বলা হয়ে থাকে, যারা এই খনকাজে অংশ নিয়েছিলেন, তাদেরকে আনুনাকি গ্রহে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

২) সুমেরিয়ানদের শহর তৈরি হয়েছিল আনুনাকি প্রযুক্তির সাহায্যেঃ

সুমেরীয় শহর

আজকের যুগে আমরা যে বড় বড় দালান কোঠা, ইমারত দেখছি, তা শুরু হয়েছিল প্রথম সুমেরিয়ানদের যুগ থেকে। তারা সর্বপ্রথম “শহর” তৈরি করবার ধারণা নিয়ে আসে এবং শহরকে সুরক্ষিত করবার জন্য তার চারপাশে উঁচু উঁচু দেয়াল উত্তোলন করে। প্রাচীন এলিয়েন থিওরির মতানুসারে, সুমেরিয়ানরা এই শহর তৈরির মালমশলা ও প্রযুক্তি উপহার পেয়েছিল আনুনাকিসদের থেকে।

৩) দ্য আনুনাকি ক্রনিকল ও সুমেরিয়ান কথনঃ
১৯৭৬ সালে আমেরিকান রাশিয়ান লেখক সিচিন একটি বই প্রকাশ করেন যেটির নাম ছিল “দ্য আর্থ ক্রনিকল”। এই বইটিতে তিনি সুমেরিয়ানদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সিচিনের মতানুসারে মাটির যে ট্যাবলেটগুলো পাওয়া গিয়েছিল, তাতে আনুনাকি গোত্রের পৃথিবীতে আসার স্পষ্ট আলামত রয়েছে।

৪) স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে তারা ব্যবহার করেছিল মানুষঃ


স্বর্ণ উত্তোলনের সময় সর্বপ্রথম আনুনাকিরা নিজেরাই কাজ করত। তারা ভেবেছিল যে, যাদের মাঝে বিশুদ্ধ রক্ত রয়েছে, তারাই একমাত্র এই স্বর্ণ উত্তোলন করতে পারবে। আস্তে আস্তে তাদের মাঝে শ্রেণী বিভাজন শুরু হল এবং ভারী ভারী সব কাজগুলো তারা কর্মী বাছাইয়ের মাধ্যমে করতে শুরু করল। এর ফলে কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং শুরু হয় বিক্ষোভ। অবশেষে এর সুরাহা করবার জন্য আনুনাকিরা ব্যবহার করেছিল মানুষদের। প্রাচীন এলিয়েন তত্ত্বমতে বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে মানুষের মাঝে দাসত্ব প্রথার সূচনা করেছিল এই আনুনাকিরাই। মানুষদের মাঝে যাদের পছন্দ হয়েছিল, নিয়ে যাবার বেলায় তাদের উঠিয়ে নিয়ে যায় আনুনাকিরা।

৫) মন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল আনুনাকিদেরঃ
প্রাচীন নানা গ্রন্থে এবং সুমেরিয়ানদের কথন অনুযায়ী, আনুনাকিরা ছিল দেবতার মত। ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী আনুনাকিরা নানা ধরণের ভেলকি দেখিয়ে কাবু করে ফেলেছিল মানুষদের। তাদের মাঝে ছিল মন নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা এবং যা চাইত, তাই করিয়ে নিতে পারত মানুষদের দিয়ে।

সত্যিই আনুনাকি বলতে কেউ পৃথিবীর বুকে এসেছিল কি না, তা নিয়ে নানা ধরণের মতবিভেদ ও তর্ক রয়েছে। জ্যাকারিয়া সিচিনের মতে, অতি দূরের কোন একটি গ্রহ “প্ল্যানেট নিবিরু” থেকে এসেছিল আনুনাকিসরা। আলালার, ইরিদুগ, বাদ তিরিগা প্রমুখ সুমেরীয় রাজারা আনুনাকিদের দাসত্ব ও বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল। ছয়ের সাহায্যে কেমন করে মহাশূন্য ও সময়কে কেমন করে ভাগ করতে হয়, তা আনুনাকিদের থেকে শিখে নিয়েছিল সুমেরীয়রা। এলিয়েন কিংবা অন্তরীক্ষের এই রহস্যময় যাত্রীদের থেকে শিখে নিয়েছিল তারা বিভিন্ন জ্ঞান, প্রযুক্তি। আজো তার রহস্যের উন্মোচন করতে পারে নি মানুষ। এই সুমেরীয়দের নিয়ে ভবিষ্যতে কথা হবে।

আজ আর নয়। থাকুন প্রিয়লেখার সাথেই, হয়ে উঠুন সকলের প্রিয়।